Bartaman Sanglap

Bartaman Sanglap ONENESS WITH ONE : ONENESS WITH TRUTH.

In Indo-Pak-Bangladesh sub-continent, Sufi Shadhak Abu Ali Akhtaruddin is one of the ascetic philosophers who dedicated his life for establishment of Peace and Humanity. His principal disciple Sufi Shadhak Anwarul Haque has been leading the same mission of establishing Peace in the society through Self-Development. With the blessings of the said Shadhaks, Bartaman Sanglap is in the field of Media with a slogan-WE ARE NOT IMPARTIAL BUT FOR ONENESS WITH THE TRUTH.

☘️☘️ ২২ শ্রাবণে শ্রদ্ধাঞ্জলি☘️☘️রবী আছে বাঙালির জীবন সৃজনেসংলাপ ॥ বাঙালির প্রাণের এ কবি লোকান্তরিত হলেও তাঁর অসামান্য রচ...
06/08/2022

☘️☘️ ২২ শ্রাবণে শ্রদ্ধাঞ্জলি☘️☘️
রবী আছে বাঙালির জীবন সৃজনে

সংলাপ ॥ বাঙালির প্রাণের এ কবি লোকান্তরিত হলেও তাঁর অসামান্য রচনা ও কাজের মধ্যে আজও বেঁচে আছেন বাঙালি জাতির জীবন সৃজনে প্রেরণাদাতা হয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী সৃজনশীলতা বাংলা সাহিত্য ও শিল্পের প্রায় সবকটি শাখাকে স্পর্শ করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। তার লেখা গান বাঙালির হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয় আজো। আনন্দে, বেদনায়, দ্রোহে রবীন্দ্রনাথ বাঙালির প্রেরণার উৎস। রবীন্দ্রনাথ আমাদের মন-মানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের প্রধান অবলম্বন। তিনি কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় নন্দিত। বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতে রবীন্দ্রনাথ এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। রবীন্দ্রনাথের লেখা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসনে পৌঁছে দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চেতনা ছিল শুধু নিজের শান্তি ও নিজের আত্মার মুক্তির জন্য ধর্ম নয়। মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ছিল তার ধর্ম। তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শনের অন্বেষণ করেছেন তিনি। তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য শাখার লেখনি মানুষকে আজো সেই অন্বেষণের পথে, তার অন্বিষ্ট উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে।
রবীন্দ্রনাথ বাংলার দিকপাল কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। তিনি কি ছিলেন না তা-ই বলা মুশকিল। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি প্রথম কবিতা লেখেন। ১৮৮৭ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সে ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীতও তাঁরই লেখা।
১৯১৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাশীল নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন আমাদের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের নোবেল-বিজয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তথা বাঙালি জাতিকেই এনে দিয়েছে বিশ্ব পরিচিতি ও বিরল সম্মান। এই সূত্র ধরেই আজো আমরা সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে গর্ব করে বলতে পারি- আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, এই ভাষাতেই রচিত হয়েছে সেরা সাহিত্য।
রবি ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তাঁর গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্যে। গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের একটুখানি ইতিহাস আছে। রবীন্দ্রনাথ ১৯১২ সালে যাচ্ছেন বিলেতে। সঙ্গে পুত্র রথীন্দ্রনাথ এবং পুত্রবধু প্রতিমা দেবীও আছে। কবি এর আগেও বিলেতে গেছেন দু’বার। একবার লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে। আরেকবার মধ্য যৌবনে, বেড়াতে। বেড়াতে যাবেন, খালি হাতে? তাই কখনো হয়! বাঙালির শিষ্টতা বলেও একটা ব্যাপার আছে। কী নেবেন কবি বিলেতের জন্যে? জাহাজে বসে গান লিখছেন, দু’চারটি কবিতাও আসছে। গীতাঞ্জলি থেকে দু-দশ পাতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন নিজের মতো করে; সেগুলো নাড়াচাড়া করতে গিয়ে মনে হলো- কেমন হয় এগুলোই যদি ওদের হাতে দিই! লন্ডনে কবির পরিচিতদের মধ্যে আছে এক ভক্ত রোডেনস্টাইন। ভালো ছবি আঁকে, সাহিত্য রসিক। মডার্ন রিভিউ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা নামক গল্পের অনুবাদ পড়ে এতই মুগ্ধ হয় যে, বছর দুই আগে জোড়া সাঁকোর বাড়িতে এসে কবির সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায় এবং চিঠিপত্রে বারবার বিলেত ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। এবার কবি লন্ডনে পৌঁছে প্রথমে সেই ভক্ত রোডেনস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেন এবং গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের খাতা তুলে দেন তার হাতে। কবিতাগুলো পাঠ করে অভিভূত রোডেনস্টাইন সেই খাতা দিয়ে আসে ইংরেজি ভাষার বিখ্যাত কবি ইয়েট্সের কাছে। ব্যাস্! আর পেছনে তাকাতে হয়নি। অনুবাদ পাঠে মুগ্ধ ইয়েট্স নিজে ছুটে এসে রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানালেন। জর্জ বার্নাড শ, রবার্ট ব্রিজেস, এজ্রা পাউন্ড, জন মেসফিল্ডসহ কত যে গুণীজনের সঙ্গে পরিচয় হলো। কবি ইয়েট্সের সভাপতিত্বে একদিন সংবর্ধনা সভাও হয়ে গেল। সেখানে গীতাঞ্জলির ওই অনুবাদের ভূয়সী প্রশংসা করলেন।
ইংল্যান্ডের ইন্ডিয়া সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয়েছে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ। অসাধারণ ভূমিকা লিখেছেন কবি ইয়েট্স। ইংল্যান্ডে ফিরে রবীন্দ্রনাথ দেখলেন বিভিন্ন কাগজে গীতাঞ্জলির সপ্রশংস আলোচনা। সেবার প্রায় এক বছর চার মাস ইংল্যান্ড-আমেরিকা ঘুরে দেশে ফিরলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯১৩ সালের ১৫ নভেম্বর টেলিগ্রাম পেয়ে কবি জানলেন যে এ বছর সাহিত্যে নোবেল প্রাইজের জন্যে দু’দিন আগে তাঁরই নাম ঘোষিত হয়েছে এবং সেটা ওই গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের সূত্রেই ঘটেছে। নোবেল ফাউন্ডেশন তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিল একটি ‘গভীরভাবে সংবেদনশীল, উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থ’ রূপে।
নোবেল পুরস্কারের সম্মান যেমন সুউচ্চ, অর্থমূল্যও কম নয়। রবীন্দ্রনাথ এই অর্থ খরচ করেন শান্তিনিকেতন বিদ্যালয় এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে। নানান রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিষয়কে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে তাঁর উপন্যাস, ছোটগল্প, সঙ্গীত, নৃত্যনাট্য, পত্রসাহিত্য ও প্রবন্ধসমূহ। তাঁর হাতেই বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক ছোটগল্পের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা উপন্যাসকে তিনি আধুনিক ও সার্থক উপন্যাসে তুলে এনেছেন। তাঁর লেখা ঘরে বাইরে, গোরা প্রভৃতি উপন্যাস; রক্তকরবী, অচলায়তন, বিসর্জন প্রভৃতি নাটক যে কোন সময়ের মানুষের কাছে সাম্প্রতিক ঘটনা হয়ে উপস্থাপিত হয়। শুধু সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় নয়, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে তার ভাবনাও তাঁকে অত্যন্ত উঁচু স্থানে নিয়ে গিয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রতিটি শিল্প কর্মে প্রকাশ করেছেন -‘এক সত্যকে’। সত্যের সাথে একাত্মতা অর্জন করাই ছিল তাঁর সাধনা। আত্মিক উন্নতির সাধনাতেই তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন নিরন্তর।
রবীন্ত্রনাথের কবিতা ও গানে বিভাসিত হয়েছে সীমার মাঝে অসীমের পরিচয় লাভের আকুতি। তিনি ভালোবেসেছেন সত্যকে, লালন করেছেন সত্যকে। তাই তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে - ‘সত্য যে কঠিন বড়/ কঠিনেরে ভালবাসিলাম/ সে কখনো করে না বঞ্চনা।’

Adhare Alo 3
23/07/2022

Adhare Alo 3

"শ্রদ্ধাঞ্জলি"সত্য যে কঠিনকঠিনেরে ভালোবাসিলামসংলাপ ॥ রবীন্দ্র-মানবতাবাদ আসন নিয়ে ছিল ভাববাদের ওপর। ইউরোপীয় রেনেসাঁয় জাগর...
08/05/2022

"শ্রদ্ধাঞ্জলি"
সত্য যে কঠিন
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম

সংলাপ ॥ রবীন্দ্র-মানবতাবাদ আসন নিয়ে ছিল ভাববাদের ওপর। ইউরোপীয় রেনেসাঁয় জাগরিত রবীন্দ্রনাথ ‘নানা রবীন্দ্রনাথের’ জন্ম দিয়েছেন কিন্তু সাধারণের রবীন্দ্রনাথ কি তিনি হতে পেরেছেন?

‘পঁচিশে বৈশাখ চলেছে

জন্মদিনের ধারাকে বহন করে

মৃত্যুদিনের দিকে।

সেই চলতি আসনের উপর বসে

কোন ভাবুক গাঁথছে

জন্মমৃত্যুর সীমানায়

নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণে রাখতে হয় রবীন্দ্রনাথের নানামুখী সৃষ্টি কর্মে গাঁথা একখানা কালোত্তর বৃহত্তর রবীন্দ্রনাথের জন্যেই। সাহিত্যের সৃজনশীল ধারায় নিজের একক অবস্থানকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তিনি। নিজের কালের এবং পাঠকের কালে তাঁর ব্যাপ্তি এতোটাই প্রসারিত যে রবীরশ্মির জাজ্জ্বল্যমানতা এখনো অক্ষুন্ন।

সাহিত্যে শিল্পমানের বিচারে রবীন্দ্রনাথ অপ্রতিদ্বন্দ্বী নিঃসন্দেহে। বাংলা সাহিত্যের গলিপথ থেকে রাজপথ তাঁর হাতেই পেয়েছে উৎকর্ষতা। সদ্য প্রসূত বাংলা গদ্য যখন হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলতে শুরু করেছে, প্রবেশ করছে সাহিত্যের নানা ধারায়, তখন রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীল প্রতিভালোকে বাংলা গদ্য পেল নতুন প্রাণরস, পল্লবিত হলো যৌবন রাগে। পদ্যকেও তিনি প্রসারিত করলেন তাঁর আদর্শিক স্রোতধারায়। তাঁর শিল্প কর্মের কাছে সমালোচকের তলোয়ার ‘কুর্নিশ’ করলেও, কর্মের পেছনে যে এক ও অভিন্ন ভাবাদর্শ কাজ করেছে, তা নিয়ে বিতর্কের কাটাকুটি বিস্তর। বোধ করি, বাংলা সাহিত্যে একমাত্র তিনিই এই সৌভাগ্যের অধিকারী যাঁর জীবন ও কর্মের ভুবনে ভীড় করেছে ও করছে অসংখ্য সমালোচক ছুরি, কাঁচি, মোমবাতি ও ফুল হাতে।

যে কালের হাতে নির্মিত হয় যে মনন বা সত্তা, সেই কালকে সেই মনন বা সত্তা কতটুকুইবা অতিক্রম করতে পারে? রাবীন্দ্রিক বিতর্কটা সেখানেই। অভিযোগ আছে এবং সত্যও যে, রবীন্দ্রনাথ তার প্রতিটি শিল্প কর্মের ধারায় অবগাহন করতে করতে এক সময় ‘একমাত্র সত্য’কে আঁকড়ে ধরেছেন। আত্মার সাধনাতেই হয়েছেন তিনি মশগুল নিরন্তর। এ জন্যে বাস্তবতার সুকঠিন পথে লব্ধ অভিব্যক্তিকে তিনি সেই সত্যময় জ্যোতির্ময় সত্তার স্বার্থেই অবলীলায় পরিহার করেছেন। আর্থ-সামাজিক জীবনের কোন প্রকার আবিলতায় তিনি তাকে কলুষিত হতে দেননি। এখানে তাঁর আত্মমগ্ন এক অটল ধ্যানী ব্যক্তিত্বের পরিচয় বিভাসিত হয়। এ জন্যেই তাঁর কবিতায় ধ্বনিত হয় - ‘সত্য যে কঠিন কঠিনেরে ভালবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা, অমৃত্যু দুঃখের তপস্যা এ জীবন, সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে’। সত্যের উপাসক রবীন্দ্রনাথ জানতেন যে, কর্মে ও কথায় ঐক্যতা এলেই সত্যের সাথে আত্মীয়তা হয়। এই বোধ থেকেই তিনি ব্যক্ত করেছিলেন -

‘সত্য মূল্য না দিয়েই সাহিত্যের

খ্যাতি করা চুরি

ভালো নয়, ভালো নয় নকল

সে সৌখিন মজদুরি’।

কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নিজেই কি এই ‘সৌখিনতার’ ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন? তাঁর সামাজিক অবস্থান কি তাঁকে কখনোই প্রভুত্বের আসন থেকে নেমে এসে মাটির সাধারণ মানুষের সাথে জীবনের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে দিয়েছে?

‘এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক’ - পরিচয়ে তিনি পরিচিত হতে চেয়েছেন, কিন্তু পারেননি। ত্রিশোত্তর কালের রবীন্দ্রনাথের এই চাওয়া বাস্তবে রূপ দিতে দেয়নি, তাঁর ভিতরে অবস্থিত সোহংবাদী ও সামন্তবাদী রবীন্দ্রনাথ।

তাই বৈশ্বিক চেতনায় রবীন্দ্রনাথ যতটা উদ্ভাসিত ও প্রতিষ্ঠিত, ঠিক ততটাই ব্যর্থ তাঁর মাঝে অন্য এক বিপ্লবী শিশু রবীন্দ্রনাথকে বিজয়মাল্যে বরণ করে নিতে। আসলে রবীন্দ্র-মানবতাবাদ আসন করে নিয়ে ছিল ভাববাদের ওপর। ইউরোপীয় রেনেসাঁয় জাগরিত রবীন্দ্রনাথ ‘নানা রবীন্দ্রনাথের’ জন্ম দিয়েছেন কিন্তু সাধারণের রবীন্দ্রনাথ কি তিনি হতে পেরেছেন! মানুষের সাধারণ সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, দৈন্যতা, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সমস্যা সব কিছুই তিনি চিত্রিত করেছেন, কিন্তু সে চিত্রায়নে কোন স্বাধীনতা ছিল না। বার বার ভাববাদীতার পরাধীনতায় তা আটকা পড়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে তিনি সে স্বীকারোক্তিও করেছেন যে তিনি সামন্ত-বুর্জোয়া মানসিকতা বর্জনে ব্যর্থ। এই স্বীকারোক্তি তাঁর মাহাত্ম্যকেই প্রকাশ করেছে কি? তাঁর ‘ঔপনিষদিক-মন্ত্রপূত সাহিত্য’ তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কি সহায়তা প্রদান করেনি? কবি মনন ও কর্ম প্রক্রিয়ায় যে দ্বান্দ্বিকতার চেনা জগতে তিনি বিচরণ করেছেন, তা তিনি কোন্ সত্যের শক্তিতে করেছেন? আসলে তাঁর ছিল একটি নিজস্ব দর্শন, যা তাঁকে তাঁর আভিজাত্যতাকে প্রকাশিত করেছে অনন্য মাত্রায়।

শরৎচন্দ্রের ভাষায় বলা যায়, ‘সার্বভৌম কবি’ তিনি। কিন্তু কতটুকু বাঙালি? বাঙালির আপনজন তিনি। বাঙালির গৌরব। এখনো পর্যন্ত তিনিই একমাত্র বাংলা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী। পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই দু’দেশের জাতীয়সঙ্গীতের রচয়িতা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান যে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল তা কখনোই অস্বীকার করবার নয়। তাঁর নিকট আমাদের দায়বদ্ধতা এবং তার স্বীকারোক্তি আমাদের চেতনাকেই করবে সত্য-সুন্দর। সমালোচকের দৃষ্টিতে ‘নানা রবীন্দ্রনাথ’ নানাভাবে মূর্ত হয়ে উঠবেন, হবেন বিতর্কিত। এটা সাহিত্যের ধারায় চলবে অনিবার্যভাবেই। কিন্তু আমাদের মত সাধারণ পাঠকের কাছে তাঁর সাহিত্য আর কতকাল আনন্দের খোরাক হয়ে থাকবে? ‘ভাষার ভঙ্গির জীবন দৃষ্টির জীবন-পদ্ধতির পরিবর্তনের ফলে রবীন্দ্র সাহিত্যও ভবিষ্যতে সুখপাঠ্য থাকবে না’ - ড. আহমদ শরীফের এই যুক্তিবাদী সূত্র কি একদিন সত্য হবে??

🙏🙏🙏💚💚💚🙏🙏🙏বর্ষ : ৩০সংখ্যা : ১৩বিশেষ ক্রোড়পত্র 🎆 সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ এর স্বপ্পদ্রষ্টা, স্বপ্নস্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সূফ...
02/04/2022

🙏🙏🙏💚💚💚🙏🙏🙏
বর্ষ : ৩০
সংখ্যা : ১৩
বিশেষ ক্রোড়পত্র
🎆 সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ এর স্বপ্পদ্রষ্টা, স্বপ্নস্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সূফী সাধক শেখ আবদুল হানিফ এঁর আবির্ভাব দিবস " হাক্কানী দিবস" উপলক্ষ্যে বর্তমান সংলাপ এর বিশেষ ক্রোড়পত্র।

বর্তমান সংলাপ এর   বর্ষ :৩০সংখ্যা : ১২, অনলাইন ভার্সন।
29/03/2022

বর্তমান সংলাপ এর বর্ষ :৩০
সংখ্যা : ১২, অনলাইন ভার্সন।

বর্তমান সংলাপ৩০বর্ষ ১১ সংখ্যা
23/03/2022

বর্তমান সংলাপ
৩০বর্ষ ১১ সংখ্যা

আমরা নিরপেক্ষ নই-সত্যের পক্ষে৩০ বর্ষ ১১ সংখ্যা।
23/03/2022

আমরা নিরপেক্ষ নই-সত্যের পক্ষে
৩০ বর্ষ ১১ সংখ্যা।

নতুন সাজে.... বর্তমান সংলাপ এর প্রথম পাতা।। পরিবর্তন নয়, ৩০ বছরের অর্জনে সকলের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।সুপ্রিয় প...
19/03/2022

নতুন সাজে....
বর্তমান সংলাপ এর প্রথম পাতা।। পরিবর্তন নয়, ৩০ বছরের অর্জনে সকলের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।
সুপ্রিয় পাঠক সকলের পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে....। আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাদের চলার পথের শক্তি।

নির্বাহী সম্পাদক।

16/03/2022

মানুষ নিজেই নিজের ভাগ্যবিধাতা

সংলাপ ॥ এখনও ধর্মান্ধরা ফতোয়া দেয়, আল্লাহ্ তায়ালা মানুষের ভাগ্য লিখে তাঁর সিংহাসনের নিচে রেখে দিয়েছেন। আর প্রত্যেক মানুষ সেই রচনা অনুসারে কাজ করে। বাস্তবে এসব কথা বলা আল্লাহর জন্য অপমানজনক। আল্লাহ্তায়ালা কোন স্বৈরাচারী শাসক নন, যিনি তার ইচ্ছানুযায়ী মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তার ইচ্ছা অনুযায়ী কর্ম তালিকা তৈরি করেছেন আবার তার ইচ্ছানুযায়ী শাস্তিও দেবেন। আল্লাহ্ সবই জানেন। কোন কিছু তাঁর লিখে রাখার প্রয়োজন হয় না কারণ তিনি কিছুই ভুলে যান না। অতীত বলতে আমরা বুঝি যা বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যৎ বলতে বুঝি যা এখন নেই। আল্লাহ্তায়ালার জ্ঞান সর্বদা এক ও অভিন্ন। ভবিষ্যৎ ও অতীত এই দুটো বিষয় শুধুমাত্র মানুষের জন্য, আল্লাহ্র জন্য নয়। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সর্ব সময়ে তিনি বর্তমান এবং মানুষের কর্ম ও কর্মফলের ব্যাপারে তিনি জানেন তাই মানুষের কর্মফল বা ভাগ্য লিখে রাখার কোন প্রয়োজন তাঁর নেই।
মানুষ নিজেই নিজের ভাগ্যবিধাতা কি-না এ নিয়ে বিতর্ক রসুল (যাঁর কৃপা আমাদের উপর বর্ষিত)-এঁর ওফাতের পর থেকেই শুরু হয়েছে। এ বিতর্কের ফলেই উদ্ভুত হয়েছিল জাবরিয়া ও কাদরিয়া সম্প্রদায়ের। এ বিতর্ক উদ্ভবের সাথে কেবল ধর্মীয় নয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিলো। জাবরিয়া মতাবলম্বীরা মনে করতো আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান এবং এ মহাবিশ্বে যা কিছুই সংগঠিত হয় সবই আল্লাহ্র ইচ্ছায়, আল্লাহ্র আদেশ ছাড়া গাছের একটা পাতাও পড়ে না। অত্যাচারী উমাইয়া শাসকেরা ছিলো এ মতবাদের পৃষ্ঠপোষক। এ দলের সমর্থকরা ক্ষমতাসীন শাসকদের সব রকম কার্যকলাপ, এমনকি শোষণ-নির্যাতনকে যুক্তিযুক্ত করার প্রয়াস পান। তাদের যুক্তি ছিল এই যে, এসব কর্মকা- পূর্বনির্দিষ্ট, সুতরাং প্রতিবাদ করা অর্থহীন। জাবরিয়া মতাবলম্বীরা ধর্মকে পরিণত করেছিল শোষিতদের দীর্ঘশ্বাসে। শাসকদের নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে শোষিতরা জানতে চায় - ‘আপনারা এ ধরনের নৃশংসতা করছেন কেন? এসব কি ইসলামের বিরোধী নয়? আপনারা কি মুসলমান নন?’ আর এসব প্রশ্নের উত্তরে শাসক পক্ষ বলার চেষ্টা করে - ‘আমরা যা করি, তার জন্য আমরা দায়ী নই। স্বয়ং আল্লাহ্ই সবকিছু করেন। ভাল-মন্দ সবকিছুর শক্তি হিসেবে কাজ করেন স্বয়ং আল্লাহ্’। এসব বিতর্কের ফলে উদ্ভুত হয়েছিল কাদরিয়া সম্প্রদায়ের, যারা বিশ্বাস করতো - মানুষের ইচ্ছা প্রয়োগের স্বাধীনতা আছে এবং ‘প্রত্যেক্যেই তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী’ (সুরা মুদ্দাসসির : ৩৮)। কাদরিয়া মতাবলম্বীরা শোষণ, নির্যাতন আর দুঃশাসনের জন্য দায়ী করতে থাকে শাসকদের। তাই তারা নির্মমতম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।
আপাত দৃষ্টিতে - কুরআনের কিছু কিছু আয়াতে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতাকে স্বীকার করা হয়েছে এবং কিছু কিছু আয়াতে তা অস্বীকার করা হয়েছে। কুরআনের যেসব আয়াতে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয়েছে বলে প্রতিতী হয়, সেগুলো হচ্ছে - ‘আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে তারা (পৃথিবীর মানুষ) পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকত না। কিন্তু আল্লাহ্ যা ইচ্ছা তা করেন।’ (সুরা বাকারা : ২৫৩)। ‘আল্লাহ্ যাকে খুশি ক্ষমা করেন, আর যাকে খুশি শাস্তিও দিতে পারেন। আল্লাহ্ তো সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ (সুরা বাকারা : ২৮৪)। ‘তাঁরই কাছে রয়েছে অদৃশ্যের চাবি, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানেন না। জলে-স্থলে যা-কিছু আছে তা তিনিই জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটা পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণা অঙ্কুরিত হয় না বা এমন কোনো রসাল ও শুষ্ক জিনিস যা কিতাবে সুস্পষ্টভাবে নেই।’ (সুরা আনআম : ৫৯)। ‘যদি আল্লাহ্ কারও অনিষ্ট সাধন করেন, তাহলে তিনি ছাড়া আর কেউ তা দূর করতে পারেন না। আবার তিনি কারও মঙ্গল সাধন করলে কেউ তার অনিষ্ট করতে পারে না।’ (সুরা ইউনুস : ১০৭)। ‘আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তাঁরই।’ (সুরা ফুরকান : ২)। ‘আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারতাম। কিন্তু আমার একথা সত্য যে, আমি জীন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।’ (সুরা সিজদা : ১৩)। ‘পৃথিবীতে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপদ আসে ঘটানোর পূর্বেই তা লেখা হয়। আল্লাহর পক্ষে এ খুবই সহজ।’ (সুরা হাদিদ : ২২)।
কুরআনের যেসব আয়াতে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতাকে স্বীকার করা হয়েছে বলে প্রতিতী হয়, সেগুলো হচ্ছে - ‘আর যে-কেউ পাপ কাজ করে সে তা দিয়ে নিজেরই ক্ষতি করে।’ (সুরা নিসা : ১১১)। ‘হে মানবজাতি, তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে। সুতরাং যারা সৎপথ অবলম্বন করবে তারা তো নিজেদের মঙ্গলের জন্যই সৎপথ অবলম্বন করবে। আর যারা পথভ্রষ্ট হবে তারা তো পথভ্রষ্ট হবে নিজেদেরই ধ্বংসের জন্য। আর আমি তো তোমাদের কর্মবিধায়ক নই।’ (সুরা ইউনুস : ১০৮)। ‘তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল।’ (সুরা শুরা : ৩০)। ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎ কর্ম করলে সে তা দেখবে, আর কেউ অণু পরিমান অসৎ কর্ম করলেও সে তা দেখবে।’ (সুরা জাল্জালা : ৭-৮)। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জন্তু হচ্ছে সেই সব বধির-বোকা লোক, যারা কিছুই বুঝে না।’ (সুরা আনফাল : ২২)। ‘যে জাতি নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে না, আল্লাহ্ তার ভাগ্য পরিবর্তন করেন না।’ (সুরা আনফাল : ৫৩)। ‘তারা বলবে, যদি আমরা তাদের (নবী রসূলদের) কথা শুনতাম এবং বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে তা বুঝতাম, তাহলে আজ আমাদেরকে জাহান্নামে বাস করতে হতো না।’ (সুরা মুলক : ১০)। ‘এ হলো উপদেশের বাণী মাত্র। যার ইচ্ছা হয় সে যেন আল্লাহর নিকট পৌঁছার পথ অবলম্বন করে।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল : ১৯)। ‘তোমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা সে যেন অগ্রসর হয়ে আসে, কিংবা সে যেন পিছনে সরে যায়, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ কর্মের জন্য দায়ী থাকবে।’ (সুরা মুদ্দাসসির : ৩৭-৩৮)।
উল্লিখিত আয়াতগুলো পরস্পরবিরোধী মনে হলেও প্রকৃত অর্থে কুরআনে কোন পরস্পরবিরোধীতা নেই। একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ পরস্পর বিরোধী নয়। চুম্বকদন্ডের দুটি দিকও পরস্পর বিরোধী নয়। কুরআন বুঝতে হলে প্রথমে এটা মেনে নিতে হবে যে, কুরআন আল্লাহ্ তায়ালার বাণী এবং কুরআনের প্রতিটি কথাই সত্য। মানুষের কার্যকলাপের উপর আল্লাহ্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি মানুষের ইচ্ছা প্রয়োগের স্বাধীনতা ও স্বাধীন বিবেক-বুদ্ধি রয়েছে এটাও সত্য।
কুরআনে বর্ণিত আদম সৃষ্টিতত্ত্বে দেখা যায়, আল্লাহ্ ফেরেশতাদের ডেকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিভু সৃষ্টির অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। অত:পর আপন স্বভাবের প্রতিরূপে সৃষ্টি করলেন আদম ও হাওয়াকে। আদমকে বলা হলো, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও, কিন্তু এই গাছের কাছে যেয়ো না’ (২ : ১২০)। কিন্তু ‘আদম আল্লাহ্র নিষেধ অমান্য করলেন, বিদ্রোহ করলেন আল্লাহর সাথে’ (সুরা তাহা : ১২১)। ফলত ‘আল্লাহ্ জান্নাত থেকে আদমকে পৃথিবীতে প্রেরণ করলেন’ (সুরা বাকারা : ৩৬)। কুরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব অনুযায়ী আদমের ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে বলেই সে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে পেরেছে। কিন্তু এটাও সত্য যে, আল্লাহ্ নিশ্চয়ই জানতেন, আদম তাঁর আদেশ অমান্য করবে কিন্তু তিনি আদমের স্বাধীন ইচ্ছায় হস্তক্ষেপ করেননি এবং আদমের ইচ্ছার কারণে কার্যটি সম্পন্ন হতে দিয়েছেন।
‘আল্লাহ্ তায়ালা ইচ্ছা করলে মানুষকে শুরু থেকেই এমনভাবে সৃষ্টি করতে পারতেন যে, সে সৎ পথ ও সততা ছাড়া আর কিছু চিনতোই না কিংবা সততার দিকে যেতে বাধ্য হতো কিংবা অন্তরে যদি কেবল সততার চেতনাই ঢুকিয়ে দেয়া হতো, ফলে কোনো চাপ প্রয়োগ ছাড়াই সত্য ও ন্যায়ের পথে চালিত হতো। কিন্তু আল্লাহ্ তায়ালা এটা চাননি। আল্লাহ্ তায়ালার সিদ্ধান্ত এটাই ছিলো যে, তিনি মানুষকে সৎকাজ ও অসৎকাজ উভয়ই করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করবেন এবং তাকে বিবেক ও বুদ্ধি দান করবেন, যা দ্বারা সে ভালো ও মন্দের যে কোনো একটাকে অগ্রাধিকার দেবে।
অতএব, মানুষ - আল্লাহ্ তায়ালার কোন ক্রীড়নক নয় যাকে আল্লাহ্ যেভাবে খুশি সেভাবেই পরিচালিত করেন। মানুষের ভাল-মন্দ এবং ন্যায়-অন্যায় পৃথক করার ক্ষমতা রয়েছে। মানুষ তার ইচ্ছামতো ভাল কিংবা মন্দ বেছে নিতে পারে। তাই প্রতিটি মানুষ তার প্রতিটি কাজের জন্য নিজেই দায়ী। এমনকি সমাজ-সংসার এবং চারপাশে যা কিছু ঘটছে তার সবকিছুর জন্যেই প্রত্যেক মানুষ কোন না কোনভাবে দায়ী।
তবে মানুষের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয়। মানুষের স্বাধীনতা কতটুকু এবং আল্লাহ্ তায়ালার সার্বভৌম ক্ষমতা কতটুকু তা অত্যন্ত সহজ ও যুক্তিসঙ্গতভাবে ফুটে উঠেছে হযরত আলী (রা.)-এঁর বাণীতে। একদা এক ব্যক্তি হযরত আলী (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলো, কর্মে মানুষের স্বাধীনতা কতটুকু? তিনি বললেন, ‘একটি পা উপরে তুলে দাঁড়াও। লোকটি দাঁড়াল। অতঃপর বললেন, ‘এখন অপর পাটাও উপরে তোল।’ লোকটি হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘তা কি করে হয়?’ তারপর হযরত আলী (রা.) বললেন - ‘এবার কি বুঝলে কর্মে তোমাকে কতটুকু স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে?’
মানুষের এক পা তোলার স্বাধীনতা আছে কিন্তু দুই পা তোলার স্বাধীনতা কিংবা ক্ষমতা নাই। মানুষের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ, সীমাহীন নয়। আল্লাহ্ তায়ালা এ সীমানার কথা বারবার তুলে ধরেছেন তাঁর বাণীতে। বস্তুত, এই মহাবিশ্বে যা কিছুই আছে তার কোন কিছুরই নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা নেই। সূর্যকে আবর্তিত হতে হয় তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে, একই কথা প্রযোজ্য সকল গ্রহ, উপগ্রহ ও নক্ষত্ররাজীর ক্ষেত্রেও। বিশ্বের সবকিছুই একটা অলঙ্ঘনীয় সীমানার মধ্যে আবদ্ধ। ঠিক তেমনই মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা থাকলেও তা নিরঙ্কুশ নয়, মানুষ ইচ্ছা করলেই কোন প্রাকৃতিক নিয়মকে নিজের ইচ্ছেমত পরিবর্তন করতে পারে না।
আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, তাই তিনি জানেন মানুষ কি ইচ্ছে করবে। আল্লাহ্ ব্যক্তির ইচ্ছাকে কার্যে পরিণত করেন কিন্তু কারো ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করেন না। আল্লাহ্ চান ব্যক্তি যেন তার স্বাধীন ইচ্ছা প্রয়োগ করতে পারে। ব্যক্তির ইচ্ছাই তার কার্যের কারণ এবং প্রতিটি মানুষই কোন না কোন ভাবে কার্যকারণের সম্পর্কে আবদ্ধ।
প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে নিজের সত্তাকে বিকশিত করার অনাবিল সম্ভাবনা। মানুষ কোন আদি পাপ নিয়ে জন্মায় না। প্রত্যেকের জন্ম হয় নিষ্পাপ এবং পবিত্র অবস্থায়। মানুষ ইচ্ছাশক্তিকে প্রয়োগ করে নিজেকে বিকশিত করতে পারে আবার নেমে যেতে পারে অধঃপতনের নিম্নস্তরে। মানুষ নিজেই নিজের ত্রাণকর্তা, নিজেই নিজের মুক্তিদাতা। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে যে শক্তি দিয়েছেন তা মানুষ ইচ্ছা করলে ভালপথে কিংবা খারাপপথে পরিচালিত করতে পারে। মানুষ স্বাধীন ও দায়িত্বশীলকর্তা এবং নিজেই নিজের ভাগ্যবিধাতা। আল্লাহ্ চান মানুষ যেন সৎ, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে, তাই যুগে যুগে নবী-রসূলগণের মাধ্যমে মানুষের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছেন সত্য ও ন্যায়ের বাণী।
অন্যদিকে, যে কাজে ব্যক্তির ইচ্ছার স্বাধীনতা স্বীকার্য নয় বা যে কাজ করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তিকে বাধ্য করা হয়, সে কাজের জন্য কোন অবস্থাতেই ব্যক্তিকে দায়ী করা যায় না। যদি ব্যক্তি তার কাজের জন্য দায়ী-ই না হবে তবে পরকাল এবং শেষ বিচারের দিন বলে কিছু থাকতে পারে না। অথচ ইসলামে ‘পরকাল এবং শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস করা’ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কুরআনের অসংখ্য আয়াতে বলা হয়েছে - মানুষকে তার কৃতকর্মের জন্য হিসাব দিতে হবে এবং তাকে তার কর্মফল ভোগ করতে হবে।

Address

Section-6, Block-c, Road No-3, Plot No-5, Dhaka 1216
Mirpur
DHAKA1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bartaman Sanglap posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Bartaman Sanglap:

Share