08/06/2026
বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকরেন্সির মূলহোতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ জায়েদের নাম এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। ‘নেক্সট ভেঞ্চার’ ও ‘ফান্ডেড নেক্সটের’ মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে আলোচিত এই ডিজিটাল মাফিয়া নেক্সট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। ক্রিপ্টো বাণিজ্য ও অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। আর তার এসব অপকর্মকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তার নাম খান সোয়েব আমান উল্লাহ। তিনি নেক্সট বাংলাদেশ’র হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স। গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জনতার দলের মনোনয়নে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন খান সোয়েব। অভিযোগ রয়েছে, ডিজিটাল মাফিয়া আব্দুল্লাহ জায়েদ তার সিন্ডিকেটকে আরও শক্তিশালী করতে খান সোয়েবের নির্বাচনী খরচও তিনি দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জায়েদকে নানাভাবে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ডিজিটাল জালিয়াতি নিয়ে বছরখানেক আগে দৈনিক যুগান্তরে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হলে জায়েদকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেন খান সোয়েব। শুধু তাই নয়, আলোচিত ওই রিপোর্টটি অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলতে নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত হন তিনি।সম্প্রতি জায়েদের প্রতারণা নিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে আবারও প্রতিবদেন প্রকাশ হয়। এবারও ভয়ানক এই প্রতারককে নির্দোষ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। জায়েদের পক্ষে স্বশরীরে সংবাদমাধ্যমগুলোতে গিয়ে তিনি প্রতিবাদপত্রও জমা দেন।
জায়েদ বাংলাদেশের ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয়-বিক্রয়সহ মানি লন্ডারিং ও অনলাইন প্রতারণার অন্যতম হোতা। অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার জন্য নানা ধরনের ছলচাতুরি, কূটকৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। জায়েদ দেশের ভার্চুয়াল মুদ্রা কেনাবেচার মাস্টারমাইন্ড। কয়েক বছর ধরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে প্রতারিত করছেন।
হাসিনা সরকারের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন আব্দুল্লাহ জায়েদ। পলকসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে এই জায়েদের মাধ্যমে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলাও রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এই ডিজিটাল মাফিয়াকে কেন রক্ষা করতে চাইছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা