22/09/2025
একক পাংগাস চাষে ঘনত্ব কত হওয়া উচিত
পাংগাস মাছ (Pangasius) ইন্ডিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে একটি জনপ্রিয় মাছ। এককভাবে পাংগাস চাষ করলে উৎপাদন বেশি হয়, তবে সফল হতে হলে সঠিক ঘনত্ব বজায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত ঘনত্বে পোনা ছাড়া হলে অক্সিজেন ঘাটতি, খাদ্য প্রতিযোগিতা ও রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আবার ঘনত্ব কম হলে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। তাই সঠিক ঘনত্ব নির্ধারণ করাই লাভজনক চাষের মূল চাবিকাঠি।
১. ঘনত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়
পুকুরের আকার ও গভীরতা: গভীরতা যত বেশি হবে, ঘনত্বও তত বাড়ানো যায়।
জলের মান: দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO), pH, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সঠিক রাখতে পারলে ঘনত্ব বাড়ানো সম্ভব।
খাদ্যের ব্যবস্থা: প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রাপ্যতা কম হলে কৃত্রিম খাদ্য নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে।
পরিচর্যা ও প্রযুক্তি: আধুনিক পদ্ধতি, যেমন এয়ারেটর ব্যবহার, জল পরিবর্তন, চুন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করলে উচ্চ ঘনত্বে চাষ সম্ভব।
২. একক পাংগাস চাষে সাধারণ ঘনত্বের মান
প্রচলিত পদ্ধতি:
প্রতি শতকে (৪০ বর্গমিটার) ৫০–৬০ টি পোনা মজুত করা যায়।
আধা নিবিড় পদ্ধতি:
প্রতি শতকে ৮০–১০০ টি পোনা মজুত করা যায়।
নিবিড় বা বাণিজ্যিক পদ্ধতি:
প্রতি শতকে ১২০–১৫০ টি পোনা পর্যন্ত মজুত করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে এয়ারেটর ব্যবহার, নিয়মিত জল বিনিময় এবং মানসম্মত খাদ্য দেওয়া জরুরি।
৩. ঘনত্ব ও সম্ভাব্য উৎপাদন (প্রতি বিঘা হিসেবে, ১ বিঘা = ৩৩ শতক ধরা হয়েছে)
চাষ পদ্ধতি ঘনত্ব (প্রতি শতক) প্রতি বিঘা মোট পোনা অনুমানিত উৎপাদন (টন/বিঘা)
প্রচলিত ৫০–৬০ ১,৬৫০ – ১,৯৮০ ১.৬৮ – ২.০২ টন
আধা নিবিড় ৮০–১০০ ২,৬৪০ – ৩,৩০০ ২.৫৩ – ৩.১৭ টন
নিবিড় ১২০–১৫০ ৩,৯৬০ – ৪,৯৫০ ৩.০৫ – ৩.৮১ টন
৪. অতিরিক্ত পরামর্শ
1. পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
2. মাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার জলের মান পরীক্ষা করা উচিত।
3. জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন সব সময় ৪–৫ মি.গ্রা./লিটার এর উপরে রাখতে হবে।
4. মাছের আকার অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়াতে হবে।
✅ সংক্ষেপে:
ইন্ডিয়ায় একক পাংগাস চাষের জন্য প্রতি শতকে ৮০–১০০ টি পোনা মজুত করাই সবচেয়ে উপযুক্ত। এতে ঝুঁকি কম থাকে, খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং উৎপাদনও লাভজনক হয়।