31/07/2026
আগের পোস্টে আমি প্রথমে তাওয়া কেনার কথা বলেছিলাম। তারপর থেকেই আপুরা কমেন্ট আর ইনবক্সে জিজ্ঞেস করছেন, "আপু, তাওয়া নাকি কড়াই, কোনটা কিনব?"
আসলে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কী রান্না করবেন এবং কোন ধরনের পাতিলে রান্না করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তার ওপর। কাস্ট আয়রনের পাতিলের কয়েকটা ডিজাইন আছে দেখে আপনাদের যেটা পছন্দ সেটাই নিবেন।
ইন্ডাকশনে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় রুটি বা পরোটা ভাজা নিয়ে। আবার অন্য ভাজাভুজির জন্যও আলাদা পাতিলের প্রয়োজন হয়। চুলা কেনার পর যেহেতু স্টেইনলেস স্টিলের পাতিলও কিনতে হয়, তাই তাওয়া আর কড়াই—দুটো একসঙ্গে কেনার বাজেট অনেকেরই থাকে না। কারণ পাতিলগুলোর দাম তুলনামূলক একটু বেশি।
কড়াই কিনলে রুটি বা পরোটা করতে একটু ঝামেলা হয়, কারণ কড়াইয়ের তলাটা গোল। অন্যদিকে, তাওয়ায় রুটি করার পাশাপাশি অল্প পরিমাণে অন্যান্য ভাজিও করা যায়।
আর যদি বাসায় আগে থেকেই লোহার রুটির তাওয়া থাকে, যেমন আমার ছিল, তাহলে আমি বলব কড়াই কিনতে। তবে বাজেটে সমস্যা না থাকলে দুটোই কিনতে পারেন। কারণ দুটোরই আলাদা সুবিধা আছে। আরেক টা পাতিল আছে তলা টা একদম সমান, অনেকটা সসপ্যানের মত দেখতে সেটা নিলে তাওয়া/কড়াই দুইটার কাজই করতে পারবেন।
আমি কোনটাতে কী করি, সেটা বলছি।
রুটির তাওয়ায় আমি শুধু রুটিই করি। কারণ রুটি করার পর তাওয়া একদম শুকনো হয়ে যায়। তখন আবার তেল দিয়ে কিছু রান্না করতে গেলে তাওয়া অনেকটা তেল শুষে নেয়।
মাল্টি তাওয়ায় আমি তেলের পরোটা, ডিম পোচ, ডিম ভাজি এগুলো করি। এতে হলুদ দিয়ে কোনো রান্না করি না, কারণ আমার কড়াই আছে। তেলের খাবার রান্না করার কারণে এতে খুব অল্প তেল লাগে, প্রায় ননস্টিকের মতোই।
আর কড়াইতে করি হলুদ দিয়ে তৈরি সব ধরনের ভাজি বা যেসব খাবার একটু বেশি নেড়েচেড়ে রান্না করতে হয়। যেমন মাছ ভাজি, বিভিন্ন ধরনের ভুনা, সবজি ভাজি আর আলু ভাজি। এগুলো তাওয়াতেও করা যায়। তবে নুডলস, পাস্তা বা মেয়ের সকালের টিফিনের জন্য ভাত ভাজি কড়াইতে করতে বেশি সুবিধা হয়। কারণ নেড়েচেড়ে রান্না করার সময় খাবার পাশ দিয়ে পড়ে যায় না।
এখন আপুরা কোনটা কিনবেন, সেটা আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করতে হবে। আশা করি, বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে পেরেছি। 😊
নতুন তাওয়াটা কিনেছি কয়েক দিন হলো। কিন্তু এখনো রান্না শুরু করিনি, শুধু আপুদের জন্য। 😊
আপুদের কথা দিয়েছিলাম, আমার নতুন কাস্ট আয়রনের তাওয়া কীভাবে রান্নার জন্য প্রস্তুত করি এবং কীভাবে সিজনিং করি, সেটা দেখাব। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে ভিডিও করা হয়ে উঠছিল না। আর ভিডিও না করে রান্নাও শুরু করতে পারছিলাম না।
আসলে ভিডিও করার ইচ্ছা না থাকলে এত দিনে ধুয়ে রান্না করে তাওয়াটাকে পুরোনো বানিয়ে ফেলতাম। ২ মিনিটের কাজ ভিডিও করতে গেলেই ২ ঘণ্টা লেগে যায়। 😃
অবশেষে আজ ভিডিও করতে পেরেছি। ইন শা আল্লাহ, এডিটিং শেষ করতে পারলে সন্ধ্যার পরে ভিডিওটি আপলোড করে দেব। আপুরা সঙ্গে থাকবেন। ❤️