13/08/2026
আমি চাই, তুমি আমার সেই নব্বই দশকের ভালোবাসা হও—
যে ভালোবাসায় তোমাকে ছুঁতে না পারলেও, দূর থেকে নিঃশব্দে অনুভব করা যাবে। যে ভালোবাসায় দেখা হওয়ার তাড়াহুড়ো থাকবে না, অথচ প্রতিটি অপেক্ষার মুহূর্তে তুমি আরও একটু বেশি করে মিশে থাকবে আমার হৃদয়ের গভীরে।
আমি চাই, তোমার একটি চিঠির অপেক্ষায় দিনের পর দিন কেটে যাক। ডাকপিয়নের পায়ের শব্দ শুনলেই বুকের ভেতরটা অকারণে কেঁপে উঠুক—হয়তো আজ তোমার চিঠি এসেছে! চিঠিটা হাতে পাওয়ার পর কতবার যে পড়ব, তার কোনো হিসাব থাকবে না। তোমার লেখা কয়েকটি শব্দই যেন আমার পুরো দিনের আনন্দ হয়ে উঠবে।
তোমার হাতের লেখায় লেখা ছোট্ট একটা “ভালো থেকো”—আমার কাছে হাজার কথার চেয়েও বেশি মূল্যবান হবে। সেই চিঠিটা যত্ন করে রেখে দেব, বারবার খুলে পড়ব, তোমার অক্ষরগুলোর মাঝে তোমাকে খুঁজে নেব। সময় পেরিয়ে যাবে, কাগজ পুরোনো হয়ে যাবে, অথচ তোমার লেখা প্রতিটি শব্দ আমার কাছে ঠিক আগের মতোই নতুন থাকবে।
দূরত্ব থাকবে, হয়তো অনেকটা দূরত্ব। মাঝখানে থাকবে শহর, নদী, পথ কিংবা হাজারটা ব্যস্ততা। তবুও আমার মনটা পড়ে থাকবে শুধু তোমার কাছেই। তুমি থাকবে আমার নাগালের বাইরে, অথচ আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের ভেতর খুব কাছের একজন হয়ে।
কথা হবে কম, কিন্তু সেই অল্প কথার মধ্যেই লুকিয়ে থাকবে হাজার অনুভূতি। প্রতিদিন “ভালোবাসি” বলতে হবে না, প্রতিদিন দেখা করার প্রয়োজন হবে না, প্রতিদিন ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেও হবে না। শুধু এটুকু বিশ্বাস থাকবে—দূরে থেকেও আমরা দুজন দুজনের কথা ভাবছি।
তোমার একটি চিঠি আসতে দেরি হলে অভিমান হবে, মন খারাপ হবে, হয়তো নীরবে তোমার ওপর রাগও হবে। কিন্তু সেই অপেক্ষায় কখনো ক্লান্তি আসবে না। কারণ আমি জানব, পৃথিবীর কোথাও একজন মানুষ আছে, যে আমার কথা ভেবে কাগজে কিছু শব্দ লিখছে, আর সেই শব্দগুলো একদিন আমার হাতে এসে পৌঁছাবে।
আমি চাই, আমাদের ভালোবাসায় আজকের এই অতিরিক্ত ব্যস্ততা না থাকুক। ইনবক্সে সারাক্ষণ মেসেজের বন্যা না থাকুক, অনলাইনে না থাকলে অস্থির হয়ে যাওয়ার অভ্যাস না থাকুক। বরং থাকুক অপেক্ষা, থাকুক আকুলতা, থাকুক না বলা কথার মায়া।
তুমি দূরে থাকবে, আর আমি তোমার একটি চিঠির অপেক্ষায় জানালার পাশে বসে থাকব। সন্ধ্যা নামবে, রাত গভীর হবে, চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যাবে—তবুও মনে হবে, তুমি বুঝি ঠিক এই মুহূর্তেই আমাকে মনে করছো।
তোমার চিঠি হাতে পাওয়ার সেই ছোট্ট আনন্দে আমার সমস্ত অভিমান মুহূর্তেই হারিয়ে যাবে। তোমার লেখা কয়েকটি লাইন পড়েই মনে হবে, এতদিনের অপেক্ষাটা বুঝি সার্থক হয়েছে।
আমি চাই, আমাদের ভালোবাসাটাও এমনই হোক—যেখানে প্রতিদিন দেখা করার প্রয়োজন হবে না, তবুও একে অপরকে অনুভব করতে কোনো কমতি থাকবে না। যেখানে কাছে না থেকেও তুমি আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে থাকবে। যেখানে দূরত্ব আমাদের আলাদা করবে না, বরং প্রতিটি অপেক্ষার সঙ্গে আমাদের ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তুলবে।
তুমি থাকবে দূরে, অথচ আমার সমস্ত মনজুড়ে নিঃশব্দে শুধু তোমারই বসবাস হবে। তোমাকে ছুঁতে না পারার কষ্ট থাকবে, কিন্তু তোমাকে অনুভব করতে কোনো কমতি থাকবে না।
হয়তো আমাদের গল্পে প্রতিদিন দেখা হবে না, প্রতিদিন কথা হবে না, একসঙ্গে হাঁটা হবে না, পাশাপাশি বসে চুপচাপ আকাশ দেখাও হবে না। তবুও কোনো এক নীরব রাতে তোমার কথা মনে পড়লে বুকের ভেতরটা হঠাৎ নরম হয়ে যাবে—আর মনে হবে, দূরে কোথাও একজন মানুষ আছে, যে ঠিক আমার মতো করেই আমাকে অনুভব করছে।
আমি চাই, তুমি আমার সেই ভালোবাসা হও—
যার জন্য অপেক্ষা করতে করতে বছর কেটে গেলেও অপেক্ষাটাকে কখনো বোঝা মনে হবে না।
যার একটি চিঠির জন্য হৃদয় অধীর হয়ে থাকবে,
যার একটি কথায় সমস্ত অভিমান গলে যাবে,
যার অনুপস্থিতিতেও উপস্থিতি অনুভব করা যাবে,
আর যার দূরত্বও ভালোবাসার কাছে কখনো হার মানবে না।
আমি চাই, তুমি আমার সেই নব্বই দশকের ভালোবাসা হও—
যে ভালোবাসা খুব বেশি প্রকাশ পাবে না,
কিন্তু নিঃশব্দে সারাজীবন হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর জায়গাটায় বেঁচে থাকবে। 🥀❤️🩹