21/12/2025
অপুষ্টি জনিত জনগুরুত্বপূর্ণ রোগসমূহ #ম্যারাসমাস ও #কোশিয়রকর
বয়সের তুলনায় শিশুর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ বা তার কম হলে এবং শরীরে পানি না জমলে তাকে ম্যারাসমাস বলে। স্বাভাবিক ওজনের শতকরা ৯০ ভাগের কম ওজন হলেই অপুষ্টি শুরু হয়। ৬-১৮ মাস। বয়সে এ রোগ বেশি হয়।
#ম্যারাসমাস_এর_লক্ষণসমূহ:
১. ওজন কমে যায় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
২. মাংসপেশী শুকিয়ে যায় এবং হাড্ডিসার হয়।
৩. মাংসের নীচের চর্বিও শুকিয়ে যায়। ফলে চামড়া ঢিলা ও শুষ্ক হয়ে গাল বসে যায় এবং বয়স্ক মানুষের মত চেহারা হয়।
প্রসারিত চোখের দৃষ্টি এবং বড় বড় চোখের পাঁপড়ি দেখা যায়। 8.
বদমেজাজী ও অস্থিরতা থাকে। ৫.
৬. শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কমে যেতে পারে।
৭. রোগীর প্রায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
৮. রক্ত স্বল্পতা, রাতকানা ও অন্যান্য অপুষ্টির উপসর্গ দেখা দেয়।
ম্যারাসমাসের মত খাদ্যে আমিষের অভাব এবং ওজন যদি স্বাভাবিকের ৬০-৮০ ভাগ থাকে এবং শরীরে পানি নামে তাহলে তাকে কোশিয়রকর বলে। ৯ মাস থেকে ৩ বছরের শিশুরা এর শিকার।
#কোশিয়রকর_এর_লক্ষণসমূহ:
১. শরীরে অপুষ্টির জন্য পানি জমে। প্রধাণতঃ হাতে পায়ে পানি জমে।
২. শরীরের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ওজন কমে যায়।
৩. ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে খসখসে হয়, তুক খুব পাতলা হয় এবং চামড়ার নীচে চর্বি কমে যায়, পানি জমতে পারে এবং ঘা দেখা দিতে পারে।
৪. চুলের মসৃণতা, উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য নষ্ট, হয়ে চুল খসখসে, রুক্ষ, হালকা-পাতলা এবং সোজা হয়ে যায়। চুলের রং ধুসর বা লালচে হয়। টান দিলে সহজে উঠে আসে।
৫. লিভার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় আকারের হয়ে যায়।
৬. শিশুর খেলাধুলা, চলাফেরাতে অনীহা থাকে, উদাস ভাব দেখা দেয়, ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। শিশুকে মনে হয় দুর্দশাগ্রস্ত।
৭. রক্তশূন্যতা, ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ, ডায়েরিয়া এবং অন্যান্য রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।
ম্যারাসমাস ও কোশিয়রকর প্রতিকারের উপায় ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ
১. একটি মেয়ে যদি কিশোরী ও প্রাপ্ত বয়সে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় এবং ১৮ বছর থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে মা হয়, তাহলে সাধারণত স্বাভাবিক ওজনের শিশুর জন্ম দেয়। আমাদের দেশে যত শিশু জন্ম নেয়, তার প্রায় অর্ধেকের ওজন স্বাভাবিক থেকে ২.৬ কেজি থেকে ৩.৫ কেজি কম। স্বাভাবিক ওজনের কম ওজন হলে অপুষ্টির আশংকা থাকে।
২. গর্ভবতী মাকে বাড়তী খাবার খাওয়ালে তারই গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হবে এবং ভবিষ্যতে মায়ের দুধও বাড়বে এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে সাহায্য করবে।
৩. জন্ম থেকে মাস বয়স পর্যন্ত অর্থাৎ ৪ থেকে ৬ মাস কেবলমাত্র বুকের দুধই হচ্ছে শিশুর আদর্শ খাদ্য। জন্মের পরপরই ঘন শাল দুধ খাওয়াতে হবে। এর মধ্য দিয়ে শিশু দুধ ছাড়া এই বয়স পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ উপাদানও পেয়ে থাকে। পানি, মধু এবং অন্য কোন খাবারের প্রয়োজন নেই। কারণ এসব খাবারের মধ্য দিয়ে শিশুর ডায়েরিয়া হতে পারে। মায়ের দুধে শতকরা ৮৮ ভাগ পানি থাকায় আলাদা পানিও প্রয়োজন নেই, এমনকি গ্রীষ্মকালেও।
8. ৪-৬ মাস বয়স হতে শিশুকে নরম খাবার খাওয়াতে হবে। খিচুড়ি একটা উৎকৃষ্ট খাদ্য। যতটুকু চাল তার তিন ভাগের এক ভাগ ডাল,কিছু শাক, কিছু সবজি, ১ থেকে ২ চা চামচ করে দিনে ১-২ বার শুরু করে আস্তে আস্তে পরিমাণে এবং বারে বাড়াতে হবে। ৮ মাস হলে এই খাবার ৪ বার খাওয়ানো যেতে পারে। ১ থেকে ৩ বছর বয়সে শিশুকে দিনে ৫-৬ বার পারিবারিক খাদ্য খাওয়াতে হবে, খাবার যেন নরম হয়। শিশুর অপুষ্টি দূর করতে হলে বাড়তি তেল ও আমিষ জাতীয় খাবার যোগ করতে হবে। বাড়তি তেল, যেমন: সয়াবিন তেল ১-২ চা চামচ প্রতিবার খাবার সাথে যোগ হবে। বাড়তি আমিষ বলতে বোঝায় ডাল, সীমের বীচি, বাদাম, মাছ, গোশু, ডিম ও দুধ।
শিশুর খাবার যারা তৈরি করেন, খাবার তৈরির পূর্বে তারা পরিষ্কার পানিতে সম্ভব হলে সাবান বা ছাই হাত ধোয়ার জন্য ব্যবহার করে হাত ধুয়ে নিবেন।
মল ত্যাগের পরে বাড়ির সকলে সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। এমনকি শিশুর পায়খানা পরিষ্কার করার পরেও সাবান দিয়ে হাত ধোবেন।
প্রতি মাসে শিশুর ওজন নিতে হবে। এভাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলবে। যদি দেখা যায় শিশু স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, তাহলে চিন্তার কারণ নেই। শিশু না বাড়লে তাকে দু'বার বাড়তি খাবার দিন। পরপর ২ মাসেও যদি না বাড়ে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আমাদের দেশের শিশুরা প্রায়ই ডায়েরিয়ার ভোগে। যদি নিয়মিত মায়ের দুধ খায় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, তাহলে এই ডায়েরিয়া বহুলাংশে কমানো যায়। যে পরিমাণ পাতলা পায়খানা হয়, ততটা স্যালাইন পানি খেতে দিতে হবে। সেই সাথে মায়ের দুধ অথবা বাড়তি খাবার চলতে থাকবে। পাতলা পায়খানার কারণে যদি শিশু দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে প্রথম ২ সপ্তাহ স্বাভাবিক খাবারের সাথে বাড়তি খাবার যোগ করতে হবে।
সম্প্রসারিত টিকা (ই.পি.আই) দান কর্মসূচীর মাধ্যমে ৬টি মারাত্মক রোগ থেকে শিশুকে বাঁচানো যায়। এটা আনন্দের কথা যে, ইপিআই কর্মসূচী সারাদেশে বিস্তৃত হয়েছে। তবে এতে আত্মতৃপ্তি লাভ করলে হবে না। কারণ হাম একটা মারাত্মক অসুখ, যেটা শিশুর অপুষ্টির কারণ হতে পারে। এমনকি শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে।
#তেমনি_আর_একটি_অসুখ_হুপিং_কাশি।
এতে শিশুরা ৩ মাস পর্যন্ত কাশিতে ভুগে অপুষ্টির শিকার হতে পারে।
মায়ের শিক্ষা: ইউনিসেফের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে মা
অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন, তিনি শিশুদের খাবার ও পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে সক্ষম। তার শিশুরা অশিক্ষিত মায়ের শিশুদের থেকে অনেক কম অসুখে ভুগে থাকে। যদিও উভয় মা (শিক্ষিত বা অশিক্ষিত) একই সামাজিক পরিবেশে বাস করেন।
পুষ্টি শিক্ষা: মায়েদের পুষ্টি শিক্ষা দিলে তার শিশু কম অসুখে ভুগবে এবং অপুষ্টি দেখা দিবে না।
মায়ের খাদ্য ও কুসংস্কারঃ
গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী মায়ের জন্য স্বাভাবিক খাবারের থেকে একটু বাড়তি খাবারের প্রয়োজন। গর্ভের শিশুর পুষ্টি এবং তার জন্মের পরে শিশুর জন্য উপযুক্ত পরিমাণ মায়ের দুধের প্রয়োজনেই এটা দরকার।
মায়েদের এই অবস্থায় পরিবারের অন্যদের মত সব খাবার খেতে হবে। কোন বিধি-নিষেধ আরোপের প্রয়োজন নেই। অনেকের মাঝে কুসংস্কার আছে মাছ, গোস্ত, ডিম, দুধ, শাক-সব্জি ইত্যাদি এই সময়ে না খাওয়া। এই ধারণা নিতান্ত অমূলক।
পরিবারের খাবারের সুষম বন্টন: সাধারণত পরিবারের প্রায়ই দেখা
যায়, সবাইকে খাওয়ানোর পরে যেটুকু পড়ে থাকে, সেটুকু মায়েরা খান। এটা মায়ের ও শিশুর পুষ্টিহীনতার একটা বড় কারণ। এই জন্য খুবই ভাল হয় যদি সকলেই একই সাথে বসে আহার করি। তাহলে খাদ্যের সমবন্টন সহজেই সম্ভব।
জমির সুষ্ঠু ব্যবহার: বসতবাটি যত অল্পই হোক যদি পরিকল্পনামত বানানো যায়। তাহলে এর মধ্যে শাক-সবজি, বাগান, মাছের চাষ ও হাঁস-মুরগী এবং গরু-ছাগল লালন পালনের মাধ্যমে বাড়তি খাবার ও পুষ্টি বিধান করা সম্ভব।
Faregh, Hathazari Arabic University (2017-18)
Government Trained Imam 957/15
Hijama Therapist (Trainer by Dr Junaid Khan, Hijama Wellness Centre, Bengaluru, India (2019)
Chinese Treatment Acupuncture (2020)
Unani (Modern Herbal) (P.H.C) (2020)
☎️ +88 01911-695405 WhatsApp
+88 01511-695405