15/03/2026
" আ'ফিয়াহ্! "
আমি ভাবছিলাম এই টপিক নিয়ে লিখবো না। তবে রোজার সময়ে যেহেতু অনেকেই রোজা রাখবেন, সাহরি ইফতারে দু'আ করে অনেক কিছু চাইবেন আল্লাহর কাছে তাই এটা লিখছি একটু এওয়ারনেসের জন্য৷
২০২৩ সালের রমাদান মাসে আমি প্রচুর দু'আ করতাম একজন মানুষ আমাদের কাছে ফিরে আসার জন্য৷ প্রতিদিন সাহরিতে, ইফতারে, নামাজে সব জায়গায় দু'আ করতাম। আল্লাহর কাছে বলতাম, "আল্লাহ যেভাবেই হোক তাকে ফেরত দিন৷ আমাদের সংসারটা পূর্ণ হোক"৷
আল্লাহ দু'আ কবুল করলেন, অবশেষে ২০২৩ সালের শেষে সে ফেরত আসে আবার ২০২৪ সালের শেষে চলে যায় আমাদের একা করে। ভীষণ ভাবে ভেঙ্গে পরি আমরা৷ কারণ এই সময়টার মধ্যে অনেক ঝড় তুফান পার করেছি শুধু ঐ মানুষটার জন্য।
এরপর ২০২৫ সালে আমি দু'আতে পরিবর্তন আনলাম৷
যেখানে যত দু'আ করতাম সব জায়গায় বলতাম, "ইয়া আল্লাহ! আ'ফিয়াহ্ র সাথে আপনি এটা সম্পন্ন করে দিন।" আর সত্যি বলতে সেই কাজটা এত সুন্দর ভাবে হয়ে যেতো যা কল্পনারও বাহিরে।
আ'ফিয়াহ্' শব্দটা আমি শিখি একটা স্টোরি পড়ে৷ সেটা কমেন্টে দিয়ে দিবো৷ আপাতত এভাবে দু'আ করে আমার যে দু'আ গুলো কবুল হয়েছে তার কিছু উদাহরণ দেই।
১. আমার নানু অনেক অসুস্থ ছিলো৷ তার ৬/৭
টা সিরিয়াস রোগ৷ ডাক্তার বললো অপারেশন লাগবে তবে হাই রিস্ক৷ অপারেশন রুমেই যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে!
আমি দু'আ করলাম আল্লাহ আ'ফিয়াহ্ র সাথে আমার নানুকে সুস্থ করে দিন অপারেশন সম্পন্ন করুন৷
আলহামদুলিল্লাহ আমার নানুর অপারেশন তো ভালো ভাবে হয়েছেই, এখন নানু বাসায় এসে একা একা হাঁটতেও পারে মাশাআল্লাহ।
২. আমার শশুড়বাড়িতে যখন যাই আসার পথে কোনো রিক্সা থাকে না৷ আসার সময় আমার অনেক কষ্ট হয়৷ আমি বের হওয়ার সময় দু'আ করলাম, "আল্লাহ! আ'ফিয়াহ্ র সাথে একটা রিক্সা মিলিয়ে দেন আমাকে"।
বিশ্বাস করুন গেইট থেকে বের হতেই দেখি রিক্সা আছে, আল্লাহু আকবার!
৩. আমি অনেকদিন থেকে একজন ভালো সাপ্লায়ার খুঁজছিলাম আমার প্রোডাক্টসের জন্য৷ এর আগে যেখান থেকে আনতাম আমার কিছু সমস্যা হচ্ছিলো সেখানে। একদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দু'আ করলাম কঠিন ভাবে, "আল্লাহ! এই যে আমি বের হচ্ছি, আপনি আমাকে আ'ফিয়াহ্ র সাথে ভালো সাপ্লায়ার মিলিয়ে দিন"৷ সেইদিন আমি যার সন্ধান পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ এখন সেখান থেকেই আনি সব৷
৪. আমি গত ডিসেম্বরে চীন গেলাম বিজনেস পারপাশে।
সেখানে যে আশা করে গিয়েছিলাম তার ৫% ও পূরণ হয়নি৷ তার উপর ভাষার ব্যারিয়ার ছিলো অনেক৷ একদিন একটা দোকানে কিছু কিনতে গেলাম। দোকানে যাওয়ার পর চাইনিজ ঐ মহিলার সাথে আমি কথা বলতে পারছিলাম না, আমি ইংরেজি বললেও সে ইংরেজি বুঝেনি একেবারেই৷ আমি দু'আ করলাম, "আল্লাহ! আ'ফিয়াহ্ র সাথে সহজ করে দিন"। এর মধ্যেই ঐ দোকানে একজন চাইনিজ লোক কেনাকাটা করতে আসলো। সে যখন দেখলো আমি তাকে বুঝাতে পারছিলাম না, সে আমাদের দোভাষী হিসেবে কাজ করলো! আমি পুরো হতবাক সে এত ভালো ইংরেজি জানে এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না৷ কারণ ওরা ইংরেজিকে কেউ এত প্রায়োরিটি দেয় না।
সেদিন সুন্দর ভাবে সেই প্রোডাক্ট কিনে আমরা পরদিন বাংলাদেশে ফেরত চলে এসেছিলাম৷ আলহামদুলিল্লাহ।
এখন অব্ধি আমি যতবার আল্লাহর কাছে এভাবে দু'আ করেছি আল্লাহ ঠিক ততবার আমাকে সব সমস্যা দূর করে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
উল্লেখ্য আমি কোনো বিশেষ আমল করি না৷ সব সময় দু'আ এবং ইস্তেগফার করে থাকি আর এই বলেই দু'আ করি আল্লাহর কাছে৷ আল্লাহ কখনোই নিরাশ করেননি আমাকে৷
আপনারাও যারা দু'আ করবেন এভাবে ভালো নিয়্যতে আল্লাহর কাছে "আ'ফিয়াহ্ র সাথে" সাহায্য চান ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সব কবুল করবেন।
Nooran_✍️
এই গল্প পড়ার পর থেকে আমি এভাবে দু'আ করা শুরু করি।
(আ'ফিয়াহ্ (العافية) অর্থ: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ ও অকল্যাণ থেকে নিরাপত্তা এবং দুনিয়া-আখিরাতে কল্যাণ লাভ)
সম্মানিত একজন শিক্ষিকা বোন বলেন, আমি স্কুল থেকে ফিরে রান্নাঘরের কাজ শেষ করে বের হতে প্রায় অর্ধ রাত হয়ে যায়। একদিন আমার ভাই এসেছিল।
সে এসব দেখে বলল, আমি তো সবসময়ই তোমাকে রান্নাঘরে দেখি!
আমি বিরক্তির সুরে বললাম, তাহলে কেন তুমি লাইলাতুল কদরে আমার জন্য দু'আ কর না যে, আল্লাহ যেন আমাকে রান্নাঘরের জ্বালা থেকে মুক্তি দান করেন!
এই বলে আমি কিছু সময় চুপ রইলাম কিন্তু মাথায় ইমাম আহমাদ (রাহি)-এর ঘটনাটি ঘুরপাক খেতে শুরু করল। তিনি আল্লাহর কাছে দু'আ করেছিলেন, "হে আল্লাহ! আমাকে হাদিস হিফজ করার মতো সময় দাও।" কিন্তু তিনি আ'ফিয়াহ্ র কথা বলতে ভুলে যান। ফলে তিনি সুযোগ তো পেয়েছিলেন তবে তা বন্দি অবস্থায় জেলখানায়। তাই তো কেউ যখন আল্লাহর কাছে কিছু চাইবে তার তো আ'ফিয়াহ্ ও উত্তম বস্তুটি চাওয়া উচিত।
তাই ঝটপট করে ভাইকে বললাম, "দেখ! আমার রান্নাঘরের ঝামেলা থেকে মুক্তির দু'আ যদি তোমার করতেই হয়, তবে এই দু'আ করবে, যে আল্লাহ যেন আমাকে আ'ফিয়াহ্ র সাথে মুক্তি দান করেন।"
পরেরদিন ছাত্রীদেরকে এই বিষয়টি আমি বুঝিয়ে বলছিলাম এবং সতর্ক করছিলাম৷ তাদেরকে ইমাম আহমাদের গল্পও শুনালাম।
তাদের মধ্য থেকে এককজন ছাত্রী দাঁড়িয়ে পড়ল এবং বলা শুরু করল, উস্তাদ! আমাদের বাড়ির পাশে এক মহিলা আছে। আমি তাকে চিনি। সে সবসময় দু'আ করেন, "হে আল্লাহ! আমাকে বিনা পরিশ্রমে ঘরে বসে বসে তিন মিলিয়ন টাকার মালিক বানিয়ে দাও।" সে যেকোন সম্মানিত জায়গায় যেতেন বা যেকোন বরকতময় রজনীতে এই একি দু'আ করতেন, "তিন মিলিয়ন টাকা বিনা পরিশ্রমে ঘরে বসে বসে।"
উস্তাদ, আল্লাহর শপথ! এভাবে দু'আ করার ফলে কিছুদিন পর তার দু'আ অনুযায়ী ৩ মিলিয়ন টাকা ঘরে বসে বসে কাছে তো আসল কিন্তু-----
কিন্তু কি?!
কিন্তু তার যেহেতু এ পরিমাণ টাকা কামানোর যোগ্যতা ছিল না। আর তার দু'আ ছিল তার লাগবেই। তাই তো তার ছেলেকে যখন কিছু ব্যক্তি হ**ত্যা করে তার দিয়াত হিসেবে সে ৩ মিলিয়ন পেয়ে যায়।
উস্তাদ: এইজন্যই আমি তোমাদেরকে সতর্ক করেছি। অর্থাৎ যখন দু'আ করবা তখন আ'ফিয়াহ্ ও কল্যানও চাইবা।
যদি সম্পদ চাও তাহলে বলবা, "হে আল্লাহ! আমাকে এতটুকু সম্পদ দেন যেন সে সম্পদ আমার দুনিয়া ও আখিরাতে আ'ফিয়াহ্ ও কল্যাণময় জীবন কাটানোর জন্য যথেষ্ট হয়।"
যদি পাত্র/পাত্রী কামনা কর তাহলে বলবা, "হে আল্লাহ! আমাকে এমন ভাল ছেলে/মেয়ে মিলিয়ে দিন যাকে পেয়ে আমি দুনিয়া ও আখিরাত আ'ফিয়াহ্ এবং কল্যাণের সাথে কাটিয়ে দিতে পারি এবং সে আমার চক্ষু শীতলকারী হওয়ার পাশাপাশি আমার সাহায্যকারীও হতে পারে।"
শায়েখ রাতিব নাবুলুসী (হাফি)
অনুবাদ : আব্দুর রহমান