04/06/2026
মায়াপাখি নামের এই গার্বেজ কালকে রাত দুইটা পর্যন্ত জেগে দেখলাম। এরপর আরো দুই ঘন্টা জেগে ভাবলাম কতটা ব্রেইনলেস হলে এমন নির্মাণ সম্ভব! কর্পোরেট অফিস নিয়ে নুন্যতম জ্ঞান নেই নির্মাতার। একটা বেড রুম আর ড্রয়িং রুমকে অফিস বানিয়ে হাতে গোণা কয়েকজন স্টাফ দেখিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ টাইপ কর্পোরেট অফিস ফিল দিতে চেয়েছে, যেটা খুবই হাস্যকর। এরপর 'মেয়েরা বসের সাথে শুয়ে শুয়ে প্রমোশন পায়' যুগ যুগ ধরে পুরুষদের মস্তিস্কে চলতে থাকা এই গু মার্কা ধারণা বমি করে দেওয়ার জন্য যতটুকু চেষ্টা করা সম্ভব সবই করেছে নির্মাতা। সেই চেষ্টা এতোটাই জোরালো ছিল যে, খু'ন করে ফেলার মতো অ'পরাধকেও জাস্টিফাই করা হয়েছে এখানে।
মায়া কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে ঢুকে চেঞ্জ হয়ে যায়। কেন? কারণ বান্ধবীর সাথে পাঙ্গা নিতে হবে। এই অফিসের নারী স্টাফদের একমাত্র কাজ সেজেগুজে বসের মনোরঞ্জন করা এবং প্রমোশন বাগিয়ে নেওয়া। মানে সবাই সারাক্ষণ লিপস্টিক ঘষছে, আর বস ডাকলে সুগন্ধি মেখে বসের রুমে যাচ্ছে। এখন অনেকে বলতে পারে এমন ঘটনা কি ঘটে না কর্মক্ষেত্রে? নিশ্চয় ঘটে! আমি নিজেই দেখেছি। কিন্তু একটা অফিসের সব নারী স্টাফ সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে সারাক্ষণ লিপস্টিক ঘষে বসের সাথে শোয় না! এক দুইজন করতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ নারীই তার নিজের মেধা বলেই উচ্চপদে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করে- এটাও আমি নিজে দেখেছি। অথচ এই নাটকে দেখানো হলো নারী কর্মী মানেই বসের সাথে শুয়ে পড়া।
যে অফিসের পরিবেশ এমন, সেই অফিস বদলে ফেলার সুযোগ আছে। পার্টনার যদি চিট করে, তাকে ডিভোর্স দেওয়ার অপশন খোলা আছে। অথচ এই ধরনের স্বাভাবিক ঘটনার কিছুই হলো না। বসের সাথে শুয়েছে জেনেও 'আমি তোমাকে আবার মেনে নেবো ফিরে আসো' বলে দুই হাত বাড়িয়ে থাকা এবং ফিরে আসার পর বি'ষ খাইয়ে খু'ন করা - কোনোটাই স্বাভাবিক আচরণ নয়। এই ধরনের সাইকোপ্যাথ আচরণকে শুধু স্বাভাবিকই দেখানো হয়নি, গ্লোরিফাই করার সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে।
মিসোজিনিস্ট নির্মাতার নির্মাণ করা এই গার্বেজ বেশ ট্রেন্ডে আছে। কারণ আমাদের সমাজ মাত্রই মিসোজিনিস্ট। এরা এইগুলা দেখবে আর আত্নতুষ্টি নিয়ে ভাববে, ঠিকই তো। বউ থাকবে ঘরে। বউ অফিসে গেলে তো এইগুলাই হবে। ঠিক হয়েছে। অপূর্ব সেরা, অপূর্ব হিরো! ঠিক করেছে বউ খু*ন করে!
সংগ্রহীত