13/04/2026
Death Anniversary of my Nana… Khan Bahadur Badi Ahmad Chowdhury 🤍
A man of royal dignity and strong legacy — a respected politician, landowner, and a deeply pious servant of Allah. Honored as Amirul Hajj, he was known for leadership, integrity, and unwavering faith.
He leaves behind a legacy of honor, service, and devotion that continues to shape our family values and inspire generations.
May Allah ﷻ forgive him, have mercy on him, and grant him the highest place in Jannatul Ferdous. Ameen 🤲
Please read below article about Nana
স্মরণ: মানবদরদী খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী
( জনাব আহমদুল ইসলাম চৌধুরীর পিতা )
লেখক: গোলামুর রহমান, প্রধান শিক্ষক (অবঃ), বৈলছড়ী নজমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, দৈনিক পূর্বকোণ Dainik Purbokone
খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী এতদাঞ্চলের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। বাঁশখালী উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান বৈলছড়ী তাঁর জন্ম। একই ইউনিয়নের চেচুরিয়াতে আমার বাড়ী। তাঁরই প্রতিষ্ঠিত নজমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে এসএসসি পাস করি। এই বিদ্যালয়েই দীর্ঘ দিন সহকারী শিক্ষক, অতঃপর সহকারী প্রধান শিক্ষক, এরপর দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপালন করে অবসরে যাই।
এলাকার মুরব্বিগণের মুখে মুখে জেনে আসতেছি তাঁর জীবনটা মানবের কল্যাণে উৎসগীর্কৃত বলা যায়। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর বৈলছড়ী ও কাথারিয়া ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন (ঐ সময় কাথারিয়া ইউনিয়ন বৈলছড়ী ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ত ছিল)। অবিভক্ত বাংলায় ১৯২৯ সালে এম,এল,সি ছিলেন। ঐ সময় তাঁর নির্বাচনী এরিয়া ছিল রাঙ্গুনিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত। ১৯৪৩ সালে এম,এল,এ নির্বাচিত হন জমিদার প্রতিনিধি হিসেবে। তাঁর নির্বাচিত এলাকা ছিল বৃহত্তর সিলেটসহ চট্টগ্রাম বিভাগ। ১৯৩৫ সালে আমিরুল হজ উপাধি লাভ করেন। ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল কতৃর্ক খান বাহাদুর উপাধি লাভ করেন।
তাঁর পূর্ব পুরুষ মহান হযরত সৈয়দ আবদুর রহমান ছিদ্দিকী। তাঁরই অধস্তন পুরুষ জনাব শায়েস্তা খান এর নায়েবে উজির সৈয়দ মুহাম্মদ খান ছিদ্দিকী। খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরীর অগ্রজ ফার্সি ভাষার উকিল মুহাম্মদ আলী খান ছিদ্দিকী বৈলছড়ী বাড়ীর সামনে মসজিদ ও মকতব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী নিজ দুই ভ্রাতা ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে বৈলছড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বৈলছড়ী নজমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, সম্মুখে প্রকান্ড খেলার মাঠ অতঃপর বাজার, বাজারে এবাদতখানা, জনকল্যাণে সাব পোস্ট অফিস ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ সময় সাব পোস্ট অফিস জনকল্যাণে বহুবিধ অবদান রাখে। গ্রামাঞ্চলে ব্যাংক ছিল না বিধায় ব্যাংকের কাজও করত। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল পর্যন্ত সেবা নিতে মানুষ পোস্ট অফিসে আসা—যাওয়া করত। ঐ সময় ব্রিটিশ আমলে পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকে গ্রামাঞ্চলে পাস করা ডাক্তার ছিল না বললেই চলে। খান বাহাদুর সাহেব হাসপাতালের পাশে কোয়াটার নির্মাণ করে দেন। রাউজান থেকে একজন এল,এম,এফ ডাক্তার নিয়ে আসেন। বহু বছর স্ব—পরিবারে থাকেন। অসংখ্য নারী—পুরুষ চিকিৎসা সেবা পেতে থাকেন। বর্তমান কালেও সাব পোস্ট অফিস ও হাসপাতাল জনগণের কল্যাণে সেবা দান করে চলেছে।
বৈলছড়ী খান বাহাদুর বাজার ঐ সময় তথা ব্রিটিশ আমলে জনসংখ্যা কম ছিল বিদায় সাপ্তাহিক মঙ্গলবার একবেলা হাট বসত। পাকিস্তান আমলে এসে সাপ্তাহে ৫ দিন, শনিবার বুধবার বাদে হাট বসত।
তিনি যেমনি ছিলেন অতীব ধার্মিক তেমনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। ন্যায়ের প্রতীক খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভাগের সময় বাঁশখালী সংখ্যালুঘুদের নিরাপত্তায় সাহসী ভূমিকাপালন করেছেন। যা এলাকার মুরব্বিগণের মুখে মুখে শুনে আসছিলাম।
তিনি এত বেশি সাহসী ছিলেন যে ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষের সময় কলকাতা পালার্মেন্টে ব্রিটিশের শাসনে জীবনের ঝুঁকিকে তোয়াক্কা না করে সাহসী ভূমিকাপালন করেন। ফলে চট্টগ্রামবাসী ট্রেনে স্টিমারে ব্যাপক চাউল পেয়ে দুর্ভিক্ষ নিবারণে সহায়তা লাভ করেন।
বৈলছড়ী কাথারিয়া ইউনিয়নে তাঁর আমলে কোন অপরাধ ছিল না বললেই চলে। এই এলাকায় পুলিশ আগমনের কোন প্রয়োজন ছিল না। তাঁর ন্যায়পরায়ণ আইনের শাসনের প্রতি মানুষ শ্রদ্ধা করত ভয় পেত।
তিনি ছিলেন জমিদার জগতের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বৃহত্তর চট্টগ্রাম, বৃহত্তর নোয়াখালী, ত্রিপুরাসহ বৃহত্তর কুমিল্লা, বৃহত্তর সিলেট তথা চট্টগ্রাম বিভাগীয় জমিদার এসোসিয়েশনের তিনি ছিলেন সেক্রেটারী জেনারেল। ব্যারিস্টার জামিনী কান্তি ঘোষাল ছিলেন প্রেসিডেন্ট।
সেই পাকিস্তান আমলে আমরা বৈলছড়ী নজমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় দেখেছি। স্কুলের শিক্ষক বেতন, টুল, টেবিল অন্যান্য আসবাবপত্র (ঈড়হঃরহমবহপু ) সহ তিনি নিজ তহবিল থেকে প্রদান করতেন।
খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী জীবনে অনেক সেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। যথা—
■ সদস্য, ক্যালকাটা পোর্ট হজ কমিটি—পরপর ৩ টার্ম
■ সদস্য, ইন্ডিয়া রোড বোর্ড কমিটি
■ সদস্য, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে এডভাইজারী কমিটি—পরপর ৩ টার্ম
■ সদস্য, বেঙ্গল এক্সাইজ ষ্ট্যান্ডিং কমিটি
■ সদস্য, বেঙ্গল মেডিকেল ষ্ট্যান্ডিং কমিটি
■ সদস্য, বেঙ্গল ইরিগেশন ষ্ট্যান্ডিং কমিটি
■ সদস্য, বেঙ্গল রেভেনিউ ষ্ট্যান্ডিং কমিটি
■ সদস্য, বেঙ্গল এগ্রিকালচার বোর্ড
■ সদস্য, জেনারেল হসপিটাল এন্ড মেডিক্যাল স্কুল
■ সদস্য, চট্টগ্রাম ডিস্ট্রিক বোর্ড (১৫ বছর)
■ কমিশনার, চট্টগ্রাম পৌরসভা ২ টার্ম
■ সদস্য, স্কুল বোর্ড, চট্টগ্রাম
■ সদস্য, ইন্ড্রাস্ট্রি বোর্ড, চট্টগ্রাম
■ ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, পটিয়া টি কোম্পানী লিঃ, কলিকাতা
■ ডাইরেক্টর, দেশপ্রিয় সুগার মিল, কলিকাতা
■ ডাইরেক্টর, কো—অপারেটিভ ট্রেডার্স ব্যাংক
■ ডাইরেক্টর, ইন্দো বার্মা ট্রেডার্স ব্যাংক
■ ডাইরেক্টর, মহালক্ষ্মী ব্যাংক, চট্টগ্রাম
■ ডাইরেক্টর, ইউনাইটেড কমন ইনস্যুরেন্স কোং লিঃ
■ ভাইস প্রেসিডেন্ট বেঙ্গল লাইব্রেরী এসোসিয়েশন, কলিকাতা
■ সেক্রেটারী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় জমিদার এসোসিয়েশন
■ সেক্রেটারী,এন্টি ম্যালেরিয়াল সোসাইটি, চট্টগ্রাম
■ পৃষ্টপোষক, চট্টগ্রাম মোছলেম সমিতি, কলিকাতা
তিনি ১৯১৯ সালে তুর্কি গভর্নর শরীফ হোসাইনের আমলে প্রথম হজব্রতপালন করেন। অতঃপর ১৯৩৫ সালে ভারতীয় হজ প্রতিনিধি হয়ে মুম্বাই থেকে সাগর পথে আমিরুল হজ হিসেবে হজে গমন করেন। ঐ সময় সৌদি বাদশাহ আবদুল আজিজ রিয়াদ থেকে সড়কপথে ৫/৬ দিন সময় নিয়ে পবিত্র মক্কায় আসেন। খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী বাদশাহ আবদুল আজিজের সাথে একাধিক বার সাক্ষাৎকার করেন ভারতীয় হজযাত্রীগণের সুযোগ সুবিধা নিয়ে। ঐ সময় হাজীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা না থাকাসহ নানান প্রতিকূলতা ছিল।
খান বাহাদুর সাহেব ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া মিয়াখাননগর তথা চাক্তাইখালের পূর্বপাশে বাড়ী নির্মাণ করেন। এই বাড়ীটি আনোয়ারা বাঁশখালী বৃহত্তর চকরিয়ার মুসাফিরখানা বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। এখানে ঐ সমস্ত এলাকার যে কেউ প্রয়োজনের তাগিদে চট্টগ্রাম শহরে আসলে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা থাকত। রাত্রিযাপনের আসবাবপত্র রাখা থাকত, রাতের খাবারের ব্যবস্থা হত। ঐ সময় দক্ষিণ গ্রামাঞ্চলে পুকুরের পানি পান করত। গ্রামাঞ্চলে নলকূপের প্রচলন ছিল না। বাকলিয়া চট্টগ্রামের শহরের বগলের ভিতর। খান বাহাদুর সাহেব তাঁর দালানের সামনে জনগণের পানি পানের জন্য নলকূপ বসিয়ে দেন। শত শত মানুষ রাত দিন বিভিন্ন পাত্র করে পানি নিয়ে যেতেন পান করার জন্য।
তাঁর জীবনের শেষ কৃতি হল—পূর্ব পুরুষের এর নির্মিত পারিবারিক মসজিদটি পুনঃ নির্মাণ করা। ১৯৬৯ সালে এই নির্মাণ কাজ শুরু করে সমাপ্ত করেন। তাঁরই নির্মিত মসজিদে ১৯৬২ সালে ১৩ এপ্রিল শুক্রবার জুমার নামাজ পড়েন। ঐ দিন বিকেলে ৭৬ বছর বয়সে বৈলছড়ী নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন। আগেকার আমলে কেউ ইন্তেকাল করলে আত্মীয় স্বজনের ঘরে লোক পাটিয়ে সংবাদ দেয়া হত। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ প্রচারের বাঁশখালী প্রধান সড়কের দুই দিকে দুটি রিক্সা যোগে প্রচারের জন্য মাইক পাঠানো হয়। বয়স্ক জনের কাছে জানা তাঁর ইন্তেকালই প্রথম মাইক দিয়ে জানাযার সংবাদ প্রচার করা হয়। পরদিন বিকেল ৪ টায় জানাযা হয় তাঁরই প্রতিষ্ঠিত স্কুলের মাঠে। তাঁর নির্মিত মসজিদের দক্ষিণ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
৬৪ তম ইন্তেকাল বার্ষিকীতে খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরীকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।