06/09/2024
৩০ বছর বয়সই কি সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা?? ৩০ পার হলেই কি সরকারি চাকরির যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে??
উত্তর: কখনোই না।
যদি তা-ই হয়, তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, ৩০ বছরের বেশি বয়সী যারা চাকরি করে, তারা কোন যোগ্যতায় চাকরি করে? ৩০ বছর বয়স হয়ে গেলে যদি মানুষ চাকরি করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে, তাহলে ৩০ বছর বয়সের আগেই, বয়স কম থাকতে থাকতে সবাই চাকরিতে প্রবেশ করে ৩০ বছর পূর্ণ হওয়া মাত্রই চাকরি থেকে অবসরে চলে যাওয়া উচিত! একজন মানুষ যদি ৩৭ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় টিকতে না পেরে ৩৭ বছর বয়স হবার পর কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় টিকে যায়, তাহলে তাকে চাকরি দিতে বাধা কোথায়!
৩৭-৩৮ বছর বয়সে কি কেউ আমাদের দেশে সরকারি চাকরি করে না?!
শুধু ৩৭-৩৮ বছর বয়সে নয়, ৫৯ বছর বয়সে চাকরি থেকে অবসরে গিয়েও আমাদের দেশের অনেক সরকারী উচ্চপদস’ কর্মকর্তাকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন করে চাকরি নিতে দেখা যায়। ৫৯ বছর বয়স হয়ে গেলেও, চাকরি না করলেও চলে, এমন অসংখ্য মানুষ যে দেশে নতুন কোনো চাকরিতে প্রবেশ করতে পারে, সে দেশে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হওয়া একজন উচ্চশিক্ষিত বেকারের, যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছে ভালো একটা চাকরির স্বপ্নে, তার জন্য শুধু ৩০ বছর পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়ার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে!
সেশন জট, নানারকম অবাঞ্চিত ছুটি, হরতাল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনির্দিষ্ট কালের জন্য ভার্সিটি বন্ধ, যে কোনো অযুহাতে পরীক্ষা পেছানোর আন্দোলন যে দেশে নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা, সে দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমিত করার মানে যে মেধাবী বা উচ্চশিক্ষিত শিক্ষার্থীদেরকে চাকরি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা, কথাটি বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয়।
মালেশিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচনে ৯২ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহাথির মোহাম্মদ নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প ৭০ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ৬০ বছর বয়সে বিশ্বের একটি উন্নত দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে বাধাগ্রস’ হননি। আমাদের দেশেও অনেক এমপি-মন্ত্রী আছেন, যারা ৬০-৭০ বা তার চেয়েও বেশি বয়সে এসব পদে নির্বাচিত হয়েছেন। কী অসুবিধা? কোনো অসুবিধা যদি না থাকে, তাহলে একজন শিক্ষিত তরুণ বেকার তার ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য একটি চাকরি নিতে বয়স