29/11/2025
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ এনে একটি আইনি নোটিশ (Justice Demand Notice) দিয়েছেন ব্যারিস্টার আশরাফুর রহমানের মাধ্যমে ফুলবাড়ীয়ার বাসিন্দা মো. খোরশেদ আলম। ৩০ সেপ্টেম্বর নোটিশটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সেক্রেটারি এবং ময়মনসিংহের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)-এর কাছে পাঠিয়েছেন। নোটিশের মূল অভিযোগসমূহ: আইনি নোটিশ অনুযায়ী, ইউএনও মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত অভিযোগগুলো আনা হয়েছে: বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএনও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের টিআর (TR) ও কাবিখা (Kabikha) ফান্ডের প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা (পঁয়ত্রিশ লক্ষ) আত্মসাৎ ও অপব্যবহার করেছেন। ছেন। চেয়ারম্যানের সাথে যোগসাজশ: এই দুর্নীতিতে তিনি রাধাকানাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়া শিমুল-এর সাথে যোগসাজশ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা: ইউএনও তার পদের প্রভাব খাটিয়ে ফুলবাড়ীয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতির পদ দখল করে আছেন।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এই পদে থাকার কারণে স্থানীয় সাংবাদিকেরা তাঁর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতে সাহস পাচ্ছেন না, যা সংবিধান প্রদত্ত বাকস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করছে। অভিযোগ করা হয়, ইউএনও-এর এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা ও ভাবমূর্তি সমাজে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাঁর দুর্নীতির খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন দৈনিকে প্রচারিত হয়েছে। নোটিশ প্রেরক মো. খোরশেদ আলম পূর্বেও ২০২২ সালের ২২ শে সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং ডিসি অফিসে এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। বর্তমান নোটিশে কর্তৃপক্ষকে ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে ইউএনও-এর বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি এই সমস্যার সমাধান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে নোটিশ দাতা হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করবেন বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। স্বৈরাচারী,বেআইনি প্রেসক্লাব সভাপতি ইউএনও স্বৈরাচার আরিফুল ইসলামের মতো পৃথিবীর সকল স্বৈরাচারই তাঁর করুণ পরিণতির আগ মূহুর্ত পর্যন্ত সকল ন্যায় সঙ্গত জন-আকাঙ্খার বিরুদ্ধাচারণ করেন। মানুষকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং সর্বদাই জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিজের ক্ষমতা এবং দাম্ভিকতার জানান দেওয়া স্বৈরাচারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ০৫-ই আগস্টের পর জনপ্রতিনিধি বিহীন ফুলবাড়ীয়ার আরিফুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়াবাসীর সাথে এক-ই আচরণ করে চলেছেন।
উপজেলার সুশিক্ষিত বিবেকবান সমাজের তীব্র সমালোচনা সত্বেও একটি প্রহসনমূলক পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারি চাকুরীজীবি হয়েও বিনা ভোটে প্রেসক্লাব সভাপতি হয়ে আরিফুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়ায় তাঁর স্বৈরাচারী কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর আখালিয়া নদীর পাড়ে ওয়াক নির্মাণ এবং ডিমার্কেশনের দাবিতে উপজেলাবাসী এক হয়ে গণদাবি নিয়ে ইউএনও আরিফুল ইসলামের নিকট গেলে,সেখানেও গণদাবি বা গণআকাঙ্ক্ষাকে গলাটিপে হত্যা করে আরিফুল ইসলাম। আমরা বারবার বলা সত্বেও, আরিফের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের কারনে আখালিয়ার মাটি নদীর পাড়ে না ফেলে বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি জায়গায় বিক্রি করা হয়। যাঁর দরুন, এখন নদী পাড় ও নদী পাড়ের ঘরবাড়ি ভেঙে নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে। ফুলবাড়ীয়ার নব্য স্বৈরাচার আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাধাকানাই ইউনিয়নের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের কাজ না করে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে, প্রথমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদককে উনি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে মানে ২০২২/২৩ অর্থবছরের প্রকল্প বলে দুর্নীতিটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন। আরিফুলের আত্মীয়,স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী পালিত সন্ত্রাসী ও তাঁর গু খোর ঢাকনা সাঙ-বাদিক দিয়েও এ ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্বৈরাচার আরিফ নিউজ ২১ এর নিকট স্বীকার করতে বাধ্য হন যে উনিই ভুয়া বিল করে টাকা উত্তোলন করেছেন। ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষরিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক ডিসি ময়মনসিংহ'কে এ ব্যপারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অদৃশ্য শক্তির কারনে আরিফের বিরুদ্ধে সে তদন্ত শুনানি বারবার পেছানো হচ্ছে। বারবার শুনানি পেছানোর কারন হিসেবে আপনারা সর্ষের ভিতর ভূতও ধরে নিতে পারেন।
কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ শুনা যায়, সমাজ কল্যাণ অফিসের জায়গায় অবৈধ স্হাপনায় বেআইনি প্রেসক্লাব স্হানান্তর করছেন প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ। অথচ সমাজ কল্যান অফিসের এ জায়গায় তৎকালীন প্রশাসন অবৈধ স্হাপনা নির্মাণ কালে নির্মাণ শ্রমিক হাসানকে হত্যা করা হয়ে থাকে। সেসময় জালাল কাবেরী সমালোচনার মুখে দোকান বরাদ্দের ধান্ধা থেকে সরে এসে তড়িঘড়ি করে অবৈধ দোকানগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের অফিস বানিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়েছিলেন। সেটা যে আমলাদের শুধু আই ওয়াশ ছিলো তা নিশ্চয়ই ফুলবাড়ীয়াবাসী এখন বুঝতে পেরেছেন। কারন আমাদের সমালোচনার জন্য দীর্ঘদিন অবৈধ দোকানগুলোতে কিছু করতে না পারলেও, প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ অবৈধ দোকানগুলো গত ৯ মাসের তাঁর দুর্নীতির রাজস্বাক্ষী বেআইনি ফুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবকে উপঢৌকন হিসেবে দিয়ে দিলেন। এ ক্যান্সার জার্ম যদি ফুলবাড়ীয়ায় এস্টাবলিশমেন্ট পায়,তাহলে একটা সময় আমলা এবং সাঙ-বাদিকদের এ ক্যান্সার জার্ম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।
যে প্রেসক্লাবের সাঙ-বাদিকরা আমাদের শুধু ক্ষতিই করে যাচ্ছেন তাঁদেরকে ইউএনও এবার তাঁর বাসার সামনে নিয়ে আসছেন। ইউএনও ফুলবাড়ীয়ার কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করলেও,বেআইনি প্রেসক্লাব থেকে বেলকনিতে থাকা ইউএনও'র নুরানি চেহারা দেখে যেন সাঙ-বাদিকরা নিউজ করতে সাহস না পায়। এডিপির ৭৫ লাখ টাকা, কৃষি অফিসের ২৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৩৫ লাখ টাকার দুর্নীতির কবর দিতে ডিসি ময়মনসিংহ এ বেআইনি সিদ্ধান্তের সুপারিশ করেছেন। কোন কালে ফুলবাড়ীয়ার কোন কাজে না পাওয়া গেলেও নিজের রাজনৈতিক প্রচারের স্বার্থে এ সুপারিশের মধ্যস্হায় ছিলেন ৫ ই আগস্টের পর আবির্ভুত রাজনৈতিক ২ ইবলিশ। সময় হলে তাঁদের রাজনৈতিক উচ্চা বিলাসিতার উপর ফুলবাড়ীয়াবাসী হাগু করবে।
ফুলবাড়ীয়ার স্বার্থ বিরোধী এ চক্রান্তের সাথে যাঁরা জড়িত পর্যায়ক্রমে সকলের মুখোশ খুলে দেওয়া হবে। জনগণ অন্তত জানুক এ ফুলবাড়ীয়াকে একটা শ্রেণী জনসেবার নামে কিভাবে লুটেপুটে খাচ্ছে।
ফুলবাড়িয়ার সাধারন জনগণ প্রেসক্লাব সভাপতি স্বৈরাচার আরিফের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।