03/02/2026
কথিত শবেবরাত উপলক্ষে আমাদের সমাজে প্রচলিত ১৫টি বিদআত, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস:
১. এই রাতে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো।
২. হালুয়া-রুটি, খিচুড়ি, শিরনি ইত্যাদি রান্না করা, খাওয়া-দাওয়া করা বা বণ্টন করা।
৩. মসজিদ, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, গোরস্তান ইত্যাদি আলোকসজ্জা করা।
৪. দলবেঁধে কবর ও মাজার জিয়ারত করা বা এ রাতে জিয়ারত করাকে বিশেষ ফজিলত পূর্ণ মনে করা।
৫. মসজিদে মসজিদে মিলাদ মাহফিল, হালকায়ে জিকির, সম্মিলিত মুনাজাত ইত্যাদির আয়োজন করা।
৬. এ রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে বলে বিশ্বাস করা। প্রকৃতপক্ষে কুরআন নাজিল হয়েছে রমজান মাসেন শবে কদরে।
৭. এ রাতে ভাগ্য বণ্টন হয় বা এটিকে ‘সৌভাগ্য রজনী’ বলে বিশ্বাস করা। প্রকৃতপক্ষে ভাগ্য বণ্টন করা হয় শবেকদরে এবং এটি সৌভাগ্য রজনী।
৮. এ রাত উপলক্ষে গোসল করা, চোখে সুরমা লাগানো, আতর-সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করা।
৯. শবে বরাত উপলক্ষে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিনে রোজা রাখা এবং রাতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করা। তবে কেউ যদি শবেবরাতের নিয়ত ব্যতিরেকে ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগি করে তাহলে তাতে কোনও দোষ নেই।
অনুরূপভাবে কেউ যদি ১৫ই শাবান রোজা রাখতে চায় এই হিসেবে যে, এটা বীযের দিন এবং ১৪ ও ১৩ তারিখেও রোজা রাখে তাতে কোন অসুবিধা নেই। কিংবা এই হিসেবে রোজা রাখে যে, ১৫ তারিখ সোমবারে পড়েছে বা বৃহস্পতিবারে পড়েছে তাতেও কোন অসুবিধা নেই-যদি এ দিন রোজা রাখার বিশেষ কোনও ফজিলতের বিশ্বাস না করে।
১০. এ রাতে বিশেষ খাবার-দাবারের আয়োজন করা এবং এ রাতে ভালো খাবার খেলে সারা বছর ভালো খাওয়া যাবে মনে করা।
১০. এ রাতে মাছ, পশু-পাখি ইত্যাদির আকৃতিতে পাউরুটি, বাতাসা বা বিভিন্ন মিষ্টান্ন দ্রব্য তৈরি করা, ক্রয় করা বা খাওয়া।
১১. এ রাতে আনন্দ-উৎসব ও হৈ হুল্লোড় করা।
১২. কবর ও মাজারে আগরবাতি-মোমবাতি ইত্যাদি জ্বালানো।
১৩. মাজারের কথিত অলি-আউলিয়ার কবরের উপরে গিলাফ পরিবর্তন করা এবং তার উপর আতর-সুগন্ধি, ফুল, টাকা-পয়সা ইত্যাদি ছড়ানো।
১৪. এ রাতে কবর বা মাজারের দেওয়াল স্পর্শ করে বরকত হাসিল করা এবং কথিত বাবার নিকট কান্নাকাটি করা বা তার ওসিলায় রোগ-ব্যাধি ও বিপদমুক্তি, সন্তান প্রার্থনা করা।
১৫. বিশেষভাবে কথিত অলি-আউলিয়ার দরবারে এ রাতে বিশেষ কিছু মানত করা
আল্লাহু আলাম।
আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরণের বিদআতি কার্যক্রম, ভ্রান্ত ও কুসংস্কারপূর্ণ বিশ্বাস থেকে হেফাজত করুন। আমিন।