29/11/2025
#আমাদের_নিস্পাপ_শিশুদের_মাহফিলের_নামে_রাস্তায়_নামানো_বন্ধ_হোক
১. উদ্দেশ্য ও বাস্তবতার করুণ চিত্র
আমরা অভিভাবকরা আমাদের নিস্পাপ সন্তানদের মাদরাসায় পাঠাই—যেন তারা কুরআন-হাদীসের আলোয় আলোকিত হয়ে নবীজির (সাঃ) প্রকৃত অনুসারী ও সমাজের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ দেখা যায়, সেই ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে হ্যান্ডবিল দিয়ে রাস্তায়, বাজারে বা বাসস্ট্যান্ডে কালেকশনের জন্য পাঠানো হয়। এতে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে, শিক্ষার সময় নষ্ট হয়, আর সমাজে একটি ভুল বার্তা ছড়ায়।
২. নিরাপত্তার প্রশ্ন
যেসব সন্তানদের আমরা একা বাইরে যেতে দিই না—রাস্তাঘাটের বিপদ, যানজট বা সমাজের অনিরাপত্তার কারণে—সেই সন্তানদেরই যখন জনাকীর্ণ স্থানে অর্থ সংগ্রহে পাঠানো হয়, তখন প্রশ্ন জাগে:
এই কাজের দায় কে নেবে?
এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, আর মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অভিভাবকদের আস্থাও কমে যায়।
৩. সাধারণ মানুষের কাছে অপমান
এই কোমলমতি শিশুরা যখন দোকানে দোকানে সাহায্য চায়, তখন তাদের অনেকেই ফকিরের মতো আচরণ পায়।
কেউ অবহেলা করে হাতে ধরিয়ে দেয় ২ টাকা বা ৫ টাকার খুচরা, যেন তারা ভিক্ষুক।
কেউ বিরক্ত হয়ে বলে, যান যান, এখন সময় নাই,বা প্রতিদিনই কালেকশন আসে!
এমন কথা ও আচরণ শিশুটির কোমল মনে যে কষ্টের দাগ ফেলে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
তারা তো দ্বীনের ইলম নিতে এসেছে, অপমানিত হতে নয়।
এই ধরনের কাজ শিশুদের আত্মসম্মান ও মানসিক বিকাশের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
৪. মাহফিল বা প্রতিষ্ঠানের নামে প্রশ্ন
প্রশ্ন জাগে—মাহফিল বা মাদরাসা চালাতে কি সত্যিই শিশুদের রাস্তায় নামানোই একমাত্র উপায়?
যদি অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে সমাজের বিত্তশালী, ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনকভাবে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে।
আর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে মাদরাসা পরিচালনা করলে মানুষ নিজেরাই আগ্রহী হয়ে সহযোগিতা করবে।
অর্থের নামে শিশুদের ব্যবহার করা শুধু অন্যায় নয়, বরং দ্বীনের ভাবমূর্তিকেও কলঙ্কিত করে।
শেষ কথা
আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই,
মাদরাসা/মাহফিলের নামে ছোট বাচ্চাদের রাস্তায় নামিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা বন্ধ হোক।
দ্বীনের কাজ যেন দ্বীনের মর্যাদা নষ্ট না করে, বরং তা নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার মাধ্যমে পরিচালিত হোক।
ছবিতে যাদের দেখছেন তাদের বয়স ৫-৭ বছরের বেশি নয়।