14/08/2026
জাহাজের সবচেয়ে বড় "কবরস্থান" হচ্ছে বাংলাদেশ!
সমুদ্রগামী জাহাজগুলো সাধারণত ২৫-৩০ বছর চলমান থাকে এবং এরপর এগুলোকে কেটে ফেলা হয়।আর এই জাহাজ কাটা শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান সবার উপরে!এজন্যই প্রথমে ঐ উপমাটা দিয়েছি।আর এসব ক*বরস্থানকে "শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড" বলা হয়, যেগুলোর প্রায় সবই চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত।
এমনি একটি শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে আজ(১৪'আগস্ট) একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে! জাহাজ কাটার সময় সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে সাথে সাথেই ৫ জনের মৃ*ত্যু হয় এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আরও ২ জন মিলিয়ে মোট ৭ জনের মৃ*ত্যুর খবর পাওয়া যায়(নিউজে দেখলাম)।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে জাহাজ কাটার সময় এসব বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় কেন?
জাহাজ কাটার সময় অক্সি-এসিটিলিন শিখা ব্যবহার করা হয়।কাজেই এটি লোহার পাত এবং তাতে থাকা দ্রব্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে নানান ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন করে।যার ফলে সীতাকুণ্ডে "এসিড রেইন" হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া জাহাজেরও অনেক প্রকারভেদ থাকে।বিভিন্ন ধরনের জাহাজে বিভিন্ন ধরনের কার্গো বা মালামাল পরিবহন করা হয়।কাজেই জাহাজ কাটার সময় সেসব মালামালের অবশিষ্টাংশ থাকলে সেগুলোর সাথেও বিক্রিয়া হতে পারে।তবে কাটার সময় রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়াও জাহাজের ভেতরে কিছু ক্ষতিকর গ্যাস থাকে।এই যেমন "কার্বন মনোক্সাইড"। সেগুলোও যদি কেউ নিঃশ্বাসের সাথে নেয়,তাতেও মৃ*ত্যু ঝুকি থাকে।আমরা জাহাজের নাবিকরা সব সময় এসব বিষয়ে তৎপর থাকি এবং প্রতি দু'মাসে এসবের উপর ট্রেইনিং করা হয়।কিন্তু শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের বেশির ভাগ শ্রমিকই এসবের তেমন কিছুই জানে না।যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ করে যায়!ফলে এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটতে দেখা যায়।
এখন আসি আসল কথায়.....
আপনাদের মাথায় প্রশ্ন আসার কথা যে,"বাংলাদেশ জাহাজ নির্মাণে তেমন কোন অবদান রাখতে না পারলেও জাহাজ কাটায় কেন এক নাম্বার"?
-এর কারণ হচ্ছে " পরিবেশ"! জাহাজ কাটায় মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হয়। কাজেই যেসব দেশ তাদের পরিবেশের কথা ভাবে,তারা এসবে ইন্টারেস্ট দেখায় না।কেননা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনে এটা করতে গেলে তা খুবই ব্যায়বহুল হবে।সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারও নাকি পদক্ষেপ নিয়েছে,কিন্তু কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটাই দেখার বিষয়! কাজেই বুঝতেই পারছেন, পরিবেশের কথা ভাবা হয় না বলেই "শীপ ব্রেকিং" এ বাংলাদেশ এক নম্বরে আছে(ভৌগোলিক অবস্থানও এটার উপযোগী)।কাজেই আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক,তবে সেখানে যেন মানুষের জীবন এবং পরিবেশের প্রায়োরিটি দেয়া হয়।