Arju Da Sailor

Arju Da Sailor শুধুমাত্র সাগর,জাহাজ এবং দেশ বিদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নাবিকের ডায়েরি.....🌊🛳️🌎🧭
(10)

জাহাজের সবচেয়ে বড় "কবরস্থান" হচ্ছে বাংলাদেশ!সমুদ্রগামী জাহাজগুলো সাধারণত ২৫-৩০ বছর চলমান থাকে এবং এরপর এগুলোকে কেটে ফেলা...
14/08/2026

জাহাজের সবচেয়ে বড় "কবরস্থান" হচ্ছে বাংলাদেশ!
সমুদ্রগামী জাহাজগুলো সাধারণত ২৫-৩০ বছর চলমান থাকে এবং এরপর এগুলোকে কেটে ফেলা হয়।আর এই জাহাজ কাটা শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান সবার উপরে!এজন্যই প্রথমে ঐ উপমাটা দিয়েছি।আর এসব ক*বরস্থানকে "শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ড" বলা হয়, যেগুলোর প্রায় সবই চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত।

এমনি একটি শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে আজ(১৪'আগস্ট) একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে! জাহাজ কাটার সময় সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে সাথে সাথেই ৫ জনের মৃ*ত্যু হয় এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আরও ২ জন মিলিয়ে মোট ৭ জনের মৃ*ত্যুর খবর পাওয়া যায়(নিউজে দেখলাম)।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে জাহাজ কাটার সময় এসব বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় কেন?
জাহাজ কাটার সময় অক্সি-এসিটিলিন শিখা ব্যবহার করা হয়।কাজেই এটি লোহার পাত এবং তাতে থাকা দ্রব্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে নানান ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন করে।যার ফলে সীতাকুণ্ডে "এসিড রেইন" হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া জাহাজেরও অনেক প্রকারভেদ থাকে।বিভিন্ন ধরনের জাহাজে বিভিন্ন ধরনের কার্গো বা মালামাল পরিবহন করা হয়।কাজেই জাহাজ কাটার সময় সেসব মালামালের অবশিষ্টাংশ থাকলে সেগুলোর সাথেও বিক্রিয়া হতে পারে।তবে কাটার সময় রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়াও জাহাজের ভেতরে কিছু ক্ষতিকর গ্যাস থাকে।এই যেমন "কার্বন মনোক্সাইড"। সেগুলোও যদি কেউ নিঃশ্বাসের সাথে নেয়,তাতেও মৃ*ত্যু ঝুকি থাকে।আমরা জাহাজের নাবিকরা সব সময় এসব বিষয়ে তৎপর থাকি এবং প্রতি দু'মাসে এসবের উপর ট্রেইনিং করা হয়।কিন্তু শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের বেশির ভাগ শ্রমিকই এসবের তেমন কিছুই জানে না।যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ করে যায়!ফলে এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটতে দেখা যায়।

এখন আসি আসল কথায়.....
আপনাদের মাথায় প্রশ্ন আসার কথা যে,"বাংলাদেশ জাহাজ নির্মাণে তেমন কোন অবদান রাখতে না পারলেও জাহাজ কাটায় কেন এক নাম্বার"?
-এর কারণ হচ্ছে " পরিবেশ"! জাহাজ কাটায় মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হয়। কাজেই যেসব দেশ তাদের পরিবেশের কথা ভাবে,তারা এসবে ইন্টারেস্ট দেখায় না।কেননা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনে এটা করতে গেলে তা খুবই ব্যায়বহুল হবে।সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারও নাকি পদক্ষেপ নিয়েছে,কিন্তু কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটাই দেখার বিষয়! কাজেই বুঝতেই পারছেন, পরিবেশের কথা ভাবা হয় না বলেই "শীপ ব্রেকিং" এ বাংলাদেশ এক নম্বরে আছে(ভৌগোলিক অবস্থানও এটার উপযোগী)।কাজেই আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক,তবে সেখানে যেন মানুষের জীবন এবং পরিবেশের প্রায়োরিটি দেয়া হয়।

জাহাজে করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া যায় কিনা?এর উত্তরটা "না" সূচক হওয়া উচিত হলেও কিছু কু*লাঙ্গারের জন্য সোজাসাপ্টা না করা যাচ...
11/08/2026

জাহাজে করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া যায় কিনা?
এর উত্তরটা "না" সূচক হওয়া উচিত হলেও কিছু কু*লাঙ্গারের জন্য সোজাসাপ্টা না করা যাচ্ছে না!উন্নত দেশগুলোর কড়াকড়ি আইন এবং শিপিং কোম্পানিগুলোর সজাগ দৃষ্টির কারণে বর্তমানে যদিও কিছুটা কমেছে, তবুও এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে বলছি.....
বিদেশগামী জাহাজে করে সাধারণত দুই ধরনের লোক পালাতে দেখা যায়ঃ (১)জাহাজের নাবিক এবং (২)পোর্টে কর্মরত শ্রমিক। এদের পালানোর উদ্দেশ্য এক হলেও পন্থাটা ভিন্ন।উদ্দেশ্য তো বুঝতেই পারছেন যে,উন্নত দেশে পালিয়ে গিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলানো। কাজেই পালানোর পদ্ধতি নিয়ে বলছি......
বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রায়শই ইউরোপ, আমেরিকা তথা উন্নত বিশ্বের নানান বন্দরে গিয়ে থাকে।কাজেই সেসব বন্দর থেকে জাহাজের কিছু অসাধু নাবিকরা পালিয়ে যায়।শুনতে খুব একটা খারাপ না লাগলেও এগুলো একটা জাতির জন্য কলংক বয়ে আনে।তাদের এসব অপকর্মের জন্য শিপিং কোম্পানিকে হাজার হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয়!কাজেই সেই কোম্পানি কখনোই আর ঐদেশীয় নাবিক নিতে চাইবে না।এমনকি জাহাজে স্বজাতীয় কেউ থাকলে ভিনদেশী নাবিকদের কাছে তাদের অনেক ছোট হতে হবে এবং তারাও চাকরিচ্যুত হতে পারেন!আর পরিশেষে সে দেশের পাসপোর্টটি কলংকিত পাসপোর্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে!
পোর্টে কর্মরত শ্রমিকরা পালালেও শিপিং কোম্পানিকে একই ঝামেলা পোহাতে হয়।এজন্য জাহাজ ছাড়ার আগে খুব নিখুঁতভাবে সব জায়গা চেক করা হয় যে,নাবিক বাদে জাহাজে অন্য কেউ(stowaway) আছে কিনা।জাহাজের ভাষায় এটাকে আমরা Anti stowaway search বলি।এরা এমন এমন জায়গাতে লুকিয়ে থাকে যা আপনার আমার কল্পনাতেও আসবে না!সাধারণত আফ্রিকা এবং এশিয়ার নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে খুব কড়াকড়িভাবে চেক করা হয়।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে বাঙালিরাও এভাবে পালায় কিনা???
অনেক ক্ষোভ এবং কষ্ট নিয়ে বলতে হচ্ছে,উপরে উল্লেখিত দু'প্রকার চো*রই আমাদের দেশে বিদ্যমান! জাহাজের নাবিকদের তৎপরতায় Stowaway কমলেও প্রায় প্রতি বছরই কিছু বাঙালি নাবিক ঠিকই পালিয়ে যায়।এমনকি গত মাসের(জুলাই'২৬) ১০ তারিখেও স্পেনের বন্দর থেকে একজন দেশী কু*লাঙ্গার নাবিক পালিয়েছে।আসলে এরা এই উদ্দেশ্য নিয়েই জাহাজে সাধারণত রেটিংস হিসেবে যোগ দেয়(কেননা মাত্র ৬ মাস ট্রেইনিং করে স্বল্প খরচে ইউরোপ-আমেরিকা পালিয়ে যাওয়া যায়)। তবে জুনিয়র অফিসার তথা ক্যাডেটদের মাঝেও এমন ঘটনা দেখা যায়।আসলে এখানে রেটিংস/অফিসার দিয়ে কথা না,এদের পরিচয় একটাই.... "এরা দেশদ্রোহী, এরা চোর"! আপনারা আবার রেটিংস নাবিক ভাইদের খারাপ চোখে দেখবেন না,আসলে উনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই জাহাজ সচল থাকে এবং উনারাও বেশ ভালো বেতনে চাকরি করেন।তবে পলাতক নাবিকদের ৯৫ শতাংশই রেটিংসদের মধ্য থেকে থাকে বলে ওভাবে উল্লেখ করেছি।

এখন আসি পরিতাপের বিষয়ে.....
আমরা সবাই জানি বাংলাদেশী পাসপোর্টের মান কতটা নিচে! আর এটা এমনি এমনি হয়নি। বাঙালি সোনার ছেলেদের কৃতকর্মের জন্যই হয়েছে! অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া, বিদেশে চু*রি-চামারি করা, দক্ষতার অভাব, কথা-কাজে মিল না রাখা ইত্যাদি সংগত কারণেই এই সবুজ পাসপোর্টটি আমাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে! মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অপকর্মের ফল গোটা একটা জাতিকে বহন করতে হচ্ছে! ভিসা ছাড়া মাত্র ৩৫ টি দেশে বাংলাদেশী পাসপোর্টের অনুমোদন রয়েছে। অথচ আজীবন ট্রল করা উগান্ডার নাগরিকরাও ভিসা ছাড়া ৬৫ টি দেশে যেতে পারে! যাইহোক, কথা অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। যারা যারা অবৈধ পথে বিদেশে পারি জমাতে চাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলব,দয়া করে কেউ এমনটা করবেন না!নিজের সামান্য লাভের আশায় গোটা জাতির ক্ষতি করবেন না! আর বিদেশে পালিয়ে যত আরামদায়ক জীবনই গড়েন না কেন,আপনি একজন চোর এবং আপনি না চাইলেও আপনার বিবেক আপনাকে বার বার এটা মনে করিয়ে দিবে।জীবনটা খুবই ছোট।কাজেই সৎ পথে থেকে হালাল উপার্জন করে গর্বের সাথে বাচুন। জীবনকে জটিল না করলে জীবন খুবই সুন্দর(আলহামদুলিল্লাহ)..... 🥀।

01/08/2026

চাইনিজ ফিশিং বোট.....🌊🐟🛳️

13/07/2026

জাহাজের নাবিকদের অবসরে মাছ ধরা...🎣🐠🐟

জাহাজের প্রধান শত্রু...⚠️জাহাজের প্রধান শত্রু হচ্ছে "আগুন"!!! আর তাই আগুন থেকে জাহাজ,মালামাল এবং নাবিকদের নিরাপত্তার জন্...
02/07/2026

জাহাজের প্রধান শত্রু...⚠️
জাহাজের প্রধান শত্রু হচ্ছে "আগুন"!!! আর তাই আগুন থেকে জাহাজ,মালামাল এবং নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য জাহাজে নানান ধরনের নিরাপত্তার জাল বুনা থাকে।কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এর পরেও আগুন লাগার ঘটনা অহরহ!

এখন ভাবতে পারেন লোহার তৈরি জাহাজ,যা কিনা আবার পানিতে চলে....এখানে আবার আগুন লাগে কীভাবে!?
যদিও অনেকেই জানেন..... তবুও বলছি,আগুন লাগতে মূলত তিনটি জিনিসের প্রয়োজন পরে(তাপ,অক্সিজেন এবং দাহ্য পদার্থ)।এটাকে ফায়ার ট্রায়াংগেল বলে।এই তিনটি জিনিস একত্রে থাকলেই আগুন লাগার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।আমাদের জাহাজের প্রতিটি জায়গায়ই এই তিনটি জিনিসের উপস্থিতি রয়েছে।জাহাজ লোহার তৈরি হলেও লোহার প্রতিটি পাতই "রঙ" করা থাকে যা কিনা হাইলি ফ্লেমেবল!এছাড়া পুরো জাহাজ জুড়েই তেলের লাইনের ছড়াছড়ি। তার উপর তেলবাহী অথবা গ্যাসবাহী জাহাজ হলে তো কথাই নেই!তেলবাহী জাহাজকে সমুদ্রে ভাসমান "বম্ব" বলা হয়।ছোট্ট একটু ভুলেও পুরো জাহাজ ব্লাস্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য ধরনের জাহাজেও এমন অনেক মালামাল নেয়া হয় যেগুলোতে অল্পতেই আগুন লেগে যায়।

তাই আগুন থেকে রক্ষা পেতে আমরা নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রতি মাসেই "ফায়ার ফাইটিং" ট্রেইনিং করে থাকি।কোন ধরনের আগুনে কী ধরনের ব্যাবস্থা নিতে হবে,আগুন মুকাবিলায় কার ডিউটি কী, আগুন নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেলে কী করতে হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো ট্রেইনিং এর সময় হাতে কলমে শিখানো হয়।ট্রেইনিং এর সময় এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হয় যেন সত্যি সত্যিই আগুন লেগেছে!আরও অনেক বিষয় আছে যেগুলো লিখলে পোস্ট অনেক বেশি বড় হয়ে যাবে।

আমার জীবনের প্রথম জাহাজেই বড় ধরনের আগুন লেগেছিলো এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিলো! চীনের কোস্টে ছিলাম বলে চায়না কোস্ট গার্ড এসে সারে ৪ ঘন্টা ফাইট করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে!কাজেই চাকরি জীবনের শুরুতেই অনুধাবন করেছিলাম জাহাজে কেন আগুন নিয়ে এতো মাতামাতি.....!আমার চোখের সামনে জাহাজের ৬০% পুড়ে ছারখার হয়ে যেতে দেখেছি।মাঝ সাগরে হলে কী হতো তা কেবল আল্লাহ'পাকই জানেন!এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা পোস্ট শেয়ার করব ইন-শা-আল্লাহ।
পুরোটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। জাহাজের বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্পগুলো শেয়ার করে যাব(ইন শা আল্লাহ)।আশা করি উপভোগ করবেন😊।

জাহাজ ঠিক কতটা বিপদজনক বাহন/জায়গা?⚠️শুরুতেই সোজাসাপটা বলে নিচ্ছি...হ্যা,জাহাজ সত্যিই খুব বিপদজনক জায়গা।তবে আবার ঠিক ততোট...
27/06/2026

জাহাজ ঠিক কতটা বিপদজনক বাহন/জায়গা?⚠️
শুরুতেই সোজাসাপটা বলে নিচ্ছি...হ্যা,জাহাজ সত্যিই খুব বিপদজনক জায়গা।তবে আবার ঠিক ততোটাও নয়,যতটা আপনাদের কাছে মনে হয়।

আসলে ভয় জিনিসটা নিতান্তই মানসিক ব্যাপার।যে জিনিস/পরিস্থিতির সাথে আপনি সুপরিচিত নন,তাতে ভয়টা আরও বেশি থাকে।জাহাজও ঠিক এমনই একটা জিনিস!কেননা জাহাজের গতিপথ সভ্যতা থেকে অনেকটা দূরে যেখানে সাধারণ মানুষের বিচরণ নেই বললেই চলে।তাছাড়া জাহাজ যেহেতু সাগর-মহাসাগরে ভেসে বেড়ায়,তাই মানুষের প্রধান ভয়টাই ডুবে যাওয়া নিয়ে!তার উপর ঝড়-ঝাপটা তো আছেই!

জানলে অবাক হবেন যে, জাহাজে ঝড়-ঝাপটা তেমন কোন ভয়ের বিষয় নয়।এর চেয়েও অনেক অনেক ভয়ের কারণ রয়েছে।এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে "আগুন"! হ্যা,আগুনই জাহাজের প্রধান শত্রু।আর জাহাজের শত্রু মানেই নাবিকদের শত্রু। এরপর বিপদগুলোর মধ্যে কলিশন(জাহাজে জাহাজে এক্সিডেন্ট), গ্রাউন্ডিং(জাহাজের তলা সমুদ্রতটে লাগা), পাইরেসি(জলদস্যু), ম্যান ওভারবোর্ড(কেউ সাগরে পরে যাওয়া) ইত্যাদি অন্যতম! এছাড়া জাহাজে নাবিকদের অনেক বিপদজনক কাজ করতে হয়।একটু অসাবধানতায় মৃ*ত্যু পর্যন্ত হতে পারে।কাজেই জাহাজের অসংখ্য জায়গায় " Safety First" কথাটা লেখা থাকে।

এখন আসি ঝড়ের প্রসঙ্গে....।পথে বেশি বড় ধরনের ঝড় থাকলে আমরা সাধারণত সে জায়গাটা এড়িয়ে চলি।এছাড়া জাহাজের আকার এবং ধরন বেধে সহনীয় পর্যায়ের ঝড়ের ভেতর দিয়েই আমরা যাই।এতে জাহাজ ডুবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে(ইন শা আল্লাহ)।কাজেই ঝড়-ঝাপটা নিয়ে আমরা খুব একটা উদ্বিগ্ন হই না।তবে ঝড়ের সময় স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে বলে পথে ঝড় আসুক সেটা কখনোই কামনা করি না।

পরিশেষে আপনাদের ধারণার প্রেক্ষিতে কিছু কথা শেয়ার করি.....
আসলে সকল ভয়ের ঊর্ধ্বে হচ্ছে "মৃ*ত্যুভয়"! কিন্তু এটা জীবনের এমন একটা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ, যা আপনার আমার চাওয়া কিংবা ভালো লাগার উপর নির্ভর করবে না!প্রত্যেক প্রাণীকেই এর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে!আপনি সাগরে থাকেন,আকাশে থাকেন কিংবা নিজের বাড়িতে....আপনি না চাইলেও মৃ*ত্যু আপনাকে ঠিকই খুজে নিবে!আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি তথা ঈমানের দুর্বলতার কারণে মুষ্টিমেয় কিছু জায়গা/পরিস্থিতিকে বিপদজনক বলে মনে করি।অথচ গভীরভাবে চিন্তা করলে আপনি কোথাও নিরাপদ নন! এমনকি আপনার ঘরেও না!এই যেমন ভালো মাত্রার একটা "ভূমিকম্প" হলে আপনার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়টিও(বাড়ি) আপনার বুকের উপর ধসে পরবে।তাছাড়া ইঞ্জিনিয়ার/মিস্ত্রি ঠিকভাবে বাড়ি বানিয়েছে কিনা সেটাও আপনার অজানা।এখন ঘুমানোর সময় যদি আপনি এসব নিয়ে চিন্তা করেন,ঘুম হবে?
ঠিক একইভাবে আমরা নাবিকরাও যদি জাহাজ নিয়ে ওভাবে ভাবি.....এই যেমন "জাহাজটা মজবুত করে বানানো হয়েছিলো কিনা,ঠিকভাবে ভেসে থাকবে কিনা, ঝড়ে রোলিং-পিচিং এর সময় কাত হয়ে ডুবে যাবে কিনা, অন্য জাহাজের সাথে এক্সিডেন্ট হচ্ছে কিনা......" তাহলে আমাদেরও ভয়ে ঘুম হবে না।আপনারা যেমন বাসায় শুয়ে ওসব নিয়ে না ভেবেই ঘুমান,আমরাও জাহাজে এসব নিয়ে না ভেবেই ঘুমাই। আপনারা দূরপাল্লার জার্নি করার সময় চালকের উপর বিশ্বাস করে যেভাবে ঘুমিয়ে যান,আমরাও তেমনি ডিউটিরত অফিসারের উপর বিশ্বাস রেখে ঘুমিয়ে যাই।এবং আমরা এভাবেই অভ্যস্ত।
আর ব্যাক্তিগতভাবে আমি একজন মুসলিম(আলহামদুলিল্লাহ)।কাজেই আমি বিশ্বাস করি "মৃ*ত্যু" টা টুয়েন্টিফোর-সেভেন আমার সাথেই থাকে,আপনাদেরও তাই।কাজেই সাগর কিংবা জাহাজ অনেক বিপদজনক হলেও আলাদা করে ওগুলোকে প্রায়োরিটি দেই না বলেই ভয় পাই না।আমি মনে করি দুনিয়ার সবই নিরাপদ, আবার কোনটাই নয়!কেননা ভাগ্যে থাকলে আপনি/আমি কেউ তা খণ্ডাতে পারব না!
কাজেই জাহাজ/সাগর বিপদজনক হলেও মৃ*ত্যুপুরী নয় এবং নাবিকরা সাহসী হলেও তেমন দুঃসাহসী কেউ নন।পুরোটা পড়ে থাকলে ধন্যবাদ।আশা করি বুঝিয়ে বলতে পেরেছি।😊

21/06/2026

গভীর সমুদ্রে ফুটবল.... ⚽🛳️

17/06/2026

জাহাজ রোলিং এর সময় নাবিকদের অবস্থা.... 🙄
ডিউটি+নামাজ+ঘুম🥴

"ভাই,জাহাজে চাকরি পাব কীভাবে???"এই একটা প্রশ্ন দিয়ে আমার ইনবক্স পরিপূর্ণ!অনেকে আবার সরাসরি বলে বসেন যে,জাহাজে একটা চাকরি...
11/06/2026

"ভাই,জাহাজে চাকরি পাব কীভাবে???"
এই একটা প্রশ্ন দিয়ে আমার ইনবক্স পরিপূর্ণ!অনেকে আবার সরাসরি বলে বসেন যে,জাহাজে একটা চাকরি দেন!এসবের রিপ্লাই দেই না বলে অনেকে অনেক কিছু ভাবতে পারেন।কিন্তু আজকের পোস্ট পড়লে আশা করি উত্তরগুলো পেয়ে যাবেন।

প্রথমেই বলে নিচ্ছি, জাহাজ কোন সাধারণ কর্মক্ষেত্র নয়!আপনি চাইলেই জাহাজে চাকরি করতে পারবেন না,এমনকি অন্য কেউ চাইলেও আপনাকে চাকরি দিতে পারবে না।কেননা,আন্তর্জাতিক জাহাজে চাকরি করতে হলে আপনাকে একটা সিস্টেমের মধ্য দিয়ে আসতে হবে।একাডেমি থেকে যথাযথ ট্রেইনিং এবং সার্টিফিকেট নিয়ে লোকাল "শীপ ম্যানিং এজেন্সির" মাধ্যমে জাহাজে যোগ দিতে হবে।

জাহাজে সাধারণত দুটো ডিপার্টমেন্ট থাকে।ডেক ডিপার্টমেন্ট এবং ইঞ্জিন ডিপার্টমেন্ট। ডেক ডিপার্টমেন্ট জাহাজ নেভিগেশন এবং মালামালের দায়িত্বে থাকে এবং ইঞ্জিন ডিপার্টমেন্ট গোটা জাহাজের যাবতীয় মেশিনারি পরিচালনা ও মেরামত করে থাকে। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে আবার দুটো করে ভাগ আছে....
(১) অফিসারঃ যারা মূলত কমান্ড এ থাকে এবং প্রোমোশন পেয়ে এক সময় "ক্যাপ্টেন/চীফ ইঞ্জিনিয়ার" হয়ে থাকেন।অফিসার হতে হলে "এস এস সি এবং এইচ এস সি" তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যুনতম ৩.৫০ জিপিএ নিয়ে মেরিন একাডেমিতে এডমিশন নিতে হবে।বাকিটা সার্কুলার থেকে জেনে নিতে পারেন।
(২)রেটিংসঃ যারা মূলত অফিসারদের কমান্ড অনুযায়ী কাজ করেন তথা কায়িক শ্রম দিয়ে থাকেন। রেটিংস হতে হলে এস এস সি'তে ন্যুনতম ২.৫০ জিপিএ থাকতে হয়।বাকি তথ্য সার্কুলারে পেয়ে যাবেন।

এখন আসি আসল কথায়.....।
উপরোক্ত পদে ট্রেইনিং নিলেই যে আপনার জন্য জাহাজ রেডি বিষয়টা তেমন নয়!এজন্য লম্বা সময় এবং মোটা অংকের টাকাও ব্যায় করতে হবে।এমনকি জাহাজে যোগ দেবার পরেও অনেক অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন!কাজেই এই প্রফেশনে আসলে অসীম ধৈর্য্য,সাহস এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার মানসিকতা নিয়ে আসতে হবে।দূর থেকে দেখলে সবই সুন্দর লাগে,কিন্তু কাছে গেলেই বুঝবেন দুনিয়া কতটা কঠিন!
তবে আমি কাউকে নিরাশ করছি না।সবকিছু মেনে নিয়ে এবং জেনে বুঝে কেউ এই প্রফেশনে আসতে চাইলে তাকে স্বাগত জানাই।কেননা টিকে থাকতে পারলে মেরিন প্রফেশন খারাপ না(বিশেষ করে হালাল পথে ভালো অংকের টাকা আয়ের দিক থেকে)।তাছাড়া যার রিজিক যেখানে,সে সেখানে যাবেই!আপনি-আমি না গেলেও দুনিয়ার সব জাহাজই চলমান থাকবে।কারণ কেউ না কেউ যাবেই! তবুও আমি বলব,হুজুগের বশবর্তী হয়ে নয়....কেউ আসতে চাইলে জেনে বুঝে আসুন।সাগর আপনার জন্য অপেক্ষায় আছে.....💙

02/06/2026

জাহাজে বিনা দাওয়াতি মেহমান.....🦤🛳️

Address

Mymensingh
2216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arju Da Sailor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share