12/06/2026
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চ মাতানো এই দুই প্রতিভাবান শিল্পীর জন্ম পরিচয়, বয়স, দেশ, পেশা এবং জীবনের লড়াই বা স্ট্রাগলের গল্প।
১. আন্দ্রেয়া বোচেলি (Andrea Bocelli)
আন্দ্রেয়া বোচেলি ১৯৫৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ইতালির টাস্কানি (Tuscany) অঞ্চলের লাজাতিকো (Lajatico) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দেশ ইতালি।
বয়স: বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৭ বছর।
পেশা: তিনি মূলত একজন অপেরা বা ক্লাসিক্যাল সংগীতশিল্পী (Tenor), গীতিকার এবং সুরকার।
দৃষ্টিশক্তি হারানো: আন্দ্রেয়া বোচেলি জন্মগতভাবে 'কনজেনিটাল গ্লকোমা' (Congenital Glaucoma) নামক চোখের রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত ক্ষীণ ছিল। এরপর মাত্র ১২ বছর বয়সে ফুটবল খেলার সময় এক মারাত্মক দুর্ঘটনায় তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন।
সংগীতের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা ও কঠোর পরিশ্রম: দৃষ্টিহীনতা তাঁর স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারেনি। ৬ বছর বয়স থেকেই তিনি পিয়ানো, বাঁশি, স্যাক্সোফোন ও গিটার বাজানো শেখেন।
আইন পেশা থেকে বার-পিয়ানোবাদক: তিনি পড়াশোনায়ও দুর্দান্ত ছিলেন এবং ল’ স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু সংগীতের টানে তিনি দিনশেষে পিয়ানো বারগুলোতে গান গেয়ে ও পিয়ানো বাজিয়ে নিজের খরচ চালাতেন এবং সঙ্গীতজগতে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যান। ১৯৯৪ সালে এসে সানরেমো মিউজিক ফেস্টিভ্যালে জয়ের পর তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান। আজ তিনি পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম সেরা এবং সর্বাধিক অ্যালবাম বিক্রি হওয়া ক্লাসিক্যাল সংগীতশিল্পী।
২. এজে (EJAE / Kim Eun-jae)
এজেই-এর আসল নাম কিম ইউন-জে (Kim Eun-jae)। তিনি ১৯৯১ সালের ৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দেশ দক্ষিণ কোরিয়া (তবে তাঁর কর্মক্ষেত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা উভয় দেশজুড়ে)।
বয়স: বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৪ বছর।
পেশা: তিনি একাধারে একজন কে-পপ (K-pop) কণ্ঠশিল্পী, মিউজিক প্রডিউসার ও অস্কার-গ্র্যামি জয়ী গীতিকার (Songwriter)।
এক দশকের দীর্ঘ ট্রেইনি পিরিয়ড ও ব্যর্থতা: দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদনজগতে নিজের জায়গা তৈরি করা কতটা কঠিন, তা এজের গল্প থেকে জানা যায়। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি কে-পপ শিল্পের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান 'SM Entertainment'-এ একজন 'ট্রেইনি' বা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে যোগ দেন。 সেখানে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি কঠোর নাচ ও গানের প্রশিক্ষণ নেন। একটি থ্রি-মেম্বার গার্লস গ্রুপ কিংবা একক শিল্পী হিসেবে তাঁর ডেবিউ বা আত্মপ্রকাশ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে বয়স বেশি হয়ে যাওয়ার অজুহাতে বা বিভিন্ন কারণে তাঁকে বাদ পড়তে হয়। ১০ বছরের কঠোর পরিশ্রম এক নিমেষে ভেস্তে যায়।
নতুন করে শুরু ও বৈশ্বিক সাফল্য: এই ধাক্কার পর তিনি দমে যাননি। তিনি আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং নতুন করে নিজের সংগীতের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি একজন দুর্দান্ত গান লেখক ও সুরকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেশন ফিল্ম ‘KPop Demon Hunters’-এর 'Golden' গানের জন্য তিনি একাডেমি, গোল্ডেন গ্লোব ও গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয় করে বিশ্বমঞ্চে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। এই কঠোর লড়াইয়ের ফলেই আজ তিনি ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের থিম সং-এ কোরিয়ান ভাষায় লিরিক্স লেখার ও আন্দ্রেয়া বোচেলির মতোকিংবদন্তির পাশে দাঁড়িয়ে গাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।