03/06/2026
বস্ত্রমন্ত্রী আনোয়ারুল্লাহ খান সাহেব এই মুহুর্তে ভীষণ কনফিউশনে আছেন।
কনফিউশনের কারণ টেবিলের উপর রাখা একটা ফাইল।
ফাইলের উপর বড় বড় করে লেখা 'জরুরি'। এই জরুরি ফাইলটি অনুমোদনের জন্য তার টেবিলে আনা হয়েছে।
ফাইলের বিষয়বস্তু:
'আধুনিক পদ্ধতিতে লুঙ্গি সেলাই বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের ১০০ কর্মকর্তাকে ফ্রান্সে প্রেরণ'।
বিষয়টা খুবই কনফিউজিং।
কনফিউশন দূর করার জন্য ফাইলটা যে কর্মকর্তা পাঠিয়েছেন - তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন।
তাকে ডেকে মন্ত্রী সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, লুঙ্গি সেলাই শেখার জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণের কী দরকার, আমাকে একটু বোঝান তো?
কর্মকর্তা বেশ স্মার্ট আছেন। তিনি স্মার্টলি বলা শুরু করলেন, স্যার, পোশাক মাত্রই পরিবর্তনশীল। আমরা চল্লিশ বছর আগে যে "গোড়া চিকন আগা মোটা স্টাইলের 'বেল বটম' প্যান্ট পড়তাম সেগুলা কি এখন পরি? পরি না।
কিন্তু লুঙ্গির ব্যাপারটা দেখেন স্যার। সেই লক্ষণ সেনের আমল থেকে একই ফ্যাশনের লুঙ্গি পরে চলছি আমরা। লুঙ্গির কোনো উন্নতি হয় নাই। এটা কি একটা অবিচার না?
মন্ত্রী সাহেব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, লক্ষণ সেন লুঙ্গি পরতেন নাকি ?! বলেন কী?!
কর্মকর্তা এবার এক গাল হেসে বললেন, অবশ্যই পরতেন স্যার। বাঙালি পুরুষ আর লুঙ্গি পরবেন না, তা কি হয় নাকি?
স্যার, আমি নিশ্চিত বখতিয়ার খিলজির ধাওয়া খেয়ে উনি লুঙ্গি উঁচিয়েই প্রাসাদ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ইতিহাসে লুঙ্গির এই ব্যাপারটা আসে নাই, ভেরি স্যাড।
মন্ত্রী সাহেব এবার একটু চিন্তায় পরে গেলেন। তিনি বললেন, আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু লুঙ্গির উপর প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশেই যদি যেতে হবে, সেটা ফ্রান্স কেন? ওরা কি লুঙ্গি পরে নাকি? লুঙ্গির জন্য তো বিখ্যাত মায়ানমার কিংবা তামিলনাড়ু!
উত্তরে কর্মকর্তা বললেন, কী যে বলেন না স্যার! মায়ানমার, ভারত এগুলা কি 'বিদেশ' হলো নাকি? ছি:
আজকালকার জেনারেশন তো ব্যাংকককেও বিদেশ মানতে নারাজ।
আসল বিদেশ হলো ইউরোপ, স্যার, ইউরোপ। আর ফ্রান্স হলো ইউরোপের তথা দুনিয়ার ফ্যাশন রাজধানী।
আমাদের লুঙ্গি নিয়ে রিসার্চ হলে তার জন্য 'প্যারিস'ই একমাত্র উপযুক্ত জায়গা।
হুম।
মন্ত্রী সাহেবের কনফিউশন এবার পুরোই দূর হয়েছে। তিনি খুশিমনে ফাইলের উপর "এপ্রুভড" লিখে দিলেন।
কিছুদিনের মধ্যেই সেই কর্মকর্তা তার ১০০ কলিগকে সঙ্গে নিয়ে 'লুঙ্গি ড্যান্স' দিতে দিতে ট্রেনিং নিতে প্যারিস চলে গেলেন।
কয়েকমাস পর ট্রেনিং থেকে ফেরত আসার পর মন্ত্রী সাহেব সেই কর্মকর্তাকে আবার ডেকে পাঠালেন।
জিজ্ঞেস করলেন, দেখান তো দেখি, কী শিখে এলেন আপনারা প্যারিস থেকে।
কর্মকর্তা খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে বললেন, আমি জানতাম স্যার। আপনি আমাকে ঠিকই ডেকে পাঠাবেন।
এই দেখেন স্যার, আমাদের রিসার্চের ফলাফল। নতুন ডিজাইনের লুঙ্গি। এখানে দু পিছ আছে- আপনার জন্য। আপনাকে দিয়েই উদ্বোধন হয়ে যাক স্যার।
মন্ত্রী সাহেব নতুন ডিজাইনের লুঙ্গির একটা প্যাকেট হাতে নিলেন।
কর্মকর্তা বললেন, স্যার, জেনে খুশি হবেন, এই লুঙ্গিতে আমরা এখন বেল্ট সংযোজন করেছি - লুঙ্গি এখন আগের চেয়েও বেশি নিরাপদ - হ্যাঁচকা টানে কিংবা দমকা বাতাসে খুলে যাবার সম্ভাবনা আর নেই। আর সঙ্গে পকেটও যোগ করে দিয়েছি।
বলেন কি? লুঙ্গিতে পকেট?!
জি স্যার। আরো একটা কাজ করেছি স্যার, প্যান্টের মতো লুঙ্গিতে জিপারও লাগিয়ে দিয়েছি একটা।
জিপার কেন ?
ইয়ে ..মানে .....হিসু করার সুবিধা হবে তাই।
মন্ত্রী সাহেব আশ্চর্য হলেন। বললেন, এতদিন লুঙ্গি পরে যেভাবে হিসু করতাম সেটাই তো সবচেয়ে সুবিধাজনক ছিল। তুলতাম আর মুততাম।
এখন লুঙ্গির চেইন দিয়ে 'মেশিন' বের করতে গেলে তো মুশকিল। না না। এই কাজটা ভালো হয় নাই।
কর্মকর্তা বিপদের গন্ধ পেলেন।
বিপদ কাটাতে তিনি বলে উঠলেন, অসুবিধা নাই তো স্যার। চেইন থাকলেও আপনি তো আগের মতোই কাজ সারতে পারবেন। এটা শুধু একটা ইমার্জেন্সি এক্সিট হিসেবে থেকে গেলো, স্যার।
মন্ত্রী সাহেব এবারো কনভিন্সড হলেন।
বললেন, ঠিক আছে আমি আজ বাসায় গিয়ে আপনার এই নতুন লুঙ্গি ট্রাই করে দেখবো। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় রিসার্চ - সেই রিসার্চের ফলাফল কেমন হলো - সেটা যাচাই করে দেখা তো আমার কর্তব্য।
রাতের বেলা মন্ত্রী সাহেব, নতুন ডিজাইনের লুঙ্গি পরে ফুরফুরা মেজাজে ড্রয়িং রুমে টিভি দেখতে বসলেন।
আর তাঁকে দেখে তার স্ত্রী আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করলেন, একি ! তুমি স্কার্ট পরে বসে আছো কেনো ? অ্যাই, তোমার কী হয়েছে ? .. অ্যাঁই, অ্যাঁই ...