06/09/2026
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ইসমাইল তাঁর বাড়ি জামালপুর থেকে বাসে করে গাজীপুরে আসছিলেন। জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা তাঁর সঙ্গে ছিল। তাঁর ছেলে গাজীপুরে বাবার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তিনি ইসমাইলের মুঠোফোন বন্ধ পান। লাশ উদ্ধারের পর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণে একটি যাত্রীবাহী বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে বাসটি শনাক্ত করে জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের বাসটি জব্দ করা হয়। একই সময় বাসের সুপারভাইজার সাজু ও সহকারী মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার হন বাসচালক সোহেল।
গ্রেপ্তারের পর তিন আসামিকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানান ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিবরণে তাঁরা বলেছেন, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে জামালপুর থেকে ইসমাইল বাসে ওঠেন। একপর্যায়ে ইসমাইলের কাছে ভাড়া চান সুপারভাইজার সাজু। ইসমাইল তাঁর লুঙ্গির কোচর থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন। তখন সাজুর ধারণা হয়, ইসমাইলের কাছে অনেক টাকা আছে। তিনি বিষয়টি বাসচালক সোহেলকে জানান। সোহেলেরও একই ধারণা হয়। এরপর তাঁরা ইসমাইলের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা ইসমাইলকে গাজীপুরে নামাননি। তবে অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় নামিয়ে দেন। পরে সাজু ও সহকারী মনির মিলে ইসমাইলের দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। তাঁর নাক-মুখও স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেন। গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে ইসমাইলের মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে ফেলেন। পরে বাস নিয়ে তাঁরা মহাখালী বাস টার্মিনালে চলে যান।