30/06/2015
দীর্ঘশ্বাসের গল্প"
=====================
-এই তুমি রাজ না??
-হ্যাঁ।
-আমাকে চিনতে পেরেছো?? আমি রিনি।
তুমি ত অনেক বদলে গেছো। তুমি কী
এখনো
আগের মত গিটার বাজাও??....
৫ বছর পর যখন আমাদের
conversetion হয় তখন
এভাবেই কথাগুলো বলে যাচ্ছিল রিনি,
কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভাবে কথাগুলো শুনে
যাচ্ছিলাম আমি।..৬ বছর আগে সাব্বিরের বার্থডে
পার্টিতে
তার সাথে আমার দেখা। আমার একটা
প্রিয়
অভ্যাস ছিল যখন একা থাকতাম তখন
আপন
মনে গিটার বাজাতাম।এই অভ্যাসটা
আমার
ক্লাসমেট আর আমার সব চাইতে কাছের
বন্ধু
সাব্বিরের কাছে জানা ছিল। সে তার
জন্মদিনে আমাকে গিটার সহ আসার
অনুরোধ
জানাল। তার সাথে হুমকিও দিল যে
যদি
আমি না আসি তাহলে সে নাকি কেক
কাটবে
না।
যাই হোক সেই বার্থডে পার্টিতে কেক
কাটার পর সাব্বিরের আদেশে গিটারে
একটা গানের সুর তোলা শুরু করলাম।
আমার
গানের সুরের সাথে যখন সবাই গান
গাইতেছিল তখন সবার মাঝ থেকে একটা
অদ্ভুত মিষ্টি কণ্ট খেয়াল করলাম। আমি
অবাক হলেও গিটার থামাই না। কিছু
পরে
বুঝতে পারলাম সুরটা একটা মেয়ের।
চোখে
মোটা ফ্রেমের চশমা, চুলগুলো
কোকড়ানো,বার্থডে পার্টি খুবই
জমেছিল।
পার্টি শেষে সেই মেয়েটা এসে বললো:
-'খুব
সুন্দর বাজান ত আপনি'! আমিও পাল্টা
জবাব
দেই -'তুমিই ত খুব সুন্দর গান গাও'।
সাব্বির
আসলো, পরিচয় করিয়ে দিল সেই
মেয়েটির
সাথে। নাম রিনি। সাব্বিরের মামাতো
বোন।
সেই থেকে পরিচয়। খুব অস্থির একটা
মেয়ে।
হৈ চৈ করবে সব সময়। এবার আমার
কথাই
আসি।
আমি ছদ্মবেশ খুব পছন্দ। ফেসবুক আইডিও
খুলেছি ছদ্মবেশী নাম দিয়ে। কিছুদিন
পর
রিনিকে সেই ছদ্ম আইডি থেকে
রিকুয়েস্ট
পাঠাই। সে রিসিভ ও করে। তার সাথে
অপরিচিতভাবে চ্যাট করতে থাকি
আমি।
রিনির সাথে ধীরে ধীরে আমার
ঘনিষ্টতা
বাড়তে থাকে। একটা সময় আসে যখন
তার
সাথে চ্যাট না করে আমি ঘুমাই না।
একদিন
মোবাইলে চার্জ না থাকার কারণে
বাবার
মোবাইল থেকে ওর সাথে চ্যাট করি।
পর
দিন
বাবার মোবাইল চুরির দায়ে বাবার
হাতে
ভালো রকমের উত্তম মধ্যম পেলাম...
তবে
মনে
কোন কষ্ট বা অতৃপ্তি ছিল না। রিনি
আমাকে
শাসন করত। পড়াশোনা আর ঘুমানোর উপর
অনীহা দেখার কারণে অনেক বকা
শুনেছি ওর
কাছ থেকে। ওর বকাগুলো শুনতে খুবই
ভালোলাগত। হঠাৎ কী হল বুঝলাম না।
রিনিকে ইদানিং ফেইসবুকেও পাওয়া
যাচ্ছে না। ওর সাথে চ্যাট করতে না
পেরে
আমি কেমন জানি হয়ে যাই। বুঝতে
পারি
যে
নিজের অজান্তে তাকে কতটা
ভালোবেসে
ফেলেছি। সিদ্ধান্ত নেই এবার তাকে
মনেই
কথাটা জানিয়ে দেব। সিদ্ধান্ত
নেওয়ার
পরের দিনিই রিনিকে ফিরে পাই
ফেসবুকে।
প্রথমে সে বলল তার কিছু জরুরি কথা
আছে।
খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলাম, কিন্তু
সে
যা বলল তাতে আমি মূর্ষে গেলাম... মনে
হচ্ছে আমার চারদিকে আধার নামছে।
কথাটা হল রিনি একটা ছেলের সাথে
প্রেম
করছে তাও আজ প্রায় একমাস ধরে।
একথা
সে
কাউকে জানাইনি। আমাকেই সে প্রথম
জানাল। কারণ আমি নাকি তার
সবচাইতে
কাছের বন্ধু। অনেক কষ্টে তার কথাটির
রিপ্লেতে তার প্রেমের শুভকামনা
জানালাম।আর এটাই ছিল আমার থেকে
রিনিকে পাঠানো শেষ ম্যাসেজ।
তারপর
থেকে যতটুকু সম্ভব নিজেকে গুটিয়ে
নিলাম
রিনির কাছ থেকে সারা জীবনের জন্য।
সেদিন থেকে আর গিটারটাও বাজানো
হয়
না।. . . . . ৫টা বছর কেটে গেল. . . . ...আজ রিনি আমাকে ফোন করল। বলল আমি
নাকি অনেক বদলে গেছি। সে নাকি
সাব্বিরের কাছ থেকে আমার
নাম্বারটা
পেয়েছে। আগামী পরশু নাকি তার গায়ে
হলুদ। তার গায়ে হলুদে আমাকে গিটার
নিয়ে
যেতে বলল। সে আমাকে হুমকি দিল যে
যদি
আমি না যাই তবে সে বিয়ে করবে না।
হাসলাম অনেক কষ্টে এবং তাকে কথা
দিলাম যে যাবো। তারপর ফোনের
লাইনটা
কেটে দিলাম।. . . .
তখন দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বুঝলাম যে জীবন
একটি
"দীর্ঘশ্বাসের গল্প"