07/05/2026
খোরাসানের এক ছোট্ট গ্রামে তিন বছর ধরে বৃষ্টি নেই। মাটি ফেটে গেছে। ফসল নেই। কূপের পানি শুকিয়ে আসছে। গরু-ছাগল ম'র'ছে। মানুষ শহরে চলে যাচ্ছে একে একে। যারা থেকেছে — তারা থেকেছে কারণ যাওয়ার মতো শক্তি নেই অথবা এই মাটি ছাড়তে পারছে না।গ্রামের মসজিদে একজন বৃদ্ধ ইমাম ছিলেন — নাম শায়খ নূরুদ্দিন। বয়স সত্তরের উপরে। চলতে কষ্ট হয়, কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো কখনো বাদ দেননি। গ্রামের মানুষ তাঁকে ভালোবাসত। কিন্তু এই তিন বছরে কেউ কেউ অভিযোগ করতে শুরু করেছিল — “শায়খ এত দুআ করেন, কিন্তু বৃষ্টি আসে না। কী লাভ?” কেউ কেউ বলত — “হয়তো গ্রামে বড় কোনো পাপ আছে, তাই আল্লাহ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।””
এই কথাগুলো শায়খের কানে যেত। তিনি কিছু বলতেন না। শুধু মাথা নিচু করে হাঁটতেন। কিন্তু রাতে একা ঘরে বসে তিনি ভাবতেন — মানুষ ঠিকই বলছে। হয়তো তাঁর দুআতেই কোনো ঘাটতি আছে। হয়তো তাঁর হৃদয় পরিষ্কার নয়। হয়তো আল্লাহ তাঁর ডাক শুনছেন না। এই ভাবনাগুলো তাঁকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছিল।
একদিন গ্রামে একজন মুসাফির এলো। নাম তার তাহির। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। পরনে সাধারণ কাপড়, কাঁধে একটি থলে। সে মসজিদে এসে বিশ্রাম নিল। শায়খের সাথে পরিচয় হলো। তাহির জিজ্ঞেস করল — “শায়খ, এই গ্রামে এত শুষ্কতা কেন?” শায়খ বললেন — “তিন বছর ধরে বৃষ্টি নেই।” তাহির বলল — “ইস্তিসকার নামাজ পড়েছেন?” শায়খ বললেন — “অনেকবার।” তাহির বলল — “তাহলে?” শায়খ একটু চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন — “আল্লাহর ইচ্ছা।”
তাহির সেই রাতে মসজিদেই রইল। শায়খ লক্ষ্য করলেন — রাত গভীর হলে তাহির উঠে নামাজ পড়তে শুরু করল। দীর্ঘ নামাজ। তারপর দুআ। শায়খ কাছে যাননি — দূর থেকে দেখেছেন। তাহির এমনভাবে দুআ করছিল — যেন সে কারো সাথে কথা বলছে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। কোনো মুখস্থ শব্দের মতো পড়া নেই। একেবারে নিজের ভাষায় — “হে আল্লাহ, এই গ্রামের মানুষগুলো তোমার বান্দা। তারা কষ্টে আছে। তুমি দেখছ। তুমি যদি না দিতে চাও — তোমার অধিকার আছে। কিন্তু তুমি যদি দাও — তোমার রহমত প্রকাশ পাবে। আর তোমার রহমত প্রকাশ পাওয়াই সবচেয়ে সুন্দর।”
শায়খ এই দুআ শুনে থমকে গেলেন। তিনি এতদিন দুআ করেছেন — কিন্তু এভাবে করেননি। তিনি দুআ করেছেন “দাও, দাও, দাও” বলে। কিন্তু তাহির দুআ করল — “তুমি যদি দাও, তোমার রহমত প্রকাশ পাবে।” এই দুটো দুআর মধ্যে একটা বিশাল পার্থক্য আছে। একটা দুআ নিজের জন