04/07/2026
২০১২ সালে হুমায়ন স্যার আমেরিকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ওনাকে যখন দেশে আনা হয়, তখন ওনার বড় বউ ও তার সন্তানেরা চাইছিলো হুমায়ন স্যারকে কবর দেওয়া হোক ঢাকায়। কিন্তু মেহের আফরোজ শাওন চাইছিলো নুহাশপল্লীতে কবর দেওয়া হোক।
মেহের আফরোজ শাওন তখন বলেছিলেন, "ওনাকে হুমায়ন স্যার বলেছে, আমার যদি কিছু হয়, আমাকে নুহাশপল্লীতে শুইয়ে রেখো। তবে আমি জানি, আমার কিছু হবে না। ওরা আমার মৃতদেহ নিয়ে টানাটানি করবে। কেউ বাংলা একাডেমীতে নিয়ে যেতে চাইবে, কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বা অন্য কোথাও। তবে আমাকে নুহাশপল্লীতেই রেখো। আমাকে নিয়ে ওদের টানাটানি করতে দিও না।"
নুহাশপল্লীতে কবর দেওয়ার বিষয়ে ওনার বড় বউ আপত্তি জানানোর পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের বাসায় যান হুমায়ূনের বড় তিন সন্তান। তারা নানক ভাইয়ের কাছে দাবী করেছিলেন, তিনি যেন শাওনকে বলেন ওনাকে ঢাকায় কবর দিতে।
জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাইও মেহের আফরোজ শাওনকে বলেছিলেন, ওনার কবরটা যাতে ঢাকায় দেওয়া হয়, যাতে শুভাকাঙ্ক্ষীরা ওনার কবর দেখতে যাইতে পারে।
কিন্তু মেহের আফরোজ শাওন আজকে যেমন ঘাড়ত্যাড়া দেখছেন, সেদিনও কোথাও মাথানত করেননি। ওনি একরোখা ভাব নিয়ে বলেছেন, "এতদিন ওনি অসুস্থ, কেউ ছিলো না পাশে। কোথায় ছিলো পরিবার? এখন এত কিসের মিটিং? আমাকে ওনি যা বলে গেছেন, তা ফাইনাল।"
শেষমেশ শাওনেরটাই মানতে বাধ্য হয় সবাই। হুমায়ন স্যার চিরনিদ্রায় শায়িত হন তার স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে।
২০২৪ সালে মেহের আফরোজ শাওন ময়মনসিংহ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে নমিনেশন নিয়েছিলেন, কিন্তু ওনার জায়গায় উম্মে ফারজানা সাত্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কোথায় আজ সেই উম্মে ফারজানা সাত্তার? আজ গলা উঁচিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছেন মেহের আফরোজ শাওন।
লীগের সুবিধাভোগী কেউ নেই, আছে সব না পাওয়ার বেদনায় ক্লান্ত হওয়াগুলাই।