27/05/2026
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপড় ব্যবসায়ী আজিজের পাশের দোকানদার ছিলেন শ্রী উদয়ন। ব্যবসায় লোকসান ও আর্থিক সংকটে পড়ে উদয়ন কয়েক দফায় আজিজের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ টাকা ধার নেয়। সরল বিশ্বাসে আজিজ প্রথমে ৫ লাখ টাকা এবং পরে আরও ১ লাখ টাকা ধার দেন। দীর্ঘদিন পার হলেও সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো নানা টালবাহানা করতে থাকে উদয়ন।
পরবর্তীতে পাওনা টাকা চাইতে গেলে ঘটনার মোড় ভয়াবহ দিকে ঘুরে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে উদয়ন কৌশলে আজিজকে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের ইসলামাবাদ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা একদল লোকের হাতে আজিজকে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও বলছে, নির্যাতনের এক পর্যায়ে আজিজ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাত-পা বেঁধে রেললাইনের ওপর ফেলে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়। কিন্তু রেল আসতে দেখে প্রাণপণ চেষ্টা করে নিজেকে সরানোর চেষ্টা করেন আজিজ। হাত-পা বাঁধা থাকায় পুরোপুরি সরে যেতে না পারলেও শেষ মুহূর্তে প্রাণে বেঁচে যান। তবে রেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আজিজ নিজের ওপর ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে তিনি সেই বক্তব্য অন-রেকর্ডে দিয়ে যান, যা স্থানীয়দের ভাষায় “মৃত্যুকালীন জবানবন্দি” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত উদয়ন ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দেশের প্রথম সারির বড় কোনো গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি মুসলমান হতো, তাহলে কি জাতীয় মিডিয়া একইভাবে নীরব থাকত? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই অভিযোগ তুলছেন, দেশের কিছু মিডিয়া নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ভেদে ভিন্ন আচরণ করছে। তাদের দাবি, এখানে অভিযুক্ত হিন্দু হওয়ায় মূলধারার মিডিয়া ও কিছু মহল রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।
এদিকে প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এত বড় অভিযোগ, অপহরণ ও পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।
২৩ তারিখের এই ঘটনার পর আজ ২৭ তারিখ পার হলেও রহস্য, আতঙ্ক আর প্রশ্নই যেন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো এলাকায়।
৯৫% মুসলমানের দেশে হিন্দুরা এত সাহস কোথায় পায়??