11/10/2018
আমাদের দেশের কোয়াকরা জনমনে এই ধারনা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন যে- "স্যালাইন সর্ব রোগের মহা ঔষধ"
👉কোয়াক কহিলেন" চাচা, আফনের অবস্থা তো খারাপ প্রেশার আশি বাই একশ পনেরো। অনেক কইমা গেছে"। চাচাজি তাল মিলিয়ে বলছে - 'হ, তাইতো দুইদিন ধইরা শরীরটা খুব খারাপ লাগতেছে, ঘাড়ডা ব্যাথা করতাছে"
কোয়াক সুযোগ পাইয়া মাথায় উঠিয়া গেলো
"আসেন চাচা একটা হাই পাওয়ারের স্যালাইন দিয়া দেই"
🔺️একটা নরমাল স্যালাইনে ভিপ্লেক্স আর এস্কোসন দিয়া হলুদ কালার কইরা হাই পাওয়ার বানাইয়া দিলেন কোয়াক। ১২০ টাকা দিয়া ১২০০ টাকার ফর্দ রেডি। মনে মনে বলে চাচা এবার সামলাও
👉শরীরটা দুর্বল লাগে - "একটা স্যালাইন দেন"
👉মুখে রুচি নাই- "একটা স্যালাইন দেন"
👉শ্বাসকষ্ট হইতেছে – "একটা স্যালাইন পুশ করেন"
👉মাথা ঘুরায়- "একটা স্যালাইন দেন"
🔺️সব কিছুইতেই স্যালাইন যেন চিকিতসা হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের দেশে।।
️কিন্তু আমাদের জানা উচিত এই স্যালাইনে আসলে কি থাকে।
👉 ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইডে (নরমাল স্যালাইন) ১৫৪ এমই সোডিয়াম আর ১৫৪ এমই ক্লোরাইড ছাড়া কিছুই নাই।
আর ৫% ডিএনএস দিলে লিটারে সোডিয়াম ক্লোরাইডের সাথে ৫০ গ্রাম গ্লুকোজ থাকে মাত্র, যা এক লোকমা ভাতের সমতুল্য
তবুও রোগীকে কিছু একটা কেরামতি দেখানোর জন্য এই খেল দেখাচ্ছে কোয়াকরা। আর এতেই সাধারন
জনগন খুশি।
আর যদি রোগীর Heart failure, Pulmonary edema থাকে, তাহলে তো স্যালাইন রোগীর অক্কার কারন হবে, সেটা তো তারা জানে না
আমার মনে আছে- শিশু ওয়ার্ডে থ্যালাসিমিয়ার এক বাচ্চা মারা গেছে। চারিদিকে হই হট্টোগোল। বেবীটা সিভিয়ার এনিমিক (Severe Anemia) ছিলো, সাথে এনিমিক হার্ট ফেইলুর(anemic heart failure) তার জন্য স্যালাইন দেয়া হয়েছিলো ৮ ড্রপ পার মিনিটে। কিন্তু রোগীর লোক তো স্যালাইনের ফোটার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে। তাদের কারো মনে খটকা লাগলো, ""এতো সিরিয়াস রোগী। ফোটা এতো কম পড়ে ক্যারে""। তাই, তাদের কেউ সেটা ফোটা রানিং (running Drop) করে দিলো ফলে fluid লোড নিতে পারল না হার্ট। দিতে হলো ঐ শিশুর জীবন
Note:-মেডিকেল সাইন্স অনেক Strict rule ফলো করা।
তাই সবার জন্য অনুরোধ- "না জানার নাম অন্যায় না"।
অন্যায় হলো – "না জেনে পন্ডিতি ফলাতে গিয়ে ভুল করা।