25/09/2026
পাক-মার্কিন আশীর্বাদপুষ্ট পরিবারটি গত ৫০বছর ধরে নিরলসভাবে চেষ্টা করে এসেছে স্বাধীন বাংলাদেশটা'কে আবার পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে। যবে থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে শিখেছি এবং দেখেছি। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলোর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এই পরিবারটিকে বাংলাদেশের শাসক হিসেবে কোনোদিন মেনে নিতে পারিনি, ভবিষ্যতেও মানতে পারবো না।
তারপরও নিজের সমাজ যেখানে জন্ম নিয়েছি পাড়া প্রতিবেশী গ্রাম থেকে শহর এই দল করা অনেক প্রিয় মানুষ আছে। কোনদিন কারও ক্ষতি করিনি, বরং আপনের আপন মেনে উঠাবসা করেছি। কারণ ক্ষমতা মরণ আটকাতে পারে না, আজ মরলে কাল দুইদিন।যার জন্য করেছি, সেও দেখেছি ক্ষমতা প্রয়োগে তিনি কজনের বাধাও মানেননি, কিন্তু আজ তিনিও বেঁচে নেই। আজ কেন জানি মনের গহীন থেকে নিজের প্রতি ঘৃণা হয়। আর প্রবল বাসনা আমার চারপাশে যারা এই পরিবারের অন্ধ অনুরাগী, ৫আগস্ট ২০২৪এর পর তাদের কাউকেই আর কাছের মানুষ ভাবতে পারি না।
যে লোকটা ১৭ বছর প্রবাসে পালিয়ে থাকার পর একটা জঙ্গি অভ্যুত্থানের সুযোগে দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে বসেছেন, তার দাদা ছিলেন মনে-প্রাণে পাকিস্তানি। সেই ১৯৪৭ সালেই দেশ ভাগের সময়ে স্বেচ্ছায় কোলকাতা ছেড়ে পেয়ারা পাকিস্তানের করাচিতে চলে যান। পূর্বপুরুষের ভিটা বাংলাদেশের বগুড়াতে হলেও ১৯৪৭ এর পর আর কোনোদিন বাংলার মাটিতে ফিরে আসেননি। সেই দাদা-দাদী দুজনের কবরই পাকিস্তানে।
তার বাবার যখন ১১বছর বয়স কৈশোর শৈশবের সাথে করাচীতে বেড়া উঠো, লেখাপড়া করাচীতে, ছিলেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিশ্বস্ত এজেন্ট। পাকিস্তানের সেবা করার লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীতে যোগদান। পাকিস্তানের জন্য বহুবার জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে সেদেশের সৈনিক হিসেবে আনুগত্যের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া। ঘটনাচক্রে ১৯৭০ এ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে পোস্টিং হওয়ার সুযোগে পাকিস্তানের সামরিক এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে ভিড়ে যাওয়া। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু'সহ মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ নেতাদেরকে হত্যার মাধ্যমে অবৈধভাবে অস্রের মুখে ক্ষমতা দখল। পরের ৫ বছরে হাজার হাজার দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করে পাকিস্তানি মডেলের সামরিক স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা। অবশেষে নির্মম হত্যার শিকার হয়ে সেই বিশ্বস্ত পাকিস্তানি এজেন্টের জীবনাবসান।
তার মায়ের জন্ম ভারতের জলপাইগুঁড়িতে, অথচ নিজের জন্মভূমিকে ঘৃণা করে সারাজীবন ভারতবিরোধী হিংসা-বিদ্বেষ চাষাবাদ করে গেছেন বাংলাদেশের মাটিতে।
স্বামীর দেখানো পথে আজীবন সাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনীতির প্রসারে কাজ করেছেন। যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে মিত্রতা করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরোধী অবস্থান নিয়ে ছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের সমর্থনে এবং বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানপন্থীদের ভোটে দুইবার দেশের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে আপোষ না করে অহেতুক হিংসা-অবিশ্বাস চর্চা করতেন বিধায় তার অনুসারীরা খেতাব দিয়েছিলো "আপোষহীন নেত্রী"।
সুযোগ্য পুত্রের জন্মও পাকিস্তানে। তারপর ১৯৭১ থেকে বাবার সামরিক মিশনের সূত্রে বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা। তরুণ বয়স থেকেই পড়ালেখা বাদ দিয়ে লুটপাট-দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত। গ্রেনেড হামলা করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের ২৪ জন'কে হত্যায় অভিযুক্ত। প্রতিবেশী দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে ১০ ট্রাক অস্ত্র সরবরাহ করতে গিয়ে ধরা পড়া,
অতঃপর আইনি তদন্তে অভিযুক্ত, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত।
তবে সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশে ২০২৪ এর জঙ্গি অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে ফেরার পর, বেআইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে কোনো আপীল না করেই আবার সকল অপরাধের সাজা থেকে মুক্ত। পাকি-মার্কিন প্রভুদের তৎপরতায় হয়ে বসেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
লোকটাকে আবার একদিন দেশ ছেড়ে পালাতে হবে, সন্দেহ নেই। সেই পথ তিনি নিজেই আবার তৈরি করেছেন। পুরনো সব প্রমাণিত অপরাধের যেসব রায় ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিলো ২০২৫ সালে ডিসেম্বরে! সেইসব রায়ের আদেশগুলো আবারও একদিন খোলা হবে স্বাধীন আদালতে, বাংলার জনসাধারণ তুমুল দাবিতে মেতে উঠবে, হত্যা ও দেশ ধ্বংসের অপরাধের বিচার করতে হবে করতে হবে।
#বাংলাদেশ #মুক্তিবাহিনী #মুক্তিযুদ্ধ