14/04/2026
একটি ছেলে ছোটবেলা থেকেই দেখত তার বাবা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দিনশেষে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতেন। ছেলেটির খুব শখ ছিল একজোড়া ভালো জুতো পরার, কিন্তু অভাবের সংসারে সেটা ছিল বিলাসিতা। স্কুলের বন্ধুরা যখন দামী জুতো পরে মাঠে খেলত, সে তখন নিজের তালি দেওয়া জুতো জোড়া আড়াল করে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকত।
আবেগের মুহূর্ত:
একবার স্কুলের এক অনুষ্ঠানে সবার সামনে তাকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ তার পোশাক এবং জুতো ছিল খুবই মলিন। সেদিন বাড়ি ফেরার পথে সে অঝোরে কেঁদেছিল। সে তার বাবাকে গিয়ে রাগ করে বলেছিল, "কেন আমাদের এত অভাব? কেন আমি অন্যদের মতো হতে পারি না?" বাবা কোনো কথা বলেননি, শুধু তার খসখসে হাতটা ছেলের মাথায় রেখেছিলেন। সেদিন রাতে ছেলেটি দেখেছিল, তার বাবা অন্ধকার বারান্দায় বসে নিজের পুরনো ছেঁড়া জুতোটা সেলাই করার চেষ্টা করছেন আর তার চোখ দিয়ে জল পড়ছে।
জেদ ও পরিবর্তন:
সেই রাতের বাবার চোখের জল ছেলেটির মনের ভেতর আগ্নেয়গিরির মতো কাজ করল। সে সিদ্ধান্ত নিল, কাঁদলে ভাগ্য বদলায় না, ভাগ্য বদলাতে হয় কাজ দিয়ে। সে দিন-রাত এক করে পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটখাটো কাজ শুরু করল। অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে, অনেকেই বলেছে— "গরিবের ছেলে বড় স্বপ্ন দেখলে হোঁচট খায়।" কিন্তু সে কানে তুলেনি। তার মাথায় শুধু বাবার সেই অশ্রুসজল চোখ দুটো ঘুরত।
সাফল্য:
দশ বছর পর, সেই ছেলেটি আজ একটি বড় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এখন তার আলমারিতে দামী জুতোর অভাব নেই। কিন্তু সে আজও তার বাবার সেই পুরনো সেলাই করা জুতো জোড়া একটা কাঁচের বক্সে ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রেখেছে। কেউ জিজ্ঞেস করলে সে হাসিমুখে বলে— "এই জুতো জোড়া আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমি কোথা থেকে এসেছি, আর আমার পরিশ্রম আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছে।"
গল্পটা পড়ার পর আপনার মনে যদি "নিজে কিছু করার" ইচ্ছা জাগে, তবে এই কথাগুলো আপনার জন্য: