23/05/2026
মেঘনায় ৩৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা, কিন্তু গরম লাগে ৪৪ ডিগ্রির মতো, আসল কারণ কী?
বাংলাদেশের গরম এখন আর শুধু থার্মোমিটারের সংখ্যায় ধরা যায় না। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু বাইরে বের হলেই মনে হয় যেন ৪৪ ডিগ্রি। অনেকেই এটাকে বাড়িয়ে বলা মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এই অনুভূতির পেছনে পরিষ্কার বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
প্রকৃত তাপমাত্রা আর আমরা শরীরে যে তাপ অনুভব করি, এই দুই এক জিনিস নয়। এই পার্থক্য তৈরি করে একটি বিষয়, যাকে বলা হয় Heat Index। সহজভাবে বললে, তাপমাত্রা আর বাতাসের আর্দ্রতা একসঙ্গে মিলে শরীরের কাছে যে গরম লাগে, সেটাই আসল অনুভূত তাপমাত্রা।
আমাদের দেশে গরম বেশি কষ্টদায়ক হওয়ার বড় কারণ আর্দ্রতা। বাতাসে যখন জলীয় বাষ্প বেশি থাকে, তখন শরীরের ঘাম ঠিকমতো শুকাতে পারে না। অথচ ঘাম শুকানোর মাধ্যমেই শরীর ঠান্ডা হয়। এই প্রক্রিয়াটা বাধাগ্রস্ত হলেই শরীরের ভেতরের তাপ আটকে যায়। তখন ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রাও অনেক বেশি মনে হয়।
এর সঙ্গে যোগ হয় রোদের তীব্রতা। খোলা রোদে থাকলে সূর্যের তাপ সরাসরি শরীরে পড়ে। পিচঢালা রাস্তা, কংক্রিটের দেয়াল থেকেও তাপ ফিরে আসে। ফলে চারপাশের পরিবেশ মিলেই গরমটা কয়েক ধাপ বেড়ে যায়। যে তাপমাত্রা কাগজে লেখা থাকে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি চাপ তৈরি হয় শরীরে।
বাতাস চলাচল না থাকলেও গরম বাড়ে। হালকা বাতাস থাকলে ঘাম কিছুটা শুকায়, শরীর স্বস্তি পায়। কিন্তু বাতাস বন্ধ থাকলে গরমটা গায়ে লেগে থাকে। এতে অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।
শহরের পরিবেশও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। গাছপালা কমে যাচ্ছে, বাড়ছে দালানকোঠা। এগুলো দিনে তাপ জমিয়ে রাখে এবং ধীরে ধীরে ছেড়ে দেয়। ফলে রাতেও তেমন স্বস্তি পাওয়া যায় না। শহরের গরম তাই গ্রামের তুলনায় বেশি অনুভূত হয়।
এই বাস্তবতায় শুধু তাপমাত্রার সংখ্যা দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। কত ডিগ্রি তার পাশাপাশি কেমন লাগছে সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষের শরীর সেই অনুভূতির ওপরই প্রতিক্রিয়া জানায়।
তাই ৩৪ ডিগ্রি হয়ে ৪৪ মনে হওয়াটা কোনো ভুল ধারণা নয়। বরং এটা আমাদের আবহাওয়া, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার সম্মিলিত প্রভাব। এই বিষয়টি বুঝতে পারলে গরমের কষ্টটাও আমরা অন্যভাবে দেখতে পারব এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতাও নিতে পারব।
লেখক-
মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা
সাংবাদিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ