03/05/2025
কঠোর পরিশ্রম আর অটল বিশ্বাস—
রাজীব আহমেদ, একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক, ময়মনসিংহের এক ছোট্ট শহরে বেড়ে উঠেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েই তার মনে হয়, শুধুমাত্র চাকরি দিয়ে জীবনে সাফল্য আসবে না—আসবে সৃজনশীলতা, ডিজিটাল দুনিয়ায় কিছু গড়ে তোলার মাধ্যমে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার ফেসবুক কন্টেন্ট মনিটাইজেশনের পথচলা।
প্রথমে সে নিজের মোবাইল দিয়েই ছোট ছোট ভিডিও বানাতো—মোটিভেশনাল স্পিচ, পড়ালেখার টিপস, এবং সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কিন্তু ফলোয়ার ছিল মাত্র কয়েকশ। ভিডিওতে ভিউ আসতো ৫০-১০০। অনেকেই বলেছিল, "সময় নষ্ট করিস রাজীব!" কিন্তু সে হাল ছাড়েনি। প্রতিদিন নিয়ম করে ১-২টি করে কন্টেন্ট বানাতো, শেখার জন্য ইউটিউব, ব্লগ আর কোর্স ঘেঁটে ঘেঁটে সময় দিত।
৬ মাস পর একদিন, রাজীবের একটি ভিডিও—“পরীক্ষার আগে রাত জেগে পড়াশোনা কতটা কার্যকর?”—হঠাৎ করে ভাইরাল হয়ে যায়। ১ মিলিয়নের বেশি ভিউ আসে, পেইজে বাড়তে থাকে লাইক আর ফলোয়ার। তখনই রাজীব ফেসবুকের In-Stream Ads আর Stars প্রোগ্রাম চালু করে। শুরুতে ইনকাম ছিল মাত্র ৫০ ডলার, কিন্তু তাও তার কাছে ছিল স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ।
পরের দুই বছরে, সে নিজের কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি গড়েছে—নিয়মিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি, ট্রেন্ডের সাথে মানানসই টপিক নির্বাচন, ভিজ্যুয়াল ও অডিও কোয়ালিটি উন্নত করা এবং দর্শকদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট বাড়ানো। প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা সময় দিত এই প্ল্যাটফর্মে। পরিবার প্রথমে বিরক্ত হলেও, ধীরে ধীরে তার ইনকামের পরিমাণ দেখে সবার ধারণা বদলে যায়।
আজ রাজীবের ফেসবুক পেইজে ফলোয়ার ৮ লক্ষ+, মাসিক আয় ৩০০-৪০০ ডলারের উপরে। শুধু তাই নয়, সে নিজের ডিজিটাল এজেন্সি খুলেছে, যেখানে নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ট্রেনিং দেয়।
রাজীবের সফলতা বলছে—ফেসবুক মনিটাইজেশন থেকে ইনকাম করতে চাইলে, দরকার কঠোর পরিশ্রম, ধারাবাহিকতা, আর নিজের ওপর বিশ্বাস।