14/08/2026
জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞ'তা এবং বাংলাদেশের স'ড়ক ব্য'বস্থাপনার বা'স্তবচিত্র তুলে ধ'রে ফেসবুকে একটি দী'র্ঘ ও চিন্তাজাগানিয়া পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।নিজের ভেরিফায়েড পেজে আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এই পোস্টে তিনি সড়ক নিরাপ'ত্তা, সরকারি সেবার প্র'ক্রিয়া ও আ'ইন প্রয়োগের ত্রু'টিগুলো নিয়ে বেশ কিছু গু'রুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেন।
পোস্টের শুরুতে জাইমা রহমান জানান, গত সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিয়েছেন।এর আগে ১০ বছরেরও বেশি আগে তিনি প্রথম টেস্টটি দিয়েছিলেন লন্ডনে।
দুটিতেই প্রথমবারে পাস করলেও, এখানকার বা'স্তবতার সঙ্গে আগের অভিজ্ঞতার আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি লেখেন, এই পু'রো প্র'ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কেবল লাইসেন্স নিয়ে ভাবেননি, বরং সামগ্রিক সড়ক ব্যব'স্থাপনা এবং তা নি'য়ন্ত্রণের ব্যব'স্থার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টিও ভেবেছেন।
ঢাকার তরুণদের একটি মৌলিক হতাশার কথা তুলে ধ'রে তিনি লেখেন, এখানকার ত'রুণদের এমন একটি ব্যব'স্থার মধ্যে নিয়ম মেনে চলার তা'গিদ দেওয়া হয়, যা সবসময় নিরাপ'দ বা অ'নুমানযোগ্য মনে হয় না।
পথচা'রী হিসেবে অপর্যা'প্ত ক্রসিং, হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়া বা দখল হয়ে যাওয়া ফু'টপাত এবং বাস, রিকশা ও প্রাইভেট কারের বি'শৃঙ্খল ভিড়ের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়।
অন্যদিকে যাত্রী হিসেবে বাসের যান্ত্রিক ফিটনেস, চালকের প্রশিক্ষণ বা অতিরি'ক্ত গতির ওপর যাত্রীদের কোনো নিয়'ন্ত্রণ থাকে না।
নতুন চালকের অভি'জ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জাইমা রহমান বিআরটিএ-এর সেবা ও দা'লাল চক্রের প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, অনলাইন প্রক্রি'য়া থাকার পরও কেন দালাল ধ'রলে কাজ দ্রুত হয়?
পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস কাগজ পেতে অপে'ক্ষা করতে হয়?
বিআরটিএ অনেক সেবা ডিজিটাল করলেও অনলাইনে শুরু হওয়া সমস্যার সমাধান শেষ পর্যন্ত যদি 'অফিসে এসে কথা বলুন'-এ গড়ায়, তবে তা মানুষের জীবন সহজ করে না।
এই সশরীরে যোগাযোগ ও প্রক্রি'য়ার ফাটলের সুযোগ নেয় ব্রো'কার বা দা'লালরা, যা দু'র্নীতিকে স্বা'ভাবিক নিয়মে পরিণত করে।
আই'ন প্রয়োগের ক্ষে'ত্রে বৈ'ষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চমৎ'কার নিয়ম থাকা সত্ত্বে'ও যখন তা বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তখন মানুষ নিয়মের প্রতি আ'স্থা হা'রিয়ে ফেলে।
চোখের সামনে ফি'টনেসবিহীন গাড়ি ও বেপরো'য়া চালনা চলতে দেখলে নতুন চালকরা বি'ভ্রান্ত হন।
দু'র্নীতির চেয়েও বড় সমস্যা হলো তার প্রতিকার পাওয়ার অনিশ্চয়তা।
জাইমা রহমান মনে করেন, সড়ক নিরাপ'ত্তা কেবল গাড়ি, লাইসেন্স বা শা/স্তির বিষয় হতে পারে না: এটি পথচারী শিক্ষার্থী, নারী, ডেলিভারি রাইডার, বাসচালক, প্রতিব'ন্ধী ব্য'ক্তি ও রিকশাচালক-- সবার প্রতিদিনের বা'স্তবতাকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত।
ভালো নী'তিমালাকে এই বৈ'চিত্র্যময় বাস্তবতা বুঝতে হবে, নতুবা তা দরি'দ্র ও ঝুঁ'কিপূর্ণ মানুষকে শোষণের মুখে ঠে'লে দেবে।
২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের নিরাপ'দ স'ড়ক আন্দো'লনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলো রয়ে গেছে।
তাই এখন প্রশ্ন শুধু এটি নয় যে 'সড়ক নিরাপদ কেন নয়?' বরং মূল প্রশ্ন হলো--'সমস্যাগুলো চিহ্নি'ত হওয়ার পরও ব্যবস্থাটি এখনো তা ঠিক করল না কেন?' পরিশেষে তিনি নাগরিকের ওপর শুধু নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে সেবা নিশ্চিতকরণ, আ'ইনের ন্যা'য্য প্রয়োগ, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ এবং দু'র্ঘটনা রোধে সঠিক সড়ক ডিজাইনের ওপর গুরু'ত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।