05/07/2026
ভাবুন তো, আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে আসার গল্পটা ঠিক কেমন ছিল? কিংবা আপনার কোল আলো করে যে ছোট্ট মানুষটি আসতে যাচ্ছে, তার শুরুটাই বা কীভাবে হলো?
আমাদের অনেকের ধারণা, প্রতিটি মানুষের পৃথিবীতে আসার এই অবিশ্বাস্য যাত্রার রহস্য আমরা জানতে পেরেছি শুধুমাত্র আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞান এই বিস্ময়কর প্রক্রিয়ার ধাপগুলো উন্মোচন করার বহু আগেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে মানুষের ভ্রূণ বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনা দিয়েছেন।
একটি নতুন প্রাণের সূচনা প্রক্রিয়ায়, নিঃসৃত কোটি কোটি শুক্রাণুর মধ্যে কেবল অল্প কিছু শুক্রাণু জরায়ুর প্রাকৃতিক বাধা ও প্রতিকূল পথ পাড়ি দিয়ে ডিম্বাণুর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আর তাদের মধ্য থেকেও কেবল একটিমাত্র শুক্রাণু ডিম্বাণুর দেয়াল ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
আজকে যে সন্তানটি আপনার গর্ভে বড় হচ্ছে, কিংবা আপনি নিজে—আমাদের সবার শুরুটাই কিন্তু এই কোটি কোটি সম্ভাবনার মধ্য থেকে হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অন্য যেকোনো সম্ভাবনাকে সত্য করতে পারতেন, কিন্তু তিনি ঠিক আপনাকেই, বা আপনার এই সন্তানটিকেই পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনো মানুষই পৃথিবীতে দুর্ঘটনাবশত আসে না, প্রতিটি প্রাণের পেছনে রয়েছে আল্লাহ তাআলার এক নিখুঁত ও সুন্দর পরিকল্পনা।
ইসলাম আমাদের এই সুন্দর যাত্রার শুরুটা করতে বলে অত্যন্ত সুন্দর একটি নিয়ত ও দায়িত্ববোধ নিয়ে। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা আর মিলন কেবলই একটি শারীরিক বিষয় নয়, এর মধ্যে জড়িয়ে আছে মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন, দাম্পত্য মিলনের পূর্বে আল্লাহর নাম নিতে এবং অনাগত সন্তানের সুরক্ষার জন্য দুআ করতে। তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন নিজের স্ত্রীর সাথে মিলনের ইচ্ছা করে, তখন সে যেন বলে— 'বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ-শাইত্বনা ওয়া জান্নিবিশ-শাইত্বনা মা রাযাকতানা'
(আল্লাহর নামে শুরু করছি; হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন, তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন)। এর পর যদি তাদের উভয়ের মাঝে কোনো সন্তান নির্ধারণ করা হয়, তবে শয়তান কখনো তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৩২৮৩)
শুরু থেকেই এক পবিত্র ও বরকতময় আবহে অনাগত সন্তানের ভিত্তি স্থাপন করার এই যে নির্দেশনা, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক গঠনে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।
শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর এই সফল মিলনের ফলে যে একক কোষটি তৈরি হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় 'জাইগোট' (Zygote)। আর কুরআনের পরিভাষায় একে বলা হয়েছে 'নুতফাহ' বা মিশ্রিত তরল বিন্দু।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
"নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে, যাতে আমি তাকে পরীক্ষা করি; সেজন্য আমি তাকে শ্রবণকারী ও দর্শনকারী করেছি।" (সূরা আল-ইনসান, আয়াত: ২)
একটা অতি ক্ষুদ্র কোষীয় বিন্দু, অথচ এর ভেতরে ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে আপনার বাচ্চার চোখ, চুল, গায়ের রঙ আর ডিএনএ ব্লুপ্রিন্ট!
আগামী পর্বে আমরা দেখবো, এই বিন্দুটি কীভাবে মায়ের জরায়ুতে গিয়ে পরম নিশ্চিন্তে নিজের আশ্রয় খুঁজে নেয়।
প্রথম যেদিন জানতে পেরেছিলেন, আপনার ভেতরে আরেকটা প্রাণ বড় হচ্ছে, সেই মুহূর্তের অনুভূতিটা কেমন ছিল? আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন!
Cp