03/03/2026
ইদ্রিস ঢাকায় তরকারি বিক্রি করেন। নির্বাচনের সময়ে তিনি জহিরুল ইসলাম নামে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ তার অপকর্ম নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন এবং কমেন্ট করেন।
কদিন আগে ইদ্রিস ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বাজারে গেলে সেখান থেকে তাকে জহিরসহ তার সহযোগীরা ডেকে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে নিয়ে পেটায়।
শরীর ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে। একটা মানুষকে ঠিক কতটুকু মারলে এই পুরো সময় সে ধুকে ধুকে মারা যায়? গত সোমবার রাতে সে মারা যায়।
জহিরুল ইসলাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান। ক্ষমতা তাদের কি বেপরোয়া করেছে!
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম একটা মানুষকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছেন, পেটাতে পেটাতে এমন অবস্থা করছেন যে তার পাজর ভেঙে যাচ্ছে, শরীরের ভেতরের অর্গান পর্যন্ত ড্যামেজ হচ্ছে।
প্রবল যন্ত্রণা সয়ে সে মানুষটা মারা যাচ্ছে! অথচ ফ্যাসিবাদী সময়কালে বিএনপি'র কতশত লোক এইভাবে নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন!
সেই মাজলুমেরা আজ ক্ষমতার স্পর্শে এতখানি জালিম হলেন, একটা কমেন্ট, পোস্ট করার কারণে বাড়ি থেকে নিয়ে পিটিয়ে খুন করছে!
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মো. ইদ্রিস মিয়া, যে তরকারি বেঁচত, তাঁকে খুন করে ফেলা হয়েছে। এই ইফতারে তাঁর মুখটা দেখুন।
আল্লাহ এই জমিনে সব জালিমকেই অপদস্থ করবেন। নয়া জালিম, পুরান জালিম।
কেউ তাঁকে মনে রাখবে না, তবুও এ দেশে নয়া সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত প্রথম সরকারের সময়ে সরকারি দলের হাতে ফেসবুকে পোস্ট করে খুন হয়ে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি সে।
সে শহীদ হলেও তাঁকে কেউ শহীদ বলবে না, চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবে না, তবুও মনে রাখুন। ভুলে যাওয়া জুলুমকে দীর্ঘ করে।
ফেসবুক পোস্ট, কমেন্ট, এরপর একদিন আপনাকে আমাকে সরকারি দলের অফিসে তুলে নিয়ে পিটিয়ে খুন করে ফেলা হবে। 🙂