21/01/2023
ভুলে ভৱা পাঠ্যপুস্তকে
নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ের ১৮১ পৃষ্ঠায় লেখা আছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে। অথচ হানাদারদের তাণ্ডব শুরু হয়, ২৫ মার্চের কালরাত থেকে। ওই রাতের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার।
একই বইয়ের ২০০ পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আসলে এটি হবে, রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীকে, প্রধান বিচারপতি নয়, রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ান।
আর ২০৩ পৃষ্ঠায় সংবিধানের বিভিন্নভাগে কোন কোন বিষয় থাকে, তাতে লেখা "পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদ" আসলে এটি হবে "পঞ্চমভাগে আইনসভা"।
নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের পৃষ্ঠা ৬ এ লেখা আছে, ৫৪ সালের নির্বাচনে ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দল চারটি হলো- আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল। কিন্তু মূলত ৫টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। অন্য দলটি ছিল, পাকিস্তান খেলাফতে রব্বানী পার্টি।
এই বইয়ের পৃষ্ঠা ১১ তে লেখা, আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এখানে হবে, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।
পৃষ্ঠা ১৬ তে লেখা ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প ও পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প। শুদ্ধ হবে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ও পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর।
পৃষ্ঠা ২২ এ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস হলো, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু।
নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি ও নাগরিকতা বইয়ের ২৩ পৃষ্ঠায় আইনের প্রকারভেদে ব্যক্তিগত আইন ও সরকারি আইনের কথা লেখা হয়েছে। আসলে দেশে ব্যক্তিগত আইন বলে কোনো আইন নেই।
একই বইয়ের ৬৩ পৃষ্ঠায় লেখা, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান, সচিব। আসলে সচিব হচ্ছেন, মন্ত্রণালয়ের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসার। প্রশাসনিক প্রধান, মন্ত্রী।