29/07/2026
#সাইয়্যেদ_আবুল_আ'লা_মওদূদী (রহ.): আমার চিন্তাধারা
১. মাস্টার কী:
আল্লামা মওদূদীর (রহ.) লেখনী যেন এক "মাস্টার কী"—ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সমস্যা, যে তালাই লাগাবেন, তা অনায়াসে খুলে যাবে।
২. রূহানিয়াতের ছোঁয়া:
অর্ধমৃত ও গতিহীন হয়ে বসে আছেন? মওদূদী গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করুন; আবার গতিশীল হয়ে দাঁড়িয়ে দৌড়াতে পারবেন। তাঁর জুড়িহীন এই লেখনীতে নিহিত রয়েছে জীবন্ত রূহানিয়াত।
৩. কালজয়ী লেখনী:
সাইয়্যেদ মওদূদীর গ্রন্থাদির আবেদন বিগত শতকের ন্যায় এ শতকেও অম্লান। এই মৌলিক ও কালোত্তীর্ণ লেখনী ক্রমশ অচেতন বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে তুলছে।
৪. প্রভাব ও সমাদর:
নিশাচরদের রাতভর অভিশাপের পরও যেমন আকাশে সূর্যের প্রখরতা বাড়তেই থাকে; ঠিক তেমনি, ক্রমাগত মিথ্যাচারের পরও মওদূদী সাহিত্যের প্রবল প্রভাব বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক সমাদৃত।
৫. চেতনার উৎস:
বিগত শতকে উপমহাদেশীয় মুসলিমদের জন্য মওদূদী সাহিত্য ছিল চেতনার ও প্রেরণার নূর; আর এ শতকে তা বিশ্বব্যাপী মাজলুম মানবতার বৈপ্লবিক বিজয়-সংগ্রামের উৎস।
৬. ইবাদতের প্রকৃত রূপ:
আল্লামা মওদূদী দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি, শোষণমুক্ত অর্থনীতি এবং অশ্লীলতামুক্ত সংস্কৃতির ইসলামী রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন। তিনি আমাদের জীবনের এই প্রতিটি জীবন্ত বাস্তবতাকে ইবাদত হিসেবে চিনিয়ে দিয়েছেন।
৭. পূর্ণাঙ্গ ইসলাম:
আমাদের তথাকথিত শ্রদ্ধেয়জন দীক্ষা দিয়েছিলেন—‘দীন ও দুনিয়া’ কিংবা ‘ধর্ম ও কর্ম’ আলাদা। অথচ মাওলানা মওদূদী (রহ.) দেখিয়েছেন, ইসলামের পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্যে এই দুটি একে অপরের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
৮. গোমরাহির ভয়:
মওদূদীর (রহ.) বই পাঠে যাদের ভক্ত হারানোর আশঙ্কা, তাদের ঈমানী শক্তি দেখলে অবাক হতে হয়। গোমরাহ হওয়ার ভয় দেখিয়ে যারা তাঁর বই পড়তে নিষেধ করেন, মূলতঃ তাঁরা নিজেরাই গোমরাহির মধ্যে রয়েছেন।
৯. পুনর্জাগরণ:
ব্রিটিশ-প্রভাবিত উপমহাদেশের নামকরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সাধারণ মানুষ শুধু "কালেমার উচ্চারণ আর ভিক্ষাবৃত্তি" শিখেছিল। মাওলানা মওদূদীর বিপ্লবী ব্যাখ্যা সে নতজানু মানসিকতা ভাঙতে শিখিয়েছে; মাজলুম উম্মাহকে খোলাফায়ে রাশেদার আলোকে রাষ্ট্রগঠন করার নতুন জাগরনী প্রেরণা দিয়েছে।
১০. কুরআন বুঝার তৃষ্ণা:
একদিকে ব্রিটিশের পরাধীন শিক্ষা, অন্যদিকে পদলেহী হুজুরদের ইলম গোপনের হীন মানসিকতা—সাধারণ মানুষ যখন "অবুঝ তেলাওয়াত আর অন্ধ আনুগত্যের" মাঝেই মুক্তির স্বপ্ন দেখছিল, তখন মাওলানা মওদূদীর (রহ.) লেখনী মানুষকে নিজ মাতৃভাষায় "আল-কুরআন" বোঝার দুর্নিবার পিপাসা এনে দিয়েছে এবং আল্লাহর পথে শাহাদাতের তামান্না জাগ্রত করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।
১১. সামগ্রিক ইসলাম ও বাতিলের কাঁপন:
উপমহাদেশীয় বড় বড় হুজুর ও ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সাধারণ মানুষকে বুঝাচ্ছিল—"ইসলাম কেবল ব্যক্তি ও পরিবারে সীমাবদ্ধ" এবং বাতিলপন্থীদের জন্য নেতৃত্ব নিরাপদ করে নিজেরা নীরব ছিলেন, তখন আত্মবিশ্বাসী তরুণ মওদূদী (রহ.) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইসলামকে জীবনের সামগ্রিক দিক ও বিভাগে পূর্ণাঙ্গরূপে তুলে ধরেছেন। ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলে বাতিলের মসনদে কাঁপন ধরিয়েছেন। এখনও সেই দালালদের উত্তরসূরিরা কেবল শোরগোলই করে যাচ্ছে। আল্লাহ তাআলা সরলমনা ও সচেতন মানুষদের হেদায়েত দিন। আমীন।
প্রিয় বন্ধুদের প্রতি বিশেষ বার্তা:
> বিতর্কিতরাই প্রতিভাবান, সৎসাহসী ও স্বাধীনচেতা।
> প্রকৃত সত্য উচ্চারণে এরাই প্রকৃত নির্ভীক ও নির্ভরযোগ্য। যারা সচেতন এবং যাদের কমনসেন্স আছে, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি—বিতর্কিতদের লেখনী আগে পড়ুন এবং তাঁদের বক্তব্য শুনুন। তাঁদেরকে প্রথমতঃ জানুন; এরাই প্রকৃত মাজলুম। তাঁদের লেখনী ও বক্তৃতা থেকে আপনি মানবতার সহস্রাব্দের কান্না ও মুক্তির আর্তনাদ শুনতে পাবেন। জানতে পারবেন মানবরূপী দানব থেকে মুক্তির উপায়।
> এছাড়া বাকিদের অনেকেই পোল্ট্রি, নিশাচর, চামচা, ভোগী, মতলবী, সেবাদাস, ভাড়াটিয়া, বকধার্মিক, একচোখা, রক্তচোষা, বর্ণচোরা, ছদ্মবেশী, খোলসধারী, বিলাসী, পরাশ্রয়ী, পরজীবী ও ঘুণপোকা সদৃশ।
> বিগত ও বর্তমান শতাব্দীর সেরা ‘বিতর্কিত জিন্দা শহীদ’ কে জানেন?
> তিনি—আল্লামা মওদূদী (রহ.)।
>
Posted by: Dr Humayun Kabir ডাঃ মুহাম্মাদ হুমায়ূন কবীর