03/08/2026
প্রিপেইড মিটার ইস্যুতে ক্ষোভে নারায়ণগঞ্জ নগরবাসী👇
নারায়ণগঞ্জজুড়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) কর্তৃক জোরপূর্বক প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন বর্তমানে গণপ্রতিরোধের রূপ ধারণ করেছে। ডিপিডিসির কোনো কোনো এলাকায় জোরপূর্বক মিটার স্থাপনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের সাথে কর্মকর্তাদের তীব্র উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মিটার ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
# # ক্ষোভের মূল কারণ: 'ডিজিটাল পকেট কাটা'
আন্দোলনকারী ও সাধারণ গ্রাহকদের মূল অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর থেকে বিদ্যুৎ বিল কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গেছে। গ্রাহকদের দাবি, আগে যেখানে বিদ্যুৎ বিল ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা আসতো, সেখানে এখন প্রিপেইড মিটারে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং ভ্যাটের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, যার কোনো স্বচ্ছ বা প্রকাশ্য হিসাব দেওয়া হচ্ছে না। গভীর রাতে বা জরুরি পরিস্থিতিতে হঠাৎ ব্যালেন্স শেষ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
# # ফুঁসে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ: সরাসরি প্রতিরোধ
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম, স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফতুল্লার মাঝধাড়, মাসদাইর বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ডিপিডিসির টেকনিশিয়ানরা গ্রাহকদের আপত্তির মুখেও গোপনে বা জোর করে মিটার লাগাতে গেলে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েন। স্থানীয় জনতা একজোট হয়ে বাঁশ ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং বিক্ষুব্ধ জনতা বেশ কিছু প্রিপেইড মিটার ভেঙে ফেলে। কিল্লারপুল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
# # রাজপথে সংসদ সদস্যের সমর্থন
জনগণের এই আন্দোলনের সাথে সরাসরি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন (আলামিন)। তিনি এই প্রিপেইড মিটার প্রকল্পকে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের জনগণের অর্থ লুটপাটের একটি প্রজেক্ট বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের মতামত ও সম্মতি ছাড়া নারায়ণগঞ্জে জোর করে কোনো মিটার চাপিয়ে দেওয়া যাবে না এবং জনগণের এই ন্যায্য আন্দোলনে তার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
# # কঠোর আলটিমেটাম
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া মিটার বসানো একটি দস্যুতার শামিল। অনতিবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে এবং জনগণের ভোগান্তি দূর না হলে আগামীতে নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেওয়ার মতো আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
# # প্রশাসনের আশ্বাস
এদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপি গ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই তীব্র গণঅসন্তোষ এবং জনভোগান্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। স্মারকলিপির অনুলিপি দ্রুতই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
বর্তমানে পুরো নারায়ণগঞ্জজুড়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। কোনো এলাকায় ডিপিডিসির গাড়ি দেখলেই স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন