29/05/2025
মানুষের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখেছে। কথা দিয়ে কথা না রাখা বা ওয়াদা ভঙ্গ করা একটি বড় গুনাহ, যা কোরআন ও হাদিসে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কোরআনের আলোকে ওয়াদা ভঙ্গের শাস্তি
আল্লাহ তাআলা কোরআনে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার আদেশ দিয়েছেন এবং ওয়াদা ভঙ্গকারীদের কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন:
1. আল্লাহ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বলেছেন
"তোমরা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে (কেয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসা করা হবে।"
(সূরা আল-ইসরা: ৩৪)
2. ওয়াদা ভঙ্গকারীদের শাস্তি হবে
"আর যারা ওয়াদা করে, তারপর তা ভঙ্গ করে, এবং আল্লাহ যা পালন করতে আদেশ দিয়েছেন তা অমান্য করে, এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে পরকালে ভয়াবহ পরিণাম।"
(সূরা আর-রাদ: ২৫)
3. মিথ্যাবাদী ও মুনাফেকির লক্ষণ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা বলো তা কেন করো না? আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত গুরুতর যে তোমরা যা বলো তা করো না।"
(সূরা আস-সাফ: ২-৩)
হাদিসের আলোকে ওয়াদা ভঙ্গের শাস্তি
1. মুনাফেকির লক্ষণ
নবী (সাঃ) বলেছেন:
"তিনটি লক্ষণ যার মধ্যে পাওয়া যায়, সে হচ্ছে মুনাফিক। (১) যখন কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, (২) যখন ওয়াদা করে, তখন ভঙ্গ করে, (৩) এবং যখন আমানত রাখা হয়, তখন খেয়ানত করে।"
(সহিহ বুখারি: ৩৩, সহিহ মুসলিম: ৫৯)
2. ওয়াদা ভঙ্গ করা কেয়ামতের দিনে বিপদ ডেকে আনবে
"কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি— (১) যে ব্যক্তি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবায়ন করে না..."
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
3. ওয়াদা ভঙ্গ করা হারাম ও গুনাহ
রাসূল (সাঃ) বলেন:
"একজন মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে ওয়াদা করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা ভঙ্গ করে।"
(আবু দাউদ: ৩৫৯৭)
দুনিয়াতে ওয়াদা ভঙ্গের কুফল
(১) মানুষ বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে
(২) সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয়
(৩) আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়
(৪) মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয় (৫) মানুষিক শান্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
আখিরাতে শাস্তি :
(১) আল্লাহর দরবারে কঠোর জবাবদিহি করতে হবে
(২) জাহান্নামের কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
(৩) মুনাফেকদের সঙ্গে জাহান্নামের সর্ব নিম্ন স্তরে অবস্থান করতে হবে।
ওয়াদা পালন করা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ওয়াদা ভঙ্গ করা শুধু দুনিয়া