20/05/2026
💔🚫💔আমার নিজের চোখে দেখা---
দু' বছরের বাচ্চা। মায়ের হাতে এক বাটি সুজি। বাচ্চার দু'হাত মায়ের পায়ের নীচে চাপা দেয়া। আর মায়ের এক আত্মীয়া বাচ্চার গালের কাছে গরম পানি ভর্তি কেটলি ধরে আছে। মা বাচ্চার গাল টিপে মুখে সুজি ভরছে, গিলতে দেরি হলে গালে গুতো দিচ্ছে। বাচ্চাটি মূর্তির মত সোজা, চিৎকার করছে আর গিলছে। একটু নড়লেই গালে গরম কেটলির ছেঁকা লাগবে। পাশে কিছু কসটেপ থাকে। কি কাজে ব্যবহৃত হয়, জানিনা। আর্ত চিৎকার আর ভয়ার্ত চোখে গরম কেটলির দিকে তাকানো, আর গবগব করে সুজি গেলা ঘন্টা দু'য়েক চলে। এরপর বমি। বমি শুধু মুখ নয়, নাক দিয়েও বেরোচ্ছে। বিছানা বালিশ বমি দিয়ে সয়লাব। শুরু হলো পেটানো। কিন্তু ততক্ষণে আবার দু'ঘন্টা হয়ে গেছে। দু'ঘন্টা পরপর বাচ্চাকে খাওয়াতে হয়। আবার তৈরি হলো আরেক বাটি। আবার নেক্সট সিটিং। একই পদ্ধতি। সাথে আছে ভুতের ভয়, কিল, গুতা, কান টানা, চড় থাপ্পড়, বিছানা থেকে ছুড়ে ফেলা.....।
স্বামী মহাশয় মিউ মিউ করে মাঝেমধ্যে একটু বুঝানোর চেষ্টা করেন, বিরক্ত হয়ে অফিসে চলে যান, অতটুকুই। বাচ্চা সারাক্ষণ ভয়ে অস্হির, পেট ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, কথা শুনেনা, পালিয়ে বেড়ায়, রিভোল্ট করে..... ডাক্তারের পরামর্শ..... সব ফেইল। মা কারো কথা শুনবেন না। বাচ্চা খায় না। মায়ের চেয়ে বেশি কে ভালোবাসে? মায়ের সব কাজই সঠিক। তিনি আদর্শ মা। খারাপ মায়ের বাচ্চা হালকা পাতলা থাকে, অপুষ্ট থাকে। সচেতন মা, নিজের জীবনটা ধ্বংস করে দিচ্ছেন বাচ্চার বাটির পিছনে। এই বাচ্চার প্রাণ হরণ তার অধিকার।
আমরা অপুষ্ট বাচ্চা যেমন দেখি। চারিদিকে মোটাতাজা পরিপুষ্ট বাচ্চাও দেখি। এই হৃষ্টপুষ্ট হবার পেছনের বিভৎস চিত্রটাও আমরা কমবেশি সবাই জানি। মায়ের ভালোবাসার এই অত্যাচার আমরা স্বাভাবিক ভাবে নিতে অভ্যস্ত। দু'এক জন প্রতিবাদ করলে সেটাই অস্বাভাবিক মনে হয়। মায়ের চেয়ে তো আর মাসির দরদ বেশি নয়।
অবশ্যই মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি হতে পারে না। কিন্তু, কেউ যদি মানসিক ভারসাম্য হারায় তার কাছে একটি শিশু নিরাপদ কি? নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনার প্রয়োজন আছে। তুলতুলে হৃষ্টপুষ্ট করতে গিয়ে একটি বাচ্চাকে সারাক্ষণ মানসিক শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে রাখা, ট্রমাটাইজ করা ফৌজদারী অপরাধ। অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখতে হবে, ভালোবাসা নাম দেয়া যাবে না।
দায়িত্ব আর মমতার নাম দিয়ে, এ ধরনের অপরাধকে উৎসাহ দেয়া যেমন সঠিক নয়, তেমনি একটা কেইসকে গুরতর করার জন্য কথায় কথায় পরকিয়া আবিষ্কার করাটাও গ্রহণযোগ্য নয়। পরকিয়ায় আসক্ত নারী সন্তানের প্রতি উদাসীন হয়, সারাক্ষণ খাবারের বাটি নিয়ে বসে থেকে, নিজের বডি ফিটনেস নষ্ট করে না। আমরা এতটুকু অন্ততঃ বুঝি। কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলুন। সব কিছুতে রঙ চড়াবেন না।
মায়েদের কাছে অনুরোধ। খাবার নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে আপনি আপনার টেম্পার হারাচ্ছেন। এর জন্য একমাত্র আপনার মানসিকতা দায়ী। আপনার শিশুটি, তার বাবা, বা তার পরিবার দায়ী নয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন, অথবা সন্তান ধারণ করা থেকে বিরত থাকুন। একটা শিশুর শৈশব, একটা পরিবারের পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার আপনার নেই। যা পারবেন না, তা করতে যাবেন না।
অথবা, আপনার অসুখী দাম্পত্য, শশুড়বাড়ির নেগেটিভ পরিবেশের জন্যও শিশুটি দায়ী নয়। ওর উপর ক্ষোভ ঝাড়তে পারেন না। এটা অপরাধ। টর্চার করে একটি শিশুকে বড় করা মানে আরেকটা ট্রমাটিক মানবাত্মা তৈরী করা, সমাজকে, পরিবারকে আরেকটা মানসিক রুগী উপহার দেয়া। শারীরিক গঠনে হৃষ্টপুষ্ট হলেই চলবে না, শিশুর মানসিক সুস্বাস্থ্যও জরুরী।
এমন মা হতে পারিনি বলেই অনেকের মুখে শুনতে হয়েছে বাচ্চা তো শুকনা কেন মোটা না কেন হ্যাঁ ভাই আমার বাচ্চা মোটা না শুকনা তাতে আমি খুশি ও বেঁচে আছে সুস্থভাবে এতেই আমি অনেক খুশি