Halal Things

Halal Things Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Halal Things, Digital creator, Narayanganj.

03/02/2026

শাবান ও রমযান উভয়টিই গুরুত্ববহ ও ফযীলতপূর্ণ মাস। রমযানের গুরুত্ব তো প্রায় সকলেই বোঝেন। কিন্তু শাবান মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে হয়তো কেউ কেউ যথাযথ ওয়াকিফহাল নন। শাবান মাসকেও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্ব দিতেন। গুরুত্বের সাথে রোযা রাখতেন এবং অন্যান্য আমল করতেন। এ নিবন্ধে শাবান ও রমযান উভয় মাসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযীলত নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি করণীয়-বর্জনীয় বিষয়েও কিঞ্চিৎ আলোকপাত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

শাবান মাসের গুরুত্ব

শাবান মাস আল্লাহর দরবারে বান্দাদের আমলনামা পেশ হওয়ার মাস

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ছাড়া শাবান মাসে সর্বাধিক রোযা রাখতেন। আয়েশা রা. বলেন―

فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُه أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ছাড়া অন্য কোনো মাসে পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখিনি। আর আমি তাঁকে (রমযান ছাড়া) শাবান মাস অপেক্ষা অধিক রোযা রাখতে আর কোনো মাসে দেখিনি। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৬৯

আয়েশা রা. থেকেই বর্ণিত অপর এক হাদীসে আছে―

كَانَ أَحَبُّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَصُومَه شَعْبَانَ.

রোযা রাখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সর্বাধিক প্রিয় মাস ছিল শাবান মাস। ―মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫৫৪৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩১

এ হাদীসদ্বয় বলছে, রোযা রাখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শাবান মাস সর্বাধিক প্রিয় ছিল, তাই তিনি রমযান মাস ব্যতীত এ মাসেই সবচেয়ে বেশি রোযা রাখতেন। কিন্তু কেন তিনি শাবান মাসে এত বেশি রোযা রাখতেন?

এর উত্তর পাওয়া যাবে উসামা বিন যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে। ওই হাদীস থেকে শাবান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমযান ছাড়া) শাবান মাসে যত রোযা রাখতেন অন্য কোনো মাসেই এত রোযা রাখতেন না।

উসামা বিন যায়েদ রা. বলেন, আমি (একবার) বললাম―

وَلَمْ أَرَكَ تَصُومُ مِنْ شَهْرٍ مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ.

আমি আপনাকে কোনো মাসেই এত রোযা রাখতে দেখিনি, শাবান মাসে আপনি যত রোযা রাখেন?

এ প্রশ্নের উত্তরে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―

ذَاكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الْأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ.

শাবান হল রজব ও রমযানের মধ্যবর্তী মাস। এ মাস সম্পর্কে (অর্থাৎ এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে) মানুষ গাফেল থাকে। শাবান হল এমন মাস, যে মাসে রব্বুল আলামীনের কাছে (বান্দার) আমল পেশ করা হয়। আমি চাই, রোযাদার অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর দরবারে) পেশ হোক। ―মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৭৫৩; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৩৫৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৯৮৫৮

শাবান মাসের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন এত গুরুত্বারোপ করতেন, এই হাদীসে তিনি তা খুলে বলেছেন। তাঁর কথার মর্ম হল, এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই এ মাসটি গুরুত্বের দাবিদার। তাছাড়া সামনে রমযান আসছে, ফযীলতপূর্ণ মাস হিসেবে রমযানকে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। শাবান মাসের আগে রজব মাস আছে, রজব মাস পবিত্র চার মাসের(১) একটি, তাই রজব মাসকেও গুরুত্ব প্রদান করা হয়। মাঝখানে শাবানের ব্যাপারে গাফলতি হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করলেন যে, দেখো, একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই মাসটিও গুরুত্বের দাবিদার। এ মাসে বান্দার গোটা বছরের আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই শাবান আল্লাহর দরবারে আমলনামা পেশ হওয়ার মাস। কাজেই এই মাসেরও যথাযথ কদর করা চাই। এ কারণেই আমি এ মাসে এত রোযা রাখি(২)।

ইমাম ইবনে রজব রাহ. এই হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে একটি গভীর বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, (মর্ম) : এই হাদীসে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, কখনো কোনো একটা সময়, ব্যক্তি বা স্থানের ফযীলত প্রসিদ্ধ হয়ে যায়, তখন সবাই সেই প্রসিদ্ধ স্থান, কাল, পাত্র নিয়েই ব্যস্ত থাকে। অথচ ভিন্ন বিবেচনায় অন্য কোনো স্থান, কাল, পাত্র সেই প্রসিদ্ধ স্থান, কাল, পাত্রের চেয়েও উত্তম হতে পারে। কিন্ত অনেকে সেদিকে লক্ষ করে না। ―লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃ. ২৫১

সুতরাং একাধিক ফযীলতের কারণে যেভাবে রমযান মাসকে গুরুত্ব প্রদান করা হয় এবং পবিত্র মাস হিসেবে আশহুরে হুরুম বা পবিত্র চার মাসকে যেভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়, তেমনি সারা বছরের আমলনামা পেশ হওয়ার মাস হিসেবে শাবান মাসকেও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা কর্তব্য। আর এই গুরুত্ব প্রদান করার উপায় হল, সবধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া। শাবান মাসের অধিকাংশ দিন রোযা রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে এই নির্দেশনাই দিয়ে গেছেন।

প্রসঙ্গত, এখানে উল্লেখ করে দেওয়া প্রয়োজন, সহীহ হাদীসে আছে, আল্লাহর দরবারে প্রতিদিন বান্দাদের আমলনামা পেশ করা হয়। দিনের আমলনামা রাতে আর রাতের আমলনামা দিনে পেশ করা হয়। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৭৯) এটি হল প্রতিদিনের আমলনামা। অপর একটি সহীহ হাদীসে আছে যে, সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলনামা পেশ করা হয়। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৬৫) এটি হল সাপ্তাহিক আমলনামা। আর একবার পেশ করা হয় বাৎসরিকভাবে। সেটা হল শাবান মাসে। এখানে সেটার কথাই বলা হয়েছে। (দ্র. লাতায়েফুল মাআরেফ, পৃ. ২৪৪)

শাবান মাসের রোযা

উপরিউক্ত বর্ণনাসমূহ থেকে স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে আমলনামা পেশ করা হবে―এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে শাবান মাসে সর্বাধিক রোযা রাখতেন। তাই শাবান মাসে অন্যান্য নেক আমলের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী রোযা রাখার চেষ্টা করা কর্তব্য। কিন্তু রোযা রাখবে শাবান মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত। হাদীসে রমযানের এক-দুই দিন আগে রোযা রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯১৪)

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবানের ফযীলত

শাবান মাসের একটি ফযীলত হল, অর্ধ-শাবানের রাত। অর্থাৎ চৌদ্দ শাবান দিবাগত রাত। এ রাতের বিশেষ ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। একটি হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন―

يَطَّلِعُ اللهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ.

আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন; অতঃপর তিনি তার সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন, কেবল শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত (এই দুই শ্রেণিকে ক্ষমা করেন না)। ―সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৬৬৫; শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২, হাদীস ৩৮৩৩

قال البيهقي: وقد روينا هذا من أوجه، وفي ذلك دلالة على أن للحديث أصلا من حديث مكحول.

এই হাদীসটি নির্ভরযোগ্য ও আমলযোগ্য। ইমাম ইবনে হিব্বান, ইমাম যাকীউদ্দীন মুনযিরী, যাইনুদ্দীন ইরাকী প্রমুখ হাদীস বিশারদ ইমামগণ হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য বলে মতামত দান করেছেন। (দ্র. সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৬৬৫; আততারগীব ওয়াত তারহীব ২/১১৮; শরহুল মাওয়াহেব ৭/৪১২)

এই হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী অর্ধ-শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সবার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। কেবল শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাই এই মাগফিরাত ও রহমত প্রাপ্ত হয়।

কোনো বিশেষ সময়ের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফিরাতের ঘোষণা আসলে করণীয় হল, সেই সময়ে সকল গুনাহ থেকে বিরত থেকে নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া, যেন আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের উপযুক্ত হওয়া যায়।

এ হাদীস ও অন্যান্য হাদীসে মাগফিরাতের ঘোষণা থাকার কারণে বহু আগ থেকেই গুনাহ মুক্তির রাত হিসেবে এ রাতকে শবে বরাত তথা ‘মুক্তির রজনী’ নামে অভিহিত করা হয়। কাজেই এ রাতে গুনাহ মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা কাম্য। পাশাপাশি অধিক নেক আমল ও দুআ-ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর মাগফিরাত ও রহমত প্রাপ্তির ঐকান্তিক চেষ্টা করাও কর্তব্য।

এ সম্পর্কে আরেকটি হাদীস

হযরত আলা ইবনুল হারিস রাহ. থেকে বর্ণিত, আয়েশা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন, আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা অথবা বলেছেন, হে হুমাইরা, তোমার কি এই আশঙ্কা যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো, এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন―

এটা হল অর্ধ-শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিনগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষপোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। ―শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬

ইমাম বাইহাকী রাহ. এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন―

هذا مرسل جيد.

শবে বরাতের আমল

উপরোক্ত হাদীসে দীর্ঘ নফল নামায, দীর্ঘতম সময় সিজদা করার কথা আছে। সুতরাং এ রাতে নফল নামাযসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি যত্নবান হওয়া কাম্য। যেমন নফল নামাযের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব পড়তে থাকা, কুরআন কারীম তিলাওয়াত করা, দরূদ শরীফ পড়া, তওবা-ইস্তেগফার করা, দুআ করা এবং কিছুটা ঘুমের প্রয়োজন হলে ঘুমিয়ে নেওয়া। এমন যেন না হয় যে, সারা রাতের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হল না। খেয়াল রাখতে হবে, ফরয নামাযে যেন কোনোরূপ শৈথিল্য না হয়। কারণ, ফরয ইবাদতের গুরুত্ব সর্বাবস্থায় নফল ইবাদতের চেয়ে বেশি।

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, অনেক অনির্ভরযোগ্য ওযীফার বই-পুস্তকে এই রাতে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে, যেমন এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই সূরা এতবার পড়তে হবে ইত্যাদি―এগুলো ঠিক নয়। বরং স্বাভাবিকভাবে যেকোনো সূরা দিয়ে দুই রাকাত করে নফল নামায পড়বে। (দ্রষ্টব্য : আলআছারুল মারফূআ, আবদুল হাই লাখনোভী, পৃ. ৮০-৮৫)

এ রাতের করণীয় সম্পর্কে ইমাম ইবনে রজব রাহ. বলেছেন, (মর্ম) ‘মুমিনের কর্তব্য এই যে, এ রাতে খালেস দিলে তওবা করে যিকির, দুআ ও ইস্তেগফারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। যত্নের সঙ্গে নফল নামায পড়বে। সওয়াব লাভের আশা নিয়ে পনেরো তারিখের রোযাও রাখবে। কেননা কখন মৃত্যু এসে যায় বলা যায় না। তাই কল্যাণের মওসুম শেষ হওয়ার আগেই তার মূল্য দেওয়া কর্তব্য। তবে অত্যন্ত জরুরি বিষয় হল, ওইসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, যেগুলো এ রাতের সাধারণ ক্ষমা ও দুআ কবুল হওয়া থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে দেয়। যথা : শিরক, হত্যা, বিদ্বেষ। এগুলো সবই কবীরা গুনাহ। আর বিদ্বেষ তো এতই গর্হিত বিষয় যে, এটা অধিকাংশ সময়ই মানুষকে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

যেকোনো মুসলমান সম্পর্কেই বিদ্বেষ পোষণ করা অত্যন্ত মন্দ প্রবণতা। তবে সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীন সম্পর্কে অন্তরে বিদ্বেষ বিদ্যমান থাকা অত্যন্ত ভয়াবহ ও গর্হিত অপরাধ। এজন্য মুসলমানদের কর্তব্য হল, সর্বদা অন্তরকে পরিষ্কার রাখা এবং হিংসা-বিদ্বেষ থেকে পাক-পবিত্র রাখা। বিশেষত উম্মাহ্র পূর্বসূরি ব্যক্তিদের সম্পর্কে অন্তর পুরোপুরি পরিষ্কার থাকা অপরিহার্য, যাতে রহমত ও মাগফিরাতের সাধারণ সময়গুলোতে বঞ্চিত না হতে হয়।’ ―লাতাইফুল মাআরিফ, পৃ. ২৬৫

এ রাতের নফল আমলসমূহ সম্মিলিত নয়, ব্যক্তিগত

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এ রাতের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকীভাবে করণীয়। ফরয নামায তো অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। এরপর যতটুকু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোনো প্রমাণ হাদীস শরীফেও নেই আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। (দ্র. ইক্তিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ২১৯)

তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলের ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।

কোনো কোনো জায়গায় এই রেওয়াজ আছে যে, এ রাতে মাগরিব বা এশার পর থেকেই ওয়াজ-নসীহত আরম্ভ হয়। আবার কোথাও ওয়াজের পর মিলাদ-মাহফিলের অনুষ্ঠান হয়। কোথাও তো সারা রাত খতমে-শবীনা হতে থাকে। উপরন্তু এ সবকিছুই করা হয় মাইকে এবং বাইরের মাইকও ছেড়ে দেওয়া হয়।

মনে রাখতে হবে, এ সবকিছুই ভুল রেওয়াজ। এ রাতে মাইক ছেড়ে দিয়ে বক্তৃতা-ওয়াজের আয়োজন করা ঠিক নয়। এতে না ইবাদতে আগ্রহী মানুষের পক্ষে ঘরে বসে একাগ্রতার সাথে ইবাদত করা সম্ভব হয়, আর না মসজিদে। অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশ্রামেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। আল্লাহ আমাদের এসব ভুল কাজকর্ম পরিহার করার তাওফীক দিন।

এ রাতের আপত্তিকর কাজকর্ম

এছাড়া এ রাতে বেশ কিছু আপত্তিকর কাজকর্মও দেখা যায়। যেমন, মসজিদ, ঘর-বাড়ি বা দোকানপাটে আলোকসজ্জা করা, পটকা ফুটানো, আতশবাজি, কবরস্থান ও মাযারে ভিড় করা, কবরস্থান ও মাযারে আলোকসজ্জা করা, মহিলাদের বিনাপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়া, বিশেষত বেপর্দা হয়ে দোকানপাট, মাযার ইত্যাদিতে ভিড় করা, তরুণ ও যুবক ছেলেদের সারারাত শহরের অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়ানো, হৈ-হুল্লোড় করা―এসব কিছুই আপত্তিকর কাজ। শায়েখ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. বলেন, এই রাতের নিকৃষ্ট বেদআতসমূহের মাঝে নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত―ঘর-বাড়ি, দোকানপাট আলোকসজ্জা করা, হৈ চৈ ও আতশবাজির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া ইত্যাদি। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এগুলোর স্বপক্ষে কোনো জাল রেওয়ায়েতও পাওয়া যায় না। সম্ভবত হিন্দুদের ‘দেওয়ালী’ প্রথা থেকে তা গ্রহণ করা হয়েছে। ―মা ছাবাতা বিস সুন্নাহ, পৃ. ৩৫৩-৩৬৩

শবে বরাতে কৃত কিছু কাজ তো অন্য সময়েও হারাম। আর কিছু কাজ আছে, যা অন্য সময় করা জায়েয, কিন্তু শবে বরাতে সেগুলোর পেছনে পড়ে শবে বরাতের আমল থেকে বঞ্চিত হওয়া কিছুতেই ঠিক নয়। যেমন খিচুড়ি বা হালুয়া-রুটি রান্না করে নিজেরা খাওয়া বা গরিবদের খাওয়ানো। সাধারণ সময়ে এগুলো করা জায়েয। কিন্তু শবে বরাতে এগুলোর পেছনে পড়ে শবে বরাতের মূল কাজ তওবা-ইস্তেগফার, নফল ইবাদত প্রভৃতি থেকে বঞ্চিত থাকা একেবারেই ঠিক নয়। বস্তুত এগুলোও শয়তানের এক প্রকারের ধোঁকা, মানুষকে মূল কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য শয়তান এসব কাজকর্মে মানুষকে ব্যস্ত করে দেয়।

শবে বরাতের পরের দিন শাবান মাসের ১৫ তারিখের রোযা

শবে বরাতের পরের দিন শাবান মাসের ১৫ তারিখ। এ দিন অনেকে রোযা রেখে থাকেন। এ সম্পর্কে একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন। প্রতি চান্দ্র মাসে তিন দিন রোযা রাখা সুন্নত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন, সাহাবীগণকেও মাসে তিন দিন রোযা রাখতে বলতেন। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৬০; ৭৬৩)

সে হিসেবে মাসে তিন দিন রোযা রাখা সুন্নাত। এই তিন দিন মাসের শুরুতেও হতে পারে, মাঝেও হতে পারে, আবার শেষেও হতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু হাদীসে স্পষ্ট আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে বিশেষভাবে মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ (যাকে আইয়ামে বীয বলা হয়) রোযা রাখতে বলেছেন। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৬১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৪৯; ফাতহুল বারী, ১৯৮১ নং হাদীসের আলোচনা)

এই হাদীসগুলোর ওপর ভিত্তি করে হাফেয ইবনে হাজার রাহ. বলেছেন, যে তিন দিনের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, সেই তিন দিন রোযা রাখাই সর্বোত্তম। (দ্র. ফাতহুল বারী, ১৯৮১ নং হাদীসের আলোচনা)

সে হিসেবে প্রতি মাসের আইয়ামে বীযে রোযা রাখা সুন্নত। শাবান মাসও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শাবান মাসের আইয়ামে বীযে (১৩, ১৪, ১৫) রোযা রাখাও সুন্নত। ১৫ তারিখ আইয়ামে বীযের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে ১৫ তারিখ রোযা রাখাও সুন্নত।

বাকি থাকল একটি বর্ণনায় বিশেষভাবে ও পৃথকভাবে ১৫ শাবান রোযা রাখার কথা বর্ণিত হয়েছে। (দ্রষ্টব্য : সুনানে ইবনে মাজাহ, বর্ণনা ১৩৮৪) কিন্তু বর্ণনাটি শাস্ত্রীয় বিচারে দুর্বল। শাস্ত্রীয় বিচারে দুর্বল হওয়ার কারণে কেবল এই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ১৫ শাবানের রোযাকে পৃথকভাবে সুন্নত কিংবা মুস্তাহাব মনে করা সঠিক নয় বলে মতামত দিয়েছেন মুহাক্কিক আলেমগণ।

তবে, যেমনটি পূর্বে বলা হল, ১৫ তারিখ আইয়ামে বীযের অন্তর্ভুক্ত―এ হিসেবে এই দিনের রোযাকে (১৩ ও ১৪ তারিখের রোযাসহ) নিঃসন্দেহে সুন্নত মনে করা যাবে।

মোটকথা, সর্বাবস্থায় শাবান মাসের ১৫ তারিখে রোযা রাখা যাবে। পূর্বের দুই দিন তথা ১৩ ও ১৪ তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে একসঙ্গে তিন দিন রোযা রাখা যেমন যাবে, তেমনি পৃথকভাবে কেবল ১৫ তারিখও রোযা রাখা যাবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তিন দিন রাখাই উত্তম।

এমনিভাবে ১৫ তারিখ আইয়ামে বীযের একটি দিন হিসেবে ১৫ তারিখের রোযাকে সুন্নতও মনে করা যাবে। কিন্তু পৃথকভাবে শাবান মাসের ১৫ তারিখ বিশেষ একটি দিন, সে হিসেবে পৃথকভাবে এ দিনে রোযা রাখা সুন্নত―এমন ধারণা রাখা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, ‘আরো একটি বিষয় হচ্ছে, শবে বরাত-পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শাবানের পনেরো তারিখে রোযা রাখা। গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হাদীসে রাসূলের বিশাল ভাণ্ডার হতে একটি মাত্র হাদীস এর সমর্থনে পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, ‘শবে বরাতের পরবর্তী দিনটিতে রোযা রাখ’। সনদ ও বর্ণনার সূত্রের দিক থেকে হাদীসটি দুর্বল। তাই এ দিনের রোযাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদীসের দিকে তাকিয়ে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলে দেওয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতেই অনুচিত। তবে হাঁ, শাবানের গোটা মাসে রোযা রাখার কথা বহু হাদীসে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ১ শাবান থেকে ২৭ শাবান পর্যন্ত রোযা রাখার যথেষ্ট ফযীলত রয়েছে। কিন্তু ২৮ ও ২৯ তারিখে রোযা রাখতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বারণ করেছেন। ইরশাদ করেন, ‘রমযানের দু-একদিন পূর্বে রোযা রেখো না।’ যাতে রমযানের জন্য পূর্ণ স্বস্তির সাথে স্বতঃর্স্ফূভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিনের রোযাই অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।

একটি লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, শাবানের এই ১৫ তারিখ তো ‘আইয়ামে বীয’ এর অন্তর্ভুক্ত। আর নবীজী প্রতি মাসের আইয়ামে বীয এ রোযা রাখতেন। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি এই দুই বিষয়কে সামনে রেখে শাবানের ১৫ তারিখের দিনে রোযা রাখে যা ‘আইয়ামে বীয’ এর অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি শাবানেরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন, তবে ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়ই সে সওয়াব পাবে। তবে শুধু ১৫ শাবানের কারণে এ রোযাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সুন্নত বলে দেওয়া অনেক আলেমের মতেই সঠিক নয়। আর সে কারণেই অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরাম মুস্তাহাব রোযার তালিকায় মুহাররমের ১০ তারিখ ও ইয়াওমে আরাফা (যিলহজ্জের ৯ তারিখ) এর কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ শাবানের ১৫ তারিখের কথা পৃথকভাবে কেউই উল্লেখ করেননি। বরং তারা বলেছেন, শাবানের যেকোনো দিনই রোযা রাখা উত্তম। সুতরাং এ সকল বিষয়ের দিকে দৃষ্টি রেখে যদি কেউ রোযা রাখে, ইনশাআল্লাহ সে সওয়াব পাবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, রোযা রাখার ব্যাপারে এ মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনের পৃথক কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।’ ―ইসলাহী খুতুবাত ৪/২৬৭-২৬৮

শবে বরাতের ফযীলত শবে কদরের সমান নয়

অনেকে মনে করেন শবে বরাতের ফযীলত শবে কদরের মতো। এ ধারণা সঠিক নয়। শবে বরাতের ফযীলত আপন জায়গায় স্বীকৃত, তবে তার ফযীলত শবে কদরের মতো নয়। কুরআন-হাদীসে শবে কদরের যত ফযীলত এসেছে শবে বরাত সম্পর্কে আসেনি। বিশেষত শবে কদরে কুরআন মজীদ নাযিল হওয়ার মতো বরকতময় ঘটনা ঘটেছে। এ ফযীলত অন্য কোনো রজনীর নেই।

আবার অনেকে মনে করেন কুরআন মজীদের সূরা দুখানে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বলে শবে বরাত উদ্দেশ্য। এ ধরাণাও সঠিক নয়। ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বলে শবে কদর উদ্দেশ্য, সূরা কদরে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাই ভিন্ন কোনো ধারণা পোষণ করার সুযোগ নেই। (দ্রষ্টব্য : লাতায়েফুল মাআরেফ, পৃ. ২৬৮; মাকালাতুল কাওছারী, পৃ. ৪৯-৫০

12/09/2024

যারতার কাছ থেকে ফতুয়া নেওয়া যাবে না

12/09/2024

আমরা অনেকেই উচ্চ সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করি কিন্ত আসেপাশের কথা চিন্তা করিনা।

12/09/2024
11/09/2024
11/09/2024
04/03/2023

সাববাস

02/03/2023

বোরকা

✨This is a Belgian brother who embraced Islam and is now a thinker and lecturer. He commented on the conversion of the C...
28/02/2023

✨This is a Belgian brother who embraced Islam and is now a thinker and lecturer. He commented on the conversion of the Catholic priest and said: "Christian America is in disbelief. The Christian preacher Hillarion Heagy, who was a priest for 14 years and who regularly criticized Islam, is now a Muslim!"

✨Quran 28:56)”You surely cannot guide whoever you like ˹O Prophet˺, but it is Allah Who guides whoever He wills, and He knows best who are ˹fit to be˺ guided.”

Address

Narayanganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Halal Things posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Halal Things:

Share