10/04/2026
"লোকটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ইলেকট্রিক চেয়ারে বসানো হয়েছে হাত-পা বেঁধে। ভয়ানক ইলেকট্রিক শকের যন্ত্রণার ভয়ে অঝোরে কাঁদছে সে। তখনই এলো অভাবনীয় প্রস্তাবটি: জনৈক বিজ্ঞানী জানালেন তাকে─ আপনাকে মৃত্যুদণ্ড একটি বিকল্প প্রক্রিয়ায় যন্ত্রণাবিহীনভাবে কার্যকরে আগ্রহী আমি; এটি আমার একটি সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট। খুব সূক্ষ্মভাবে আপনার একহাতের কব্জির শিরা হালকা করে কাটা হবে, আপনি বুঝতেও পারবেন না; হাতটির কনুইয়ের নিচে রাখা স্টিলের পাত্রে ধীরেধীরে রক্তের ফোঁটা পড়বে; আপনি কিছুক্ষণ পরেই সম্পূর্ণ কষ্টবিহীন অবস্থায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন। রাজি?
লোকটি রাজি হয়ে গেলো।
বিকল্প প্রক্রিয়াটি ছিল একটি মনস্তাত্ত্বিক এক্সপেরিমেন্ট।
তাকে বসানো হলো, চোখে পট্টি দেওয়া হলো, ভাঁজ করা কনুইয়ের নিচে একটি স্টিলের পাত্র রাখা হলো। অল্প পরেই, পাত্রটিতে পড়তে লাগলো ফোঁটায়-ফোঁটায়...
না, রক্ত নয়; জল।!
আলাদাভাবে জল ফেলা হচ্ছিলো ধীর-ধারায়। লোকটি শুনতে পাচ্ছে পাত্রে পড়া তরলের শব্দ। ফোঁটা পড়ার শব্দ ধীর থেকে ধীরতর হতে লাগলো। একসময় থেমে গেলো শব্দ, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো লোকটিও, শব্দ শুনতে না-পেয়ে আর।"
উপরের ঘটনাটি সত্যিকারের নয়, একটি গল্প। মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন, এভাবে মৃত্যু সম্ভব। এক্ষেত্রে সাইকোলজি ব্রেইন ও হার্টের ক্রিয়া বন্ধ করে দিতে পারে।
লোকটির কব্জিও কাটা হয়নি, রক্তও পড়েনি, অথচ সে ভেবেছে─ ওসব হয়েছে, এবং তার মৃত্যু হচ্ছে। কারণ তার ব্রেইনে আগেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বা সে বিশ্বাস করে ফেলেছে এসব ঘটবে, এবং সে এসবের ফলে মারা যাবে। সাইকোলজি। বিশ্বাস।
আমরা এভাবেই ব্যর্থ হই, বা সফল হই। আমরা আমাদের ভেবে নেওয়া ভাবনাকেই, বিশ্বাসকেই, বাস্তবতায় রূপ দিই। আমরা যখন নিশ্চিত হই যে, এই ঘটনাটি ঘটবেই, তখন ঘটনাটিকে প্রতিহত করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। যদি ভাবি যে, ঘটনাটি প্রতিহত করার ক্ষমতা আমার আছে, তাইলে সেই ঘটনা থামিয়ে দেওয়াও সম্ভব আমাদের দ্বারা, অথবা ঘটনাটি সত্যিকার অর্থে না-ও ঘটতে পারে।
আমাদের মনস্তত্ত্ব এভাবেই আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভয় কিংবা আশা, যাকে আমরা সত্য হিসেবে গ্রহণ করি, তাতেই আমরা ঢুকে পড়ি, তার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাই। বিশ্বাস। বিশ্বাসই নিয়ন্তা। যে বিশ্বাস করে যে, সে ব্যর্থ হবে, সে ব্যর্থ হয়েই গেছে; যে জয়ের আশা করে, একধাপ এগিয়ে গেলো সে জয়ের দিকে।
কপি পোস্ট