27/10/2021
ডব্লিউ জি গ্রেস ‘ফাদার অফ ক্রিকেট’
শচীনের সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি, লারার দুর্দান্ত ব্যাটিং, ব্র্যাডম্যানের রেকর্ডময় ক্যারিয়ার, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি কিংবা বোথামরা যদি ২২ গজের সেরা ছাত্র হয়ে থাকেন তাহলে সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নামটি কি হতে পারে? যদি বলি আধুনিক ক্রিকেটের জনকও তিনি। তাহলে আপনি কোন নামটি নিবেন? আপনি যেই নামটিই নেন না কেনো আমার তালিকায় সেই স্থানটিতে থাকবে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেসের নাম।
গ্রেস পেশায় ছিলেন চিকিৎসক, কিন্তু মনে প্রাণে ধারণ করতেন ক্রিকেটকে। যদি ক্রিকেটকে ধারণ না-ই করতেন তাহলে রোগীকে চেম্বারে বসিয়ে রেখে খেলা শেষ করে আসার কথা নয়! এমনটাও হয়েছে, রোগী বসে থেকেছেন পুরো দিন, তবুও গ্রেস ব্যাট-বলের লড়াই শেষ না করে আসেননি। আসলে এইসবেই বোঝা যায় কতোটা খেলাপ্রেমী ছিলেন এই গ্রেস। এই গ্রেসের খেলা প্রেমী হতে অবশ্য পরিবার দারুণ ভাবে উজ্জীবিত করেছে সেটা বলায় যায়, কেননা গ্রেসের দুই ভাইও ইংল্যান্ডের জার্সিতে মাঠ মাতিয়েছেন। শুধু তাই না, ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার একই পরিবারের ৩ ভাই একসাথে কোনো দেশের জার্সিতে খেলেছেন। এই একটা দিক দিয়ে গ্রেস পরিবারকে সবার উপরে রাখতেই হয়।
ক্রিকেট মাঠে ব্যাট-বলে মাতিয়ে রাখা গ্রেস আরেকটি জিনিস প্রায় প্রয়োগ করতেন ক্রিকেট মাঠে। সেটি হলো চিকিৎসা বিদ্যা। ইতিহাস ঘাঁটলে বেরিয়ে আসে দারুণ কিছু তথ্য। আচ্ছা এবার ক্রিকেটার গ্রেসের ক্রিকেট মাঠে চিকিৎসা দেওয়ার গল্প শোনা যাক। একদা ক্রিকেট মাঠে গ্রেসের ব্যাট থেকে ছুটে আসা বলটি তালুবন্দি করতে গিয়ে মাথায় ধাতুর ছোট একটি টুকরা বিদ্ধ হয়েছিলো এক ফিল্ডারের। সেদিন সেই ফিল্ডারটি মাঠ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে গ্রেসের চিকিৎসা নিয়েছিল। এছাড়া গ্লৌচেস্টারশায়ারের এক ক্রিকেটারের গলা খাঁজকাটা রেলিংয়ের সাথে লেগে কেটে যায়, সেদিন গ্রেস প্রায় আধাঘণ্টা চিকিৎসা দিয়ে রক্তপড়া বন্ধ করেন। এভাবে অনেক ক্রিকেটারের চিকিৎসা করেছেন তিনি।
ক্রিকেটমাঠের একজন অতৃপ্ত ব্যাটসম্যানের নাম ছিলো ডব্লিউ জি গ্রেস। তৎকালীন সময়ে বোলারদের চোখের ঘুম কেড়ে নেওয়া গ্রেসের কাছে ছিলো মামুলি বিষয়। আচ্ছা এই গ্রেসের একটা অতৃপ্ত ব্যাটিংয়ের গল্প শুনি। গ্রেসের ক্যারিয়ারে কোনো একটা সময়, এক সপ্তাহে ধারাবাহিক ব্যাটিং করেছেন তিনি। যেখানে এক সপ্তাহে নামের পাশে যুক্ত করেছিলো ৮৩৯ রান! খেলেছিলেন ৩৪৪, ১৭৭ এবং ৩১৮ রানের তিনটি রেকর্ডময় ইনিংস। একবার কি ভেবেছেন! এক সপ্তাহে এমন ৩টি ইনিংস খেলা কতোটা চ্যালেঞ্জিং ছিলো। তবে সেই চ্যালেঞ্জটা ঠিকই নিয়েছিলেন গ্রেস।
সময়টা ছিলো ১৮৭৬ সাল। প্রতিপক্ষ ‘গ্রিমস-বি’ দলের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন গ্রেস। সেদিন প্রতিপক্ষ দল গ্রেসকে বলেন তারা ১১ জনের জায়গায় ২২ জন ফিল্ডিং করবে। কি ভাবছেন! সেদিন কি রাজি হয়েছিলো গ্রেস? হ্যাঁ, সেদিন ২২ জন ফিল্ডিংয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে গ্রেস চালিয়েছিলো ব্যাটিং তাণ্ডব। শুধু তাই নয়, সেদিন গ্রেস এতোটাই ভয়ংকর ছিলেন যে তাকে আউটই করতে পারেননি বিপক্ষের বোলাররা। ২২ গজের লড়াকু যোদ্ধা যখন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ছিলেন তখন তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিলো ৪০০ রান। একবার কি ভেবেছেন ২২ জন ফিন্ডারের বিপক্ষে এমন ব্যাটিং করা কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো! তবে হ্যাঁ, গ্রেস পেরেছিলো তাইতো সেদিনের পর থেকে তাকে উপাধি দেওয়া হয়েছিলো ‘ক্রিকেটের পিতামহ’।
তথ্যসূত্রঃক্রিকেটখোর