01/11/2025
"এই জীবনের ভার আর সইতে পারছি না" — ৭০ বছরের ফাতেমা বেগমের এই একটি কথাই চোখে জল এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একবার কল্পনা করুন তো, জীবনের সায়াহ্নে এসে দুটি পা নিষ্ক্রিয়, একটি হাত ভা*ঙা, আর অন্য হাতটি দিয়ে কোনোরকমে নিজের শরীরের ভারসাম্যটুকু ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন এক মা।
জামালপুরের হরিপুর গ্রামে পরের জমিতে এক জী*র্ণ কুটিরে তার বাস। স্বামী গত হয়েছেন ২০ বছর আগে, নেই কোনো সন্তান। ৮১০ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে 'আপন' বলার মতো তার কেউ নেই। প্রতিবেশীরাই তার একমাত্র ভরসা। যাদের নিজেদেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তারাই ভালোবাসার থালায় তুলে দেন দু'মুঠো অন্ন। তার নিঃশব্দ য*ন্ত্র*ণা দেখে তারাও চোখের জল ফেলেন, কিন্তু চিকিৎসার বিশাল ভার বহন করার সাধ্য তাদের নেই।
ফাতেমা বেগম কোনো সাহায্য চাননি, চেয়েছেন শুধু এই অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তি। তার এই গল্প শুধু একজন বৃদ্ধার একার নয়, এ গল্প আমাদের সমাজের আয়না।
কিন্তু অন্ধকারের শেষে আলো ঠিকই আসে। অবশেষে এই মায়ের আর্তি পৌঁছেছে সঠিক জায়গায়। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটে গিয়েছেন তার দোরগোড়ায়, দিয়েছেন খাদ্য ও অর্থ সহায়তা। শুধু তাই নয়, তিনি এই মায়ের চিকিৎসা ও দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। প্রতিবেশীদের ভালোবাসা আর প্রশাসনের এই উদ্যোগে আমরা আবারও মানবতার উপর বিশ্বাস খুঁজে পাই।
আমাদের চারপাশে এমন কত ফাতেমা বেগম নীরবে-নিভৃতে জীবনের বোঝা বয়ে চলেছেন, আমরা হয়তো তার খবরও রাখি না। আসুন, আমরা আমাদের আশপাশের মানুষগুলোর প্রতি একটু সদয় হই, তাদের খোঁজ নিই। আমাদের সামান্য সহানুভূতিই হয়তো কারো জন্য বেঁচে থাকার প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
ফাতেমা বেগম যেন তার জীবনের বাকি দিনগুলো একটু শান্তি আর সম্মানের সাথে কাটাতে পারেন, এই দোয়া রইলো।
✍️Adiba Sultana ema✨