Rubel

Rubel লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা:)

রহস্যময় গল্প পড়তে আমার ফেসবুক আইডি ফলো করুন 👉 Rubel Khandakar
(1)

 #তুই_আমার_মায়াবতীপর্বঃ-০৮ রাতে রিহান বাড়ি ফিরলো। সারাদিনের কাজের চাপে রিহান খুব ক্লান্ত। রুমে যাওয়ার আগে একটু ইফার রুমে...
06/06/2026

#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০৮

রাতে রিহান বাড়ি ফিরলো। সারাদিনের কাজের চাপে রিহান খুব ক্লান্ত। রুমে যাওয়ার আগে একটু ইফার রুমে উঁকি দিয়ে দেখতে এসেছিলো ইফা কি করে কিন্তু আপসোস ইফা দরজা টা লক করে রেখেছে।
ক্লান্তি দেহ টা কে টেনেটুনে নিজের রুম পর্যন্ত এসে সোফার উপর ব্যাগ টা রাখলো। তারপর আলমারি টা খুলে একটা থ্রি কোর্য়াটার প্যান্ট আর একটা টি-শার্ট নিয়ে ওয়াশরুম গেলো। লম্বা শাওয়ার নেওয়ার পর বেটার ফিল করছে। ঘড়িতে টাইম দেখে নে রাত বাজে ১০ টা। এতোক্ষণে সকলে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ইফার একটু খবর নেওয়ার দরকার ড্রয়ার থেকে চাবি টা নিয়ে বের হলো রুম থেকে। ইফার রুমের সামনে এসে দরজার লক টা খুলে ভিতরে গেলো। গিয়ে দেখে ইফা এলোমেলো ভাবে শুয়ে আছে। ইফাকে ঠিক করতে গিয়ে যখন ইফার শরীরে হাত পড়লো তখন দেখলো ইফার শরীরে প্রচন্ড জ্বর। যেনো পুরো শরীরে আগুনের মতো তাপ।
রিহান একটা শুষ্ক ঢোঁক গিললো। রুমে লাইট টা জ্বালালো। তারপর নিচে গেলো খাবার আনতে। প্লেটে খাবার টা নিয়ে ইফার রুমে গেলো রিহান। তারপর ইফার চোখে মুখে পানি ছিটালো ইফা নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে বললো,, ও দীপ্ত ভাই আপনি এসেছেন?
হুম আমি এসেছি উঠো খাবে।
উঁহুম খেতে ইচ্ছে করছে না।
শুনবো আসো খেয়ে নিবে বলে রিহান ইফা ধরে উঠালো। ইফা দুর্বল কন্ঠে বললো দীপ্ত ভাইয়া আমি ওয়াশরুমে যাবো।
ঠিক আছে উঠো।
ইফা যখন বিছানা থেকে নামতে যাবে তখন ইফা মাথা ঘুরিয়ে পরে যেতে নিলে রিহান ইফাকে কোলে নিয়ে বললো দুপুরে তো ঠিকই ছিলে তাহলে এখন জ্বর বাঁধালে কি করে??
ইফাকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুম অব্দি দিয়ে এলো।
ইফা দরজা লক করতে গেলে রিহান বললো,, একদম না লক করবেনা। আমি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি তুমি ভিতরে যাও। দরজাটা ভিড়িয়ে দিলো ইফা। ইফা ফ্রেশ-ট্রেশ হয়ে বের হতে রিহান ইফাকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসালো।
তারপর স্যুপ টা একটু একটু করে চামুচে করে খাইয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ খাওয়া মাঝখানে ইফা রিহান কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো।
কি হয়েছে জান কাঁদছো কেনো??
ইফা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বললো,, আজান আমাকে ঠকালো খুব বাজে ভাবে ঠকালো। আমার হৃদয়ে খুব পীড়া হচ্ছে।
হুঁশ আর কেঁদো কি হয়েছে বললো?
আমি যখন বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়েছিলাম ঠিক তখনই আজানের বন্ধু সানি আমাকে তার ইমুতে বেশ কিছু ছবি পাঠলো। ওর সাথে অন্য মেয়ের। শুধু তাই নয় আজান আমাকে বন্ধুদের সাথে বাজী ধরে ভালোবেসে ছিলো।
কে বলেছে তোমাকে?
ওর বন্ধু ই বলেছে প্রমান সমেত।
আচ্ছা আর কাঁদতে হবে না। রিহান আছে তো তুমাকে আগলে রাখার জন্য। একটা ঝিনুক যেমন মুক্ত কে আড়াল করে রাখে আগলে রাখে সবকিছু থেকে ঠিক আমিও তুমাকে আগলে রাখবো সবকিছু থেকে। আর কেঁদো না এই খাবার টুকু খেয়ে মেডিসিন টা খেয়ে নেও। জ্বর টা কমে যাবে।
ইফাকে খাইয়ে রিহান একটা মেডিসিন খাইয়ে দিয়ে শুইয়ে দিলো। রিহান কিচেন এ গিয়ে ওর জন্য নুডলস রান্না করে খেয়ে তারপর ইফার রুমে গেলো। ইফা চোখ বন্ধ করার অবস্থায় চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। রিহান রুমে এসে দরজাটা লক করে দিয়ে লাইট টা অফ করে দিয়ে ড্রিম লাইট টা জ্বালিয়ে ইফার পাশে বসে ইফার চোখের পানি ঠোঁট দিয়ে শুষে নিলো। রিহান ইফার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ পর ইফা ঘুমিয়ে গেলো। রিহান ক্লান্ত থাকায় রিহানও ঘুমিয়ে পড়লো।
গভীর রাতে ইফার গা কাঁপিয়ে জ্বর এলো। রিহান ইফাকে তারাতাড়ি কোলে করে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে শাওয়ার এর নিচে দাঁড় করিয়ে দিলো। ক্ষানিকখন ইফাকে শাওয়ার নিচে রেখে দিলো। রিহান শাওয়ার টা অফ করে দিয়ে রুমে এসে ইফার একটা ড্রেস নিয়ে গিয়ে ইফাকে যত্ন সহকারে ড্রেসটা পড়িয়ে দিয়ে ইফা কে কোলে নিয়ে রুমে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিলো কম্বল চাপা দিয়ে। ইফা শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে।
রিহানের কপালের চিন্তার রেখে দিলো৷ ইফা খুব কষ্ট পেয়েছে যার জন্য তার এই ভয়ঙ্কর রকম জ্বর। মানুষ সব আঘাত সহ্য করতে পারে কিন্তু ভালোবাসার মানুষের থেকে পাওয়া আঘাত কখনো সহ্য করতে পারে না। এর প্রমাণ টা ইফা নিজে। ইফাকে দেখে রিহানের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আর ভীষণ রাগ ও হচ্ছে। হাতের কাছে যদি আজানকে পেতো তাহলে মাটির নিচে পুঁতে দিতো। রিহান ইফার রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে আসলো মেডিসিনের একটা ড্রয়ার আছে যেইখানে সব প্রকারের মেডিসিন রাখা। রিহান দ্রুত সেইখান থেকে খুব পাওয়ারের একটা ইনজেকশন নিয়ে গেলো। ইফার বাহুতে পুষ করলো।

চলবে,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্

 #তুই_আমার_মায়াবতী পর্বঃ-০৭ এলোমেলো শরীরে চাদর টা জড়িয়ে শুয়ে আছে ইফা চোখ দিয়া তার অঝোরে পানি পড়ছে। শরীরের ব্যাথা থেকে মন...
06/06/2026

#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০৭

এলোমেলো শরীরে চাদর টা জড়িয়ে শুয়ে আছে ইফা চোখ দিয়া তার অঝোরে পানি পড়ছে। শরীরের ব্যাথা থেকে মনের ব্যাথা টা অনেক। রিহান ইফাকে জাপ্টে ধরে শুয়ে আছে। হাতে তরল পানির স্পর্শে রিহানের ঘুম টা ভেঙ্গে গেলো। ইফাকে কাঁদতে দেখে ব্যাধীব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,,, ইফু পাখি কি হয়েছে কাঁদছো কেনো শরীরে কি খুব ব্যাথা।
ইফা কোন কথা জবাব না দিয়ে চুপচাপ আছে এই চুপচাপ টা রিহান মেনে নিতে পারছে না। ইফাকে তার দিকে ঘুরিয়ে গালটা চেপে ধরে বললো,, এই মেয়ে সমস্যা কি তোর হুম আমি যে তোকে প্রশ্ন করছি জবাব দিস না কেনো? আমার রাগ উঠাবি না।
আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। ঘৃণা লাগছে।
ও আমার সাথে তোর কথা বলতে ইচ্ছে করে না। আমাকে তোর ঘৃণা লাগে। কাকে ভালো লাগে তোর ওই আজান কে। আজ বুঝবি না কিন্তু একদিন ঠিকই বুঝবি আজান কত টা জঘন্য মানুষ। সেদিও তোকে আগলে রাখার জন্য এই রিহান তার বুক পেতে রাখবে।
ইফা কোন কথা না বলে জামা কাপড় ঠিক করে ফ্রেশ হতে গেলো। রিহান ইফার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাঃস ফেললো।
রিহান মেঝে থেকে শার্ট টা নিয়ে বিছানায় বসলো। ইফা কিছুক্ষণ পরে বের হলো। ইফা বের হতে রিহান ওয়াশরুম গেলো ফ্রেশ হতে।
রিহান ফ্রেশ হয়ে আসতেই ইফাকে বললো,, ব্যাগ টা নেও তুমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আমাকে আবার হসপিটালে যেতে হবে।
ইফা ব্যাগ টা নিলো রিহানের পিছু পিছু যাচ্ছে ইফা। বাড়ি টা লক করে ইফাকে নিয়ে রওনা দিলো বাসার উদ্দেশ্যে। ইফা গাড়ির জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে। রিহান এক পলক ইফার দিকে তাকিয়ে আবার গাড়ি চালাতে মন দিলো।

ইফাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে রিহান চলে গেলো। ইফা বাড়ির ভিতরে ঢুকে সোজা তার রুমে চলে গেলো। সবকিছু কেমন যেনো বিতৃষ্ণা লাগছে। কোন কিছুই ভালো লাগছে না। আলমারি খুলে একটা জামা বের করে ওয়াশরুম গেলো। লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে তারপর বের হয়ে সোজা শুয়ে পড়লো।
______________

হসপিটালের কেবিনে বসে রোগী দেখছিলো রিহান। ঠিক সময় দাঁত কেলাতে কেলাতে শুভ আসলো। রিহান শুভ কে দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে ফেললো। রিহান বুঝে না এদের কি কাজ কাম নাই যে শুধু ওর পিছনে পড়ে থাকে। রিহান পেপক্রিশ করতে করতে বলো,, শুভ ডোন্ট ডির্স্টাব মি,, এখন রোগী দেখছি তুই বস আমি রোগী দেখা শেষ করে পরে কথা বলবো।
শুভ বললো,,মাত্র তিন টা রোগী আছে। আমরা বসছি।
আমরা মানে সব ছাগলের বাচ্চা একসাথে আসছে না কি?
শুভ উপর নিচ মাথা নাড়ালো।
রিহানের সবকিছু বুঝা হয়ে গেছে।
শুভ আর তার বন্ধুরা ওয়েটিং রুমে বসে আছে। কখন রোগী দেখা শেষ হবে এই আসায়।
রিহান রোগী দেখা শেষ করে। ওয়েটিং রুমে গেলো দেখলো তার বন্ধু নামের হারামি গুলো বসে আছে।
আমি বুঝি না তোদের কি কাজ কাম নাই খালি আমার পিছুনে পরে আছিস।
রাইসা বললো,,, তোদের বিবাহিত জীবনের খবর নিতে এসেছি তা তোদের সবকিছু ঠিক ঠাক তো??
রিহান শ/য়/তা/নি মার্কা হাসি দিয়ে বললো অল গুড আজ দুপুরে বাসর টাও সেরে ফেলেছি। খুব শীঘ্রই তোরা চাচা - ফুফু ডাক শুনতে পাবি।
সবাই তো হা হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

চলবে,,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্,,

 #তুই_আমার_মায়াবতী পর্বঃ-০৬ ইফা কলেজের প্রতিটা আনাচে-কানাচে হন্ন হয়ে আজান কে খুঁজছে। আজানের একটা ফ্রেন্ডের সাথে দেখা হলে...
06/06/2026

#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০৬

ইফা কলেজের প্রতিটা আনাচে-কানাচে হন্ন হয়ে আজান কে খুঁজছে। আজানের একটা ফ্রেন্ডের সাথে দেখা হলে ইফা বললো,,, ভাইয়া আজান কে দেখেছেন ও কোথায়??
কেন বাবি আপনি কিছু জানেন না??
কি জানবো কি হয়েছে??
আজান তো হসপিটালে এডমিন ওকে কারা যেনো প্রচুর মা/র ধর করে ওদের বাড়ির সামনে রেখে গেছিলো। সকালে আজানের বাবা বাহিরে বের হওয়ার সময় দেখেন আজান গেটের সামনে পরে আছে। তারপর ওরে সবাই হসপিটাল এ নিয়ে যায়।
কোন হসপিটাল এ আমি যেতে চাই??
আমিও যাচ্ছি আসুন আমার সাথে।
ইফা আজানের বন্ধু সানির সাথে যাচ্ছে হসপিটালে।
সানির বাইক টা এসে থামলো হসপিটালে সানি বললো বাবি আপনি ভিতরে যান আমি গাড়ি টা পার্ক করে আসছি।
ইফা দ্রুত গতিতে হাটছে। ইফা রিসিপশন ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,, এক্সকিউজমি আপনি কি বলতে পারেন আজান নামে কোন পেসেন্ট ভর্তি হয়েছে কি না আজ সকালে??
একটু চ্যাক করে নি মেম বলে কম্পিউটার এ এডমিট লিস্ট টা দেখে বললো ইয়েস ম্যাম কেবিন নাম্বার -০১
থ্যাংকস বলে ইফা যেতে লাগলো। কবিন নাম্বার -০১ এ এসে ইফা থামলো তারপর দরজা টেলে ভিতরে ঢুকলো। গিয়ে দেখলো হাতে স্যালাইন লাগানো শুভ্র চাদরটা গা এ। কেবিনের ভিতরে থাকা সোফাতে আজানের মা-বাবা বসে আছেন। এরই মাঝে সানি চলে আসলো ইফাকে চোখের ইশারায় ভিতরে যেতে বললো। ইফা ভিতরে ঢুকলো সাথে সানি ও ঢুকলো। আজানের বাবা মা সানিকে দেখে বললো,, বাবা সানি তুমি এসেছো দেখো ছেলেটার কি হাল। আজানের মা সানির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইফার দিকে তাকিয়ে বললো,, বাবা এ কে একে তো ঠিক চিনলাম না।
আন্টি আমাদের সিনিয়র বাট আমাদের সাথে ভালো সম্পর্ক যখন শুনলো আজানের এই অবস্থা তখন সেও আমার সাথে দেখতে এলো।
আজানকে এই অবস্থায় দেখে ইফার খুব কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে ওর বুকে কেউ ধারালো অ/স্ত্র দিয়ে কেউ খন্ড খন্ড করছে।
ডাক্তার এর এপ্রোন পড়ে কেবিনে প্রবেশ করলো ডাক্তার। কিন্তু প্রবেশ করতেই রাগে ফেটে পড়ছে যখন দেখলো ইফা আজান কে দেখতে হসপিটালে দেখতে এসেছে। রিহান খুব ঠান্ডা গলায় বললো,, ইফা এইখানে কি তুমার কলেজ নাই?
ডক্টর অরণ্য আপনি ওকে চিনেন??
অবশ্যই চিনি ওনি আমার বিয়ে করা বউ কাল রাতে আমাদের বিয়ে হয়েছে।
তা ইফা বললে না তো তুমি এইখানে কি করো??
ঠিক এরই মাঝে আজান কেশে উঠলো। ইফা দৌড়ে আজানের কাছে গেলো আজানের হাত টা ধরে আজান বলে ডাক দিলো আজান একটু চেয়ে থেকে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ এর প্রভাব। রিহান তার হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে আছে।
রিহান লম্বা কদম ফেলে ইফার হাত টা শক্ত করে ধরে বললো চলো আমার সাথে বাসায়। সবাইকে উপেক্ষা করে রিহান হাত টা ধরে ইফাকে নিয়ে বের হয়ে সোজা পার্কিং এরিয়াতে এলো গাড়ির ডোর টা খুলে ইফাকে এক প্রকার ছুড়ে ফেললো তারপর খুব জোড়ে ডোর টা লাগিয়ে নিজেও উঠলো। খু্ব স্প্রিডে গাড়ি চালাছে। ইফা ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে আছে।
রিহান একটা অচেনা বাড়ির সামনে তার গাড়িটা থামালো। রিহান গাড়ি থেকে নেমে ইফাকেও টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। দরজার সামনে এসে রিহান তার পকেট থেকে চাবি বের করে চাবি দিয়ে ঘরের লক টা খুলে ইফার হাত ধরে ঘরের ভিতর ঢুকে খুব জোড়ে দরজাটা লাগিয়ে ইফাকে টেনে বেড রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানার উপর ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললো,, তোর কত নাগর লাগে হে বাড়িতে জামাই রেখে বাহিরে লাং নিয়ে ঘুরোস। তোরে আগেও বলেছি সব কিছু সহ্য হয় তোকে অন্য কারও পাশে সহ্য হয়না।
মানি না আপনাকে স্বামী হিসেবে মানিনা না আর কখনো মানবো ও না। আমি শুধু আজানের। রিহান তার এপ্রোন টা খুলে মেঝেতে ফেললো তারপর শার্ট টা খুলে ছুঁড়ে ফেললো মেঝে তে। ইফার কাছে গিয়ে ইফার চুলের মুঠি ধরে বললো,, কি আছে ওই আজানের মাঝে যা আমার মাঝে নেই।
চাই না আপনাকে আমি কেবল আজানের। আমার ডির্ভোস চাই ডির্ভোস দিন।
Sw দিমু তোরে। আমি রিহান ম/রা/র আগ পর্যন্ত তোরে লাগবো। এভরি ডে,, এভরি মর্নিং,, এভরি নাইট,, এভরি মোমেন্ট তোরে আমার লাগবো তোরে ডির্ভোস দিমু না তোর যা দরকার এখন তোরে তাই দিমু কথাটা বলে রিহান ইফার চুলের মুঠি টা আরেকটু টেনে ওর মুখটা উঁচু করে ওর ঠোঁটের সাথে ঠোঁট মিলেয়ে দিলো ইফা প্রচন্ড ছটপট করছে।

চলবে,,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্,,

 #তুই_আমার_মায়াবতী পর্বঃ-০৫ সকালে থেকে ইফা আজানকে কল করে যাচ্ছে তো যাচ্ছে বাট আজানের কোন প্রকার রেসপন্স পাচ্ছে না। ইফার ...
05/06/2026

#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০৫

সকালে থেকে ইফা আজানকে কল করে যাচ্ছে তো যাচ্ছে বাট আজানের কোন প্রকার রেসপন্স পাচ্ছে না। ইফার মেজাজ টা সপ্তম আকাশে উঠে আছে এর মধ্যে রিহান ইফার রুমে এসে দরজাতে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে নবাবি স্টাইলে দাঁড়িয়ে ইফার কর্ম কান্ড দেখছে।
রিহান আর্কষণ পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে খুঁক খুঁক করে কেঁশে উঠলো। হঠাৎ পুরুষালীর গলার স্বর পেয়ে কিছুটা থতমত হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো রিহান নবাবি ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। এইটা দেখেতো ইফার মেজাজ টা আরো বিগড়ে গেলো।
দীপ্ত ভাই আপনি আমার রুমের সামনে কি করেন??
রিহান আশেপাশে কিছু খুঁজার বান করলে বললো,,, এইখানে তুমার স্বামী দাঁড়িয়ে কোন ভাই-টাই না। দেখতে এলাম বউ কি করছে। বউ এর কি খেয়াল আছে তার স্বামী যে বাহিরে যাবে। কোথায় এই টা সেইটা এগিয়ে দিবে তানা প্রাক্তন কে নিয়ে পড়ে আছো। ইট'স নট ফেয়ার সুইটহার্ট।
বউ কিসের বউ আমি মানি না।
মানতে হবে।
আমি মানবো না।
Sw।
ছিহ্ মুখে কি ভাষা আপনার মুখটা এমন ন/ষ্ট কেনো?
২ মিনিটের মধ্যে তুমাকে আমার রুমে দেখতে চাই মাই লাভলি ওয়াইফ। যদি দুই মিনিট এর বেশি হয় তাহলে তুমার খবর আছে কথা টা বুঝে নিয়।
ইফা শেষ বারের মতো আজান কে কল করলো কিন্তু এইবার সুইচ অফ বললো।
ইফা গুটি গুটি পা এ রিহানের রুমে গেলো। রিহান ইফার হাত টেনে ইফাকে তার কোলে বসিয়ে তারপর বেডে শুয়ে পড়লো। রিহান ইফার উপরে আর বেচারি ইফা রিহানের নিচে চ্যাপ্টা হচ্ছে। ইফার নাকের সাথে রিহান তার নাক টা ঘষছে। ইফা চোখ দুটো খিঁচে বন্ধ করে আছে রিহানের শার্টের কলার টা খামচে ধরে আছে। রিহানের ঠোঁটের সাথে ইফার ঠোঁট একদম ছুঁই ছুঁই। ইফার বুক টা কেমন যেনো ঢিপঢিপ করছে। রিহান লো ভয়েস এ বললো,,, সুইটহার্ট তুমাকে খুব ভালোবাসি। #তুই_শুধু_আমার_মায়াবতী। তোকে অন্য কারোও সাথে দেখলে এই হৃদয় টা দহন হয়। এই দহন টা কেমন বুঝাই। আজকের পর থেকে আজানের সাথে দেখা করবা না।
ইফা চোখ বন্ধ করার অবস্থায় বললো বাট আই লাভ আ....আর বলতে পারলো তার আগে রিহানের নিকোটিনে পুড়ে যাওয়া অর্ধ কালো ওষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ করলো। ইফা রিহানের বুকে হাত আঘাত করছে ছেড়ে দেওয়ার জন্য রিহান ইফার হাত দুটো বিছানার সাথে চেপে ধরে আছে। মৌমাছি যেমন ফুল হতে মধু আরোহন করে ঠিক তেমনই রিহান ইফার ঠোঁট থেকে মধু আরোহন করছে। আধাঘন্টা পরে রিহান ইফাকে ছাড়লো। আর একবারও যেনো না শুনি তুমার মুখে ওর নাম। তুমার মুখে শুধু একজন পুরুষের ই নাম থাকবে সেইটা হলো রিহান অরণ্য ওরফে দীপ্ত। রিহান শুয়া থেকে উঠে ঠিক হয়ে ইফার দিকে তাকিয়ে বললো,, স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে এইসব কমন ব্যাপার। যত তারাতাড়ি পারো সহজ করে নেও। রিহান ওয়ালেট থেকে কিছু টাকা বের করে ইফার হাতে দিয়ে বললো,, শুনেছি বিবাহিত মেয়েদের নাক ফুটো করতে হয়। তুমি আজ একটা নাক ফুল কিনে পার্লারে গিয়ে নাক ফুটো করবে। আশা করছি দ্বিতীয় বার একই কথা রিপিট করতে হবে না। যাও ফ্রেশ হয়ে নিচে আসো সবাই ড্রাইনিং টেবিলে তুমার জন্য অপেক্ষা করছে।
ইফা চোখের পানি টুকু মুছে মাথা নিচু করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
ইফা ফ্রেশ হয়ে কাঁধে ব্যাগ টা নিয়ে নিচে নেমে সবার সাথে বসে খেতে বসলো।
মুখটা গুমরা দেখে মিসেস তানিয়া সুলতানা বললেন,,, কি রে মা কি হয়েছে মুখটা এমন কেনো??
কিছুনা খালামনি ঠিক আছি। একটু মাথা ব্যাথা।

চলবে,,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্

 #তুই_আমার_মায়াবতী পর্বঃ-০৪ মসজিদের ভিতরে বসে আছে রিহান ইফা আর ওর বন্ধু রা। ইফাকে বলছে কবুল বলতে ইফা কবুল বলবেই না। রিহা...
05/06/2026

#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০৪

মসজিদের ভিতরে বসে আছে রিহান ইফা আর ওর বন্ধু রা। ইফাকে বলছে কবুল বলতে ইফা কবুল বলবেই না।
রিহান ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,,, তুমি কবুল না বললে তুমার প্রানের আজান কে আমি গুম করে দিবো মেরি জান। এখন ইচ্ছে টা তোমার কবুল বলবে কি বলবে না শুভ।
হুম বল।
তোর বাবিকে একটু দেখাতো ভিডিও টা।
শুভ তার পকেট হতে ফোন টা বের করে ভিডিও টা অন করে ইফার সামনে ধরলো।
ভিডিও টা দেখার মাত্র ইফার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো। কারন ভিডিও তে দেখানো হচ্ছে আজান কে বেঁধে প্রচুর মা'র - ধোর করছে।
ইফা চোখ বন্ধ করে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে এক নিঃশ্বাস কবুল বলে ফেললো।
পাশের সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো।
রিহানের প্রতি ইফা তীব্র ঘৃণার চোখে তাকাছে।
রিহানের এইসব যায় আসে না। রিহান তো বেশ ফুরফুরা মেজাজে আছে। এমন ভাব যেনো কিছুই হয়নি। প্যান্ট এর পকেটে হাত গুঁজে মনের আনন্দে এলে দুলে হাটতে হাটতে শিষ বাজাছে।
ইফার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পরছে। হৃদয় টা ব্যাথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। এক পলক আজান কে দেখার ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু সেই উপায় নেই। তার স্বপ্ন তার ভালোবাসা সব র্বিসজন করতে হলো।
বাকি সবাই নিরব দর্শক। কারন ওরা জানে রিহান কতটা ড্রেসপারেট। ওরা যখন যেইটা চাই মানে চাই। প্রয়োজনে ছিনিয়ে নেয়। ইফার ক্ষেত্রে ও সেইটা হলো। কিন্তু ওরা বন্ধুদের ক্ষেত্রে বড্ড স্বার্থপর।
বেশ বিরক্ত নিয়ে ইফার দিকে তাকালো রিহান। ইফার দিকে তাকিয়ে বললো,, তুমার কি জামাই ম/র/ছে যে এইভাবে কান্না করছো
S/W।
এইটা শুনে পিছন থেকে ওর বন্ধু রা হাসিতে ফেটে পড়লো।
বেচারি ইফা নাক মুখ কুঁচকে ফেলে বললো,, ছি আস্তাগফিরুল্লা। দেখতে শুনতে তো ভালো,, শিক্ষিত পরিবারের মার্জিত ডাক্তার ছেলে তার মুখের ভাষার কি ছিড়ি আমার তো বমি চলে আসছে।
রাইসা এসে রিহানের কান টা মলে দিয়ে বললো অ/স/ভ্য ছেলে নতুন বউ এর সামনে তোর মুখ টা খারাপ করতে হলো। তুই এমন ক্যা।
আমি এমনই মন চাইলে আমার লগে থাক না হলে যা। আমি বউ নিয়া বাড়ি ফিরমু।
শুভ অসহায় দৃষ্টিতে রাইসার দিকে তাকিয়ে বললো,,, ওরে বলে লাভ নাই ও এই রকম ই। ও কোন দিন ও ঠিক হবে না উল্টো আমাদের কেই প্যারা মধ্যে রাখবে।
ইফা পাশে টিউবওয়েল দেখে সেইখানে গেলো। রিহান আর ওরা দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো। হঠাৎ টিউবওয়েল চাপার শব্দে ওরা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে ইফা টিউবওয়েল চেপে পানি দিয়ে হাত মুখ ধুচ্ছে।
রিহান ইফার সামনে গিয়ে বললো,, বউ আমি চাপছি তুমি মুখ ধোয়।
আমার থেকে দূরে থাকুন। আপনার কথা শুনার রুচি নাই।
পিছন থেকে রাইসা বললো,, নে হলো তো। এইটাই ভাবছিলাম। তোর ১৬ কলা পূর্ণ হলো।
শুভ দাঁত কেলিয়ে বললো,,, ওসব কোন ব্যাপার না রিহান ঠিক ম্যানেজ করে নিবে।
রিহান ফের বললো চুপ থাক খ/বি/শ এর দল।
ফের এক চোট হাসির রুল।
ইফা বুঝতে পারলো সব পা/গ/লে/র মধ্যে ইফা পড়েছে।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিতে দিতে ওদের প্রায় তিন টা বেজে গেছে। রিহান ড্রাইভার কে বললো,,,খুব স্প্রিডে গাড়ি চালাতে বেশি রাত হওয়ায়। রাস্তা ঘাটে কোন জামের প্যারা নাই।
রিহান একটু ইফার দিকে চেপে বসতেই ইফা বললো,, আমার থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। এই বিয়ে আমি মানি না।
তোমার মানতে হবে না আমি রিহান মানলেই হলো।
আপনি কি মানুষ আপনি বুঝতে পারেন না আমি আজান কে ভালোবাসি।
ভালোবাসা অপাত্রে দান না করে পাত্রে তো দান করতে পারো। ও ভালো না তোমাকে ঠকাবে।
আপনি বুঝি খুব ভালো।
রিহান তার শার্টের কলার টা একটু উপরে তুলে নিয়ে ভাব নিয়ে বললো,, অবশ্যই আমি ভালো। কিন্তু নিজের ঢোল নিজে পিটাই না এই আর কি..?
জঘন্য।
তোমার জন্য।
গাড়িটা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই ইফা নেমে ঘট ঘট করে হেটে ভিতরে ঢুকে গেলো।
রিহান ড্রাইভার কে বললো,, কাসেম আজকের বিষয় টা যেনো কেউ কিছু না জানে হাতে বেশ কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে সে ভিতরে চলে গেলো।
ইফার রুমের কাছে এসে দেখলো ইফার রুমের দরজা ভিতর থেকে লক করা।
তাই সে আর নক করলো না এইটা ভেবে যে থাকুক ও কিছুক্ষণ ওর মতো।

চলবে,,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্,,

 #তুই_আমার_মায়াবতী পর্বঃ-০৩ সন্ধ্যায় ইফা পড়ছিলো ঠিক সেই সময় রিহান রেগে মেগে বাসায় এসে কারও সাথে কথা না বলে ইফার রুমে ঢুক...
04/06/2026

#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০৩

সন্ধ্যায় ইফা পড়ছিলো ঠিক সেই সময় রিহান রেগে মেগে বাসায় এসে কারও সাথে কথা না বলে ইফার রুমে ঢুকে দরজা টা লক করে দিয়ে ইফার চুলের মুঠি ধরে টেনে দাঁড় করালো। ঘটনা গুলো এতো দ্রুত ঘটলো যে ইফা কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর নিজেকে একটু ধাতস্থ করে বললো,,, দীপ্ত ভাই আপনি কি পা/গ/ল হয়ে গেছেন এইসব কি করছেন টা কি আমার তো লাগছে।
লাগুক। লাগার জন্য ই ধরেছি। তোর কি মনে হয় আমি তোর বিষয়ে কোন খবর রাখি না যথেষ্ট খবর রাখি। আজ আবার তুই ওই ছেলেটার সাথে ঘুরতে গিয়েছিস। কলেজে উঠতে না উঠতে লাং জুগিয়ে ফেলেছিস।
বেশ করেছি। আপনার কি?
আমারই অনেককিছু। তুই সম্পূর্ণ টা আমার।
আমার প্রতি আপনার কোন দিন কোন কালে কোন অধিকার নেই আর না ছিলো। আমি আজান কে ভালোবাসি।
রিহান ইফার চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বললো ভালোবাসি। ভালোবাসার মানে বুঝিস। ও তোকে ভালোবাসে না ও তোকে ঠকাবে তখন বুঝবি। আর কি বললি অধিকার?? হাসালি তোর প্রতি অধিকার কেবল আমার। জাস্ট ওয়েট করো জান। #তুই_আমার_মায়াবতী যাকে ছোঁয়ে দেখার তীব্র ইচ্ছে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। কেন বুঝো না ইফা এই হৃদয়ে তুমার রাজত্ব। তুমি হীনা আমার হৃদয় টা মরুভূমির মতো।
প্লিজ জান এমন করিস না। এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো রিহানের চোখ থেকে। রিহান ইফাকে ছেড়ে দিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বের হয়ে যায়।
ইফা এতোক্ষণে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
রিহান তার রুমে এসে একের পর এক পানঞ্জ মা/র/ছে দেয়ালে। হাত ফেটে র/ক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। সেই দিকে তার কোন খেয়াল নেই। রাগে বশত নিজের চুল নিজেই টেনে ধরেছে।
কি থেকে কি করবে শুধু সেইটাই ভাবছে। ঘন ঘন শ্বাঃস নিচ্ছে অর্থাৎ রাগ কমানোর চেষ্টা বেশ কিছুক্ষণ এইভাবেই বসে রইলো। তারপর হাতে মেডিসিন লাগিয়ে নিলো। ফোনটা নিয়ে বেশ কিছু একটা করে বিছানার উপর রেখে দিয়ে জামাকাপড় নিয়ে শাওয়ারের গেলো। লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে
তারপর বের হয়ে ল্যাপটপে কাজ করছিলো। কাজ করা শেষ করে। কিছু ফাইল দেখছে। ফাইল দেখা শেষ পর্যায়ে নিচ থেকে খাবার জন্য ডাক দিলো। রিহান খুব ফুরফুরে মেজাজে নিচে নামালো। রিহানের ফুরফুরে মেজাজ দেখে ইফা তো পুরো অবাক। একটু আগে তো ছিলো পুরোই হাইটেম্পারেচর আর এখন এমন কোল্ড কফির কোল্ড। বিষয় ইফার হজম হলো না। তারপরের ইফা বেশি ঘাটলো না খাওয়ায় মন দিলো। ইফা সবসময় ই ধীরস প্রকৃতির মেয়ে। খাওয়া দাওয়া আস্তে আস্তে করে। রিহানের খাওয়া শেষ পর্যায়ে আর ইফা তখনও খাচ্ছে। হুজাইফ সবে মাত্র আসলো। চেয়ার টেনে বসে পড়লো। রিহান এক পলক হুজাইফ এর দিকে তাকিয়ে বললো,, কি রে আজ কাল লেখা পড়া কেমন চলছে??
এইতো ভাইয়া ভালো।
হুজাইফ।
জ্বী ভাইয়া।
কাল থেকে তুই দুই বেলা রুটি খাবি।
কেনো..?
নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ। তোর পেটের ভুঁড়ি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। যেনো পুরো নয় মাসের পেট। একজন ডাক্তারের ভাই হয়ে তোর যদি এই অবস্থা হয়। তাহলে আর মানুষের কি হবে?? তোকে কাল আমি জিম সেন্টার এ নিয়ে যাবো। ভর্তি করে দিবো রেগুলার জিম করবি।
হুজাইফ মুখটা কাচুমাচু করে বলে ঠিক আছে।
ইফা তো কোনরকম হাসি টা আটকে রেখেছে অর্ধেক খেয়ে বললো,, খালামনি আর খেতে ইচ্ছে করছে না আমি রুমে যাই বলে ইফা হাত টা ধুয়ে দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজাটা লক দিয়ে এলোপাতাড়ি হেসে যাচ্ছে। হাসি যেনো থামছেই না।
অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানা গুঁছিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো ইফা।
রাত যখন গভীর। সবাই যখন গভীর ঘুমে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় রিহান তার ড্রয়ার খুলে চাবি বের করলো। তারপর সে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। ইফার রুমের সামনে এসে চাবি দিয়ে দরজার লকটা খুলে পা টিপে টিপে ইফার রুমে ঢুকে ইফাকে ঘুমন্ত অবস্থায় কোলে নিয়ে বের হয়ে গেলো বাসা থেকে। গাড়ির সামনে এসে ড্রাইভার কে বললো ডোর টা খুলে দিতে ড্রাইভার টা ও ডোর খুলে দিলো। রিহান ইফাকে কোলে নিয়ে গাড়িতে বসলো। ড্রাইভার কে বললো খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে ড্রাইভার ও খুব সাবধানে গাড়ি চালাছে।
গাড়ি যখন মাঝপথে তখন ইফার ঘুম টা ভেঙ্গে যায়। নিজেকে গাড়িতে আর রিহানের কোলে দেখে ৪৪০ ভোল্টেজ শকট খায়।
যখন ইফা খুব জোড়ে চিল্লাতে যাবে তখন রিহান ইফার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বললো,, ডোন্ট শাওট সুইটহার্ট। একদম চুপচাপ থাকো যদি এক ফোঁটাও টেপু শুনি তাহলে খবর করে ছাড়বো।
ইফা তার ডাগর ডাগর নয়ন দিয়ে রিহানের পানে তাকিয়ে ছিলো,, রিহান ইফার কানে শ্লো ভয়েজ বললো বিলিভ মি বেবি তুমি যখন এইভাবে তাকাও তখন আমার হৃদয়ে কোনে ভূমিকম্প শুরু।
গাড়িটি পৌঁছে গেলো তার গন্তব্যে। রিহান ইফাকে নিয়ে গাড়ি থেকে নামতে ই দেখলো রিহান এর বন্ধু শুভ আহামেদ,, রাইসা রহমান,,রিজু ইসলাম,,আদিয়াত ইসলাম,, কেয়া মূর্খাজী ওরা সবাই দাঁড়িয়ে আছে। ইফা বেশ অবাক হলো। এই মাঝ রাতে এদের সবাই কে দেখে। ইফা কিছু বলবে তার আগে রিহান বললো ভিতরে চলো জানতেই পারবে।
একটা পুরনো মসজিদের সামনে এসে সকলে দাঁড়ালো। ইফার তো এইবার রাগ হচ্ছে। এই রাত দুপুরে আমাকে ঘুম থেকে তুলে এইখানে নিয়ে এসে ভূত ধরাতে এসেছেন।
আজব ভূত ধরাবো কেনো। তুমাকে বিয়ে করবো।
এই শব্দটা যেনো ইফার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।

চলবে,,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্

 #তুই_আমার_মায়াবতী পর্বঃ-০২ কলেজের ড্রেস পড়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে ড্রাইনিং টেবিলের সামনে এসে চেয়ার টা টেনে বসে পড়লো। রুটি আর ...
04/06/2026

#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০২

কলেজের ড্রেস পড়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে ড্রাইনিং টেবিলের সামনে এসে চেয়ার টা টেনে বসে পড়লো। রুটি আর ডিম সিদ্ধ নিয়ে খাওয়া শুরু করলো। অল্প একটু জুস খেয়ে কাঁধে ব্যাগ টা ঝুলিয়ে বাসা থেকে বের হতে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় রিহান বললো,,, ইফা একটু দাঁড়াও আমার খাওয়া অল মোস্ট কমপ্লিট আমি তোমাকে ড্রব করে দিবো।
আমার দেরি হয়ে যাবে।
আই থিংক দুই মিনিট দাঁড়ালে খুব একটা দেরি হবে।
ভোঁতা মুখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ওকে এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে,, রিহান মনে মনে একটু হাসলো। খাওয়া টা শেষ করে পানি টুকু খেয়ে নিজের গাড়ির চাবি টা নিয়ে রিহান সকলের সামনে ইফার হাত ধরে বাড়ির থেকে বের হয়ে গাড়ির কাছে আসলো।
রিহান এর মা তানিয়া সুলতানা। হা হয়ে গেলেন। আর হুজাইফ তো রুটিতে একটা বাইট দিয়ে রুটি চিবুতেই ভুলে গেছে। পানি দিয়ে মুখে থাকার রুটি টা গিলে নিয়ে বললো,,, মা তুমার বড় ছেলের মনে কি ইফার জন্য কোন ফিলিংস জন্মিয়েছে।
বলতে পারি না যদি ও বা জন্মায় তাতে ক্ষতি কি আমার বোনের মেয়ে টা আমার কাছে ই থাকবে।
মনে মনে ঢুক গিললো হুজাইফ। ইফার সাথে হতে পারে ওর এতো টা ফ্রি নয় বাট ইফার খুঁজ খবর সে রাখে। ইফা যে তার ই কলেজের সিনিয়র ভাই এর প্রেমে পড়েছে। মাঝে মাঝে তার সাথে ঘুরতে যায়। এখন কি হবে??
মা তানিয়ার সুলতানার ডাকে হুজাইফ এর ধ্যান ভাঙ্গে। কি রে বসে আছিস কেনো খেয়ে ভার্সিটিতে যাবি না।
হুজাইফ একটা ক্যাবলাকান্ত হাসি দিয়ে বললো,, এই তো মা খাওয়া শেষ। আমি এখনি যাচ্ছি।
হুম সাবধানে যাস বাবা।
হুজাইফ বাসা থেকে বের হয়ে গেলো।
________

গাড়ি টা থামলো ইফার কলেজের সামনে। ইফা বের হয়ে যেতে নিলে রিহান খপ করে ইফার হাত টা ধরে নেয়। ইফা পাশ ফিরে তাকিয়ে বলে কিছু বলবেন,,, দীপ্ত ভাইয়া।
সবাধানে থাকবে। কোন দরকার হলে কল করবে। আর হে কোন ছেলে দের আশে পাশে ও থাকবে না। কথা টা যেনো মেনে থাকে।
আমি রিহান আমার কানে যদি আসে তুমি অন্য কোন ছেলের আশেপাশে গেছো। তাহলে মনে রেখো,, আমার খারাপ রুপ টা তুমার জন্য বরাদ্দ থাকবে। আন্ডারস্ট্যান্ড। যাও জান।
হাত টা ছাড়া পেতে ইফা গাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। রিহানের এইসব আদিখ্যেতা সহ্য হয়। সব বিরক্তি ঢেলে গেট দিয়ে ঢুকতে ই দেখতে পেলো তার শখের পুরুষের দেখা। যাকে এক দেখাতে মনে কোনে বয়ে যায় প্রশান্তি হাওয়া।
যার কাছে গেলে মিলে মানসিক প্রশান্তি সেই মানুষ টি প্রচন্ড রোদে বারবার কপাল টা কুঁচকে ফেলছে। আর বন্ধুদের সাথে হেসে কথা বলছে। হাসলে পাশের গজ দাঁত টা বের হয়ে আসে। মুখ ভর্তি চাপা দাঁড়ি। হাত এ ঘড়ি। গায়ের রং শ্যামলা। পরনে কালো রং এর পাঞ্জাবি। হাতা টা গোটানো। ইফা মুচকি হেসে সামনে এগিয়ে যেতে নিলেই।
আজানের পাশে দাঁড়নো তার বন্ধু সিয়াম বললো,,,, আজান ইফা আসছে।
আজান ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দিলো আসুক।
ইফা আজানের পাঞ্জাবির কোনা ধরে টেনে বললো,,, কি করছো??
আজান পাশ ফিরে তাকিয়ে বললো,, কিছুনা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
ওহ্। আজ একটু ফ্রি আছো??
কেনো??
আজ একটু ঘুরতে যাবো। প্লিজ না করবা না।
বেশ তো যাবো আমি কখনো তুমার মুখের উপর না করেছি। তুমার না এখন ক্লাস আছে। ফার্স্ট ক্লাস টা এটেন্ট করো। আমি কিছু কাজ করে নি। আমি ঠিক এই জায়গাতে দাঁড়িয়ে থাকবো তুমিও ঠিক এই জায়গাতে এসে আমাকে পাবে।
ইফা মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো।
সিয়াম বললো,, আজান ইফাকে নিয়ে তোর চিন্তা ভাবনা কি??
কিসের চিন্তা ভাবনা??
না মানে তোদের ভবিষ্যৎ কি??
কোন ভবিষ্যৎ নেই।
তাহলে..?
তাহলে কিছুই না। কাজ সেরে আসি তারপর ওকে নিয়ে বের হতে হবে বলে আজান চলে গেলো। যেতে আজান ডেভিল মার্কা একটা হাসি দিলো।

চলবে,,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্,,,
আমি একটু অসুস্থ তাই ছোট করে দিয়েছি।

রাত যখন গভীর তখন ইফা ছাঁদে দাঁড়িয়ে এক মনে তাকিয়ে আছে আকাশ পানে। ঠিক তখন ই পিছন থেকে একটা পুরুষালির কণ্ঠে স্বর ভেসে আসে,,...
04/06/2026

রাত যখন গভীর তখন ইফা ছাঁদে দাঁড়িয়ে এক মনে তাকিয়ে আছে আকাশ পানে। ঠিক তখন ই পিছন থেকে একটা পুরুষালির কণ্ঠে স্বর ভেসে আসে,, এতো রাতে ছাঁদে কি করো??
ইফা ভীত-সন্ত্রস্ত নয়নে তাকায় সেই পুরুষ টার পানে। এই নি মোট পাঁচবার দেখা হয়েছে এই লোকটির সাথে তেমন একটা কথা ও বলা হয় না। তবুও এই লোকটা কে দেখে ভয়ে ইফার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠে। ইফা ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বললো,,, আসলে ঘুম আসছিলো না তাই ছাঁদে এসেছি।
আর কখনো যেনো না দেখি এতো রাতে ছাঁদে আসতে।
ইফা মাথা টা নাড়ায়।
রিহান অরণ্য ইফার দিকে তাকিয়ে বলে,,, ওইদিন তুমার সাথে একটা ছেলে দেখেছিলাম ছেলেটি কে???
আমার বন্ধু।
শুধু বন্ধু না কি বিশেষ বন্ধু??
ক্ষানিকটা এইরকম।
এই মেয়ে একটা চ/ড় দিয়ে তোমার সব কয়টা দাঁত ফেলে দিবো। এই বয়সে আমার বিশেষ বন্ধু।
রিহানের ধমকে ইফার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো।
জোড়ে জোড়ে শ্বাঃস টেনে রিহান নিজের রাগ টা কমাতে চেয়েছিলো কিন্তু পাড়ে নি।
রিহান কয়েক কদম এগিয়ে এসে দুইজনের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে ইফার দুই বাহু দুটো শক্ত করে ধরে দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলতে লাগলো,,, তুই আমার মায়াবতী আছিস আমার মায়াবতী ই থাক অন্য কারও হওয়ার চেষ্টা করলে এই রিহান অরণ্য অরফে দীপ্তের খারাপ রূপটা দেখবি কথা দিলাম। যাও এইবার ছাঁদ থেকে নামো আমি ছাঁদ টা লক করবো।
আশ্চর্য নয়নে ইফা রিহানের দিকে তাকিয়ে আছে।
রিহান ইফাকে দেখে বললো,, আমি জানি আমি হ্যান্ডসাম,,, চকলেট বয় তাই বলে এই ভাবে তাকিয়ে থাকবে। নজর লেগে যাবে তো জান।
ইফা যেনো এইবার সপ্তম আকাশ থেকে পড়েছে। ইফা কোন কথা না বলে চুপচাপ হনহনিয়ে ছাঁদ থেকে নেমে যেতে লাগলো।
রিহান ইফার যাওয়ার পানে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়িয়ে হাসে। ততক্ষণ তাকিয়ে থাকে যতক্ষণ না ইফাকে দেখা যায় ইফা চোখের আড়াল হলে রিহান ছাঁদের দরজা টা লক করে চলে আসে।
ইফা রুমে এসে দরজা টা লক করে দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। ইফা এইবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। ওর মা-বাবা থাকে গ্রামের বাড়িতে। লেখাপড়ার করার জন্য শহরে তার খালার বাসায় আসে। একবছর ভালোই ছিলো রিহান যখন ছিলো না। এই বছর মালদ্বীপ থেকে রিহান দেশে ফিরলো। রিহান একজন ডাক্তার। রিহান রা দুই ভাই। রিহান ই বড়ো আর ছোট ভাই এর নাম হুজাইফ ইসলাম বাবু। সে এইবার অর্নাসে পড়ে। এইসব হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে ইফা ঘুমিয়ে যায়।

গল্পের নামঃ #তুই_আমার_মায়াবতী
সূচনা পর্ব

এই শাড়ি টা ফ্রি গিফট পেতে ,এই পোস্টে লাভ রিয়েক্ট দিন ,লটারির মাধ্যমে যে কোনো ৫ জন কে গিফট দিবো.
03/06/2026

এই শাড়ি টা ফ্রি গিফট পেতে ,এই পোস্টে লাভ রিয়েক্ট দিন ,লটারির মাধ্যমে যে কোনো ৫ জন কে গিফট দিবো.

ডার্ক_সাইড,  #শেষপর্ব..ঈশিকার সাথে রাতে আর কথা হয়নি, আমি ফোন করিনি, ঈশিকাও ফোন করেনি। রাতটা কেমন ছটফট করতে করতে কেটে গেল...
01/06/2026

ডার্ক_সাইড,
#শেষপর্ব..
ঈশিকার সাথে রাতে আর কথা হয়নি, আমি ফোন করিনি, ঈশিকাও ফোন করেনি। রাতটা কেমন ছটফট করতে করতে কেটে গেল। সকালবেলা বাবা বললেন, আমাকে চট্টগ্রাম যেতে হবে।
চট্টগ্রামে আমার এক দুসম্পর্কের খালার বাড়ি। তার বড় ছেলের বিয়ে। বাবা যেতে পারছেন না, মা'র সাথে তাই আমাকে যেতে হবে।
বিকেলবেলা ঈশিকাকে ফোন করে চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার কথা জানালাম। মাত্র দু'তিনদিনের ব্যাপার অথচ মনটা বেজায় খারাপ হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই শহর ছেড়ে চিরতরেই বুঝি চলে যাচ্ছি। ঈশিকার সাথে আর কোনদিন দেখা হবে না।
রাতের গাড়িতে মাকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করলাম।
পরের দিন ঈশিকার দুপুরবেলা ঈশিকা ফোন করে জিজ্ঞাসা করলো, পৌঁছেছো?
আমি বললাম, হ্যাঁ ফজর ওয়াক্তে এসেছি।
ঈশিকা মন খারাপ করে বলল, জানালে না তো।
--ভাবলাম ঘুমিয়ে আছো, সেজন্য ফোন করিনি।
--ম্যাসেজ তো দিতে পারতে, সে যাই হোক ফিরবে কবে?
--কাল পরশু।
--তাড়াতাড়ি ফিরে এসো, ভালো লাগছে না আমার।
--কি হয়েছে?
--জানি না, কেমন যেন লাগছে।
বিকেলবেলা, রাতে ঈশিকা বেশ কয়েকবার ফোন করে ভালো না লাগার কথা বলল, দ্রুত ঢাকায় ফেরার কথা জানিয়ে বলল, আমাকে তার দেখতে খুব ইচ্ছা করছে।
ঈশিকার জন্য মনটা আমারও কাঁদছে, কেমন একটা মায়া যেন জন্মে গিয়েছে, দুটো দিনের তর সইছে না।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে শহরে ফিরে আসলাম। শহরে ফিরে এসে প্রথমেই ঈশিকার সাথে দেখা করেছি। সারাটাদিন ঈশিকার সাথে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে লম্বা একটা ঘুম দিয়েছি, গভীর রাতে হঠাৎই ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। ঈশিকার ফোন, ফোন ধরতেই ঈশিকা বলল, "কাল বিকেলে একটু দেখা করবে?"
আমি সম্মতি জানিয়ে ফোন রাখলাম।
দুপুরবেলা ঈশিকা ফোন করে বলল, তোমার একটা মেরুন রঙের টি-শার্ট আছে না? ওটা পরে এসো।
আমি টি-শার্ট পরে রওনা করলাম।
নিউ ইস্কাটন রোডের একটা ক্যাফেটেরিয়াতে ঈশিকার সাথে দেখা করার কথা। ক্যাফেটেরিয়াতে পৌঁছে দেখি, ঈশিকাও মেরুন রঙের সালোয়ার কামিজ পরে এসেছে। ক্যাফেটেরিয়াতে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে আমরা চলে গেলাম বসুন্ধরা সিটিতে। সিনেপ্লেক্সে নতুন একটা মুভি চলছে। ঈশিকা বলল, মুভি দেখবে। আমারও বেশ ইচ্ছা করছিল।
মুভি দেখে বাড়ি ফিরে লম্বা সময় ঈশিকার সাথে ফোনে কথা হলো। মা বেশ কয়বার রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডেকেছে। খাওয়ার চেয়ে কথা বলাটা আমার কাছে মুখ্য বিষয় মনে হচ্ছিল। মা ঘরের দরজা ধাক্কাছিল কেন যেন হঠাৎ মেজাজটা চড়ে গেল, আমি অনেকটা চেঁচিয়ে বললাম, খাবো না, যাও তো।
আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক দিনকে দিন গভীর হতে হতে এক পর্যায়ে এতোটাই গভীর হয়েছিল যে তার মুখ দেখলে আমি বলে দিতে পারতাম সে ঠিক কোন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। ঈশিকাও এই দিক থেকে পিছিয়ে ছিলো না। একজন আরেকজনকে বুঝবার গভীর একটা প্রয়াস আমাদের মাঝে ছিল। দিনান্তে ঈশিকার প্রণয়ের ঝড় আমার উপরে এসে থেমেছে। আমি সাড়া দিতে চাইনি, কোনভাবেই না। জীবনে একবার বড় ধরনের কষ্ট পেলে মানুষের বেশ শিক্ষা হয়। অতি সূক্ষ্ম একটা শিক্ষা আমার ছোটবেলার বন্ধু রিতু আমাকে দিয়ে গেছে। আমি নতুনরুপে আর কোন প্রণয় ঘটিত শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করতে চাই না।
নারী আসক্তি থেকে কোন পুরুষই বা মুক্ত? মেডিকেল সাইন্স বলে, যেই পুরুষের নারীর প্রতি আগ্রহ নেই তার শারীরিক সমস্যা রয়েছে। আমার কোন শারীরিক সমস্যা নেই। ঈশিকার সাথে নিয়মিত দেখা হয়, সে আমার গা ঘেঁষে বসে, আবেদন ছড়ায়, ভালোবাসার কথা বলে। নিয়মিত যত্ন নেয়, দূরে কোথাও গেলে দ্রুত ফিরবার তাড়া দেয়, না ফিরলে জেদ চেপে বসে।
এমনিভাবে ঈশিকা কখন, কবে, কিভাবে আমার মন দখল করে নিলো আমি হলফ করে বলতে পারি না। ঈশিকা যেন আমারই অস্তিত্বের একটা অংশ হয়ে গেছে, তাকে ছাড়া ভাল লাগে না।
আমরা একসাথে রিকশায় ঘুরে বেড়াই, বৃষ্টিতে ভিজি, হাঁটি পথে পথে—মাঝে মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। দু একদিন যোগাযোগের ইস্তফা ঘটলে তার কান্নামিশ্রিত কন্ঠ, আমার প্রেমাসিক্ত হৃদয়, ফের দেখা হয়, ফের গোটা রাত্রি মুঠোফনে কথা হয়, ফের একদিন ঝগড়া হয়।
এভাবে দিন কাটতে কাটতে আমাদের সম্পর্ক যখন পুরোদমে এগিয়ে চলেছে এক পড়ন্ত বিকেলবেলা ঈশিকা আমাকে ফোন করে বলল, তার বিয়ে ঠিক। আমি হাসতে হাসতে বললাম, “ইয়ারকি করো না তো।”
ঈশিকা কান্নামিশ্রিতকণ্ঠে বলল,
--অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম কথাটা তোমাকে বলবো, কিন্তু কিভাবে বলবো বুঝতে পারছিলাম না।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
--তাহলে এতোদিন যা করলে এসব কি ছিল?”
--জানি না। তবে এমনটা মনে করো না, আমি তোমায় ভালোবাসি না। তোমার সাথে আমার সম্পর্কটা অন্যরকম। এতোদিন যেমন ছিলে সবসময় এমনিভাবে পাশে থেকো।
তখনও গোটা বিষয়টাই আমার কাছে ইয়ারকি বলে মনে হচ্ছিল কিন্তু সপ্তাহখানেক পর আনুষ্ঠানিকভাবে যখন ঈশিকা তার হবু বরের সাথে সামনা-সামনি আমার পরিচয় করিয়ে দিল, তখন আর বিশ্বাস না করে উপায় কী?
রিক্ত হৃদয়ে বাড়ি ফিরে এসে ঠিক করলাম, জীবনে আর কখনো ঈশিকার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করবো না, শুধু ঈশিকা নয় এই পৃথিবীর কোন নারীর সাথেই কখনো যোগাযোগ করবো না।
রিতুর পর ঈশিকা আমার দ্বিতীয় ডার্ক সাইডে পরিণত হলো। রাতগুলো বেমালুম স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। একদিকে রিতু অন্যদিকে ঈশিকা, দুজনের মধ্যকার স্মৃতিগুলো একটুকুও ধুসর হয়ে যায় না, চোখের সামনে রুপোলী পর্দায় সর্বক্ষণ ভেসে বেড়ায়। জীবনটা তীব্র বিষাদময় হয়ে গিয়েছে, কিছুই আর ভালো লাগে না। মা প্রায়শই জিজ্ঞাসা করে, “তোর কি হয়েছেরে? এমন মনমরা হয়ে থাকিস কেন?” আমি প্রতিউত্তরে কিছুই বলতে পারি না।
ঈশিকা মাঝে মাঝে ফোন করে, আমার কথা বলতে ইচ্ছা করে না, ফোন ধরি না। সে লাগাতার ফোন করতে থাকে, কান্নামিশ্রিত গলায় অডিও রেকর্ড করে পাঠায়, ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে।
ঈশিকার ফোন ধরলেই সে কান্নাকাটি করে তার পাশে থাকবার কথা বলে, আমি ফোন রেখে দিয়ে হাসি। আমার বুঝি হৃদয় নেই, আমি বুঝি মানুষ নই, আমার বুঝি জীবন নেই।
মাস দুয়েক কেটে গেছে, ঈশিকার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ নেই। সে যোগাযোগ করবার চেষ্টা মাঝে মধ্যে করে। আমি এমন কেন করছি সেই কথা লিখে পাঠায়, আমি প্রতিত্তোরে কিছু বলি না। প্রশ্ন আমারও অসংখ্য, সেসব গাছেদের জন্য, রাতের আকাশের জন্য। ওরা চুপচাপ আমার কথা শোনে, সবসময় পাশে থাকে, কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেয় না, কখনো সঙ্গ কামনা করে না, অথচ আমি চাইলেই সঙ্গ দেয়।
ছাদে বেশকিছু নতুন গাছ লাগিয়েছি, ঘরে বনসাই করার চেষ্টায় মত্ত হয়েছি। মা আর আমি মিলে প্রতিদিন ছাদে গিয়ে গাছের পরিচর্যা করি।
মাঝে মাঝে রাতে আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকি। বৃষ্টি এলে ভিজি। অতীতের স্মৃতি থেকে মুক্তি আমার কোনকিছুতেই মিলছে না, হয়তো কখনো মিলবে না। স্মৃতি মুছে ফেলবার কোন পন্থা আজও আবিস্কার হয়নি। হয়তো কোন একদিন হবে, বিষাদময় স্মৃতিগুলো মুছে ফেলা যাবে। তখন অসংখ্য মানুষ এসব বিষাদময় দিন-রাত্রি থেকে মুক্তি পাবে। জীবনে অসংখ্য মানুষ আসবে কারও প্রস্থান কষ্টের হলেই ঘ্যাচাং করে তার সাথেকার সব স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে। এখনও যেহেতু এমন কোন উপায় বের হয়নি সেহেতু আমাকে এইসব দিন-রাতগুলো নিয়েই থাকতে হবে। মন বড্ড খারাপ করলে ছাদে যাব, আকাশের তারাদের সাথে, চাঁদের সাথে, গাছেদের সাথে গল্প করবো। ঘুরে বেড়াবো পৃথিবীর এপার থেকে ওপারে তবুও নতুন করে কারও সঙ্গ আমি কামনা করবো না। অথবা কোন একদিন আবারো কেউ আমার তৃতীয় ডার্ক সাইডে পরিণত হবে। আজ রাতের মতো সেদিনও আমার হৃদয় থেকে লক্ষ-কোটি তারাদের দিকে তাকিয়ে উত্থিত হবে,

আমার দিবস রাত্রি কাটে, ব্যথাতুর অশান্ত এক হৃদয় নিয়ে
তার আবির্ভাব আমার মোহগ্রস্থ হৃদয়ে জন্ম দিয়েছে একটা আকাশ,
আকাশ জুড়ে জ্বলজ্বল করে মিটিমিটি তারা,
গোটা মস্তিষ্ক জুড়ে কেবল অলীক স্মৃতিদের ছুটোছুটি,
আমি অপেক্ষা করে রই...
দীর্ঘ রজনীর আকাশভরা তারার নিচে দাঁড়িয়ে থাকি,
বহুদিনের জমে থাকা চুপকথারা হৃদয় নিংড়ে বেরিয়ে আসে,
"আমার আকাশভরা তারার মাঝে তোমরা দুটি দুঃখতারা।"..
সমাপ্ত।

Address

Narsingdi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rubel posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share