06/06/2026
#তুই_আমার_মায়াবতী
পর্বঃ-০৮
রাতে রিহান বাড়ি ফিরলো। সারাদিনের কাজের চাপে রিহান খুব ক্লান্ত। রুমে যাওয়ার আগে একটু ইফার রুমে উঁকি দিয়ে দেখতে এসেছিলো ইফা কি করে কিন্তু আপসোস ইফা দরজা টা লক করে রেখেছে।
ক্লান্তি দেহ টা কে টেনেটুনে নিজের রুম পর্যন্ত এসে সোফার উপর ব্যাগ টা রাখলো। তারপর আলমারি টা খুলে একটা থ্রি কোর্য়াটার প্যান্ট আর একটা টি-শার্ট নিয়ে ওয়াশরুম গেলো। লম্বা শাওয়ার নেওয়ার পর বেটার ফিল করছে। ঘড়িতে টাইম দেখে নে রাত বাজে ১০ টা। এতোক্ষণে সকলে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ইফার একটু খবর নেওয়ার দরকার ড্রয়ার থেকে চাবি টা নিয়ে বের হলো রুম থেকে। ইফার রুমের সামনে এসে দরজার লক টা খুলে ভিতরে গেলো। গিয়ে দেখে ইফা এলোমেলো ভাবে শুয়ে আছে। ইফাকে ঠিক করতে গিয়ে যখন ইফার শরীরে হাত পড়লো তখন দেখলো ইফার শরীরে প্রচন্ড জ্বর। যেনো পুরো শরীরে আগুনের মতো তাপ।
রিহান একটা শুষ্ক ঢোঁক গিললো। রুমে লাইট টা জ্বালালো। তারপর নিচে গেলো খাবার আনতে। প্লেটে খাবার টা নিয়ে ইফার রুমে গেলো রিহান। তারপর ইফার চোখে মুখে পানি ছিটালো ইফা নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে বললো,, ও দীপ্ত ভাই আপনি এসেছেন?
হুম আমি এসেছি উঠো খাবে।
উঁহুম খেতে ইচ্ছে করছে না।
শুনবো আসো খেয়ে নিবে বলে রিহান ইফা ধরে উঠালো। ইফা দুর্বল কন্ঠে বললো দীপ্ত ভাইয়া আমি ওয়াশরুমে যাবো।
ঠিক আছে উঠো।
ইফা যখন বিছানা থেকে নামতে যাবে তখন ইফা মাথা ঘুরিয়ে পরে যেতে নিলে রিহান ইফাকে কোলে নিয়ে বললো দুপুরে তো ঠিকই ছিলে তাহলে এখন জ্বর বাঁধালে কি করে??
ইফাকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুম অব্দি দিয়ে এলো।
ইফা দরজা লক করতে গেলে রিহান বললো,, একদম না লক করবেনা। আমি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি তুমি ভিতরে যাও। দরজাটা ভিড়িয়ে দিলো ইফা। ইফা ফ্রেশ-ট্রেশ হয়ে বের হতে রিহান ইফাকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসালো।
তারপর স্যুপ টা একটু একটু করে চামুচে করে খাইয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ খাওয়া মাঝখানে ইফা রিহান কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো।
কি হয়েছে জান কাঁদছো কেনো??
ইফা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বললো,, আজান আমাকে ঠকালো খুব বাজে ভাবে ঠকালো। আমার হৃদয়ে খুব পীড়া হচ্ছে।
হুঁশ আর কেঁদো কি হয়েছে বললো?
আমি যখন বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়েছিলাম ঠিক তখনই আজানের বন্ধু সানি আমাকে তার ইমুতে বেশ কিছু ছবি পাঠলো। ওর সাথে অন্য মেয়ের। শুধু তাই নয় আজান আমাকে বন্ধুদের সাথে বাজী ধরে ভালোবেসে ছিলো।
কে বলেছে তোমাকে?
ওর বন্ধু ই বলেছে প্রমান সমেত।
আচ্ছা আর কাঁদতে হবে না। রিহান আছে তো তুমাকে আগলে রাখার জন্য। একটা ঝিনুক যেমন মুক্ত কে আড়াল করে রাখে আগলে রাখে সবকিছু থেকে ঠিক আমিও তুমাকে আগলে রাখবো সবকিছু থেকে। আর কেঁদো না এই খাবার টুকু খেয়ে মেডিসিন টা খেয়ে নেও। জ্বর টা কমে যাবে।
ইফাকে খাইয়ে রিহান একটা মেডিসিন খাইয়ে দিয়ে শুইয়ে দিলো। রিহান কিচেন এ গিয়ে ওর জন্য নুডলস রান্না করে খেয়ে তারপর ইফার রুমে গেলো। ইফা চোখ বন্ধ করার অবস্থায় চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। রিহান রুমে এসে দরজাটা লক করে দিয়ে লাইট টা অফ করে দিয়ে ড্রিম লাইট টা জ্বালিয়ে ইফার পাশে বসে ইফার চোখের পানি ঠোঁট দিয়ে শুষে নিলো। রিহান ইফার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ পর ইফা ঘুমিয়ে গেলো। রিহান ক্লান্ত থাকায় রিহানও ঘুমিয়ে পড়লো।
গভীর রাতে ইফার গা কাঁপিয়ে জ্বর এলো। রিহান ইফাকে তারাতাড়ি কোলে করে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে শাওয়ার এর নিচে দাঁড় করিয়ে দিলো। ক্ষানিকখন ইফাকে শাওয়ার নিচে রেখে দিলো। রিহান শাওয়ার টা অফ করে দিয়ে রুমে এসে ইফার একটা ড্রেস নিয়ে গিয়ে ইফাকে যত্ন সহকারে ড্রেসটা পড়িয়ে দিয়ে ইফা কে কোলে নিয়ে রুমে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিলো কম্বল চাপা দিয়ে। ইফা শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে।
রিহানের কপালের চিন্তার রেখে দিলো৷ ইফা খুব কষ্ট পেয়েছে যার জন্য তার এই ভয়ঙ্কর রকম জ্বর। মানুষ সব আঘাত সহ্য করতে পারে কিন্তু ভালোবাসার মানুষের থেকে পাওয়া আঘাত কখনো সহ্য করতে পারে না। এর প্রমাণ টা ইফা নিজে। ইফাকে দেখে রিহানের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আর ভীষণ রাগ ও হচ্ছে। হাতের কাছে যদি আজানকে পেতো তাহলে মাটির নিচে পুঁতে দিতো। রিহান ইফার রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে আসলো মেডিসিনের একটা ড্রয়ার আছে যেইখানে সব প্রকারের মেডিসিন রাখা। রিহান দ্রুত সেইখান থেকে খুব পাওয়ারের একটা ইনজেকশন নিয়ে গেলো। ইফার বাহুতে পুষ করলো।
চলবে,,
ই-ন-শা-আল্লাহ্