07/08/2026
২০২৫ সালের কুরবানি ঈদের পরের দিনটা আজও ভুলতে পারি না।
ঈদের দিন থেকেই প্রচণ্ড গরমে জায়ানের শরীর খারাপ হয়ে যায়। রাত থেকেই শুরু হয় বমি আর পেট খারাপ। কোনোভাবেই কমছিল না। পরের দিন ডাক্তার দেখাই ঔষধ খাওয়াই, ডাব খাওয়াই কোন কাজ করছিলো না, সাথে আরো খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে শরীর আরো দুর্বল হয়ে গেছিলো 🥺
মনের মধ্যে কেমন একটা ভয় কাজ করছিলো, কোন ভাবেই কাজ হচ্ছিলো না, বাধ্য হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়।
সেদিন সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত ছিল জায়ানের হাতে ক্যানুলা পরানো। বারবার নড়ছিল সেলাইন চলার সময়, রক্ত সেলাইনের লাইনে মিশে যাচ্ছিল। 🥹
সেলাইন দেওয়ার পর ভেবেছিলাম হয়তো একটু ভালো হবে। কিন্তু সারা রাত যেন আরও বাড়ছিলো ।
জায়ানের বাবা বারবার নার্সদের বলছিল, "সেলাইন দেওয়ার পরও কেন ওর অবস্থা খারাপ হচ্ছে?
আপনারা যদি না পারেন, তাহলে বলে দিন। আমরা এখনই অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাব।"
একে ওকে ফোন করছিলো ঢাকা, ময়মনসিংহ, যেখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়, সেখানেই নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য।
তখন আমাদের মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, শুধু যেন আমাদের ছেলেটা সুস্থ হয়ে যায়।
হাসপাতালের একেকটা বেডে ২–৩ জন করে রোগী। সেই ভিড়, অসহনীয় গরম, আর চারপাশে অসুস্থ মানুষ অবস্থা আরো খারাপ —
সেদিন আমার চাচাতো ভাইকেও একই সমস্যায় ভর্তি করা হয়েছিল।তার বয়স এক বছরও হয়নি। ওর অবস্থাও খুব খারাপ ছিল, পেট ফুলে যাচ্ছিল। পরে আমরা দুজন এক বেড ভাগ করে ছিলাম।
রুমে এত রোগী ছিল যে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আর সদর হাসপাতালের ওয়াশরুমের অবস্থা ছিল আরও ভয়াবহ।
সারা রাত জায়ান একটুও ঘুমায়নি। শুধু কেঁদেছে। গরমে কষ্ট পেয়ে তাকে কোলে নিয়ে বারবার রুমের বাইরে এসে বসেছিলাম। একটু চোখ লেগে এলেই আবার কান্না শুরু করত। মনে হচ্ছিল, রাতটা যেন আর শেষেই হচ্ছে না, কখন সকাল হবে।
এর পর দিন দুপুর বেলায় বাড়ি চলে আসলাম, হাসপাতালের যে পরিবেশ সেখানে থাকলে আরো অসুস্থ হয়ে পরবে, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর আরো ২ দিন পর সুস্থ হয়েছিলো 🥺
আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর, সবচেয়ে অসহায় একটি রাত ছিলো 🥺