23/02/2026
রাজশাহীতে শেষ দিন ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি; মনে হচ্ছিলো মায়ায় পরে গেছিলাম পুরো রাজশাহীর। ছেড়ে আসছিলাম আর ভাবতেছিলাম, বাসা টা ছেড়ে দিলাম; আর কি রাজশাহীতে এলেও সেই আগের ফিলিংস টা থাকবে?
যখনই মন খারাপ হইতো, চলে যেতাম ফুলতলা, প্রথম বাসাটা সেখানেই ছিলো। তারপর বাসা নেওয়া হলো কেদুর মোর। পদ্মার পাড়ে সময় কাটাতে যেতাম তালাইমারী শহীদ মিনারে; শুরুর দিকে যেতাম Foysal Zisan এর সাথে, তারপর নিয়মিত যেতাম আমি আর HR ED OY ভাই। আবার যেতাম পঞ্চবটি শ্মশান ঘাট ব্রিজে।
যখনই মন চাইতো যেখানে ইচ্ছে ঘুরতাম। কত মানুষের সাথেই না পরিচিত হলাম। কত মেলামেশা! হয়তো রাজশাহীতে যাওয়া হবে কিন্তু এভাবে আর সময় কাটানো হবে না।
প্রথম বাসায় যখন উঠলাম, মন খারাপ থাকতো। কেউ পরিচিত না Survive করবো কিভাবে? ধীরে ধীরে এতটাই পরিচিত হলাম যে, এখনো সবার সাথেই যোগাযোগ আছে।
সম্পর্ক গড়ে ওঠে, পরিচিত মুখ কিন্তু যোগাযোগ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
চলে এলাম পাবনায়, প্রথম এসে এখানেও মন টিকতেছিল না। এখন এখানেও ভালো লাগে। যদিও রাজশাহীর অনুভূতি কখনোই পূর্ণ হবে না।
আমার রাজশাহীর squad যেনো আলাদাই একটা vibe দিতো। আজ সবাই আলাদা আলাদা। সুন্দর সোনালী স্মৃতির পাতায় যোগ হলো আমার রাজশাহীর ক্ষুদ্র সময়গুলো। জন্মভূমির পর দ্বিতীয় ভালো লাগার জায়গা আমার রাজশাহী শহর। কি সুন্দর শান্ত সুন্দর পরিবেশ। সাথে মানুষগুলোও কত ভালো। মিশুক, হাস্যোজ্জ্বল।
আমার একটা স্মৃতি মনে পড়লে এখনো হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাই। হৃদয় ভাই চলে যাওয়ার পর, জিসান হয়তো বাড়িতে গিয়েছিল আমি সম্পূর্ণ একা; মন খারাপ, রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ গেলাম শহীদ মিনার । গিয়ে একাই বসে ছিলাম, দেখি একদল ভার্সিটি পড়ুয়া ভাইয়ারা গান করতেছে। খুব ইচ্ছে জাগলো, তাদের সাথে আমিও যুক্ত হই। যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করলাম;
তারপর সবাই চলে গেলো আমিও উঠলাম, যেহেতু আমি একা রাত ও অনেক হইছে তাই একটু নার্ভাস লাগছিলো। একজন লোক এসে পথের সামনে জুড়ে দাড়ালো। দেখেই মনে হচ্ছিলো নেশা করে। আমাকে জিজ্ঞেস করলো " কি মামা এত রাইতে কই যাইছো, বাসায় কোথায় তুমার?" আমি তো রীতিমত চমকে গেলাম।
পরে ভাবলাম, যা হওয়ার হবে। উত্তর দিলাম " এইতো মামা বাসা তো হাদির মোড়ে, কিছু বুইলবেন নাকি? " লোকটার মতলব খারাপ মনে হইলো, পরে জিজ্ঞেস করলাম " মামা আপনার বাসা কই, আপনাকে তো চেনা চেনা লাইগছে মনে হইছে মেলা দিন আপনাকে এইখানে দেইখেছি।"
তারপর অনেকক্ষণ গল্প করলাম, যদিও তার কথাতেই বুঝেছিলাম সে আমাকে কেনো আটকিয়েছিলো, তাদের team সেখানেই ছিলো। তবে ভাগ্য ভালো কিছুই বলে নাই। তারপর চা খাওয়ালাম, আর বললাম " মামা রাইত তো মেলা হইছে, ঘুম ধইরে বিগ্যার লাইকছে" অতঃপর চলে আসলাম। তারপর দেখা হইলেই লোকটা জিজ্ঞেস করবে " কি মামা কেমন আছেন? দেখাই যায় না যে আপনাকে?"
এভাবেই কত শত স্মৃতি যুক্ত হলো, সময়টা খুব দ্রুতই মনে হয় শেষ হয়ে গেলো।
যাহোক ভালো থাকুক সবাই।
#প্রাণের_রাজশাহী