25/03/2026
পর্ব – ১৯
রাত — হোটেল রুম
সমুদ্রের ধারের সেই সুন্দর দিন শেষে
রুমে ফিরে এসেছে তারা।
দুজনেই একটু ক্লান্ত…
কিন্তু মনটা ভরা।
রীতি ব্যালকনির দরজা খুলে দিলো।
ঠান্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকলো।
মেহরাব শার্ট খুলে চেয়ারে রেখে বললো—
— “আজকে অনেক হাঁটা হয়েছে…”
রীতি হালকা হাসলো—
— “আপনি তো বলেছিলেন, ‘আরো হাঁটবো’।”
— “তখন এনার্জি ছিল।”
— “এখন নেই?”
— “এখন শুধু ঘুমানোর এনার্জি আছে।”
রীতি হেসে ফেললো।
রাত — ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝির শুরু
রীতি ব্যাগ থেকে ফোন বের করলো।
স্ক্রিনে কিছু মেসেজ—
তার বান্ধবী, আর পরিবারের লোকজন।
সে একটু এক পাশে গিয়ে রিপ্লাই দিতে লাগলো।
মেহরাব দূর থেকে তাকিয়ে দেখছে।
কিছুক্ষণ পর বললো—
— “কার সাথে এত কথা?”
রীতি স্বাভাবিক গলায়—
— “বাড়ি থেকে… আর ফ্রেন্ড।”
— “হুম…”
তার গলায় হালকা পরিবর্তন।
রীতি খেয়াল করলো না।
সে হাসতে হাসতে ভয়েস মেসেজ দিলো—
— “হ্যাঁ, আমরা এখন হোটেলে… কাল আবার বের হবো…”
মেহরাব এবার একটু গম্ভীর—
— “তুমি কি সবকিছু সবাইকে বলো?”
রীতি থেমে গেল।
— “মানে?”
— “মানে… আমাদের সবকিছু?”
রীতি একটু অবাক—
— “এতে সমস্যা কোথায়?”
— “সবকিছু শেয়ার করা লাগে না।”
রীতির মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— “আমি তো শুধু বলছিলাম আমরা ভালো আছি…”
— “আমি জানি… কিন্তু কিছু জিনিস প্রাইভেট থাকা ভালো।”
রীতি এবার একটু কষ্ট পেয়ে—
— “আপনি কি মনে করছেন আমি কিছু ভুল করছি?”
— “আমি সেটা বলিনি।”
— “কিন্তু আপনার কথায় সেটাই বোঝাচ্ছে!”
ঝগড়া একটু বাড়ে
মেহরাব চুপ হয়ে গেল।
রীতি ফোনটা বিছানায় রেখে বললো—
— “আপনি সবকিছু নিজের মতো ভাবেন… কিন্তু আমাকে বুঝতে চান না।”
মেহরাব এবার তাকিয়ে—
— “আমি বুঝতে চাই না?”
— “না! আপনি শুধু কন্ট্রোল করতে চান!”
এই কথাটা শুনে মেহরাবের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
— “আমি তোমাকে কন্ট্রোল করি?”
— “হ্যাঁ! সবকিছুতেই একটা নিয়ম, একটা সীমা… আমি তো মানুষ!”
রুমের ভেতর হঠাৎ ভারী নীরবতা।
নীরবতা — বাস্তব অনুভূতি
কিছুক্ষণ কেউ কথা বললো না।
রীতি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
তার চোখে পানি এসে গেছে…
কিন্তু সে কাঁদছে না।
মেহরাব গভীর শ্বাস নিলো।
তারপর ধীরে বললো—
— “আমি কন্ট্রোল করতে চাই না…”
রীতি পেছন ফিরে তাকালো না।
— “তাহলে?”
— “আমি শুধু… তোমাকে হারাতে চাই না।”
এই কথাটা শুনে রীতি থেমে গেল।
ভালোবাসার সবচেয়ে বাস্তব প্রকাশ
মেহরাব ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো।
— “আমার জীবনে সবকিছু খুব দ্রুত বদলেছে…
বিশ্বাস করার মতো মানুষ কম ছিল…”
সে একটু থামলো—
— “তুমি আসার পর… আমি বুঝেছি, আমি আবার কাউকে নিয়ে ভাবতে পারি।”
রীতির চোখ বেয়ে এবার একটা পানি গড়িয়ে পড়লো।
— “কিন্তু যখন দেখি তুমি আমাদের সবকিছু অন্যদের সাথে শেয়ার করছো…
আমার মনে হয়… এই জিনিসটা শুধু আমাদের থাকুক।”
তার গলায় কোনো রাগ নেই…
শুধু সত্যি।
রীতি ধীরে ঘুরে দাঁড়ালো।
— “আমি তো শুধু খুশি হয়ে বলছিলাম…”
— “আমি জানি…”
— “আমি আপনাকে লুকাতে চাই না… গর্ব করে বলতে চাই।”
মেহরাব একটু অবাক হলো।
— “গর্ব?”
— “হ্যাঁ… কারণ আপনি আমার স্বামী।”
এই সহজ কথাটা—
কিন্তু তার ভেতরে অনেক অনুভূতি।
মুহূর্তটা বদলে যায়
মেহরাব ধীরে এগিয়ে এসে বললো—
— “তাহলে একটা ব্যাপার ঠিক করি…”
— “কি?”
— “আমাদের গল্পটা থাকবে… কিন্তু সব ডিটেইলস না।”
রীতি একটু ভেবে—
— “ঠিক আছে…”
তারপর হালকা হাসলো—
— “কম্প্রোমাইজ?”
— “কম্প্রোমাইজ।”
দুজনেই হালকা হেসে ফেললো।
শেষ মুহূর্ত — সত্যিকারের কাছাকাছি আসা
রীতি আস্তে বললো—
— “আপনি জানেন… আমি রাগ করলেও আপনার উপর বেশি সময় থাকতে পারি না।”
মেহরাব হেসে—
— “আমি জানি।”
— “কিভাবে?”
— “কারণ আমি নিজেও পারি না।”
রীতি একটু লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে ফেললো।
মেহরাব ধীরে তার হাত ধরলো।
— “রাগ করলে বলবে… চুপ করে থাকবে না।”
— “আপনিও…”
— “ঠিক আছে।”
রীতি একটু এগিয়ে এসে—
নিজে থেকেই মেহরাবের কাঁধে মাথা রাখলো।
এইবার—
কোনো দ্বিধা নেই।
শেষ দৃশ্য
বাইরে সমুদ্রের ঢেউ চলছে…
ভেতরে দুইজন মানুষ—
ঝগড়ার মধ্য দিয়েই
একটু বেশি কাছাকাছি এসে গেছে।
ভালোবাসা সবসময় নিখুঁত না—
কিন্তু সত্যি হলে…
তা আরো গভীর হয়।
পরের পর্বে:
একটি বিশেষ দিন—মেহরাবের জীবনের এমন কিছু, যা সে কাউকে বলে না… কিন্তু রীতিকে বলবে