Sumaiya Nurul Volgs

Sumaiya Nurul Volgs This is my page.

25/03/2026

পর্ব – ১৯
রাত — হোটেল রুম
সমুদ্রের ধারের সেই সুন্দর দিন শেষে
রুমে ফিরে এসেছে তারা।
দুজনেই একটু ক্লান্ত…
কিন্তু মনটা ভরা।
রীতি ব্যালকনির দরজা খুলে দিলো।
ঠান্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকলো।
মেহরাব শার্ট খুলে চেয়ারে রেখে বললো—
— “আজকে অনেক হাঁটা হয়েছে…”
রীতি হালকা হাসলো—
— “আপনি তো বলেছিলেন, ‘আরো হাঁটবো’।”
— “তখন এনার্জি ছিল।”
— “এখন নেই?”
— “এখন শুধু ঘুমানোর এনার্জি আছে।”
রীতি হেসে ফেললো।
রাত — ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝির শুরু
রীতি ব্যাগ থেকে ফোন বের করলো।
স্ক্রিনে কিছু মেসেজ—
তার বান্ধবী, আর পরিবারের লোকজন।
সে একটু এক পাশে গিয়ে রিপ্লাই দিতে লাগলো।
মেহরাব দূর থেকে তাকিয়ে দেখছে।
কিছুক্ষণ পর বললো—
— “কার সাথে এত কথা?”
রীতি স্বাভাবিক গলায়—
— “বাড়ি থেকে… আর ফ্রেন্ড।”
— “হুম…”
তার গলায় হালকা পরিবর্তন।
রীতি খেয়াল করলো না।
সে হাসতে হাসতে ভয়েস মেসেজ দিলো—
— “হ্যাঁ, আমরা এখন হোটেলে… কাল আবার বের হবো…”
মেহরাব এবার একটু গম্ভীর—
— “তুমি কি সবকিছু সবাইকে বলো?”
রীতি থেমে গেল।
— “মানে?”
— “মানে… আমাদের সবকিছু?”
রীতি একটু অবাক—
— “এতে সমস্যা কোথায়?”
— “সবকিছু শেয়ার করা লাগে না।”
রীতির মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— “আমি তো শুধু বলছিলাম আমরা ভালো আছি…”
— “আমি জানি… কিন্তু কিছু জিনিস প্রাইভেট থাকা ভালো।”
রীতি এবার একটু কষ্ট পেয়ে—
— “আপনি কি মনে করছেন আমি কিছু ভুল করছি?”
— “আমি সেটা বলিনি।”
— “কিন্তু আপনার কথায় সেটাই বোঝাচ্ছে!”
ঝগড়া একটু বাড়ে
মেহরাব চুপ হয়ে গেল।
রীতি ফোনটা বিছানায় রেখে বললো—
— “আপনি সবকিছু নিজের মতো ভাবেন… কিন্তু আমাকে বুঝতে চান না।”
মেহরাব এবার তাকিয়ে—
— “আমি বুঝতে চাই না?”
— “না! আপনি শুধু কন্ট্রোল করতে চান!”
এই কথাটা শুনে মেহরাবের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
— “আমি তোমাকে কন্ট্রোল করি?”
— “হ্যাঁ! সবকিছুতেই একটা নিয়ম, একটা সীমা… আমি তো মানুষ!”
রুমের ভেতর হঠাৎ ভারী নীরবতা।
নীরবতা — বাস্তব অনুভূতি
কিছুক্ষণ কেউ কথা বললো না।
রীতি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
তার চোখে পানি এসে গেছে…
কিন্তু সে কাঁদছে না।
মেহরাব গভীর শ্বাস নিলো।
তারপর ধীরে বললো—
— “আমি কন্ট্রোল করতে চাই না…”
রীতি পেছন ফিরে তাকালো না।
— “তাহলে?”
— “আমি শুধু… তোমাকে হারাতে চাই না।”
এই কথাটা শুনে রীতি থেমে গেল।
ভালোবাসার সবচেয়ে বাস্তব প্রকাশ
মেহরাব ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো।
— “আমার জীবনে সবকিছু খুব দ্রুত বদলেছে…
বিশ্বাস করার মতো মানুষ কম ছিল…”
সে একটু থামলো—
— “তুমি আসার পর… আমি বুঝেছি, আমি আবার কাউকে নিয়ে ভাবতে পারি।”
রীতির চোখ বেয়ে এবার একটা পানি গড়িয়ে পড়লো।
— “কিন্তু যখন দেখি তুমি আমাদের সবকিছু অন্যদের সাথে শেয়ার করছো…
আমার মনে হয়… এই জিনিসটা শুধু আমাদের থাকুক।”
তার গলায় কোনো রাগ নেই…
শুধু সত্যি।
রীতি ধীরে ঘুরে দাঁড়ালো।
— “আমি তো শুধু খুশি হয়ে বলছিলাম…”
— “আমি জানি…”
— “আমি আপনাকে লুকাতে চাই না… গর্ব করে বলতে চাই।”
মেহরাব একটু অবাক হলো।
— “গর্ব?”
— “হ্যাঁ… কারণ আপনি আমার স্বামী।”
এই সহজ কথাটা—
কিন্তু তার ভেতরে অনেক অনুভূতি।
মুহূর্তটা বদলে যায়
মেহরাব ধীরে এগিয়ে এসে বললো—
— “তাহলে একটা ব্যাপার ঠিক করি…”
— “কি?”
— “আমাদের গল্পটা থাকবে… কিন্তু সব ডিটেইলস না।”
রীতি একটু ভেবে—
— “ঠিক আছে…”
তারপর হালকা হাসলো—
— “কম্প্রোমাইজ?”
— “কম্প্রোমাইজ।”
দুজনেই হালকা হেসে ফেললো।
শেষ মুহূর্ত — সত্যিকারের কাছাকাছি আসা
রীতি আস্তে বললো—
— “আপনি জানেন… আমি রাগ করলেও আপনার উপর বেশি সময় থাকতে পারি না।”
মেহরাব হেসে—
— “আমি জানি।”
— “কিভাবে?”
— “কারণ আমি নিজেও পারি না।”
রীতি একটু লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে ফেললো।
মেহরাব ধীরে তার হাত ধরলো।
— “রাগ করলে বলবে… চুপ করে থাকবে না।”
— “আপনিও…”
— “ঠিক আছে।”
রীতি একটু এগিয়ে এসে—
নিজে থেকেই মেহরাবের কাঁধে মাথা রাখলো।
এইবার—
কোনো দ্বিধা নেই।
শেষ দৃশ্য
বাইরে সমুদ্রের ঢেউ চলছে…
ভেতরে দুইজন মানুষ—
ঝগড়ার মধ্য দিয়েই
একটু বেশি কাছাকাছি এসে গেছে।
ভালোবাসা সবসময় নিখুঁত না—
কিন্তু সত্যি হলে…
তা আরো গভীর হয়।
পরের পর্বে:
একটি বিশেষ দিন—মেহরাবের জীবনের এমন কিছু, যা সে কাউকে বলে না… কিন্তু রীতিকে বলবে

24/03/2026

পর্ব – ১৭
বিকেল — বিদেশের মাটি (গন্তব্য শহর)
প্লেন ধীরে ধীরে নিচে নামছে।
জানালার বাইরে সাদা মেঘ সরতে সরতে নিচে দেখা যাচ্ছে বড় বড় বিল্ডিং, গুছানো রাস্তা… একদম আলাদা এক শহর।
রীতি জানালার পাশে মুখ লাগিয়ে—
— “আমরা নেমে যাচ্ছি…”
মেহরাব শান্ত গলায়—
— “হ্যাঁ, পৌঁছে গেছি প্রায়।”
প্লেন ল্যান্ড করতেই হালকা ঝাঁকুনি।
রীতি একটু আঁতকে উঠে আবার নিজেকে সামলে নিলো।
— “এইটাই… আমাদের নতুন জায়গা?”
— “কিছুদিনের জন্য… হ্যাঁ।”
তার কণ্ঠে একধরনের হালকা উষ্ণতা।
বিকেল — এয়ারপোর্ট (গন্তব্য দেশ)
এয়ারপোর্টটা বিশাল।
চারপাশে নানা দেশের মানুষ, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পোশাক।
রীতি একটু চুপচাপ—
সবকিছু নতুন, অচেনা।
ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়িয়ে সে আস্তে বললো—
— “এখানে সবকিছু আলাদা লাগছে…”
মেহরাব তাকিয়ে—
— “কয়েকদিন থাকলেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে।”
সব ফরমালিটি শেষ করে তারা লাগেজ নিয়ে বাইরে বের হলো।
স্বয়ংক্রিয় দরজা খুলতেই ঠাণ্ডা বাতাস মুখে লাগলো।
রীতি একটু থমকে—
— “আবহাওয়াটা কত সুন্দর…”
মেহরাব হালকা হেসে—
— “এই জন্যই তো এখানে আসা।”
বিকেল — হোটেলের পথে
ট্যাক্সিতে বসে শহরের রাস্তা দেখছে রীতি।
গ্লাসের বাইরে সবকিছু যেন সিনেমার মতো—
পরিপাটি রাস্তা, উঁচু বিল্ডিং, আলো, সাইনবোর্ড…
— “সবকিছু এত ক্লিন…”
— “ডিসিপ্লিন আছে… তাই।”
রীতি হেসে—
— “আপনি আবার সিরিয়াস হয়ে গেলেন।”
মেহরাব তাকিয়ে একটু হেসে ফেললো—
— “অভ্যাস।”
সন্ধ্যা — হোটেল রুম
হোটেল রুমের দরজা খুলতেই—
একটা সুন্দর, বড় রুম…
বড় জানালা, পাশে শহরের ভিউ।
রীতি ভেতরে ঢুকেই থেমে গেল—
— “ওয়াও…”
সে ধীরে ধীরে ঘুরে দেখছে—
বিছানা, আলো, পরিপাটি সাজানো সবকিছু।
মেহরাব লাগেজ রেখে—
— “পছন্দ হয়েছে?”
রীতি মাথা নাড়লো—
— “অনেক…”
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
কিন্তু এই নীরবতা এখন আর অস্বস্তিকর না…
বরং শান্ত।
সন্ধ্যা — ফ্রেশ হয়ে বের হওয়া
রীতি হালকা একটা ড্রেস পরে বের হলো।
মেহরাব তাকিয়ে একটু থেমে গেল—
— “চলো?”
রীতি চোখ নামিয়ে—
— “জি…”
রাত — শহরের রাস্তায়
রাস্তায় আলো জ্বলেছে।
চারপাশে মানুষ হাঁটছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ হাসছে।
রীতি হাঁটতে হাঁটতে—
— “আমি ভাবিনি… এত ভালো লাগবে।”
মেহরাব পাশে হাঁটছে—
— “আমারও দরকার ছিল… এই ব্রেকটা।”
একটা ছোট ক্যাফের সামনে থামলো তারা।
— “কফি খাবে?”
— “হ্যাঁ…”
রাত — ক্যাফে
দুজন মুখোমুখি বসে আছে।
টেবিলে দুই কাপ কফি।
রীতি কাপটা হাতে নিয়ে—
— “আপনি জানেন… আমি আগে কখনো দেশের বাইরে আসিনি।”
— “তাই?”
— “হ্যাঁ… সবকিছু আমার কাছে নতুন।”
মেহরাব একটু চুপ থেকে বললো—
— “তাহলে… এইসব প্রথম মুহূর্তগুলো ভালো করে মনে রাখো।”
রীতি তাকিয়ে—
— “আপনার সাথে বলে… আরো স্পেশাল লাগছে।”
মেহরাব এক সেকেন্ড থেমে গেল…
তারপর চোখ নামিয়ে কফিতে চুমুক দিলো।
কিন্তু তার ঠোঁটে হালকা হাসি।
রাত — হোটেলে ফেরা
ফেরার পথে রীতি ক্লান্ত কিন্তু খুশি।
রুমে ঢুকেই সে বিছানায় বসে—
— “আজকের দিনটা… খুব সুন্দর ছিল।”
মেহরাব কোট খুলতে খুলতে—
— “এখনো তো শুরু…”
রীতি তাকিয়ে—
— “মানে?”
— “আগামী কয়েকদিন… আরও ভালো হবে।”
রীতি হালকা হেসে—
— “আমি অপেক্ষা করবো।”
রাত — গভীর মুহূর্ত
জানালার বাইরে শহরের আলো।
ভেতরে নরম নীরবতা।
রীতি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে—
দূরের আলো দেখছে।
মেহরাব ধীরে এসে পাশে দাঁড়ালো।
কিছু না বলেও—
দুজনের মাঝে একটা নতুন অনুভূতি তৈরি হলো…
দূরত্বটা যেন আর আগের মতো নেই।
চলবে…

24/03/2026

পর্ব – ১৬
ভোর — চৌধুরী ভিলা
ঘড়িতে ভোর ৫টা।
বাড়ির ভেতর হালকা আলো।
রীতি ধীরে ধীরে ঘুম থেকে উঠলো।
আজকের দিনটা আলাদা—একটা নতুন শুরু।
সে উঠে ওযু করে নামাজ পড়লো।
মনের ভেতর অদ্ভুত শান্তি… আর একটু অজানা উত্তেজনা।
রুমে ফিরে দেখে—
মেহরাব ইতিমধ্যেই উঠে গেছে।
সে শার্টের বোতাম লাগাচ্ছে, পাশে খোলা স্যুটকেস।
রীতি নরম গলায়—
— “আপনি এত সকালে উঠে গেছেন?”
মেহরাব তাকিয়ে—
— “ফ্লাইট আছে… দেরি করা যাবে না।”
তার গলায় এখন আগের মতো কঠোরতা নেই…
বরং স্বাভাবিক যত্ন।
সকাল — ডাইনিং এরিয়া
ফারাহ চৌধুরী নিজে দাঁড়িয়ে নাস্তা সাজাচ্ছেন।
— “খালি পেটে বের হবি না।”
মেহরাব বললো—
— “হালকা কিছু খাবো, আম্মু।”
রীতি চুপচাপ বসে আছে।
আজ তার চোখে একসাথে লাজ আর আনন্দ।
ফারাহ চৌধুরী রীতির দিকে তাকিয়ে বললেন—
— “সব কাগজপত্র নিয়েছো তো?”
— “জি… পাসপোর্ট, টিকিট… সব আছে।”
— “ভালো। সাবধানে থাকবা।”
রীতি মাথা নাড়লো।
সকাল — বাড়ির সামনে
গাড়ি প্রস্তুত।
ড্রাইভার লাগেজ তুলে দিচ্ছে।
মেহরাব নিজে গিয়ে একটা ব্যাগ হাতে নিলো।
রীতি বললো—
— “আমি নিতে পারি…”
— “না, আমি আছি।”
এই ছোট্ট ব্যাপারটাও আজ রীতির কাছে আলাদা লাগে।
গাড়িতে ওঠার আগে ফারাহ চৌধুরী বললেন—
— “ভালোভাবে ঘুরে আসিস… আর নিজের খেয়াল রাখিস।”
মেহরাব মাথা নাড়লো—
— “দোয়া করবেন।”
রীতি আস্তে বললো—
— “আমরা ফোন দেবো।”
গাড়ি ধীরে গেট ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
সকাল — পথে
রাস্তার ভিড় এখনো পুরো জমেনি।
ভোরের শহর একটু ফাঁকা।
গাড়ির ভেতর নীরবতা।
কিন্তু আজ সেই নীরবতা অস্বস্তিকর না।
রীতি জানালার বাইরে তাকিয়ে—
সবকিছু নতুন লাগছে।
— “আপনি… নার্ভাস?”
মেহরাব একটু হেসে—
— “না। তুমি?”
— “একটু…”
— “স্বাভাবিক।”
কিছুক্ষণ পর সে নিজেই বললো—
— “সবকিছু আমি সামলে নেবো। তুমি শুধু রিল্যাক্স থাকো।”
এই কথায় রীতির মুখে হালকা হাসি ফুটলো।
সকাল — Hazrat Shahjalal International Airport
এয়ারপোর্টের সামনে ভিড়।
ট্রলি, লাগেজ, মানুষের ব্যস্ততা।
রীতি একটু থেমে গেল—
— “অনেক বড়…”
মেহরাব পাশে দাঁড়িয়ে—
— “চলো, সময় লাগবে।”
সে ট্রলিটা ঠেলে এগিয়ে গেল, রীতি পাশে পাশে।
ভেতরে ঢুকে চেক-ইন কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানো।
মেহরাব ডকুমেন্ট বের করে দিলো।
রীতি শুধু তাকিয়ে দেখছে—
তার ভরসা এখন পুরোপুরি মেহরাবের উপর।
ইমিগ্রেশনের সময় রীতি একটু চিন্তিত—
— “সব ঠিক হবে তো?”
মেহরাব শান্ত গলায়—
— “হবে। আমি আছি।”
সবকিছু শেষ করে তারা বোর্ডিং গেটে বসলো।
রীতি আস্তে বললো—
— “এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না… আমরা যাচ্ছি।”
মেহরাব তাকিয়ে—
— “আমিও অনেকদিন পর নিজের জন্য সময় নিচ্ছি।”
দুপুর — ফ্লাইটের ভেতর
প্লেন রানওয়েতে দাঁড়িয়ে।
ঘোষণা ভেসে এলো…
তারপর ধীরে ধীরে প্লেন চলতে শুরু করলো।
রীতি সিটের হাতল শক্ত করে ধরলো।
মেহরাব একবার তাকিয়ে তার হাতের উপর নিজের হাত রাখলো—
— “রিল্যাক্স…”
রীতি তাকালো…
তার চোখে এখন ভয় কমে গেছে।
প্লেন আকাশে উঠতেই নিচের শহর ছোট হয়ে গেল।
রীতি মুগ্ধ হয়ে—
— “সবকিছু এত ছোট লাগছে…”
— “উপরে উঠলে সবকিছুই ছোট লাগে…”
এই কথাটা যেন শুধু দৃশ্য না…
জীবনের জন্যও।
রীতি হালকা হাসলো।

24/03/2026

পর্ব – ১৫ (সংশোধিত)
সকাল — চৌধুরী ভিলা
আজ বাড়ির পরিবেশটা অনেকটাই স্বাভাবিক।
কয়েকদিনের টানটান পরিস্থিতির পর সবাই যেন একটু স্বস্তি নিচ্ছে।
ডাইনিং টেবিলে নাস্তা চলছে।
ফারাহ চৌধুরী বললেন—
— “মেহরাব, এত চাপ নিচ্ছিস… শরীর খারাপ করে ফেলবি কিন্তু।”
মেহরাব শান্ত গলায়—
— “সবকিছু একটু গুছিয়ে নিয়েছি, আম্মু।”
তারপর একটু থেমে—
— “ভাবছি কয়দিনের জন্য বাইরে যাবো।”
ফারাহ চৌধুরী ভ্রু তুললেন—
— “বাইরে মানে?”
— “দেশের বাইরে… একটু রেস্ট দরকার।”
রীতি থমকে গেল।
চামচটা হাতেই থেমে রইলো।
ফারাহ চৌধুরী হালকা হাসলেন—
— “খুব ভালো কথা। রীতিকে নিয়ে যা।”
মেহরাব সরাসরি বললো—
— “ওকেই নিয়ে যাচ্ছি।”
রীতির বুক ধক করে উঠলো…
কিন্তু সে কিছু বললো না, শুধু চুপচাপ বসে থাকলো।
তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠলো।
দুপুর — মেহরাবের স্টাডি রুম
ল্যাপটপে ফ্লাইট সার্চ চলছে।
পাসপোর্ট, কিছু ডকুমেন্ট টেবিলে ছড়ানো।
দরজায় নক—
— “আমি আসবো?”
— “হ্যাঁ, আসো।”
রীতি ভেতরে ঢুকলো।
— “আপনি কাজ করছেন?”
— “হ্যাঁ… আমাদের ট্রিপটা ফাইনাল করছি।”
রীতি অবাক—
— “এত তাড়াতাড়ি?”
মেহরাব হালকা তাকালো—
— “যত তাড়াতাড়ি যাই, তত ভালো। এখানে থাকলে আবার কাজে জড়িয়ে যাবো।”
তারপর স্ক্রিনটা রীতির দিকে ঘুরিয়ে দিলো—
— “কোথায় যেতে চাও?”
রীতি একটু দ্বিধায়—
— “আমি… কখনো দেশের বাইরে যাইনি…”
— “তাই তো জিজ্ঞেস করছি।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে রীতি বললো—
— “শান্ত জায়গা হলে ভালো লাগে… যেখানে ভিড় কম।”
মেহরাব মাথা নাড়লো—
— “ঠিক আছে, তাহলে থাইল্যান্ড বা মালদ্বীপ ভাবছি।”
রীতির চোখে মুগ্ধতা—
— “আপনি ঠিক করুন… আমি আপনার সাথেই আছি।”
মেহরাব একটু থেমে তাকালো…
এই কথাটা তার ভেতরে অন্যরকম লাগলো।
— “তাহলে আমরা একসাথে ঠিক করি।”
এই ছোট্ট পরিবর্তন—
তাদের দূরত্ব আরও কমিয়ে দিলো।
বিকেল — শপিং মল
গাড়ি থামতেই রীতি বললো—
— “এখানে কেন?”
— “ট্রিপের জন্য যা দরকার, সেগুলো কিনতে।”
ভেতরে ঢুকে রীতি একটু অস্বস্তিতে পড়লো—
কিন্তু মেহরাব আজ স্বাভাবিক।
— “তোমার কাপড়, প্রয়োজনীয় জিনিস—সব নিয়ে নাও।”
রীতি ধীরে বললো—
— “আমি খুব বেশি কিছু লাগবে না…”
— “যা লাগে, সেটা নাও।”
সে একটা হালকা রঙের ড্রেস হাতে তুলে বললো—
— “এটা কেমন?”
রীতি তাকিয়ে মৃদু হাসলো—
— “আপনার পছন্দ হলে ভালোই।”
— “আমার পছন্দ।”
— “তাহলে নেবো।”
এই সহজ কথোপকথনে সম্পর্কটা আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠলো।
সন্ধ্যা — বাড়ি ফিরে
ড্রইংরুমে স্যুটকেস রাখা।
রীতি নিজের জিনিসপত্র গুছাচ্ছে।
ফারাহ চৌধুরী এসে বললেন—
— “সব ঠিকমতো নিয়েছো তো?”
— “জি… চেষ্টা করছি।”
— “কিছু লাগলে আমাকে বলো।”
রীতি মাথা নাড়লো।
তার চোখে এখন আর আগের মতো ভয় নেই…
বরং নতুন এক অনুভূতি।
রাত — মেহরাবের রুম
মেহরাব নিজের ব্যাগ গোছাচ্ছে।
রীতি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে—
— “আমি কি আপনারটা গুছিয়ে দেবো?”
মেহরাব তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ…
তারপর বললো—
— “হ্যাঁ… দাও।”
রীতি ব্যাগটা নিয়ে ধীরে ধীরে গুছাতে শুরু করলো।
মেহরাব তাকিয়ে রইলো…
এই দৃশ্যটা তার কাছে অচেনা, কিন্তু শান্তির।
— “রীতি…”
— “জি?”
— “ধন্যবাদ।”
রীতি হালকা হেসে—
— “আপনি আজ অনেকবার বলছেন।”
মেহরাব একটু মুচকি হাসলো—
— “হয়তো বলা উচিত ছিল আগে থেকেই।”
গভীর রাত — বারান্দা
হালকা বাতাস।
মেহরাব দাঁড়িয়ে আছে।
রীতি পাশে এসে দাঁড়ালো।
— “আপনি ঘুমাননি?”
— “না… ভাবছিলাম।”
— “কি নিয়ে?”
মেহরাব ধীরে বললো—
— “এই কয়দিন… একটু শান্ত থাকতে চাই।”
রীতি আস্তে বললো—
— “আমরাও পারি… চেষ্টা করলে।”
মেহরাব তার দিকে তাকালো…
আজ তার চোখে ভরসা স্পষ্ট।
— “তুমি থাকলে পারবো।”
রীতির চোখ ভিজে উঠলো—
— “আমি তো আছিই…”
দুজনেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো।
এই নীরবতায় আজ আর কোনো দূরত্ব নেই…
শুধু একসাথে থাকার শান্তি।
আগামীকাল—তাদের নতুন যাত্রা শুরু হবে।
চলবে…

24/03/2026

পর্ব – ১৪
সকাল — চৌধুরী ভিলা
বাড়িটা আজ অদ্ভুত শান্ত।
গত কয়েকদিনের টানটান উত্তেজনার পর যেন একধরনের ক্লান্ত নীরবতা নেমে এসেছে।
ডাইনিং টেবিলে নাস্তা সাজানো।
ফারাহ চৌধুরী বসে আছেন, পাশে রীতি।
রীতি চুপচাপ প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে।
কিন্তু তার চোখ বারবার সিঁড়ির দিকে চলে যাচ্ছে।
মেহরাব নিচে নামলো।
আজ তার চোখের নিচে কালি আরও স্পষ্ট।
মুখে দাড়ি হালকা গজিয়েছে—কয়েকদিন ঠিকমতো নিজের খেয়াল রাখার সময় পায়নি।
সে এসে চুপচাপ বসলো।
ফারাহ চৌধুরী বললেন—
— “খেয়ে তারপর বের হবি।”
মেহরাব মাথা নাড়লো।
রীতি গ্লাসে পানি ঢেলে সামনে এগিয়ে দিলো—
— “নিন…”
মেহরাব এক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
তারপর নরম গলায় বললো—
— “ধন্যবাদ।”
এই ছোট্ট শব্দটা রীতির কানে আলাদা করে লাগলো।
কতদিন পর যেন স্বাভাবিক একটা সুর।
টেবিলে নীরবতা।
কিন্তু আজ সেই নীরবতা আগের মতো ভারী না…
দুপুর — মেহরাবের স্টাডি রুম
মেহরাব ল্যাপটপে কাজ করছে।
কাগজপত্র ছড়ানো।
হঠাৎ দরজায় নক।
— “আমি আসবো?”
রীতির কণ্ঠ।
মেহরাব একটু থামলো…
তারপর বললো—
— “হ্যাঁ, আসো।”
রীতি ভেতরে ঢুকলো।
তার হাতে একটা ট্রে—চা আর কিছু বিস্কুট।
— “আপনি সকাল থেকে কিছু খাননি… তাই ভাবলাম…”
মেহরাব তাকিয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড।
— “তুমি এসব নিয়ে ভাবছো কেন?”
কথাটা আগের মতো কঠিন শোনালো না।
রীতি শান্ত গলায়—
— “কারণ আপনি খাচ্ছেন না… আর কাজ করছেন।”
মেহরাব নিঃশ্বাস ফেললো।
— “কাজটা থামানো যাবে না, রীতি।”
— “আমি থামাতে বলছি না… শুধু একটু নিজের খেয়াল রাখতে বলছি।”
কিছুক্ষণ চুপচাপ।
তারপর মেহরাব ধীরে বললো—
— “বসো।”
রীতি একটু অবাক হলো…
তবুও সামনে চেয়ারে বসলো।
মেহরাব কাপটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিলো।
— “ধন্যবাদ।”
রীতি মৃদু হাসলো—
— “আপনি আজ দ্বিতীয়বার বললেন।”
মেহরাব একটু থেমে হালকা হাসলো—
— “হয়তো বলা উচিত ছিল আগে থেকেই।”
এই ছোট্ট কথোপকথনে জমে থাকা বরফটা একটু গললো।
বিকেল — বারান্দা
রীতি কাপড় শুকাতে দিয়েছে।
হালকা বাতাস বইছে।
মেহরাব ফোনে কথা বলতে বলতে বারান্দায় এলো।
— “না, আমি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কিছু বলবো না…
আরিফের ব্যাপারটা ক্লিয়ার করতে হবে আগে…”
রীতি কথাটা শুনে থেমে গেল।
মেহরাব ফোন কেটে তাকালো।
তাদের চোখাচোখি হলো।
রীতি ধীরে বললো—
— “আপনি কাউকে সন্দেহ করছেন?”
মেহরাব কয়েক সেকেন্ড চুপ।
তারপর বললো—
— “হ্যাঁ… কিন্তু এখনো নিশ্চিত না।”
রীতি একটু এগিয়ে এলো—
— “আপনি আমাকে বলতে পারেন… যদি চান।”
মেহরাব তার দিকে তাকিয়ে রইলো।
আজ প্রথমবার মনে হলো—
সে একা না।
সে ধীরে বললো—
— “আমার খুব কাছের একজন… যার উপর আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করতাম।”
রীতির বুকটা কেঁপে উঠলো—
— “তাহলে তো এটা আরও কষ্টের…”
মেহরাব হালকা হেসে বললো—
— “হ্যাঁ… বিশ্বাস ভাঙা সব থেকে কঠিন।”
একটু নীরবতা।
রীতি আস্তে বললো—
— “সবাই একরকম না… কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত পাশে থাকে।”
কথাটা খুব সাধারণ…
কিন্তু ভেতরে গভীর।
মেহরাব তার দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।
সন্ধ্যা — বাগান
ফারাহ চৌধুরী ভেতরে।
বাইরে আলো জ্বলছে।
মেহরাব একা বসে ছিল।
রীতি ধীরে এসে পাশে দাঁড়ালো—
— “আপনি এখানে?”
— “মাথা একটু পরিষ্কার করছিলাম।”
রীতি পাশে বসলো।
আজ আর কোনো অস্বস্তি নেই।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
তারপর মেহরাব নিজেই বললো—
— “আমি হয়তো তোমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছি গত কয়েকদিন।”
রীতি চমকে তাকালো।
— “না… আপনি চাপের মধ্যে ছিলেন…”
— “তাও… তোমার সাথে এমন হওয়া উচিত না ছিল।”
রীতি ধীরে বললো—
— “আমি বুঝি।”
মেহরাব নিচু গলায়—
— “তুমি থেকো… ঠিক আছে?”
এই কথাটা খুব ছোট…
কিন্তু এর ভেতর অনেক কিছু আছে।
রীতির চোখ ভিজে উঠলো—
— “আমি তো আছিই…”
রাত — স্টাডি রুমের সামনে
মেহরাব আবার কাজে বসেছে।
রীতি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।
আজ তার আর ভেতরে ঢোকার সংকোচ লাগলো না।
সে আস্তে বললো—
— “চা দিবো?”
মেহরাব তাকিয়ে হালকা মাথা নাড়লো—
— “হ্যাঁ… দাও।”
রীতি চলে গেল।
মেহরাব তার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ…
তার চোখে আজ একটু স্বস্তি।
শেষ দৃশ্য — অন্ধকার ঘর
টেবিলে ছড়ানো ফাইল।
একটা ছবি—মেহরাব আর তার টিমের।
ছবির উপর আঙুল থামলো…
একজনের মুখে।
ধীরে আলো পড়লো—
আরিফ হোসেন।
অন্ধকারে বসা মানুষটা বললো—
— “বিশ্বাস… এটাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।”
তার ঠোঁটে ঠাণ্ডা হাসি।
— “আর যখন সেটা ভেঙে যায়… তখন মানুষ নিজেই নিজেকে শেষ করে।”
চলবে…

24/03/2026

পর্ব – ১৩
সকাল — চৌধুরী ভিলা (পরদিন)
রাতটা প্রায় না ঘুমিয়েই কাটিয়েছে মেহরাব।
সকাল আটটার দিকেই সে নিজের স্টাডি রুমে বসে আছে।
টেবিলের উপর ছড়ানো—
ফাইল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, কিছু প্রিন্ট করা ইমেইল, আর একটা পেনড্রাইভ।
তার চোখে লালচে ক্লান্তি…
কিন্তু মাথার ভেতর হিসাব চলছে খুব ঠাণ্ডা ভাবে।
দরজায় নক।
— “স্যার, আসবো?”
মেহরাব মাথা না তুলে বললো—
— “আসো, রাকিব।”
রাকিব ঢুকলো।
সে মেহরাবের অনেক দিনের বিশ্বাসযোগ্য সহকারী।
রাকিব চুপচাপ দাঁড়িয়ে বললো—
— “কালকের প্রেস কনফারেন্সের পর অনেক চাপ বাড়ছে, স্যার।”
মেহরাব এবার চোখ তুলে তাকালো—
— “চাপ বাড়বে, এটা আমি জানতাম। নতুন কিছু বলো।”
রাকিব একটু থামলো… তারপর বললো—
— “একটা জিনিস খুঁজে পেয়েছি।”
সে টেবিলে একটা ফাইল এগিয়ে দিলো।
মেহরাব খুলে দেখলো।
কিছু ট্রান্সফার রেকর্ড…
একই প্রকল্পের টাকা…
কিন্তু অদ্ভুতভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে ঘুরে গেছে।
মেহরাব ধীরে বললো—
— “এই অ্যাকাউন্টটা কার?”
রাকিব নিচু গলায়—
— “নামটা সরাসরি নেই… কিন্তু ট্রেস করতে গিয়ে একটা নাম বারবার সামনে আসছে…”
মেহরাব চোখ সরু করলো—
— “বল।”
রাকিব দ্বিধায় পড়লো।
— “আপনার খুব কাছের মানুষ, স্যার…”
কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধতা।
মেহরাব ঠাণ্ডা গলায়—
— “নামটা বলো, রাকিব।”
রাকিব এবার ধীরে বললো—
— “আরিফ হোসেন।”
মুহূর্তেই ঘরের বাতাস যেন ভারী হয়ে গেল।
মেহরাব চুপ।
তার চোখে এবার একটা ধাক্কা স্পষ্ট…
কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিলো।
— “প্রমাণ?”
— “পুরোপুরি না… কিন্তু সব লেনদেনের শেষে যে শেল কোম্পানি আছে, তার সাথে আরিফ স্যারের লোকজনের লিংক আছে।”
মেহরাব হেলান দিয়ে বসলো।
আরিফ হোসেন…
তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে পাশে থাকা মানুষ।
একজন উপদেষ্টা…
প্রায় পরিবারের মতো।
মেহরাব নিজের মনে বললো—
— “না… এটা এত সহজ না…”
তারপর সরাসরি—
— “আরিফ এখন কোথায়?”
রাকিব—
— “সকালে অফিসে আসেনি। ফোনও ধরছে না।”
মেহরাবের চোখে তখন সন্দেহ আরও গাঢ় হলো।
— “ওকে খুঁজে বের করো।”
— “জি, স্যার।”
উপরে — রীতির রুম
রীতি দরজার ফাঁক দিয়ে সব শুনছিলো না…
কিন্তু পরিবেশটা বুঝতে পারছিলো।
মেহরাবের কণ্ঠ আজ অন্যরকম—
আরও ঠাণ্ডা, আরও কঠিন।
সে নিচে নামলো ধীরে ধীরে।
স্টাডি রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো।
দরজাটা আধখোলা।
ভেতরে মেহরাব একা বসে আছে।
রীতি নরম গলায়—
— “আপনি… একটু কথা বলবেন?”
মেহরাব মাথা না তুলেই বললো—
— “এখন না, রীতি। আমি ব্যস্ত।”
এই “আপনি-তুমি”র দূরত্বটা যেন হঠাৎ আরও বেড়ে গেল।
রীতি কিছুক্ষণ চুপ দাঁড়িয়ে রইলো।
তারপর বললো—
— “আপনি একা সব সামলাতে পারবেন না…”
মেহরাব এবার তাকালো।
চোখে ক্লান্তি… আর চাপা রাগ।
— “এই ব্যাপারগুলো তুমি বুঝবে না, রীতি।”
রীতির চোখ একটু ভিজে উঠলো…
কিন্তু সে নিজেকে সামলে বললো—
— “আমি বুঝি না ঠিক… কিন্তু আপনার পাশে থাকতে চাই।”
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
মেহরাব চোখ সরিয়ে নিলো—
— “এই মুহূর্তে আমার পাশে কাউকে দরকার নেই।”
কথাটা খুব ঠাণ্ডা… কিন্তু কেটে যাওয়ার মতো।
রীতি আর কিছু বললো না।
চুপচাপ সরে গেল।
দুপুর — শহরের এক ক্যাফে (গোপন মিটিং)
মেহরাব গাড়ি থেকে নামলো।
ক্যাপ আর সানগ্লাস পরে আছে—চেনা না যাওয়ার জন্য।
ভেতরে ঢুকে এক কোণে বসলো।
কিছুক্ষণ পর একজন লোক এসে বসলো তার সামনে।
— “আপনি ডেকেছিলেন?”
মেহরাব সরাসরি—
— “আরিফ সম্পর্কে যা জানো, সব বলো।”
লোকটা চারপাশে তাকালো।
— “স্যার, এই খেলাটা বড়… আরিফ একা না।”
মেহরাব ঝুঁকে এলো—
— “মানে?”
লোকটা নিচু গলায়—
— “ও শুধু মিডলম্যান… আসল লোক অন্য কেউ।”
মেহরাবের চোখে তখন আগুন জ্বলছে—
— “কে?”
লোকটা থামলো…
— “নামটা এখন বললে আমি বাঁচবো না, স্যার।”
— “তুমি শুধু ইঙ্গিত দাও।”
লোকটা ধীরে বললো—
— “আপনার খুব কাছের সার্কেল… কিন্তু পরিবারের বাইরে।”
সন্ধ্যা — চৌধুরী ভিলা
মেহরাব ফিরে এলো।
তার মাথার ভেতর এখন তিনটা নাম ঘুরছে—
আরিফ…
আর তার সাথে জড়িত আরও কেউ…
সে জানে—
এটা শুধু দুর্নীতির মামলা না…
এটা একটা পরিকল্পিত আঘাত।
সে নিজের মনে বললো—
— “ভেতরের কেউ… কিন্তু কে?”
শেষ দৃশ্য — অন্ধকার ঘর
আগের সেই মানুষটা আবার টিভির সামনে বসে।
মেহরাবের চলাফেরা সে মনোযোগ দিয়ে দেখছে।
তার সামনে ফোন।
স্ক্রিনে একটা নাম—
“আরিফ”
লোকটা হালকা হেসে বললো—
— “সন্দেহ ঠিক জায়গায় যাচ্ছে… কিন্তু দেরি হয়ে গেছে, মেহরাব।”
সে ফোনটা কেটে দিলো।
ক্যামেরা ধীরে তার হাতের দিকে যায়—
সেখানে একটা আংটি…
একটা বিশেষ চিহ্ন খোদাই করা।

23/03/2026

পর্ব – ১৫
বিকেল — চৌধুরী ভিলা, ড্রয়িংরুম
ঘরের পরিবেশ ভারী।
টেবিলের ওপর কিছু কাগজ, কয়েকটা প্রিন্টেড নিউজ।
মেহরাব সোফায় বসে।
সামনে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ সাহেব।
রাশেদ গম্ভীর গলায় বললেন—
“স্যার, পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে।”
মেহরাব শান্ত—
“কতটা খারাপ?”
রাশেদ একটা কাগজ সামনে দিলেন—
“আজ দুপুরে অডিট রিপোর্টের একটা অংশ লিক হয়েছে।
ওখানে আপনার সিগনেচার দেখানো হয়েছে।”
মেহরাব কাগজটা হাতে নিল।
ভ্রু কুঁচকে গেল—
“এই সিগনেচারটা আমার না… নকল করা।”
রাশেদ মাথা নাড়লেন—
“আমরা জানি, স্যার। কিন্তু বাইরে যারা দেখছে, তারা এটা বুঝবে না।”
ঠিক তখন — টিভি অন
স্ক্রিনে নিউজ—
“মন্ত্রী মেহরাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে…”
“দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়টিও বিবেচনায় আছে…”
রুম নিস্তব্ধ।
ফারাহ চৌধুরী ধীরে বসে পড়লেন—
“ওরা তোকে সরিয়ে দিতে চাইছে…”
মেহরাব চুপ।
সিঁড়ির পাশে — রীতি
সব শুনছে।
তার বুক কেঁপে উঠছে।
ড্রয়িংরুমে ফিরে
মেহরাব ধীরে বললো—
“দল কি বলছে অফিসিয়ালি?”
রাশেদ—
“অফিসিয়ালি কিছু না… কিন্তু ভেতরে চাপ বাড়ছে।”
“মানে?”
“স্যার… আপনাকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়াতে বলা হতে পারে।”
এই কথায় রুমে নীরবতা।
ফারাহ চৌধুরী—
“তুই কিছু করবি না?”
মেহরাব শান্ত কিন্তু কঠিন—
“প্রমাণ ছাড়া আমি এক ইঞ্চিও পিছাবো না।”
রাত — মেহরাবের রুম
মেহরাব একা বসে।
ফোনে কল দিল—
“হ্যালো, আমি কথা বলতে চাই… জরুরি।”
ওপাশ থেকে—
“স্যার, এখন কথা বলা ঠিক হবে না…”
“কেন?”
“উপর থেকে নির্দেশ আছে—আপনার সাথে এখন কেউ অফিসিয়ালি যোগাযোগ করবে না।”
কল কেটে গেল।
মেহরাব ফোনটা টেবিলে রাখলো।
চোখে প্রথমবারের মতো হতাশা।
“এত তাড়াতাড়ি সবাই দূরে সরে যাচ্ছে…”
দরজায় নক
“আমি… আসবো?” — রীতি
“আসো।”
রুমের ভেতর
রীতি ঢুকলো।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো—
“নিচে যা শুনলাম… সব সত্যি?”
মেহরাব ধীরে—
“হ্যাঁ… আমাকে সরানোর কথা ভাবছে।”
রীতির গলা কাঁপছে—
“আপনি কি… পদ ছেড়ে দেবেন?”
মেহরাব সরাসরি তাকালো—
“তুমি কি চাও আমি ছেড়ে দিই?”
রীতি থেমে গেল।
তারপর বললো—
“আমি চাই… আপনি অন্যায়ের কাছে হার মানবেন না।”
মেহরাব একটু নরম হলো।
“কিন্তু যদি প্রমাণ না দিতে পারি?”
রীতি ধীরে বললো—
“তাহলে আপনি লড়াই করবেন… যতক্ষণ না সত্যিটা বের হয়।”
নিঃশব্দ
মেহরাব বললো—
“তুমি জানো, এই লড়াইয়ে আমি সব হারাতে পারি?”
রীতি মাথা নাড়লো—
“জানি…”
“তবুও?”
“তবুও… আপনি যদি ঠিক থাকেন, তাহলে হারলেও আপনি হারবেন না।”
মেহরাব কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।
তার চোখে এবার দৃঢ়তা ফিরে আসছে।
ঠিক তখন — ফোন বেজে উঠলো
অজানা নাম্বার।
মেহরাব রিসিভ করলো—
“হ্যালো।”
ওপাশে ঠান্ডা গলা—
“আপনি এখনো বুঝতে পারছেন না… খেলা কোথায় যাচ্ছে।”
মেহরাব গম্ভীর—
“আপনি কে?”
“যে আপনার সবকিছু কেড়ে নিতে পারে…”
রীতি আতঙ্কে তাকিয়ে।
ওপাশ থেকে—
“আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনি যদি নিজে থেকে পদ ছাড়েন… তাহলে বিষয়টা এখানেই থামবে।”
“আর যদি না ছাড়ি?”
একটু নীরবতা…
তারপর—
“তাহলে কাল সকালে এমন কিছু বের হবে… যা আপনাকে শুধু পদ থেকে না, মানুষের চোখ থেকেও নামিয়ে দেবে।”
কল কেটে গেল।
রুমে নীরবতা
রীতি ধীরে বললো—
“কে ছিল?”
মেহরাব ধীরে—
“যে খেলাটা চালাচ্ছে… সে আমাদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে।”
রীতি কাছে এসে দাঁড়ালো—
“আপনি ভয় পাচ্ছেন?”
মেহরাব এক সেকেন্ড তাকিয়ে—
“না…
কিন্তু এবার বুঝছি—এইটা শুধু রাজনৈতিক খেলা না… এটা আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা।”
শেষ দৃশ্য
রাত।
চৌধুরী ভিলার বাইরে মিডিয়ার ভিড়।
টিভিতে ব্রেকিং নিউজ চলতে শুরু করেছে—
“আগামীকাল বড় প্রকাশ আসছে—মেহরাব চৌধুরীর কেসে নতুন বিস্ফোরণ!”
উপরে জানালার পাশে রীতি দাঁড়িয়ে।
ভেতরে মেহরাব একা বসে—
চোখে একটাই সিদ্ধান্ত—
“এবার আমি থামবো না।”
কিন্তু…
আগামীকাল কি সত্যিই তার সবকিছু কেড়ে নেবে?
চলবে…

23/03/2026

পর্ব – ১৩
রাত — চৌধুরী ভিলা
বাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা।
দেয়ালের ঘড়িতে ১১টা বাজে।
মেহরাব নিজের রুমে বসে।
ল্যাপটপ খোলা, পাশে কিছু ফাইল।
ফোন কানে—
“দেখো, আমি কারো নাম এখনই নিতে চাই না…
কিন্তু ভেতর থেকে তথ্য গেছে—এটা নিশ্চিত।”
ওপাশ থেকে কিছু বলা হলো।
মেহরাব বললো—
“সবাইকে নজরে রাখো। কার সাথে কে যোগাযোগ করছে—সব রিপোর্ট চাই।”
ফোন রেখে দিল।
ঠিক তখন দরজায় নক।
“কে?” — মেহরাব
“আমি… রীতি।”
“আসো।”
রুমের ভেতর
রীতি ধীরে ঢুকলো।
“আপনি এখনো কাজ করছেন?”
“হুম… কাজ শেষ না করলে ঘুম আসবে না।”
রীতি একটু এগিয়ে এলো—
“আপনি সারাদিন কিছু ঠিকমতো খাননি… নিচে খাবার আছে।”
“খিদে নেই।”
রীতি শান্ত গলায়—
“খিদে না থাকলেও খেতে হয়… না খেলে আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন।”
মেহরাব তাকালো—
“তুমি সব খেয়াল রাখো নাকি?”
রীতি হালকা মাথা নাড়লো—
“যতটা পারি…”
কিছুক্ষণ চুপ
রীতি বললো—
“আজকে যা হলো… আপনি খুব চিন্তায় আছেন, তাই না?”
মেহরাব একটু থেমে—
“এই লাইনে চিন্তা না করে থাকা যায়?”
রীতি সরাসরি—
“না… কিন্তু আজকে আপনি কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।”
এই কথায় মেহরাব চুপ।
“তুমি ঠিকই ধরেছো।”
ঠিক তখন ফোন বেজে উঠলো
মেহরাব ফোন তুললো—
“হ্যাঁ বলো।”
ওপাশ থেকে তাড়াহুড়ো—
“স্যার, নতুন কিছু ডকুমেন্ট লিক হয়েছে!”
“কি!”
“এবং… এইবার আপনার খুব কাছের একজনের নাম আসছে।”
মেহরাব গম্ভীর—
“নাম বলো।”
“ফোনে বলা যাবে না, স্যার।”
কল কেটে গেল।
রীতি উদ্বিগ্ন—
“কি হয়েছে?”
মেহরাব ধীরে বললো—
“খেলা বড় হয়ে গেছে… খুব কাছের কাউকে জড়ানো হচ্ছে।”
রীতি একটু থেমে—
“আপনি এখনই কাউকে সন্দেহ করবেন না… প্লিজ।”
মেহরাব তাকালো—
“তুমি কি মনে করো আমি ভুল করবো?”
রীতি শান্ত—
“আপনি ভুল করবেন না… কিন্তু আপনাকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা হবে।”
সকাল — ডাইনিং স্পেস
সবাই চুপচাপ।
একজন স্টাফ এসে খাম দিল—
“স্যার, এটা আপনার জন্য।”
মেহরাব খুললো।
ভেতরে পেনড্রাইভ।
একটা কাগজ—
“এটা একা দেখে নেবেন।”
দুপুর — রুম
ভিডিও চালু।
অফিসের ফুটেজ।
কিছু ফাইল আদান-প্রদান।
তারপর—
একটা পরিচিত মুখ।
মেহরাব থেমে গেল।
“না… এটা হতে পারে না…”
তার চোখ স্থির।
দরজার বাইরে
রীতি দাঁড়িয়ে।
ভেতরে ঢুকবে কিনা বুঝতে পারছে না।
শেষ দৃশ্য
মেহরাব একা বসে—
“আমি কাকে বিশ্বাস করবো…?”
রীতির চোখে দুশ্চিন্তা—
“আপনি একা হয়ে যাচ্ছেন…”
চলবে…
পর্ব – ১৪ (সংশোধিত, বাস্তব দৃশ্য)
দুপুর — মেহরাবের রুম
দরজা বন্ধ।
মেহরাব ল্যাপটপের সামনে।
ভিডিও pause করা।
দরজায় নক।
“আমি… রীতি।”
“আসো।”
রীতি ঢুকলো।
“আপনি কিছু খেয়েছেন?”
“না।”
“কেন?”
“ইচ্ছা করছে না।”
রীতি সরাসরি—
“ইচ্ছা না করলেও খেতে হবে। আপনি নিজেকে এভাবে ভাঙতে পারেন না।”
মেহরাব তাকালো—
“তুমি আজকাল খুব জোরে কথা বলো।”
রীতি শান্ত—
“আপনার জন্য বলছি।”
রীতি ল্যাপটপের দিকে তাকালো—
“আমি কি দেখতে পারি?”
মেহরাব একটু ভেবে—
“দেখো।”
ভিডিও চালু।
রীতি মন দিয়ে দেখলো।
শেষ হলে বললো—
“এইটা পুরো প্রমাণ না।”
“মানে?”
“এইটা এডিট করা হতে পারে… কাউকে ফাঁসানোর জন্য।”
মেহরাব একটু এগিয়ে—
“তুমি কি বলছো—আমি ভুল ভাবছি?”
রীতি মাথা নাড়লো—
“না… আমি বলছি আপনি তাড়াহুড়া করবেন না।”
নিঃশব্দ
মেহরাব ধীরে—
“তুমি থাকলে আমি হয়তো ভুল কম করি…”
রীতি চুপ।
তারপর বললো—
“আমি আছি…
আপনি যদি আমাকে দূরে না রাখেন।”
ঠিক তখন নিচ থেকে আওয়াজ—
“স্যার! পুলিশ এসেছে!”
নিচে — ড্রয়িংরুম
দুইজন অফিসার।
মেহরাব এগিয়ে গেল।
“জি, বলুন।”
অফিসার—
“আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন আছে।”
“করুন।”
“প্রাথমিকভাবে কিছু প্রমাণ আপনার দিকেই যাচ্ছে।”
উপরে দাঁড়িয়ে রীতি শুনছে।
তার হাত কাঁপছে।
“ওকে একা লড়তে হবে…” — মনে মনে বললো।
শেষ দৃশ্য
বাইরে মিডিয়া ভ্যান।
ভেতরে পুলিশ।
মাঝখানে মেহরাব।
আর উপরে—
চুপচাপ দাঁড়িয়ে রীতি।
এই লড়াই এখন আর ব্যক্তিগত না…
সবাই দেখতে শুরু করেছে।
চলবে…

22/03/2026

পর্ব – ১২
সকাল প্রায় দশটা।
চৌধুরী ভিলা।
বাড়ির ভেতর আজ ব্যস্ততা চরমে।
ড্রয়িংরুমে কয়েকজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা বসে আছে।
টেবিলের উপর কাগজ, ফাইল, ল্যাপটপ ছড়ানো।
একজন বললো—
“স্যার, আজই প্রেসে যেতে হবে। বেশি দেরি করলে বিষয়টা হাতের বাইরে চলে যাবে।”
আরেকজন যোগ করলো—
“মিডিয়া এখন আপনার উত্তর চায়। চুপ থাকলে মানুষ ভুল বুঝবে।”
মেহরাব চুপচাপ বসে শুনছে।
তার চোখে ক্লান্তি, কিন্তু মুখে কঠোরতা।
ফারাহ চৌধুরী পাশে দাঁড়িয়ে বললেন—
“তুই প্রস্তুত তো?”
মেহরাব ধীরে মাথা নাড়লো—
“হতেই হবে, মা।”
উপরে — রীতির রুম
রীতি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে নিচের সবকিছু দেখছে।
আজ মেহরাবকে একদম অন্যরকম লাগছে—
যেন সে শুধু একজন স্বামী না, একজন দায়িত্বে থাকা মানুষ।
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা দুশ্চিন্তা।
দুপুর — প্রেস ক্লাবের সামনে
বড় গেটের সামনে সাংবাদিকদের ভিড়।
ক্যামেরা, মাইক, লাইভ সম্প্রচার—সব একসাথে।
“স্যার আসছেন! স্যার আসছেন!”
গাড়ি ঢুকতেই চারদিক থেকে ফ্ল্যাশ ঝলসে উঠলো।
মেহরাব গাড়ি থেকে নামলো।
পরিপাটি সাদা পাঞ্জাবি, চোখে ক্লান্তি হলেও মুখে দৃঢ়তা।
সাংবাদিকরা একসাথে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো—
“আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা কি সত্যি?”
“আপনি কি পদত্যাগ করবেন?”
“প্রকল্পের টাকা কোথায় গেছে?”
চারদিক গুঞ্জন।
মেহরাব মাইকের সামনে দাঁড়ালো।
কিছুক্ষণ চুপ…
সবাই অপেক্ষা করছে।
তারপর সে ধীরে বললো—
“আমি জানি, আপনারা অনেক প্রশ্ন নিয়ে এখানে এসেছেন। আর মানুষও জানতে চায় সত্যটা কি।”
একটু থামলো।
“আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি কোনো ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত নই।”
ভিড়ের মধ্যে ফিসফাস শুরু হলো।
একজন সাংবাদিক চিৎকার করে বললো—
“তাহলে প্রমাণ কোথায়, স্যার?”
মেহরাব চোখ তুলে তাকালো—
“প্রমাণ আমি দেবো। কিন্তু সঠিক সময়ে।”
আরেকজন—
“আপনার নিজের টিম থেকেই তথ্য ফাঁস হয়েছে—এটা কি সত্যি?”
মেহরাব কয়েক সেকেন্ড চুপ।
তারপর বললো—
“আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না… কিন্তু হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি—এই কাজটা ভেতর থেকে হয়েছে।”
এই কথায় চারদিকে শোরগোল।
লাইভ সম্প্রচার — চৌধুরী ভিলা
রীতি টিভির সামনে বসে সব দেখছে।
তার হাত কাঁপছে।
“এত চাপের মধ্যে ও কিভাবে দাঁড়িয়ে আছে…” —তার চোখ ভিজে উঠলো।
প্রেস ক্লাব — আবার
একজন সাংবাদিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করলো—
“আপনি কি বলতে চাইছেন, আপনার নিজের লোকই আপনাকে ফাঁসাচ্ছে?”
মেহরাব গম্ভীর গলায়—
“আমি শুধু বলছি—সত্যটা বের হবে। আর তখন সবাই জানবে, কে দায়ী।”
তার চোখে তখন অন্যরকম আগুন।
হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে একজন অচেনা লোক চিৎকার করে উঠলো—
“সব নাটক! আপনি সব জানেন!”
কিছুক্ষণ হট্টগোল।
সিকিউরিটি তাকে সরিয়ে দিলো।
মেহরাব এক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো লোকটার দিকে…
তার চোখে সন্দেহের ছাপ।
শেষ বক্তব্য
মেহরাব মাইকের সামনে ঝুঁকে বললো—
“আমি এই শহরের জন্য কাজ করেছি, করছি… আর করবো।
কেউ যদি ভাবে আমাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে থামিয়ে দেবে—তাহলে তারা ভুল করছে।”
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আবার জ্বলে উঠলো।
সন্ধ্যা — চৌধুরী ভিলা
মেহরাব ফিরে এলো।
বাড়ির ভেতর নিস্তব্ধ।
সবাই তার দিকে তাকিয়ে।
ফারাহ চৌধুরী এগিয়ে এসে বললেন—
“ভালো বলেছিস।”
মেহরাব শুধু মাথা নাড়লো।
রীতি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
তাদের চোখাচোখি হলো।
কিছু বলতে চাইলো রীতি…
কিন্তু মেহরাব চোখ সরিয়ে নিলো।
সে সোজা নিজের রুমে চলে গেল।
রাত
রীতি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে।
ভেতরে মেহরাব ফোনে কথা বলছে—
“না, আজকের পর ওরা থামবে না…
আমাদের আগে ওদের খুঁজে বের করতে হবে।”
রীতি চুপচাপ ফিরে গেল।
শেষ দৃশ্য
অন্য কোথাও — অন্ধকার ঘর
একটা টিভিতে মেহরাবের প্রেস কনফারেন্স চলছে।
একজন মানুষ সোফায় বসে হালকা হাসছে।
তার মুখ পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না।
সে ধীরে বললো—
“ভালো খেলছো, মেহরাব…
কিন্তু খেলার নিয়ম এখনো তুমি জানো না।”
তার পাশে রাখা ফাইলের ওপর একটা নাম লেখা—
আধা ঢাকা, পুরোটা বোঝা যায় না।
ক্যামেরা ধীরে জুম আউট।
এই লড়াই এখন সবার সামনে…
কিন্তু আসল যুদ্ধটা এখনো আড়ালে।
আর সেই আড়ালের মানুষটা—
ধীরে ধীরে আরও কাছে চলে আসছে।

22/03/2026

পর্ব – ১১
সকাল প্রায় সাতটা।
চৌধুরী ভিলা।
বাড়ির ভেতর আজ একদম চুপচাপ।
কাজের লোকেরা আস্তে কথা বলছে, যেন কেউ জোরে কিছু বললে সমস্যা বাড়বে।
ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন ফারাহ চৌধুরী।
তার সামনে চা ঠান্ডা হয়ে গেছে।
তিনি টিভির দিকে তাকিয়ে আছেন—
একই খবর বারবার ঘুরছে।
“মন্ত্রী মেহরাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে…”
ফারাহ চৌধুরী ধীরে বললেন—
“এটা শুধু অভিযোগ না… কেউ ইচ্ছা করে করছে।”
পাশে বসা বড় ছেলে (পরিবারের আরেক সদস্য) বললো—
“রাজনীতিতে শত্রু থাকেই, মা… কিন্তু এবারটা অন্যরকম লাগছে।”
রীতি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছে।
এই বাড়িতে এসে সে বুঝতে পারছে—
এটা শুধু একটা সমস্যা না, পুরো পরিবারের উপর চাপ পড়েছে।
ঠিক তখনই মেহরাব নিচে নামলো।
সাদা পাঞ্জাবি, চোখে ঘুম নেই।
ফারাহ চৌধুরী তাকিয়ে বললেন—
“কিছু খেয়েছো?”
“খিদে নেই।” —সংক্ষিপ্ত উত্তর।
“এভাবে চললে শরীর ভেঙে যাবে।”
মেহরাব চুপ।
তারপর ধীরে বললো—
“মা, এই বিষয়টা বাইরে থেকে হচ্ছে না… ভেতর থেকে কেউ করছে।”
টেবিলে নীরবতা নেমে এলো।
রীতি অবাক।
“ভেতর থেকে?” —তার মনে প্রশ্ন।
মেহরাব আবার বললো—
“যে ডকুমেন্টগুলো লিক হয়েছে, সেগুলো খুব লিমিটেড লোকের কাছে ছিল।”
ফারাহ চৌধুরীর চোখ কড়া হয়ে উঠলো—
“তুমি কি বলতে চাচ্ছো, তোমার নিজের লোকদের মধ্যে কেউ…?”
মেহরাব মাথা নিচু করে—
“আমি নিশ্চিত না… কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে।”
দুপুর
রীতি নিজের রুমে বসে।
ফোন হাতে নিয়ে বারবার নিউজ দেখছে।
একটা ভিডিও ক্লিপে দেখাচ্ছে—
কেউ একজন অন্ধকারে কারো সাথে কথা বলছে,
কণ্ঠটা স্পষ্ট না, মুখও দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু কথার একটা অংশ শোনা যাচ্ছে—
“সবকিছু ঠিকমতো হলে… ও আর টিকতে পারবে না।”
রীতির শরীর কেঁপে উঠলো।
অন্যদিকে — মেহরাবের অফিস
মেহরাব টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে।
তার বিশ্বস্ত সহকারী আরিফ বললো—
“স্যার, আমরা একটা নাম পেয়েছি…”
মেহরাব তাকালো—
“কে?”
আরিফ একটু দ্বিধা করে বললো—
“প্রমাণ পুরোপুরি নেই… কিন্তু মনে হচ্ছে ভেতরের কেউ, আর সে একা না।”
“নামটা বলো।” —মেহরাবের গলায় চাপা রাগ।
“স্যার… আপাতত নিশ্চিত না হলে বলা ঠিক হবে না।”
মেহরাব দাঁত চেপে বললো—
“এই খেলাটা কে খেলছে, আমি বের করবো।”
বিকেল
চৌধুরী ভিলা
ফারাহ চৌধুরী রীতিকে ডেকে নিলেন।
“তুই কিছু খেয়েছিস?”
রীতি মাথা নাড়লো—
“খেতে ইচ্ছে করছে না।”
ফারাহ চৌধুরী তার পাশে বসে বললেন—
“রাজনীতির জীবনটা বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, ভেতরে ততটাই কঠিন।”
রীতি ধীরে বললো—
“আমি ওকে চিনতে পারছি না এখন…”
ফারাহ চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন—
“এই সময় মানুষ বদলে যায় না… পরিস্থিতি ওকে বদলে দেয়।”
সন্ধ্যা
বাড়ির ভেতর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ লোক এসেছে।
সবাই নিচু গলায় আলোচনা করছে।
রীতি সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে শুনতে পেল—
“স্যার, ওই নামটা যদি সত্যি হয়… তাহলে ব্যাপারটা খুব ডেঞ্জারাস।”
“ওরা শুধু পলিটিক্যাল না… আরও কিছু জড়িত আছে।”
রীতির বুক কেঁপে উঠলো।
“আরও কিছু… মানে?”
রাত
মেহরাব রুমে ঢুকলো।
রীতি দাঁড়িয়ে ছিল।
আজ সে চুপ থাকলো না।
“আপনি আমাকে কিছু বলবেন?” —সরাসরি প্রশ্ন।
মেহরাব ক্লান্ত চোখে তাকালো—
“কি জানতে চাও?”
“এই সমস্যার পেছনে কে আছে?”
মেহরাব কিছুক্ষণ চুপ।
তারপর ধীরে বললো—
“যদি বলি, আমি নিজেও পুরোটা জানি না?”
রীতি অবাক—
“আপনি জানেন না?”
“আমি শুধু বুঝতে পারছি—এটা প্ল্যান করে করা হচ্ছে… আর যারা করছে, তারা খুব কাছের।”
রীতি ধীরে বললো—
“আপনি কি আমাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন… এই জন্য?”
মেহরাব চোখ সরিয়ে নিলো।
“আমি চাই না, তুমি এসবের মধ্যে পড়ো।”
“কিন্তু আমি তো আপনার জীবনের অংশ!”
“এই অংশটা নিরাপদ না, রীতি।”
কথাটা খুব ঠান্ডা, কিন্তু ভেতরে কষ্ট লুকানো।
নীরবতা
রীতি ধীরে বসে পড়লো।
তার চোখ ভিজে উঠছে—
“তাহলে আমি কোথায় থাকবো?”
মেহরাব কোনো উত্তর দিলো না।
শেষ দৃশ্য
রাত গভীর।
চৌধুরী ভিলার বাইরে একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে।
ভেতরে দুইজন লোক।
একজন ফোনে বলছে—
“সব ঠিকঠাক চলছে… ওদের ভেতরেই ভাঙন শুরু হয়ে গেছে।”
ওপাশ থেকে মৃদু হাসি—
“ভালো… এখন শুধু শেষ ধাক্কাটা দিতে হবে।”
লোকটা বললো—
“মেহরাব কিছু সন্দেহ করছে।”
ওপাশ থেকে উত্তর—
“সন্দেহ করতে দাও… প্রমাণ কখনো পাবে না।”
গাড়িটা ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
এই খেলাটা এখন শুধু রাজনীতি না…
এটা বিশ্বাস, সম্পর্ক আর নিরাপত্তার লড়াই।
মেহরাব যত সত্যের কাছে যাবে,
ততই ঝুঁকি বাড়বে—
আর রীতি…
সে কি এই ঝড়ের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখতে পারবে।

Address

Natore

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumaiya Nurul Volgs posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share