Abu Nawshad Nomany

  • Home
  • Abu Nawshad Nomany

Abu Nawshad Nomany Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Abu Nawshad Nomany, Digital creator, natore, .

অবশ্যই। কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর জান্নাতে অবস্থান, শয়তানের প্ররোচনা, নিষিদ্...
18/08/2026

অবশ্যই। কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর জান্নাতে অবস্থান, শয়তানের প্ররোচনা, নিষিদ্ধ গাছের ঘটনা এবং পৃথিবীতে অবতরণের কারণটি ধারাবাহিকভাবে দিচ্ছি। যেখানে কুরআন বা সহিহ হাদিসে বিস্তারিত নেই, সেখানে প্রচলিত কিন্তু অনির্ভরযোগ্য কাহিনি যোগ করছি না।

১. আদম (আ.)-কে সৃষ্টি ও সম্মান প্রদান

আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের জানালেন:

> “আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা স্থাপন করতে যাচ্ছি।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:৩০

এরপর আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন এবং তাঁকে বিশেষ জ্ঞান দান করেন। আল্লাহ তাঁকে বিভিন্ন জিনিসের নাম শিক্ষা দেন।

এরপর ফেরেশতাদের আদম (আ.)-কে সম্মানসূচক সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সবাই সিজদা করলেও ইবলিস অহংকার করে অমান্য করে।

আল্লাহ বলেন:

> “সে অস্বীকার করল, অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:৩৪

২. আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি

আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে জান্নাতে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন। হাওয়া (আ.)-কেও তাঁর সঙ্গী হিসেবে সেখানে বসবাস করতে দেন।

আল্লাহ বলেন:

> “হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং সেখান থেকে তোমরা যা ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে খাও; কিন্তু এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:৩৫

অর্থাৎ জান্নাতে তাঁদের জন্য অসংখ্য নিয়ামত উন্মুক্ত ছিল, শুধু একটি নির্দিষ্ট গাছের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

কুরআন ও সহিহ হাদিসে সেই গাছটি কোন গাছ ছিল—তার নাম নির্দিষ্ট করা হয়নি। তাই সেটিকে আপেল, গম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ফল বলা নিশ্চিতভাবে ঠিক নয়।

---

৩. ইবলিসের প্রতিশোধের সংকল্প

ইবলিস আদম (আ.)-এর প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিল। সে আল্লাহর কাছে অবকাশ চাইল এবং বলল যে সে মানুষের অধিকাংশকে বিপথগামী করার চেষ্টা করবে।

আল্লাহ বলেন:

> “আমি অবশ্যই তাদের সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে তাদের কাছে আসব।”
— সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১৭

অর্থাৎ ইবলিস মানুষের শত্রু হয়ে গেল।

---

৪. শয়তান তাঁদের প্ররোচনা দিল

আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) জান্নাতে শান্তিতে ছিলেন। তখন শয়তান তাঁদের কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করল।

আল্লাহ বলেন:

> “অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, তা প্রকাশ করে।”
— সূরা আল-আ'রাফ, ৭:২০

শয়তান তাঁদের বলল:

> “তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের এই গাছ থেকে নিষেধ করেছেন শুধু এ কারণে যে, তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা চিরস্থায়ী হয়ে যাবে।”
— সূরা আল-আ'রাফ, ৭:২০

অর্থাৎ শয়তান মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করল।

---

৫. শয়তান শপথ করে তাঁদের ধোঁকা দিল

শয়তান শুধু কথা বলেই থামেনি; সে শপথ করে নিজেকে শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

আল্লাহ বলেন:

> “সে তাদের উভয়ের কাছে শপথ করে বলল, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের দুজনের একজন কল্যাণকামী।’”
— সূরা আল-আ'রাফ, ৭:২১

এভাবে ধীরে ধীরে তাঁদের সেই নিষিদ্ধ গাছের দিকে নিয়ে গেল।

---

৬. তাঁরা নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করলেন

অবশেষে তাঁরা সেই গাছ থেকে ভক্ষণ করলেন।

আল্লাহ বলেন:

> “অতঃপর তারা যখন সেই গাছের স্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের ঢাকতে লাগল।”
— সূরা আল-আ'রাফ, ৭:২২

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এটি ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ঘটনা হিসেবে বর্ণিত নয়। শয়তানের প্রতারণায় তাঁরা ভুল করেছিলেন এবং পরে নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে আল্লাহর কাছে তাওবা করেছিলেন।

---

৭. আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর তাওবা

ভুল বুঝতে পারার পর তাঁরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

তাঁদের দোয়া কুরআনে এসেছে:

> رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থ:

> “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।”
— সূরা আল-আ'রাফ, ৭:২৩

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—ভুল হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে দ্রুত তাওবা করা।

---

৮. আল্লাহ তাঁদের তাওবা কবুল করলেন

আল্লাহ তাআলা তাঁদের তাওবা কবুল করেন।

কুরআনে বলা হয়েছে:

> “অতঃপর আদম তার প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু বাণী লাভ করলেন; ফলে আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:৩৭

অতএব, আদম (আ.)-এর ঘটনা চিরস্থায়ী অভিশাপের গল্প নয়; বরং ভুল, অনুতাপ, তাওবা ও আল্লাহর ক্ষমার শিক্ষা।

---

৯. কেন তাঁদের জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হলো?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।

আদম (আ.)-কে পৃথিবীতে পাঠানোর পরিকল্পনা নিষিদ্ধ গাছ খাওয়ার পর প্রথমবার করা হয়নি। বরং মানুষকে পৃথিবীতে খলিফা হিসেবে পাঠানোর কথা আল্লাহ আগেই ফেরেশতাদের জানিয়েছিলেন।

আল্লাহ বলেন:

> “আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:৩০

তাই পৃথিবীতে তাঁদের অবতরণ ছিল আল্লাহর নির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ। তবে নিষিদ্ধ গাছের ঘটনা পৃথিবীতে অবতরণের তাৎক্ষণিক কারণ ও পরীক্ষার সূচনা ঘটায়।

আল্লাহ বলেন:

> “তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। তোমাদের কেউ কারও শত্রু হবে। আর পৃথিবীতে তোমাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসবাস ও জীবিকা রয়েছে।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:৩৬

---

১০. পৃথিবীতে নামার পরও আল্লাহ পথনির্দেশ দিয়েছেন

আদম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে আল্লাহ তাঁদের পরিত্যাগ করেননি। বরং পথনির্দেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন:

> “তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত আসবে, তখন যে ব্যক্তি আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগ্যগ্রস্তও হবে না।”
— সূরা আল-বাকারা, ২:৩৮

এরপর মানবজাতির জন্য নবী-রাসূল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত আসতে থাকে।

---

১১. পুরো ঘটনাটি সংক্ষেপে ধারাবাহিকভাবে

১. আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন।
২. তাঁকে বিশেষ জ্ঞান শিক্ষা দিলেন।
৩. ফেরেশতাদের তাঁকে সম্মানসূচক সিজদার নির্দেশ দিলেন।
৪. ইবলিস অহংকার করে অমান্য করল।
৫. আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হলো।
৬. তাঁদের জান্নাতের অসংখ্য নিয়ামত ভোগের অনুমতি দেওয়া হলো।
৭. শুধু একটি গাছের ব্যাপারে নিষেধ করা হলো।
৮. ইবলিস তাঁদের কুমন্ত্রণা দিতে লাগল।
৯. সে মিথ্যা শপথ করে নিজেকে কল্যাণকামী হিসেবে উপস্থাপন করল।
১০. তাঁরা নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করলেন।
১১. তাঁরা নিজেদের ভুল উপলব্ধি করলেন।
১২. তাঁরা আল্লাহর কাছে তাওবা করলেন।
১৩. আল্লাহ তাঁদের তাওবা কবুল করলেন।
১৪. এরপর আল্লাহর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের পৃথিবীতে অবতরণ করতে হলো।
১৫. পৃথিবীতে মানবজীবনের পরীক্ষা শুরু হলো।
১৬. আল্লাহ জানিয়ে দিলেন—তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করলে মানুষ পথভ্রষ্ট হবে না।

🌿 এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
অহংকার মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
ভুল হয়ে গেলে তাওবা করতে হবে।
আল্লাহ তাওবাকারী বান্দাকে ক্ষমা করেন।
দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষা।
আল্লাহর হিদায়াত অনুসরণ করাই সফলতার পথ।

প্রধান কুরআনিক সূত্র: সূরা আল-বাকারা ২:৩০–৩৯, সূরা আল-আ'রাফ ৭:১১–২৭, সূরা ত্বহা ২০:১১৫–১২৩, সূরা হিজর ১৫:২৬–৪২।

ইসলামী আকীদা ও ইতিহাস অনুযায়ী, সৃষ্টির প্রথম মানব ও প্রথম নবী হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি থেকে জান্নাতে বসবাস শুরু করার পুরো...
18/08/2026

ইসলামী আকীদা ও ইতিহাস অনুযায়ী, সৃষ্টির প্রথম মানব ও প্রথম নবী হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি থেকে জান্নাতে বসবাস শুরু করার পুরো ঘটনাক্রমটি অত্যন্ত বরকতময় ও শিক্ষণীয়।
**১. সৃষ্টির পরিকল্পনা ও উপাদান সংগ্রহ**
* **আল্লাহর ঘোষণা:** আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের জানালেন যে তিনি পৃথিবীতে একজন 'খলিফা' বা প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন।
* **মাটি একত্রীকরণ:** আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা পৃথিবীর সব স্থান থেকে বিভিন্ন রঙের (লাল, সাদা, কালো) ও বিভিন্ন প্রকৃতির (নরম, শক্ত, ভালো, খারাপ) মাটি সংগ্রহ করেন। এ কারণেই মানবজাতি রূপ, বর্ণ ও মেজাজে এত বৈচিত্র্যময়।
**২. আদম (আঃ)-এর অবয়ব তৈরি ও আত্মাদান**
* **কাদা থেকে দেহ তৈরি:** মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে প্রথমে আঠালো কাদা এবং পরবর্তীতে পোড়ামাটির মতো শুষ্ক ও শব্দকারী মাটি বা মানবদেহের আকৃতি তৈরি করা হয়।
* **রুহ বা প্রাণ ফুঁকা:** দীর্ঘ সময় পর আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত আদমদেহে রুহ (প্রাণ) ফুঁকে দেন। রুহ মস্তিষ্কে পৌঁছালে আদম (আঃ) হাঁচি দেন এবং বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ" (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)।
* **প্রথম জ্ঞানার্জন:** আল্লাহ আদম (আঃ)-কে পৃথিবীর সমস্ত কিছুর নাম ও কার্যকারিতা শিক্ষা দেন, যা ফেরেশতারা জানতেন না।
**৩. সেজদা ও ইবলিসের অহংকার**
* **আল্লাহর আদেশ:** আদম (আঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের পর আল্লাহ ফেরেশতা ও জিনদেরকে আদম (আঃ)-কে সম্মানের সেজদা (সেজদা-ই-তাহিয়্যা) করার নির্দেশ দেন।
* **ইবলিসের অবাধ্যতা:** সব ফেরেশতা সেজদা করলেও ইবলিস (জিনদের অন্তর্ভুক্ত) অহংকারবশত সেজদা করতে অস্বীকার করে। তার যুক্তি ছিল, সে আগুন দিয়ে তৈরি আর আদম মাটি দিয়ে।
* **ইবলিস অভিশপ্ত হওয়া:** অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে ইবলিসকে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত করা হয়।
**৪. মা হাওয়া (আঃ)-এর সৃষ্টি**
* আদম (আঃ) জান্নাতে একা অনুভব করছিলেন। তাঁর নির্জনতা ও একাকীত্ব দূর করতে আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ)-এর বাম পাজরের বাঁকা হাড় থেকে প্রথম নারী মা হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন।
**৫. জান্নাতে আগমন ও বসবাস**
* আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আঃ) ও মা হাওয়া (আঃ)-কে জান্নাতে থাকার অনুমতি দেন।
* জান্নাতের সমস্ত অফুরন্ত নিয়ামত উপভোগ করার স্বাধীনতা তাঁদের দেওয়া হয়, তবে পরীক্ষার জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল খেতে বা তার নিকটে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমেই মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয় এবং তাঁরা জান্নাতের নিয়ামত ও শান্তির মধ্যে তাঁদের জীবন শুরু করেন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাল্যকালের এই সময়টি (বিশেষ করে ৮ থেকে ১০ বছর বয়স) ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ...
17/08/2026

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাল্যকালের এই সময়টি (বিশেষ করে ৮ থেকে ১০ বছর বয়স) ছিল অত্যন্ত আবেগঘন এবং তাঁর মহান চরিত্রের প্রাথমিক রূপিকা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
**পারিবারিক পটভূমি ও দাদা-চাচার লালন-পালন**
* **দাদা আব্দুল মুত্তালিবের ইন্তেকাল:** রাসূল (সা.)-এর বয়স যখন ঠিক ৮ বছর, তখন তাঁর প্রিয় দাদা এবং মক্কার প্রধান নেতা আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর প্রিয় পৌত্রকে লালন-পালনের দায়িত্ব দিয়ে যান নিজের ছেলে (রাসূলের আপন চাচা) আবু তালিবের ওপর।
* **চাচা আবু তালিবের আশ্রয়:** আবু তালিব ধন-সম্পদের দিক থেকে ধনী ছিলেন না, তবে তিনি অত্যন্ত উদার ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তিনি রাসূল (সা.)-কে নিজের সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন, নিজ হাতে খাওয়াতেন এবং সব সময় নিজের পাশে রাখতেন।
**৮ থেকে ১০ বছর বয়সে তাঁর আচার-ব্যবহার ও চরিত্র**
এই বয়সে তৎকালীন আরবের অন্য সাধারণ শিশুদের মতো তিনি চঞ্চল বা বিশৃঙ্খল ছিলেন না। তাঁর মধ্যে কিছু বিশেষ গুণ ফুটে উঠেছিল:
* **আমানতদারী ও সত্যবাদিতা:** বাল্যকাল থেকেই তিনি মিথ্যা বলা বা প্রতারণা সম্পূর্ণ অপছন্দ করতেন। তাঁর সততা দেখে ছোটবেলাতেই চাচার পরিবারসহ প্রতিবেশী সবাই তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা করত।
* **লজ্জাশীলতা ও শালীনতা:** আরবের তৎকালীন সমাজে শিশুদের পোশাকে বা আচরণে কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত ভাব থাকলেও তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন অত্যন্ত শালীন। অনাবৃত হওয়া বা কুরুচিপূর্ণ আচরণ তিনি কঠোরভাবে পরিহার করতেন।
* **সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব:** চাচা আবু তালিবের সংসার ছিল বড় এবং অভাবের। তাই ছোট থাকা সত্ত্বেও তিনি চাচার ওপর বোঝা হতে চাননি। তিনি চাচার কাজে সাহায্য করতেন, বিশেষ করে চাচার অন্যান্য সন্তানদের সঙ্গে মিলে পরিবারের কাজে হাত লাগাতেন।
* **গম্ভীর ও শান্ত স্বভাব:** তিনি খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না। খেলাধুলার নামে অহেতুক চেঁচামেচি বা ঝগড়া-বিবাদে তিনি কখনোই জড়াতেন না।
**অন্যান্য শিশুদের সাথে পার্থক্য ও অলৌকিক বরকত**
* **খাবারে বারাকাহ:** আবু তালিব লক্ষ্য করেছিলেন যে, মুহাম্মাদ (সা.) পরিবারের সাথে খেতে বসলে সামান্য খাবারেই সবার পেট ভরে যেত। কিন্তু তিনি না থাকলে খাবারে বরকত হতো না। তাই চাচা সব সময় তাঁকে সাথে নিয়ে খেতে বসতেন।
* **জাহিলিয়াতের কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা:** মক্কার তৎকালীন মূর্তিপূজা বা বিভিন্ন মেলা-উৎসবের অশালীন সংস্কৃতি থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁকে অলৌকিকভাবে দূরে রেখেছিলেন। তিনি কখনো দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করা খাবার খেতেন না।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ৮ থেকে ১০ বছর বয়সে মহানবী (সা.) ছিলেন চরম পিতৃহীন ও মাতৃহীন এক এতিম বালক, অথচ তাঁর গাম্ভীর্য, আত্মমর্যাদা, সততা এবং শান্ত স্বভাব তৎকালীন মক্কার পুরো কুরাইশ বংশের নজর কেড়েছিল।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়সের ৬ থেকে ৮ বছর সময়কালটি ছিল তাঁর শৈশবের অত্যন্ত শোকাবহ ও গুরুত্বপ...
17/08/2026

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়সের ৬ থেকে ৮ বছর সময়কালটি ছিল তাঁর শৈশবের অত্যন্ত শোকাবহ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই দুই বছরের প্রধান ঘটনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
**৬ বছর বয়স: মাতৃহীন হওয়া**
* **মদিনা সফর:** হযরত আমেনা (রা.) তাঁর এতিম সন্তান মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে পিতা আব্দুল্লাহর কবর জিয়ারত এবং নানাবাড়ির (বনু নাজ্জার গোত্র) আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে মদিনায় যান। সাথে ছিলেন সেবিকা উম্মে আয়মান।
* **মাতার ইন্তেকাল:** মদিনায় এক মাস অবস্থানের পর মক্কায় ফেরার পথে 'আবওয়া' নামক স্থানে পৌঁছালে হযরত আমেনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ৬ বছর বয়সে প্রিয় নবীজি (সা.) তাঁর মাকেও হারান।
* **মক্কায় প্রত্যাবর্তন:** উম্মে আয়মান (রা.) ছোট্ট মুহাম্মদ (সা.)-কে আগলে রেখে মক্কায় নিয়ে আসেন এবং তাঁর দাদু আব্দুল মুত্তালিবের হাতে তুলে দেন।
**৬ থেকে ৮ বছর বয়স: দাদা আব্দুল মুত্তালিবের ছায়াতলে**
* **বিশেষ স্নেহ ও সম্মান:** দাদু আব্দুল মুত্তালিব নাতিকে পরম মমতায় লালন-পালন করতে থাকেন। কুরাইশ প্রধান আব্দুল মুত্তালিবের জন্য কাবা শরীফের ছায়ায় বিশেষ বিছানা পাতা হতো, যেখানে কারো বসার সাহস ছিল না। কিন্তু শিশু মুহাম্মদ (সা.) সেখানে গিয়ে বসলে আব্দুল মুত্তালিব তাঁকে আদর করে পাশে বসাতেন।
* **ভবিষ্যদ্বাণী:** আব্দুল মুত্তালিব প্রায়ই বলতেন, "আমার এই নাতির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত মহান ও মর্যাদাপূর্ণ।"
**৮ বছর বয়স: দাদার ইন্তেকাল ও চাচার দায়িত্ব গ্রহণ**
* **দাদার মৃত্যু:** শিশু মুহাম্মদ (সা.)-এর বয়স যখন ৮ বছর ২ মাস ১০ দিন, তখন তাঁর ৮২ বছর বয়সী দাদু আব্দুল মুত্তালিবও মৃত্যুবরণ করেন।
* **চাচার অভিভাবকত্ব:** মৃত্যুর পূর্বে আব্দুল মুত্তালিব তাঁর ছেলে আবু তালিবের ওপর মুহাম্মদ (সা.)-এর দায়িত্ব অর্পণ করে যান (যেহেতু আবু তালিব ও আব্দুল্লাহ আপন ভাই ছিলেন)।
* **নতুন অভিভাবক:** ৮ বছর বয়স থেকে চাচা আবু তালিব পরম স্নেহ ও নিষ্ঠার সাথে ভাইপো মুহাম্মদ (সা.)-এর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা পরবর্তী বহু বছর বহাল ছিল।

কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা নির্মাণের ঘটনাটি নিচে ধারাবাহিকভাবে দিলাম।হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা নির্মাণ...
16/08/2026

কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা নির্মাণের ঘটনাটি নিচে ধারাবাহিকভাবে দিলাম।

হযরত নূহ (আ.)-এর নৌকা নির্মাণের ঘটনা

হযরত নূহ (আ.) ছিলেন আল্লাহর একজন মহান রাসুল। তাঁর জাতি দীর্ঘদিন ধরে আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তি পূজা করত। তিনি তাদের এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন। কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে এবং তাঁকে উপহাস করতে থাকে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

> “আর নূহের প্রতি ওহি করা হলো—তোমার জাতির মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ কখনো ঈমান আনবে না। অতএব, তারা যা করত তার কারণে তুমি দুঃখিত হয়ো না।”
—সূরা হূদ: ৩৬

এরপর আল্লাহ তাআলা নূহ (আ.)-কে একটি নৌকা নির্মাণের নির্দেশ দেন:

> “আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহি অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো এবং যারা জুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমাকে সম্বোধন করো না। নিশ্চয়ই তারা নিমজ্জিত হবে।”
—সূরা হূদ: ৩৭

নূহ (আ.) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী নৌকা তৈরি করতে শুরু করলেন। তাঁর জাতির লোকেরা যখনই তাঁর পাশ দিয়ে যেত, তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত। কারণ সেখানে তখন কোনো নদী বা সমুদ্রের দৃশ্যমান অস্তিত্ব ছিল না।

আল্লাহ বলেন:

> “আর সে নৌকা নির্মাণ করতে লাগল। আর যখনই তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোকেরা তার পাশ দিয়ে যেত, তখন তারা তাকে উপহাস করত। সে বলল, ‘তোমরা যদি আমাদের উপহাস করো, আমরাও তোমাদের উপহাস করব, যেমন তোমরা উপহাস করছ।’”
—সূরা হূদ: ৩৮

নূহ (আ.) জানতেন, তিনি নিজের বুদ্ধিতে নয়—আল্লাহর নির্দেশেই নৌকা নির্মাণ করছেন।

মহাপ্লাবনের সূচনা

অবশেষে আল্লাহর আজাবের সময় এসে গেল। আল্লাহ তাআলা নূহ (আ.)-কে নির্দেশ দিলেন, ঈমানদারদের এবং প্রত্যেক প্রজাতির এক জোড়া করে নৌকায় উঠিয়ে নিতে।

আল্লাহ বলেন:

> “অবশেষে যখন আমার আদেশ এসে গেল এবং চুল্লি উথলে উঠল, আমি বললাম, ‘প্রত্যেক প্রকারের জোড়া জোড়া প্রাণী এবং তোমার পরিবারকে—তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তারা ছাড়া—এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের এতে আরোহণ করাও।’”
—সূরা হূদ: ৪০

নূহ (আ.)-এর সঙ্গে অল্পসংখ্যক মানুষ ঈমান এনেছিল।

এরপর আকাশ থেকে প্রবল বৃষ্টি নামল এবং জমিন থেকেও পানি বের হতে লাগল। নৌকাটি বিশাল ঢেউয়ের মধ্যে চলতে লাগল।

আল্লাহ বলেন:

> “আর নৌকাটি তাদের নিয়ে চলল পর্বতসম তরঙ্গের মধ্যে।”
—সূরা হূদ: ৪২

নূহ (আ.) ও তাঁর অবাধ্য ছেলের ঘটনা

নূহ (আ.) তাঁর এক ছেলেকে নৌকায় উঠতে আহ্বান করলেন। কিন্তু সে ঈমান আনেনি। সে বলল, আমি একটি পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে।

নূহ (আ.) বললেন:

> “আজ আল্লাহর আদেশ থেকে কোনো রক্ষাকারী নেই, তিনি যাকে দয়া করবেন সে ছাড়া।”

এরপর একটি ঢেউ তাদের দুজনের মাঝে এসে গেল এবং সে ডুবে যাওয়া লোকদের অন্তর্ভুক্ত হলো।
—সূরা হূদ: ৪২–৪৩

এখানে শিক্ষা হলো—আল্লাহর নৈকট্য বংশ, পরিবার বা পরিচয়ের কারণে নয়; ঈমান ও আনুগত্যের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

নৌকার পরিণতি

অবশেষে আল্লাহর আদেশে বৃষ্টি থেমে গেল এবং পানি কমতে শুরু করল। নৌকাটি জূদী পাহাড়ের ওপর স্থির হলো।

আল্লাহ বলেন:

> “আর বলা হলো, ‘হে পৃথিবী! তুমি তোমার পানি গিলে ফেলো এবং হে আকাশ! তুমি থেমে যাও।’ পানি কমিয়ে দেওয়া হলো এবং সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো। আর নৌকাটি জূদী পাহাড়ের ওপর স্থির হলো।”
—সূরা হূদ: ৪৪

এভাবে আল্লাহ নূহ (আ.) ও ঈমানদারদের রক্ষা করলেন এবং অবিশ্বাসীদের ওপর তাঁর শাস্তি কার্যকর হলো।

গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

১. আল্লাহর নির্দেশের সামনে যুক্তি দিয়ে অবাধ্য হওয়া যাবে না।
২. সত্যের পথে চললে মানুষ উপহাস করলেও ধৈর্য ধরতে হবে।
৩. ঈমানই প্রকৃত মুক্তির পথ।
৪. বংশ বা পারিবারিক পরিচয় কাউকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না।
৫. আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য অসম্ভব পরিস্থিতিতেও পথ বের করে দেন।

প্রধান কোরআনি সূত্র: সূরা হূদ ১১:৩৬–৪৪, সূরা আল-মুমিনূন ২৩:২৭–২৯, সূরা আল-কামার ৫৪:৯–১৫, সূরা নূহ ৭১:১–২৮।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র শুভ জন্মের ঠিক পূর্বে তৎকালীন বিশ্বে কয়েকটি ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁর...
16/08/2026

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র শুভ জন্মের ঠিক পূর্বে তৎকালীন বিশ্বে কয়েকটি ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁর আগমনের বার্তা বহন করে:
**হাতিওয়ালাদের হস্তী-অভিযান (আসহাবুল ফিল)**
* **ঘটনা:** মহানবী (সা.)-এর জন্মের মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ দিন আগে ইয়েমেনের খ্রিষ্টান শাসক আবরাহা কাবা ঘর ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এক বিশাল হস্তী বাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণ করে।
* **অলৌকিক পরিণতি:** আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ঝাঁকে ঝাঁকে 'আবাবিল' পাখি ছোট ছোট কঙ্কর ফেলে আবরাহার পুরো শক্তিশালী বাহিনীকে ঝাঝরা ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এই অলৌকিক ঘটনার কথা পবিত্র কুরআনের **সূরা আল-ফিল**-এ বর্ণনা করা হয়েছে এবং ওই বছরটিকে 'আমুল ফিল' বা হস্তীর বছর বলা হয়।
**পারস্যের (ইরাক ও ইরান) রাজপ্রাসাদে অলৌকিক লক্ষণ**
* **কিসরার রাজপ্রাসাদ কম্পন:** রাসুল (সা.)-এর জন্মের রাতে পারস্যের (ইরানের) রাজপ্রাসাদে বিকট কম্পন সৃষ্টি হয় এবং প্রাসাদের ১৪টি চূড়া ভেঙে পড়ে।
* **হাজার বছরের প্রজ্বলিত আগুন নির্বাপিত:** পারস্যের অগ্নিউপাসকদের হাজার বছর ধরে টানা জ্বলতে থাকা প্রধান অগ্নিশিখাটি অলৌকিকভাবে মুহূর্তে নিভে যায়।
* **সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাওয়া:** সে অঞ্চলের অধিবাসীদের পূজনীয় 'সাওয়া' নামক বিশাল হ্রদের পানি একই রাতে হঠাৎ অলৌকিকভাবে একেবারে শুকিয়ে যায়।

আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
15/08/2026

আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর খিলাফতকালের একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও বিখ্যাত ঘটনা রয়েছে, যা অন্তরে আল্লাহর ভয় বা 'তাকওয়া' জাগ...
15/08/2026

হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর খিলাফতকালের একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও বিখ্যাত ঘটনা রয়েছে, যা অন্তরে আল্লাহর ভয় বা 'তাকওয়া' জাগ্রত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এক রাতে খলীফা হযরত উমর (রাঃ) মদীনার মানুষের হালচাল দেখার জন্য ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে এক কাঁচা ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মা ও মেয়ের কথোপকথন শুনতে পেলেন।
তাদের মধ্যে ছাগলের দুধ বিক্রি করা নিয়ে কথা হচ্ছিল। রাত তখন অনেক, মা তার মেয়েকে বললেন, "মা, দুধে কিছু পানি মিশিয়ে দাও, তাহলে দুধের পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে পারব।"
মেয়েটি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উত্তর দিল, "মা, আমীরুল মু'মিনীন হযরত উমর (রাঃ) তো দুধে পানি মেশাতে কড়া নিষেধ করেছেন।"
মা তখন বললেন, "উমর তো এখন ঘুমাচ্ছেন, তিনি তো আর আমাদের দেখছেন না! এই গভীর রাতে তিনি কীভাবে জানবেন আমরা দুধে পানি মিশিয়েছি কিনা?"
তখন মেয়েটি যে জবাব দিয়েছিল, তা কেয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের জন্য এক অপূর্ব শিক্ষা। মেয়েটি বলল:
> *"মা! উমর না হয় দেখছেন না, কিন্তু উমরের আল্লাহ তো সব দেখছেন! তিনি কি ঘুমাচ্ছেন? আমরা যদি গোপনেও এই কাজ করি, তবুও আল্লাহর কাছে তো কিছুই গোপন থাকবে না।"*
>
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে হযরত উমর (রাঃ) এই সততা এবং আল্লাহর ভয়ের কথা শুনলেন। মেয়েটির এই গভীর তাকওয়া উমর (রাঃ)-এর মনকে এতটাই ছুঁয়ে গেল যে, তিনি বাড়িতে ফিরে এসে নিজের এক সৎ ও চরিত্রবান সন্তান আসিম (রহঃ)-এর সাথে এই দরিদ্র কিন্তু আল্লাহভীরু মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করলেন।
**শিক্ষা:**
তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় মানুষের বাহ্যিক আচরণ তৈরি করে না, বরং অন্তরে এক জাগ্রত অনুভূতির সৃষ্টি করে—যেখানে মানুষ কোনো লোকচক্ষুর ভয়ে নয়, বরং সর্বদ্রষ্টা আল্লাহর উপস্থিতির অনুভবে সব ধরনের অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখে।

সহীহ বুখারী শরীফের ২ নম্বর হাদীসটি নিচে দেওয়া হলো:**আরাবী মূলপাঠ:**> حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْب...
15/08/2026

সহীহ বুখারী শরীফের ২ নম্বর হাদীসটি নিচে দেওয়া হলো:
**আরাবী মূলপাঠ:**
> حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ ـ رضى الله عنه ـ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْىُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ ـ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَىَّ ـ فَيَفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِيَ الْمَلَكُ رَجُلاً فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ ‏"‏‏.‏ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْىُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ، فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا‏‏
>
**বাংলা অনুবাদ:**
উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত:
হারিস ইবন হিশাম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে?"
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন: *"কখনো কখনো তা ঘণ্টা বাজার মতো শব্দে আমার নিকট আসে। আর এটিই আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টদায়ক হয়। এরপর তা শেষ হলেই ফেরেশতা যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই। আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মনে রাখি।"*
'আয়িশা (রাঃ) বলেন, *"আমি তীব্র শীতের দিনে ওহী অবতীর্ণ হওয়া অবস্থায় তাঁকে দেখেছি, ওহী শেষ হলেই তাঁর ললাট (কপাল) হতে ঘাম ঝরে পড়ত।"*
*(অধ্যায়: ১/ ওহীর সূচনা, হাদীস নম্বর: ২)*

**কাঁদিসিয়ার যুদ্ধ (৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দ)** ছিল মুসলিমদের পারস্য (সাসানীয় সাম্রাজ্য) বিজয়ের অন্যতম প্রধান ও নির্ণায়ক মোড়...
14/08/2026

**কাঁদিসিয়ার যুদ্ধ (৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দ)** ছিল মুসলিমদের পারস্য (সাসানীয় সাম্রাজ্য) বিজয়ের অন্যতম প্রধান ও নির্ণায়ক মোড়। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা **হযরত ওমর (রা.)**-এর শাসনকালে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধটি সংঘটিত হয়।
# # ১. পটভূমি
ইয়ারমুকের যুদ্ধে রোমানদের পরাজিত করার পর মুসলিমদের মূল মনোযোগ নিবদ্ধ হয় শক্তিশালী পারস্য সাম্রাজ্যের দিকে। খলিফা হযরত ওমর (রা.) অভিজ্ঞ সেনাপতি **সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.)**-কে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৩৬,০০০ মুসলিম সৈন্যের সেনাপতি করে ইরাক অভিমুখে প্রেরণ করেন।
অন্যদিকে, পারস্যের সম্রাট ইয়াজদাগির্দ তাঁর সেরা এবং অভিজ্ঞ সেনাপতি **রুস্তম ফাররোখজাদ**-কে প্রায় ৬০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ সুবিশাল বাহিনী এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুদ্ধহাতিসহ মুসলিমদের বিরুদ্ধে পাঠান।
# # ২. দাওয়াত ও সন্ধির প্রস্তাব
যুদ্ধের আগে হযরত সাদ (রা.) পারস্য সেনাপতি রুস্তমের নিকট একটি প্রতিনিধি দল পাঠান। রিবঈ ইবনে আমীর (রা.) নামক এক সাহাবী রুস্তমের দরবারে গিয়ে ঐতিহাসিক এক উক্তি করেন:
> *"আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে বের করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসতে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে দূর করে এর প্রশস্ততায় আনতে এবং অন্যান্য ধর্মের অত্যাচার থেকে বের করে ইসলামের ন্যায়বিচারে পৌঁছে দিতে।"*
>
রুস্তম ইসলাম গ্রহণ বা জিজিয়া কর প্রদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে।
# # ৩. যুদ্ধের বিবরণ (চার দিনের যুদ্ধ)
যুদ্ধটি প্রায় চার দিন ধরে ইরাকের কাঁদিছিয়া নামক প্রান্তরে স্থায়ী হয়:
* **প্রথম দিন (ইয়ামুল আরমাস):** পারসীয়রা তাদের যুদ্ধহাতি নিয়ে আক্রমণ চালায়। হাতির মুখোমুখি হয়ে মুসলিম অশ্বারোহী বাহিনী বেশ বিপাকে পড়ে।
* **দ্বিতীয় দিন (ইয়ামুল আগওয়াস):** সিরিয়া থেকে হাশিম ইবনে উতবা ও ক্বাকা ইবনে আমর (রা.)-এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত মুসলিম সৈন্য এসে যোগ দেন। ক্বাকা (রা.) উটগুলোকে অদ্ভুতভাবে সাজিয়ে পারসীয় ঘোড়াগুলোকে আতঙ্কিত করে তোলেন, যা যুদ্ধের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
* **তৃতীয় দিন (ইয়ামুল আমাস):** পারসীয়রা পুনরায় হাতি নিয়ে আক্রমণ করে। তবে মুসলিম যোদ্ধারা কৌশলে প্রধান হাতিগুলোর চোখ অন্ধ করে এবং শুঁড় কেটে ফেলে। ফলে ক্ষিপ্ত হাতিগুলো উল্টো পারসীয় বাহিনীর ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে পদদলিত করতে থাকে।
* **চতুর্থ দিন (ইয়ামুল হারীর ও সিদ্ধান্ত):** রাতভর তীব্র যুদ্ধের পর চতুর্থ দিনে এক প্রচন্ড বালুঝড় শুরু হয়। ঝড়ের দিক ছিল পারসীয় বাহিনীর মুখের দিকে। সেনাপতি ক্বাকা (রা.) ও তাঁর দল পারসীয় বাহিনীর মূল ব্যূহে প্রবেশ করেন। ক্বাকা-র এক সৈনিকের হাতে সেনাপতি রুস্তম নিহত হন।
# # ৪. ফলাফল ও প্রভাব
* **বিজয়ের সূচনা:** সেনাপতি রুস্তমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পারসীয় বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পলায়ণ করে।
* **মাদাইন দখল:** এই বিজয়ের মাধ্যমে পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী **মাদাইন (তিসফুন)** বিজয়ের পথ সুগম হয়।
* **পারস্যের পতন:** কাঁদিসিয়ার বিজয় সমগ্র ইরাকে পারসীয় আধিপত্যের অবসান ঘটায় এবং পরবর্তীতে পুরো পারস্য (ইরান) অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করে।

Address

Natore

6400

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Abu Nawshad Nomany posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Abu Nawshad Nomany:

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share