28/04/2026
শেষ বিদায়েই শেষ আশ্রয়
মানুষ সারাজীবন একটা 'ঘর' বা 'হোম' খুঁজে ফেরে। ইটের দেয়াল আর ছাদ তো কেবল একটা কাঠামো, মানুষের আসল আশ্রয় লুকিয়ে থাকে অন্য কোনো মানুষের হৃদয়ে। কারো কারো জন্য তার জীবনসঙ্গীই হয়ে ওঠেন সেই শান্তির শেষ ঠিকানা। কিন্তু সেই ঠিকানা যখন চিরতরে হারিয়ে যায়, সেই মুহূর্তের শূন্যতা পরিমাপ করার মতো কোনো দাঁড়িপাল্লা এই পৃথিবীতে নেই।
কুমিল্লার সেই কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহের ওপর তার স্ত্রীর মাথা রেখে শুয়ে থাকার দৃশ্যটি আমাদের হৃদয়ের একদম গভীরে গিয়ে আঘাত করে। ছবিটা দেখে মনে হয়, তিনি কোনো নিথর দেহের ওপর নন, বরং তার শেষ আশ্রয়ের ওপর মাথা রেখেছেন—যেখানে তিনি এতদিন সব দুঃখ ভুলে শান্তি খুঁজে পেতেন।
'শেষ দেখা'—এই দুটো শব্দ যতটা ছোট, এর ভার ততটাই প্রকাণ্ড। যখন আপনি জানেন, এটাই শেষবার; এরপর ডাকার মতো কেউ থাকবে না, হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরার মতো কেউ থাকবে না, তখন পৃথিবীর সব আলো এক নিমেষেই নিভে যায়। আপনি সামনে থাকা মানুষটিকে প্রাণপণে জড়িয়ে ধরছেন, অথচ সেই মানুষটি আর আপনাকে জড়িয়ে ধরছে না—এই যে একপাক্ষিক ভালোবাসা আর অসহায়ত্ব, এর চেয়ে বড় কোনো হাহাকার আর হতে পারে না।
বিদায়ে কোনো সৌন্দর্য থাকে না, বিশেষ করে যদি তা হয় 'শেষ বিদায়'। আমরা ইমাজিন করতে চাইলেও সেই কষ্টের গভীরতা ছোঁয়া সম্ভব নয়। কারণ প্রিয় মানুষটি যখন নিথর হয়ে যায়, তখন কেবল একজন মানুষ মারা যান না, তার সাথে সাথে অন্য একজনের বেঁচে থাকার অর্থ, অভ্যাস এবং আজন্মের নির্ভরতাও যেন মাটিচাপা পড়ে যায়।
প্রিয় মানুষকে হারানোর এই হাহাকার কারো পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়। তবুও কিছু মানুষ এই অসহ্য যন্ত্রণা পাথর হয়ে বুকে চেপে বেঁচে থাকেন। আসলেই, প্রিয় মানুষকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার মতো কষ্টের আর কিচ্ছু নেই... কিচ্ছু নেই।