16/09/2026
সাদ্দামকে আমি প্রথমবার দেখি ২০১৬/১৭ সালে, এ এফ রহমান হলের সামনে (সম্ভবত ওই হলটাই, সঠিক মনে পড়তেছে না) । আমি তখন ছাত্রলীগের আরেক নেতার সাথে বসে মেইন গেইটের আশেপাশে একটা চায়ের দোকানে চা খাইতেছিলাম ।
এইখানে একটা কথা বলে রাখি, কোনো ক্লাসলেস মানুষের সাথে চলাফেরা আমি কখনোই করিনাই । কেবল যারা সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি এসবের সাথে যুক্ত ছিলো, তাদের অনেকে আমাকে পছন্দ করতো, ওদের সাথে মিশতাম এজ ফ্রেন্ডস । ঢাকায় গেলে, ওরা ফোন দিয়ে বলতো, বন্ধু হলে আসো, আড্ডা দেই, কখনো তারাও ছুটে আসতো আড্ডা দেয়ার জন্য ।
তো, আমার সেই বন্ধুটি সাদ্দামকে দেখিয়ে বললো, "ওই যে ছেলেটা আসতেছে, নীল শার্ট পরা ও সামনে ঢাবি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট/সেক্রেটারি হইতে পারে । ছেলেটার মধ্যে ভালো পটেনশিয়াল আছে ।
আমি একটু অবাক হলাম, "কি রে ঢাবি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট, কিন্তু ওকে দেখে তো মনেই হচ্ছে না! যেহেতু আমরা ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট/সেক্রেটারি মানেই বুঝি চারপাশে হাতকচলানো কিছু ভাইলীগ থাকবে, সেই একটা হ্যাডম থাকবে, কমপক্ষে ৪-৫ টা মোটরবাইক থাকবে সাথে" । কিন্তু সাদ্দামকে দেখে একেবারে সাধারণ মনে হলো ।
পরে ফেসবুকে ঢুকে দেখি, সাদ্দাম আমার ফ্রেন্ডলিস্টেই আছে অলরেডি । ওর লেখাটেখা দেখলাম ফেসবুকে, দেখে আমার কিছুতেই বিশ্বাস হলো না যে এই ছেলে বড় কোনো নেতৃত্বে যাইতে পারবে । ছাত্রলীগ নেতারে দেখলেই যদি কলিজা না শুকাই যায়, তাইলে কিসের ছাত্রলীগ নেতা?
কিন্তু সাদ্দামের লেখা টেখা পড়ে মনে হলো, এই ছেলে তো বেশ স্মার্ট, এন্ড লিবারেল, ভদ্র মানুষ । ১১-১২ ব্যাচের স্টুডেন্ট এইটা জানার পর আরও বেশি ভালো লাগলো । কারণ আমি সবসময় চাইতাম, ছাত্রলীগে আরও বেশি লিবারেল, শিক্ষিত, মার্জিত মানুষ নেতৃত্বে আসুক ।
পরে ঠিক ২ বছর পরেই, সে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় । আমি অবাক হই এবং খুশিও হই!
আমি যেহেতু ঢাবির ছাত্র ছিলাম না, তাই সাদ্দামকে নিয়ে বিস্তারিত লিখতে পারবো না । তবে বাইরে থেকে দেখে, আমি সবসময় চাইতাম, সাদ্দামের মতো ছেলেরাই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসুক । এতে ছাত্রলীগের রাজনীতিরও উন্নতি হবে, মেন্টালিটিতে পরিবর্তন আসবে ।
সাদ্দাম ঢাবির নেতৃত্বে আসার পর, ঢাবিতে অনেক ব্যাড কালচার চেঞ্জ হয়েছিলো । ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা বেড়েছিলো । মারামারি কমেছিলো । এটুকু খবর আমরা বাইরে থেকে পেতাম ।
সাদ্দাম ভালো মানুষ নাকি খারাপ মানুষ, তার সাথে যেহেতু মিশিনাই, সেটা বলা খুব মুশকিল । কিন্তু ছাত্রলীগের অন্যান্য অনেক নেতাদের সম্পর্কে ঢাবিতে গেলেই যে কমপ্লেইন শুনতাম, সাদ্দামকে নিয়ে আমাকে উল্টো অনেকেই ভালো কথা বলতো, এমনকি যারা তখন অন্য পলিটিক্স করতো বা নন পলিটিক্যাল তারাও বলতো ।
আজকে সাদ্দামের ফাঁসির রায় হলো । আপনারা যারা "গণতন্ত্রী, যারা we want justice প্রজন্ম, যারা ন্যায়বিচারের পক্ষে" আপনারা খুশি তো এই রায়ে?
রায় নিয়ে কিছু বলবো না। সময়ই তার কথা বলবে। সাদ্দাম ছাত্রলীগে কতোটা সফল ছিলেন, কতোটা ব্যর্থ ছিলেন, সেটা ছাত্রলীগই বলতে পারবে। সে বিষয়ে মন্তব্য করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য আমার নেই।
আমি শুধু জানি, সাদ্দাম একজন প্রগতিশীল মানুষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট।
নেতা হিসেবে সে কতোটা সফল, সেই প্রশ্নটি আপাতত একপাশে রাখি। বরং বৃহত্তর জায়গা থেকে দেখলে আমার মনে হয়, ছাত্রলীগে অনেক সাদ্দাম দরকার ।
ছাত্রলীগে আরও অনেক প্রগতিশীল, নারী অধিকারে বিশ্বাসী, অসাম্প্রদায়িক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নেতা-কর্মী দরকার। রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকবে, নেতৃত্বের সাফল্য-ব্যর্থতার বিচারও হবে। কিন্তু একটি সংগঠনের ভেতরে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির জায়গাটা শক্তিশালী হওয়া জরুরি।
(রাতুল রানার পোস্ট থেকে)