07/07/2025
বারান্দায় কিছু একটা হাটছে (প্রথম পর্ব)
সেদিন বিকেলের ট্রেনেই আমরা ঢাকা রওনা দিলাম। অরুন সকাল থেকেই মন গম্ভীর করে রেখেছে আমার সাথে কোন কথা বলছে না। অরুন এমনিতে হাসি খুশি থাকে। এমন গম্ভীর মুখ তাকে কখনো দেখিনি। আমি অনেক বার তাকে জিজ্ঞাস করেছি সে একবারো উত্তর দেইনি।
রাত তখন আট্টা কি নয়টা। আমি আর অরুন ট্রেনের করিডোরের সামনে বসেছি। ট্রেনের কামড়াটা অপেক্ষাকৃত নির্জন। ট্রেনের সকল বাতি আগে থেকেই নিভানো। পাশের জানালা খোলা। জানালা দিয়ে শীথল হাওয়া ঢুকছে। চাদের আলো খানিক টা এসে পরেছে অরুনের মুখে। আর এতেই আমি তাকে আবছা ভাবে দেখছি। এ অদ্ভুদ পরিবেশে অরুন আমার দিকে ফিরে আচমকা বলল। আচ্ছা শহিদ তুই আত্মায় বিশ্বাস করিস। আলো ছায়াময় সেই নির্জন ট্রেনের কামরায় এমন প্রশ্ন শুনে শিউরে উঠে বলি। না আমি বিশ্বাস করি না। হঠাত এ প্রশ্ন করলি যে। অরুন কিছুক্ষন চুপ করে থেকে কি যেন ভাবতে লাগল।
তাহলে শোন,
তোকে একটা ঘটনা বলি। অনেক দিন আগে মধুপুর গ্রামে দুজন মানুষ মারা যায়। একজন কে মসজিদের পাশে আমগাছে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এর মাস খানিক পরে একি গাছে ফাসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। গ্রামঞ্চলে এ নিয়ে খুব তোলপাড় হয়। তখন থেকে গ্রামের মানুষ এই গাছ টি এড়িয়ে চলে। পারতপক্ষে কেউ রাতে ভুলেও আমগাছটির তলা দিয়ে যাইনা। আমি গতকাল রাতে নামাজ পড়ে গাছটির নিচ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখনো অন্ধকার কাটেনি। চাদের আলো হয়ত ছিল কিন্তু আমি যখন যাচ্ছি তখন ঘোর অন্ধকার। এমনিতে আমি খুব সাহসী কিন্তু আমগাছের তলা দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম, তখন খেয়াল করলাম আমি আসলে ভয় পাচ্ছি। সম্পূর্ন বিনা কারনে ভয়। নির্জন একটা রাস্তা দিয়ে গেলে যে কেও ভয় পেতে পারে। কিন্তু আমার ভয় টা সম্পূর্ন অন্যরকম। আমার মনে হল আমগাছ টির গোড়ায় কিছু একটা দাড়িয়ে আছে। আমি কিছুই দেখিনি। তবুও মনে হল কিছু একটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার অস্তিত্ব নেই শরীর নেই, কিছুই নেই তবুও মনে হল কিছু একটা আমার পাশে আছে। ঠিক তখনি অন্ধকারে দেখলাম ঠিক মানুষ বলা যায় না। তবুও অনেক টা মানুষের অবয়ব আম গাছে গোড়ায় দাড়িয়ে আছে। তখন এক জান্তব ভয় আমাকে গ্রাস করল। এমন তীব্রভয় আমি আগে কখনো পাইনি। আমি খেয়াল করলাম আমার পা কাপছে। আমি এক চিতকার দিয়ে মসজিদের বারান্দায় এসে অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর কি হয় জানিনা। জ্ঞান ফিরলে দেখি মসজিদের বারান্দায় শুয়ে আছি আর অনেক মানুষ ভিড় হয়ে আছে।
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে অরুন হাপাতে লাগলো।