24/12/2025
❌মেরি ক্রিসমাস ডে বা বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো মানে আপনি কত বড় পাপ করলেন আপনি নিজেও জানেন না
আপনার এই কথার কারণে আকাশ ফেটে পড়তে চায়, পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে—
এই কারণে যে তারা দয়াময়ের জন্য সন্তান আরোপ করেছ
আল্লাহর প্রতি সন্তান আরোপ করা এত বড় কুফরি কথা যে, কোরআনের ভাষায়—তার ভয়াবহতায় আকাশ-জমিন পর্যন্ত কেঁপে ওঠে
সূরা মারইয়াম (১৯:৯০–৯১)
আরবি:
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا
أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَٰنِ وَلَدًا
বাংলা অর্থ:
এর কারণে আকাশসমূহ ফেটে পড়তে চায়, পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে—
এই কারণে যে তারা দয়াময়ের জন্য সন্তান আরোপ করেছ
আল্লাহর প্রতি সন্তান আরোপ করা এত বড় কুফরি কথা যে, কোরআনের ভাষায়—তার ভয়াবহতায় আকাশ-জমিন পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।
এটা কোন উদারতা নয়
এটা ধর্ম সম্পর্কে উদাসীনতা
আপনি কয়েকটি মানুষকে মাত্র খুশি করতে গিয়ে ,
আপনি আপনার রব কে অসন্তুষ্ট করতেছেন যেটা আপনার ঈমানের সঙ্গে সংঘর্ষিক এবং কুফরী।
📌 ১. ক্রিসমাস একটি খ্রিস্টান ধর্মীয় উৎসব
এতে স্পষ্টভাবে খ্রিস্টান আকিদা জড়িত —
ঈসা আ. আল্লাহর পুত্র — (তারা বিশ্বাস করে)
জন্মদিন উদযাপন ধর্মীয় অনুষ্ঠান
Trinity (Father–Son–Holy Spirit) ধারণা
ইসলামে এই বিশ্বাসগুলো শিরক।
📌 ২. কুরআনে বলা হয়েছে: মুসলিমরা অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না
সূরা আল-কাফিরুন স্পষ্ট করে বলে:
“তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমার ধর্ম আমার জন্য।”
📌 ৩. রাসুল (সা.) বলেছেন অন্য ধর্মের বিশেষ উৎসব অনুকরণ করা হারাম
হাদিস: “যে জাতির অনুকরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” — (আবু দাউদ)
ক্রিসমাস মূলত খ্রিস্টান ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ায় মুসলিমদের জন্য এতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।
❗ এটার সাথে ঈমানের সম্পর্ক কী?
এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইমানের ভিত্তি:
আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়
ঈসা (আ.) আল্লাহর নবী, দেব-মানব নন
কিন্তু ক্রিসমাসে:
ঈসাকে (আ.) “Son of God” বলা হয়
ঈশ্বরের জন্মদিন বলা হয়
যদি কোনো মুসলিম:
ক্রিসমাস ধর্মীয়ভাবে উদযাপন করে,
বা এর আকিদায় অংশ নেয়,
বা এটাকে সঠিক বিশ্বাস মনে করে
ইসলামি শরিয়াহ আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে মুসলিমদের জন্য ক্রিসমাস বা বড়দিন পালন করা নিষিদ্ধ বা হারাম। এর পেছনে মূলত আকিদা (বিশ্বাস) এবং ধর্মীয় স্বকীয়তার সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।
১. তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের সাথে সাংঘর্ষিক
ক্রিসমাসের মূল উদযাপনটি এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে যে, যিশু (ঈসা আ.) হলেন ঈশ্বরের পুত্র (নাউজুবিল্লাহ)। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এটি শিরক (আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা), যা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় গুনাহ।
কুরআনের ঘোষণা: আল্লাহ তাআলা সুরা আল-ইখলাসে স্পষ্টভাবে বলেছেন, "তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি।" (সুরা ইখলাস: ৩)
"তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি।" (সুরা ইখলাস: ৩)
ক্রিসমাস পালন করার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে খ্রিস্টানদের এই ত্রিত্ববাদ (Trinity) বা যিশুকে আল্লাহর পুত্র মানার আকিদাকে সমর্থন করা, যা ইসলামের মূল ভিত্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর পরিপন্থী।
শিরক-এর ঝুঁকি: এটি এমন বিশ্বাসকে সমর্থন করে যা ইসলামের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক, যেমন 'আল্লাহর সন্তান আছে' বলা।
অন্যান্য উৎসব: শুধু ক্রিসমাস নয়, নববর্ষ বা হ্যালোউইনের মতো অন্যান্য অমুসলিম ধর্মীয় উৎসবেও অংশগ্রহণ করা মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ।
কী করা উচিত?
মুসলমানদের জন্য ক্রিসমাস উদযাপন করা বা এতে অংশগ্রহণ করা হারাম (নিষিদ্ধ), কারণ এটি অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অনুকরণ এবং ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থী, যা শিরক (আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন) এর দিকে পরিচালিত করতে পারে; তাই ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা জানানো, উপহার দেওয়া বা উৎসবে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এর পরিবর্তে,
অনুকরণ নিষিদ্ধ: নবী (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।
ঈমান বিরোধী: ক্রিসমাস উদযাপন ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করার খ্রিস্টান ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে জড়িত, যা তাওহিদের (একত্ববাদ) পরিপন্থী।
২. বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ (তাশাব্বুহ) ইসলামে অন্য ধর্মের ধর্মীয় রীতিনীতি বা উৎসব হুবহু অনুকরণ করা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে মুসলিমদের নিজস্ব ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে (ধর্মীয় রীতিতে), সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১)
"যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে (ধর্মীয় রীতিতে), সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১)
ক্রিসমাস একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় উৎসব, কোনো সামাজিক বা জাতীয় উৎসব নয়। তাই এটি পালন করা অন্য ধর্মের ইবাদতের রীতি পালনের শামিল।
৩. ইসলামে নির্ধারিত উৎসব ইসলামে উৎসবের ধারণা অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর দেখলেন সেখানকার মানুষ দুটি উৎসব পালন করছে। তিনি তখন বলেছিলেন: "আল্লাহ তোমাদের এই দুটি দিনের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন: একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং অপরটি ঈদুল আজহা।" (সুনানে নাসায়ী) এর বাইরে অন্য কোনো ধর্মীয় উৎসব পালন করা ইসলামি শরিয়তে বিদআত বা নবআবিষ্কৃত বিষয় হিসেবে গণ্য হতে
পারে।
৪. ঈসা (আ.) এর প্রতি মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিমরা ঈসা (আ.)-কে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে, তবে তা আল্লাহর নবী হিসেবে, আল্লাহর পুত্র হিসেবে নয়।
ইসলামে কোনো নবীর জন্মদিন পালন করার বিধান নেই (এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিনও সাহাবায়ে কেরাম উৎসব হিসেবে পালন করেননি)।
ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন পালন করা খ্রিস্টান ধর্মের একটি প্রথা, যা পরবর্তী সময়ে সংযোজিত হয়েছে। মুসলিম হিসেবে ঈসা (আ.)-এর প্রতি সম্মান দেখানোর উপায় হলো তাঁর প্রকৃত শিক্ষা (তাওহীদ) মেনে চলা, তাঁর নামে কেক কাটা বা উৎসব করা নয়।
৫. শুভেচ্ছা জানানো বা "মেরি ক্রিসমাস" বলা
অধিকাংশ ফকিহ বা ইসলামি পণ্ডিতের মতে, "মেরি ক্রিসমাস" বা "শুভ বড়দিন" বলাও জায়েজ নয়। কারণ, "মেরি ক্রিসমাস" বলার মাধ্যমে আপনি তাদের এই ধর্মীয় বিশ্বাসকে (যে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন) অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এটি কুফরি আকিদায় সম্মতি জানানোর মতো গুরুতর বিষয়। প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার ইবনুল কাইয়িম (রহ.) এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
✅ ক্রিসমাস ডে কবে থেকে শুরু হয়েছে?
২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস ডে হিসেবে পালন করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে:
📌 ক্রিসমাস পালন শুরু হয় আনুমানিক ৪র্থ শতাব্দীতে (৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে)
এ সময় রোমান খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রথম ২৫ ডিসেম্বরকে যিশু (ঈসা আ.)-এর জন্মদিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
✅ কে শুরু করেছে?
ক্রিসমাস শুরু করেন রোমান খ্রিস্টান গির্জা (Church of Rome)।
কারণ:
খ্রিস্টান নেতারা যিশুর (ঈসা আ.) জন্মদিন নির্দিষ্ট করতে পারেননি।
পরে তারা রোমানদের পৌত্তলিক উৎসব—"Sol Invictus" (সূর্য-দেব উৎসব)—এর তারিখ ২৫ ডিসেম্বরকে গ্রহণ করে সেটিকে “Jesus’ birth day” হিসেবে ঘোষণা করে।
✅ কিভাবে শুরু হয়েছে?
প্রথম দিকে:
ধর্মীয় প্রার্থনা
গির্জায় উপাসনা
যিশুর জন্ম স্মরণ এসব ছিল মূল অনুষ্ঠান।
পরে:
ক্রিসমাস ট্রি
সান্তা ক্লজ
উপহার বিনিময়
পার্টি, লাইটিং, উৎসব এসব ধীরে ধীরে যোগ হয়। এসবের অনেক কিছুই খ্রিস্টধর্ম নয়, বরং ইউরোপীয় পৌত্তলিক ঐতিহ্য থেকে এসেছে।
সামাজিক আচরণ ও শিষ্টাচার মনে রাখা জরুরি, ক্রিসমাস পালন না করার অর্থ এই নয় যে অমুসলিম বা খ্রিস্টান প্রতিবেশীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে হবে। ইসলাম সবসময় অমুসলিমদের সাথে ন্যায়বিচার, সদ্ব্যবহার এবং দয়া প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়।