18/09/2024
🕋মুবারক খিলাফত ও বাইয়াত:
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে আলোচনার মুখ্য বিষয় হয় খলীফা সম্পর্কে। খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে হবেন? এ বিষয়ে আনছারগণ সাকীফায়ে বনু সাঈদায় আলোচনার জন্য একত্রিত হলেন। এই সংবাদ পেয়ে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে এবং হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অর্থাৎ উনাদের দু’জনকে নিয়ে আনছারগণ উনাদের মসলিসে উপস্থিত হলেন। আনছারগণ উনাদের সাথে অনেক আলোচনা হলো। উনারা বললেন আনছারগণ উনাদের মধ্য হতে একজন আর মুহাজিরগণ উনাদের মধ্য হতে একজন খলীফা নির্ধারণ করা হোক। উনাদের এ প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, “খলীফা হবেন কুরাঈশ হতে।” এই পবিত্র হাদীছ শরীফ শুনে আনছারগণ কুরাঈশগণ উনাদের নিকট বাইয়াতের ইচ্ছা পোষণ করলেন। এখন কুরাঈশগণ উনাদের মধ্য হতে খলীফা কে হবেন? হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি আনছারগণ উনাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, “দেখুন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর কেউ যদি নবী হতেন, তিনি হতেন হযরত ফারূকে আ’যম হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি। তিনি আমার ডান পাশে অবস্থান করছেন। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমীন, হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমার বাম পাশে অবস্থান করছেন। এই দু’জন উনাদের যে কোনো একজনের নিকট আপনারা বাইয়াত গ্রহণ করতে পারেন।” তখন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম! আপনি এটা কি বললেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি এক পবিত্র আয়াত শরীফে যাঁর তিনখানা ফযীলত মুবারক বর্ণনা করলেন, তিনি উপস্থিত থাকতে আমরা আবার কার নিকট বাইয়াত হবো। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপস্থিত থাকতে যাঁকে ইমামতি করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন তিনিই তো খিলাফতের সর্বাধিক হক্বদার কাজেই, হে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার হাত মুবারক প্রসারিত করুন।” তিনি হাত মুবারক প্রসারিত করলেন এবং তখনই বাইয়াতে খাছ সম্পন্ন হলো। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তীতে মসজিদে নববী শরীফে বাইয়াতে আম সম্পন্ন হয়। (বুখারী শরীফ, তারিখুল খুলাফা)
🌺মূলত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খলীফা হওয়ার বিষয়টি পূর্ব হতেই নির্ধারিত। বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তা ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এক মহিলা কিছু সুওয়াল করলেন। তিনি মহিলাকে পরে আসতে বললেন। সেই মহিলা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পরবর্তীতে এসে যদি আপনাকে না পাই, তাহলে কার নিকট যাবো? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি পরবর্তীতে এসে যদি আমাকে উপস্থিত না পান তাহলে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার নিকট যাবেন। কেননা, তিনিই আমার পর খলীফা হবেন। সুবহানাল্লাহ! (ইবনে আসাকির)
🌺বর্ণিত হাদীছ শরীফ হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারকের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা মুবারক। তাছাড়া মসজিদে নববী শরীফে ইমামতি করার মুবারক নির্দেশ উনার খিলাফত মুবারকের দিকে জোরালো ইঙ্গিত। ১১ হিজরীর ১৩ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি তিনি খিলাফত মুবারক গ্রহণ করেন।
☪️বিশেষ কার্যক্রম:
🌺মহান আল্লাহ পাক উনার পরই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক মাক্বাম। উনার পরে উনার স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবতীয় কার্যক্রমের আঞ্জাম দেয়া একজন উম্মতের জন্য অত্যধিক কঠিন। এতদ্ব সত্ত্বেও, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যাবতীয় কার্যক্রমের সুষ্ঠু ফায়ছালা ও তদারকি সম্পন্ন করেছেন। যা উনার আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
🌺উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে আমার সম্মানিত পিতা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার উপর এমন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা যদি কোনো পাহাড়ের উপর নাযিল হতো, তাহলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত। (ইবনে আসাকির) 🌺নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণের পূর্বে মুতা জিহাদের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সেনাপতিত্বে সিরিয়া সীমান্তে বাহিনী প্রেরনের কার্যসম্পন্ন করেছিলেন। বাহিনী রওয়ানাও হয়েছিল। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণের দরুণ তা স্থগিত হয়ে যায়। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সর্বপ্রথম অন্তিম ইচ্ছা মুবারক বাস্তবায়নের জন্য সেই বাহিনী পুনরায় প্রেরণ করেন। এক্ষেত্রে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারককে অত্যধিক সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখেন। (বাইহাক্বী)
🌺নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ উনার পর মুরতাদদের ফিতনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আরবের অনেক গোত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে অস্বীকার করে। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এই সব মুরতাদদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেন। তিনি অত্যধিক জালালিয়তের সাথে মুরতাদদের নির্মূল করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ঝা-া অত্যধিক শক্তিশালী করেন।
নওমুসলিমদের অনেকে যাকাত দিতে অস্বীকার করে। তারা বলে, তারা নামায পড়বে কিন্তু যাকাত দিবে না। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নূরে মুজাসসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক যামানায় তারা যে যাকাত প্রদান করতো, তা হতে একটি রশিও যদি তারা যাকাত হিসেবে কম দেয়, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবো। উনার হিকমতপূর্ণ ফায়ছালা মুবারককের দরুণ যাকাত অস্বীকারকারীদের ফিতনা নির্মূল হয়।
🌺হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিলাফতকালে মিথ্যা নবুওয়তের দাবিদাররা ইসলামী খিলাফতে বিষফোঁড়ার আকার ধারণ করে। ইয়ামেনের আসওয়াদ আনাসী, ইয়ামামার মুসায়লামা, নজদের তোলায়হা এবং ইয়ারবু গোত্রের নাসারা মহিলা সাজাহ প্রভৃতি নিজেদেরকে নবী দাবি করে। আসওয়াদ তার আত্মীয়ের মাধ্যমে নিহত হয়। তার অনুসারীরা পবিত্র ইসলাম উনার বিরোধিতা করলে তাদের মূলোৎপাটন করা হয়। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসায়লামা নিহত হয়। তার অনুসারীদের কচুকাটা করা হয়। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সেনাপতিত্বে পরিচালিত অভিযানে তোলায়হা ও সাজাহ পরাজিত হয়। তোলায়হা পালিয়ে যায়। আর সাজাহ আত্মসমর্পন করে।
🌺পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ সংকলন করা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম মুবারক অবদান। মিথ্যা নবুওয়তের দাবিদার মোসায়লামার বিরুদ্ধে পরিচালিত ইমামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক হাফিয ও ক্বারী শাহাদাতবরণ করেন। এমতাবস্থায় পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ লিখিত আকারে সংকলন করা অতীব জরুরী হয়ে পড়ে। হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পরামর্শে হযরত যায়েদ বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মুবারক তত্ত্বাবধানে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ লিখিত আকারে সংকলনের ন্যায় অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করেন। সুবহানাল্লাহ!
🌺হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিলাফতকালে পশ্চিম ইরাক ও হিরা ইসলামী খিলাফতে সংযুক্ত হয়। তাছাড়া আজনাদায়েনের জেহাদ মুবারক খিলাফতকালের উল্লেখযোগ্য সেনা অভিযান। copy by SM40.COM Shafeeul Umam