05/03/2026
ইতিকাফ (الاعتكاف)
১. ইতিকাফ কী?
ইতিকাফ শব্দটি আরবি اعتكاف থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো—কোনো স্থানে অবস্থান করা, নিজেকে আবদ্ধ রাখা, বা কোনো কাজে একাগ্র হয়ে থাকা।
শরিয়তের পরিভাষায়—
আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়তসহ মসজিদে/ মহিলারা ঘরের নির্দিষ্ট একটি স্থানে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ
“তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকবে তখন স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না।”
📖 সূরা আল-বাকারা: ১৮৭
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইতিকাফ একটি স্বীকৃত ইবাদত।
২. ইতিকাফ কেন করব?
ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা।
মানুষ সারাবছর নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। তাই রমজানের শেষ দশকে কিছু সময় আল্লাহর ঘরে অবস্থান করে ইবাদত, তওবা ও আত্মশুদ্ধি করার সুযোগই হলো ইতিকাফ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আমল:
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ
অর্থ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ করতেন, এমনকি আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দেওয়া পর্যন্ত।
📖 সহিহ বুখারি: ২০২৬
📖 সহিহ মুসলিম: ১১৭২
৩. ইতিকাফের উদ্দেশ্য কী?
ইতিকাফের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য রয়েছে:
(ক) আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা
মসজিদে অবস্থান করে বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করা।
(খ) লাইলাতুল কদর লাভের চেষ্টা
রমজানের শেষ দশকেই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
অর্থ:
রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।
📖 সহিহ বুখারি: ২০২০
📖 সহিহ মুসলিম: ১১৬৯
(গ) আত্মশুদ্ধি ও তওবা
ইতিকাফ মানুষের হৃদয়কে গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে সাহায্য করে।
৪. কখন ও কীভাবে ইতিকাফ করব?
সময়:
রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া।
পদ্ধতি: ২০ রমজানের সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ করে/মহিলারা ঘরের নির্দিষ্ট একটি স্থানে অবস্থান করে নিয়ত করতে হবে এবং ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতে হবে।
নিয়ত
মনে মনে নিয়ত করবে:
نَوَيْتُ الِاعْتِكَافَ لِلّٰهِ تَعَالَى
অর্থ:
আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইতিকাফের নিয়ত করলাম।
৫. ইতিকাফে কী করব?
ইতিকাফ অবস্থায় বেশি বেশি—
*নামাজ
*কুরআন তিলাওয়াত
*জিকির
*দোয়া
*তওবা
*ইসলামী জ্ঞানচর্চা করতে হবে ।
৬. ইতিকাফ করলে ফজিলত ও লাভ কী?
ইতিকাফের অনেক বড় বড় ফজিলত রয়েছে।
(ক) গুনাহ থেকে বাঁচার সুযোগ
ইতিকাফ মানুষকে দুনিয়ার গুনাহ থেকে দূরে রাখে।
(খ) লাইলাতুল কদর পাওয়ার সুযোগ
লাইলাতুল কদরের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
অর্থ:
লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
📖 সূরা আল-কদর: ৩
(গ) রাসূল ﷺ এর সুন্নত আদায়
ইতিকাফ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
(ঘ) বড় সওয়াব
হাদিসে এসেছে:
مَنْ اعْتَكَفَ عَشْرًا فِي رَمَضَانَ كَانَ كَحَجَّتَيْنِ وَعُمْرَتَيْنِ
অর্থ:
যে ব্যক্তি রমজানে দশ দিন ইতিকাফ করে, সে যেন দুটি হজ ও দুটি উমরার সওয়াব পায়।
📖 বায়হাকি, শু‘আবুল ঈমান
আল্লাহ তাআলা আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন। আমিন!
#ইতিকাফ