03/09/2026
বাঙালি জাতি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সব ভুলে যাই।
রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’—বালিশের চেয়েও বড় প্রশ্ন পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে,
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনে আসবাবপত্র কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দামের অভিযোগে আলোচনায় আসে ‘বালিশ কাণ্ড’। এ ঘটনায় সাজিন কনস্ট্রাকশনের মালিক শাহাদাত হোসেনসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল দুদক।
কিন্তু প্রশ্ন শুধু একটি বালিশের দাম কত ছিল—সেটি নয়।
প্রশ্ন হলো, এত বড় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও একজন ঠিকাদার কীভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের বলয়ে টিকে থাকেন?
২০২০ সালের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শাহাদাত হোসেন আগে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ছিলেন, পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ-সমর্থক ঠিকাদার হিসেবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং রূপপুর প্রকল্পে বড় কাজ পান।
অর্থাৎ অভিযোগগুলো সত্য হলে, এখানে দল নয়—ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই কি ছিল মূল শক্তি?
আজ যদি আবার কোনো রাজনৈতিক পক্ষ বা প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, তাহলে জনগণের স্বাভাবিক প্রশ্ন—
দল বদলায়, সরকার বদলায়, কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি কি বদলায় না?
আওয়ামী লীগ আমলে যদি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে থাকে, আর এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করেও যদি একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়ে থাকে—তাহলে সেটি কোনো দলের জন্যই গৌরবের বিষয় নয়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান দলনিরপেক্ষ হওয়া উচিত।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দলের ঘনিষ্ঠ—সেটা বিবেচ্য নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ হলে বিচার হবে—এটাই হওয়া উচিত নিয়ম।
একটি বালিশের দাম হয়তো ৫,৯৫৭ টাকা দেখানো হয়েছিল; কিন্তু জনগণের প্রশ্নের মূল্য তার চেয়েও অনেক বেশি।
#রূপপুর #বালিশকাণ্ড #সাজিনকনস্ট্রাকশন #শাহাদাতহোসেন #পাবনা #ঈশ্বরদী #দুর্নীতি #জবাবদিহিতা